📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া

📄 পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া


পাঁচ. পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া: কিয়ামতের একটি বড় আলামত হলো, পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া। পৃথিবীতে সবসময় পূব আকাশে সূর্য উদিত হয়। কিন্তু কিয়ামতের আগে আল্লাহ সূর্যকে পশ্চিম আকাশ থেকে উদিত করবেন। এটা পৃথিবীর সর্বশেষ মুহূর্তে হবে। তখন সকল কাফের মুমিন হবে, কিন্তু তাদের ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। বুখারিতে আবু হুরাইরা রাজি. থেকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম আকাশ থেকে উদিত হবে।¹

আরেক হাদিসে আবু জর থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা কি জানো এই সূর্য কোথায় যায়? সূর্য চলতে থাকে। একপর্যায়ে আরশের নিচে তার নির্ধারিত স্থলে গিয়ে আল্লাহর জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, 'ওঠো। অস্তাচল থেকে উদিত হও।' তখন সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে।”²

টিকাঃ
১. বুখারি (৪৬৩৫); মুসলিম (১৫৭); আবু দাউদ (৪৩১২); ইবনে মাজা (৪০৬৮)।
২. মুসলিম (১৫৯); ইবনে হিব্বান (৬১৫৩); আল-মুজামুল আওসাত (৪৪৭০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 দাব্বাতুল আরদ বের হওয়া

📄 দাব্বাতুল আরদ বের হওয়া


ছয়. দাব্বাতুল আরদ বের হওয়া: কিয়ামতের আরেকটি বড় আলামত হলো, ভূগর্ভ থেকে একটি বিশেষ প্রাণী বের হবে, যা মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। কে মুমিন আর কে কাফের সেটা বলে দেবে। সেই প্রাণীটিকে 'দাব্বাতুল আরদ' বলা হয়। কুরআন ও সুন্নাহ উভয় সূত্রেই এটা প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন, 'যখন নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি (তথা কিয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জন্তু নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে।' [নামল: ৮২] কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হলো সূর্য পশ্চিম আকাশে উদিত হওয়া। অতঃপর জুহার সময় ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী বের হবে।¹

তবে উক্ত জন্তুর স্বরূপ কী হবে সেটা কুরআন-সুন্নাহে বলা হয়নি। এটা পৃথিবীতে এসে কাফের ও মুমিনের চেহারায় দাগ দেবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, মানুষের চেহারায় মুমিন ও কাফের লিখে দেবে। ফলে চেহারা দেখে মানুষ তাদের চিনতে পারবে। এই দাগ দেওয়ার রহস্য ও স্বরূপ আমাদের জানা নেই, প্রয়োজনও নেই। আমরা কুরআন ও সুন্নাহে আল্লাহ যেভাবে বলেছেন, যা বোঝাতে চেয়েছেন, সবগুলোতে ঈমান রাখি।

টিকাঃ
১. মুসলিম (২৯৪১); মুসনাদে আহমদ (৭০০০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 প্রকাণ্ড ধোঁয়া নির্গত হওয়া

📄 প্রকাণ্ড ধোঁয়া নির্গত হওয়া


সাত. প্রকাণ্ড ধোঁয়া নির্গত হওয়া: কিয়ামতের আগে পৃথিবীতে একটা প্রকাণ্ড ধোঁয়া দেখা যাবে। কুরআনে 'ধোঁয়া' (দুখান) নামে একটি সুরাও রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, 'অতএব, আপনি সেদিনের অপেক্ষা করুন, যখন আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।' [দুখান: ১০-১১] একাধিক হাদিসে কিয়ামতের আলামত হিসেবে ধোঁয়া নির্গমনের কথা বলা হয়েছে।²

টিকাঃ
১. আন-নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম (১/২০৮)।
২. মুসলিম (২৯০১, ২৯৪৭); আবু দাউদ (৪৩১১); ইবনে মাজা (৪০৪১)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 ভূমিধস হওয়া

📄 ভূমিধস হওয়া


আট. ভূমিধস হওয়া: ভূমিধস পৃথিবীর প্রাকৃতিক ঘটনা, সচরাচরই আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যক্ষ করে থাকি। তবে কিয়ামতের আগে পৃথিবীতে তিনটি বিশাল ভূমিধসের ঘটনা ঘটবে—একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে, আরেকটি জাজিরাতুল আরবে, যা আগে কখনও ঘটেনি। একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত।¹

টিকাঃ
১. মুসলিম (২৯০১); তিরমিজি (২১৮৩); ইবনে মাজা (৪০৫৫)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px