📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 শিয়াদের সাহাবাবিদ্বেষ

📄 শিয়াদের সাহাবাবিদ্বেষ


শিয়াদের এই বিভ্রান্তির ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ আজ সজাগ নয়। শিয়া মতবাদ দাঁড়িয়েই আছে সাহাবাবিদ্বেষের উপর। তারা সাহাবাদের মুসলমানই মনে করে না; কাফের ও মুরতাদ মনে করে। উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ আবু বকর ও উমর তাদের কাছে কাফের। আয়েশা ও আবু বকরকে তারা ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি মনে করে। শিয়ারা মনে করত শাইখাইন তথা আবু বকর ও উমর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারকে খেলাফত ও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা কি তা-ই? আবু বকর রাজি. খেলাফত দখল করেননি, বরং সাহাবাগণ সর্বসম্মতিক্রমে তাকে খলিফা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
আহলে বাইতের সদস্যদের অনেকেই আবু বকর, উমর ও আয়েশার নামে নাম রাখতেন—আলি রাজি.-এর ছেলের নাম ছিল আবু বকর; তাঁর আরেক ছেলের নাম ছিল উমর। বুখারিতে এসেছে, আলি রাজি.-কে তাঁর ছেলে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, রাসূলুল্লাহর পরে সর্বোত্তম মানুষ কে? তিনি বলেছিলেন, ‘আবু বকর।’¹ উমর রাজি. যখন ইন্তেকাল করেন, আলি রাজি. তাঁকে দেখতে আসেন এবং কাঁদেন।² এই ছিল তাদের প্রতি আহলে বাইতের দৃষ্টিভঙ্গি।

টিকাঃ
১. বুখারি (৩৬৭১); আবু দাঊদ (৪৬২৯)।
২. বুখারি (৩৬৮৫); ইবনে মাজা (৯৮)।
৩. রিজালুল কাশশি (১৮)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 শিয়াদের প্রকারভেদ

📄 শিয়াদের প্রকারভেদ


শিয়ারা একটা ফিরকা নয়, বরং অসংখ্য ফিরকায় বিভক্ত। তাদের অধিকাংশ ফিরকা কুফরের মাঝে ডুবে আছে। যেমন: বাতেনি সম্প্রদায়গুলো পুরোপুরি কুফরির মাঝে নিমজ্জিত। সামান্য পরিমাণ শিয়া আছে যারা জায়দিয়্যাহ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। আর এই জায়দিয়্যাহরা আহলে সুন্নাতের বেশ কাছাকাছি। সাহাবাদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা ইনসাফপূর্ণ। তারা অন্য সাহাবাদের গালিগালাজ করা বৈধ মনে করে না।¹ তবে শিয়াদের ‘বিহারুল আনওয়ার’-এ সুস্পষ্টভাবে এসেছে, 'জায়দিয়্যাহরা কাফের, বিদআতি ও গোমরাহ।'²
শিয়াদের প্ররোচনায় মুসলিম উম্মাহর মাঝে দূরত্ব তৈরি হওয়া অবান্তর। শিয়াবাদ দাঁড়িয়ে আছে কুফর ও নিফাকের উপর। শিয়াদের প্রসিদ্ধ আলিম নিয়ামাতুল্লাহ জাজায়েরি লেখে: 'আল্লাহ, নবি, ইমাম কোনো ক্ষেত্রেই তাদের সঙ্গে আমাদের মিল নেই। তারা এমন আল্লাহর ইবাদত করে যার নবি মুহাম্মাদ এবং যে নবির খলিফা আবু বকর; কিন্তু আমরা সেই রব ও সেই নবিকে মানি না।' বর্তমানে সকল শিয়া অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক উগ্র। আবু বকর ও উমরকে গালিগালাজ ও অভিসম্পাত এখন প্রকাশ্যেই তারা করে।

টিকাঃ
১. আল-ইজাহ, ইয়াহইয়া ইবনুল হুসাইন জাইদি (২৩৪)।
২. বিহারুল আনওয়ার, মজলিসি (৩৭/৩৪)।
৩. আল-আনওয়ারুন নুমানিয়‍্যাহ, নিয়ামাতুল্লাহ জাজায়েরি (২/২৪৩)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আহলে বাইতকে ভালোবাসার মূলনীতি

📄 আহলে বাইতকে ভালোবাসার মূলনীতি


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হচ্ছে তাঁর আহলে বাইত তথা পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনকে ভালোবাসা। আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘আপনি বলুন, আমি আমার দাওয়াতের বিনিময়ে কোনো কিছু চাই না। তবে কেবল আত্মীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই।’ [শুরা: ২৩] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের আগে বলেছিলেন, 'আমি রেখে যাচ্ছি আমার আহলে বাইত। আমার পরিবারের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।'¹ জাবের রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি—আল্লাহর কিতাব এবং আমার পরিবার।'² আলি রাজি. বলেন, আল্লাহর রাসুল আমাকে বলেছেন, 'আমাকে ভালোবাসবে কেবল মুমিনরা; আর আমার প্রতি বিদ্বেষ রাখবে কেবল মুনাফিকরা।'³

টিকাঃ
১. মুসলিম (২৪০৮)।
২. তিরমিজি (৩৭৮৬, ৩৭৮৮)।
৩. মুসলিম (৭৮); ইবনে মাজা (১১৪)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 সালাফের আহলে বাইত এর প্রতি ভালোবাসার উদাহরণ

📄 সালাফের আহলে বাইত এর প্রতি ভালোবাসার উদাহরণ


সাহাবায়ে কেরাম আহলে বাইতকে সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন। আবু বকর রাজি. বলেন, 'আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমার নিজের আত্মীয়দের চেয়ে রাসুলুল্লাহর আত্মীয়বর্গ বেশি প্রিয়।'¹ উমর রাজি. যখন খলিফা হলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়-স্বজন তথা আহলে বাইতকে সর্বপ্রথম ভাতা দেওয়া শুরু করলেন। আব্বাস রাজি. যখন উমর কিংবা উসমানের পাশ দিয়ে যেতেন, তারা রাসুলুল্লাহর চাচার সম্মানে বাহন থেকে নেমে যেতেন। মুয়াবিয়া রাজি. হাসান রাজি.-কে তিন লক্ষ অর্থ প্রদান করে বলেছিলেন, ‘রাসুলুল্লাহর নাতিকে স্বাগতম।’²
উমর রাজি. যখন ইন্তেকাল করেন, আলি রাজি. তাঁকে দেখতে আসেন এবং কাঁদেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার চেয়ে উত্তম কোনো কিছু নিয়ে আল্লাহর কাছে আমার যাওয়ার নেই।’³ এই ছিল সাহাবাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

টিকাঃ
১. বুখারি (৩৭১১)।
২. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির (৮/১৪৬)।
৩. বুখারি (৩৬৮৫); ইবনে মাজা (৯৮)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px