📄 দাজ্জালের আবির্ভাব
দুই. দাজ্জালের আবির্ভাব: কিয়ামতের আগমুহূর্তে কানা দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। মানুষকে ঈমানহারা করার জন্য সে চল্লিশ দিন পৃথিবীতে থাকবে। তার হাতে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। সে যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা হবে জাহান্নাম, আর সে যেটাকে জাহান্নাম বলবে সেটা হবে জান্নাত। সে সময়ে দাজ্জালের ফিতনাই হবে সবচেয়ে বড় ফিতনা। তার ফিতনার ভয়াবহতা এভাবে অনুধাবন করা যায় যে, নুহ আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে দুনিয়ার সকল নবি-রাসুল তাদের উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তার এক চোখ কানা থাকবে। দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে ‘কাফের’।¹ সে মক্কা-মদিনা ছাড়া পৃথিবীর সকল শহরে ঢুকতে পারবে।²
টিকাঃ
১. বুখারি (১৫৫৫, ৬১৭৫); মুসলিম (২৯৩১, ২৯৩৬); তিরমিজি (২২৩৫)।
২. বুখারি (১৮৮১); মুসলিম (২৯৪৩)।
📄 ইসা আলাইহিস সালামের আগমন
তিন. ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন: কিয়ামতের একটি বৃহৎ আলামত হলো ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন। এটা সকল মুসলমানের সর্বসম্মত আকিদা। কুরআনে সরাসরি ঈসা আলাইহিস সালামের পুনরাগমনের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও অনেক আয়াতে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে। অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা ঈসা আলাইহিস সালামের পুনরাগমনের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। কিয়ামতের আগে তিনি শামের দামেশকে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! অতি শীঘ্রই তোমাদের মাঝে ঈসা আলাইহিস সালাম ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে আগমন করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিজয়া বাতিল করবেন। সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, কেউ কারও কাছ থেকে গ্রহণ করবে না।'¹
ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জালকে নিজ হাতে হত্যা করবেন। যারা ইসলাম গ্রহণ করবে না, তারাও নিহত হবে। বাকি সবাই মুসলিম হয়ে যাবে। ঈসা আলাইহিস সালাম নবি হিসেবেই আগমন করবেন। তবে তিনি ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়ন করবেন, আগের শরিয়ত নয়। যেহেতু রাসুলুল্লাহর পরে আর কোনো নবি নেই, ফলে তিনি নতুন শরিয়ত নয়, বরং রাসুলুল্লাহর শরিয়তের অনুসরণ করবেন। কুরআন, সুন্নাহ ও ওহির ভিত্তিতে তিনি ফয়সালা করবেন।
টিকাঃ
১. মুসলিম (২৯৩৭); ইবনে মাজা (৪০৭৫)।
২. বিস্তারিত দেখুন: ফাতাওয়ায়ে সুবকি (১/৪১); আল-হাবি লিল-ফাতাওয়া, সুয়ুতি (২/১৮৯-১৯৬)।
📄 ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাদুর্ভাব
চার. ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাদুর্ভাব: ইয়াজুজ ও মাজুজ দুটো সম্প্রদায়। তারা মানুষের অন্তর্ভুক্ত দুটো সম্প্রদায়।¹ কিয়ামতের আগমুহূর্তে তাদের আবির্ভাব ঘটবে। কুরআন ও সুন্নাহে তাদের আবির্ভাবের কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। জয়নব বিনতে জাহাশ রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তার ঘরে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রবেশ করে বললেন, আরব জাতির সর্বনাশ! এক অনিষ্ট তাদের দিকে ধেয়ে আসছে।²
তবে ইয়াজুজ-মাজুজের মূল আবির্ভাব এখনও ঘটেনি, বরং ঈসা আলাইহিস সালাম আকাশ থেকে অবতরণের পরে প্রথমে দাজ্জালের মুখামুখি হয়ে তাকে ও তার বাহিনীকে হত্যা করবেন, অতঃপর ইয়াজুজ-মাজুজ আসবে। আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ-মাজুজকে প্রেরণ করবেন। তারা প্রত্যেক উপত্যকা থেকে ঢলের মতো নেমে আসবে। তাদের প্রথম দল যখন তাবারিয়্যাহ (গ্যালিলি) হ্রদ পার হবে, এর পানি পুরোটা নিঃশেষ করে ফেলবে। তারা সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হবে। আল্লাহ তায়ালা একদল পাখি প্রেরণ করে তাদের লাশগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে সরিয়ে নেবেন। অতঃপর মুষলধারে গোটা পৃথিবীতে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। তাতে গোটা ভূপৃষ্ঠ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে। গোটা পৃথিবী নিয়ামতে ভরপুর হয়ে যাবে।³
টিকাঃ
১. বুখারি (৩৩৪৬, ৩৫৯৮); মুসলিম (২৮৮০)।
২. মুসলিম (২৯৩৭); তিরমিজি (২২৪০); ইবনে মাজা (৪০৭৫); হাকেম (৮৬০৩); মুসনাদে আহমদ (১৭৯০৪)।
📄 পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া
পাঁচ. পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া: কিয়ামতের একটি বড় আলামত হলো, পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়া। পৃথিবীতে সবসময় পূব আকাশে সূর্য উদিত হয়। কিন্তু কিয়ামতের আগে আল্লাহ সূর্যকে পশ্চিম আকাশ থেকে উদিত করবেন। এটা পৃথিবীর সর্বশেষ মুহূর্তে হবে। তখন সকল কাফের মুমিন হবে, কিন্তু তাদের ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। বুখারিতে আবু হুরাইরা রাজি. থেকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম আকাশ থেকে উদিত হবে।¹
আরেক হাদিসে আবু জর থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা কি জানো এই সূর্য কোথায় যায়? সূর্য চলতে থাকে। একপর্যায়ে আরশের নিচে তার নির্ধারিত স্থলে গিয়ে আল্লাহর জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, 'ওঠো। অস্তাচল থেকে উদিত হও।' তখন সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে।”²
টিকাঃ
১. বুখারি (৪৬৩৫); মুসলিম (১৫৭); আবু দাউদ (৪৩১২); ইবনে মাজা (৪০৬৮)।
২. মুসলিম (১৫৯); ইবনে হিব্বান (৬১৫৩); আল-মুজামুল আওসাত (৪৪৭০)।