📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মায়ের সাথে সদাচার

📄 মায়ের সাথে সদাচার


২-অনুচ্ছেদ: মায়ের সাথে সদাচার।
৩। হাকীম ইবনে হিযাম (রা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! সদ্ব্যবহার পেতে কে অগ্রগণ্য? তিনি বলেনঃ তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেন: তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা, তারপর ক্রমান্বয়ে আত্মীয়ের সম্পর্কের নৈকট্যের ভিত্তিতে (দা,তি,হা)।
৪। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমি এক মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। সে আমাকে বিবাহ করতে অস্বীকার করলো। অপর এক ব্যক্তি তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে সে তাকে বিবাহ করতে পছন্দ করলো। এতে আমার আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগলে আমি তাকে হত্যা করি। আমার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বলেন, তোমার মা কি জীবিত আছেন? সে বললো, না। তিনি বলেন, তুমি মহামহিম আল্লাহর নিকট তওবা করো এবং যথাসাধ্য তাঁর নৈকট্য লাভে যত্নবান হও। আতা (র) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রা)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তার মা জীবিত আছে কিনা তা আপনি কেন জিজ্ঞেস করলেন? তিনি বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মায়ের সাথে সদাচারের চেয়ে উত্তম কোন কাজ আমার জানা নাই (বা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতার সাথে সদাচার

📄 পিতার সাথে সদাচার


৩- অনুচ্ছেদ: পিতার সাথে সদাচার।
৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সদাচার প্রাপ্তির অগ্রগণ্য ব্যক্তি কে? তিনি বলেনঃ তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেন: তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেন: তোমার মা। তিনি বলেন, তারপর কে? তিনি বলেন: তোমার পিতা (বু, মু, ই, আ, তহা)।
৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, আপনি আমাকে কি আদেশ করেন? তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে একই কথা বললে তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে পুনরায় একই কথা বললে তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে চতুর্থবার জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে সদাচার করবে। সে পঞ্চমবার জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমার পিতার সাথে সদাচার করবে (বু, মু, ই, আ, তহা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতা যুলুম করলেও তাদের সাথে সদাচার করতে হবে

📄 পিতা-মাতা যুলুম করলেও তাদের সাথে সদাচার করতে হবে


৪- অনুচ্ছেদ: পিতা-মাতা যুলুম করলেও তাদের সাথে সদাচার করতে হবে।
৭। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, যে কোন মুসলমানের মুসলিম পিতা-মাতা জীবিত থাকলে এবং সে ভোরবেলা সওয়াবের আশায় তাদের খোঁজ-খবর নিলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য বেহেশতের দু'টি দরজা খুলে দেন এবং তাদের একজন থাকলে একটি দরজা। সে তাদের কোন একজনকে অসন্তুষ্ট করলে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকে সন্তুষ্ট না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হন না। বলা হলো, তারা তার উপর যulুম করে থাকলে? তিনি বলেন, তারা তার উপর যুলুম করলেও (বা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা

📄 পিতা-মাতার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা


৫- অনুচ্ছেদঃ পিতা- মাতার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা।
৮। তায়সালা ইবনে মায়্যাস (র) বলেন, আমি যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত ছিলাম। আমি কিছু পাপকাজ করে বসি যা আমার মতে কবীরা গুনাহর শামিল। আমি তা ইবনে উমার (রা)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, এই এই ব্যাপার। তিনি বলেন, এগুলো কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। কবীরা গুনাহ নয়টি: (১) আল্লাহ্র সাথে শরীক করা, (২) নরহত্যা, (৩) জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন, (৪) সতী-সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে যেনার মিথ্যা অপবাদ রটানো, (৫) সূদ খাওয়া, (৬) ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, (৭) মসজিদে ধর্মদ্রোহী কাজ করা, (৮) ধর্ম নিয়ে উপহাস করা এবং (৯) সন্তানের অসadaচরণ যা পিতা-মাতার কান্নার কারণ হয়। ইবনে উমার (রা) আমাকে বলেন, তুমি কি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও? আমি বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি তাই চাই। তিনি বলেন, তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন? আমি বললাম, আমার মা জীবিত আছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তুমি তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললে এবং তার ভরণপোষণ করলে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদি কবীরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকো (তাবারীর তাফসীর, আবদুর রাযযাক আল-খারাইতীর মাসাবিউল আখলাক)।
৯। হিশাম ইবনে উরওয়া (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। "তাদের জন্য মায়া-মমতার পক্ষপুট বিস্তার করে দাও" (১৭ঃ ২৪) শীর্ষক আয়াত প্রসংগে তিনি বলেন, তারা যে জিনিসই পছন্দ করেন, তাতে বাধা দিও না (তাবারী)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00