📄 ভ্রান্ত মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে ওয়ালা-বারা
উপরে আমরা ওয়ালা-বারার ক্ষেত্রে সকল মানুষকে তিন ভাগে ভাগ করেছি। ইসলামের অন্তর্ভুক্ত সকল সম্প্রদায় সমান স্তরে নয়—তাদের কেউ সামান্য বিদআতের শিকার, কেউ আকিদার ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিচ্যুতির শিকার। ফলে সকল মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ওয়ালা-বারার সমান নীতি প্রয়োগ করা যাবে না।
এক. যারা দ্বিতীয় ক্যাটাগরি তথা আমলি বিদআতের শিকার, কিংবা এমন আকিদাগত বিদআতের শিকার যার মাধ্যমে তারা গোমরাহ গণ্য হয় কিন্তু কাফের হয় না। তাদের সঙ্গে ওয়ালা এবং বারা দুই নীতিতেই কাজ করতে হবে। যেমন: 'খারেজি', 'মুতাজিলা', 'কাদারিয়্যাহ', 'জাবরিয়্যাহ', 'মুশাববিহাহ', 'জাহমিয়্যাহ', শিয়া-সহ বিভিন্ন ভ্রান্ত সম্প্রদায়। তাদের ঈমান ও দ্বীনের জন্য মেহনতের কারণে তাদের ভালোবাসবে ও সাহায্য করবে। আর যেসব ক্ষেত্রে তারা ভ্রান্তির শিকার, সেসব ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করবে। ভ্রান্তির ক্ষেত্রে তাদের কোনো সহযোগিতা করবে না। এ কারণেই ইমাম তহাবি রাহি. উপরের দলগুলোকে 'পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত' বলেছেন, কাফের বলেননি।
তবে বিদআত ও আহলে বিদআতের মাঝে পার্থক্য করতে হবে। অনেক সময় ভুল ইজতিহাদ বা অজ্ঞতার কারণে মানুষ বিদআতে লিপ্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও তাদের দরদের সঙ্গে বোঝানো কর্তব্য। কিন্তু যখন গোটা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রয়োজন—যেমন কুফর, শিরক, নাস্তিক্যবাদ ও কাদিয়ানি ফিতনার বিরুদ্ধে লড়াই—সে ক্ষেত্রে সকল আহলে কিবলা একযোগে কাজ করবে। সে সময় তাদের বিদআতগুলোকে পেছনে রেখে দ্বীনের সুরক্ষায় এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।
দুই. ইসলামের দাবিদার যেসব ভ্রান্ত ফিরকা সুস্পষ্ট কুফর ও শিরকের মাঝে নিমজ্জিত এবং ইসলাম থেকে খারিজ, যেমন কাদিয়ানি ও বাতেনি (ইসমাইলি, নুসাইরি) সম্প্রদায়, তাদের সঙ্গে কেবলই বারা। কারণ তারা নামে মুসলিম হলেও মূলত ইসলাম থেকে খারিজ। তারা কাফের-মুশরিকদের চেয়েও জঘন্য, যাদের মুনাফিক বলা হয়। ইবনে আবিদিন লিখেছেন, 'তাদের সঙ্গে বিয়েশাদি বৈধ হবে না। তাদের জবাই করা প্রাণী খাওয়া যাবে না।'¹ ফলে তাদের সঙ্গে কোনো ওয়ালা নেই।
কিন্তু তাদের 'আফরাদ' তথা ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে সৌজন্য ও সদাচরণ নিষিদ্ধ নয়। কারণ তাদের মাঝে এমন অনেক সাধারণ মানুষ রয়েছে, যারা আকিদা সম্পর্কে কিছুই জানে না। হুজ্জত কায়েমের আগপর্যন্ত তারা কাফের নয়, বরং মাজুর হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে বারা নয়, বরং ওয়ালা। এ কারণে তাদের ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে সদাচরণ বৈধ। এবং দাওয়াতের নিয়তে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উত্তম।²
আকিদা সম্পর্কে কিছু অজ্ঞ লোক মনে করে ইসলামই যথেষ্ট; সকল মুসলিম ভাই ভাই; ইসলামের নামে ভেদাভেদ বৈধ নয়। তাদের কথা সঠিক নয়। কেউ যদি ইসলামের উপরই না থাকে, তবে সে মুসলমানদের ভাই হয় না। এসব সম্প্রদায় কাফের-মুশরিকদের চেয়েও ইসলামের জন্য ক্ষতিকর। তাই কেবল নিজে মুসলিম হলেই হবে না, বরং ভ্রান্ত মাজহাবগুলো থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করতে হবে। এ কারণেই ইমাম তহাবি বলেন, 'তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।'
টিকাঃ
১. রদ্দুল মুহতার (৪/১৯৯, ৪/২৪৪)।
২. মাজমুউল ফাতাওয়া (৩/৩৫৩-ষা৩৫৪); দেখুন: আল-ইনসাফ, মারদাভি (১২/৪৮); কিফায়াতুল মুফতি (৯/৩১৪)।