📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি

📄 আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি


আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি. (মৃ. ৩২ হি.): প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। আবু বকর রাজি.-এর দাওয়াতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারুল আরকামে প্রবেশের আগেই ইসলামে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে তার পিছনে মুক্তাদি হয়ে ফজরের নামাজ পড়েন।¹ মদিনায় মুহাজির হিসেবে গেলে তখন দীনহীন নিঃস্ব ছিলেন, কিন্তু ব্যাবসায় মনোযোগী হন। একসময় তিনি শীর্ষ ধনী সাহাবাদের মাঝে গণ্য হন। তিনি সেই সম্পদ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ব্যয় করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও দুনিয়াত্যাগী ছিলেন। তিনি ৩২ হিজরিতে উসমান রাজি.-এর খেলাফতের আমলে ইন্তেকাল করেন।²

টিকাঃ
১. আবু দাঊদ (১৪৯)।
২. আল-ইসতিআব, ইবনে আবদুল বার (২/৮৪৬-৮৪৭); সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৫৪-৬০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাজি

📄 আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাজি


আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাজি. (মৃ. ১৮): ইসলামের প্রথম সারির মুসলমানদের একজন, পবিত্র শাম-বিজেতা ইসলামের সাহসী সিপাহসালার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই উম্মতের 'আমিন' (নির্ভরতা ও আস্থার প্রতীক) লকব দিয়েছেন।¹ আয়েশা রাজি.-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর ও উমরের পরে সকল মানুষের চেয়ে আবু উবাইদাকে বেশি ভালোবাসতেন।² উহুদের যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গালে শিরস্ত্রাণ ভেঙে ঢুকে গেলে আবু উবাইদা রাজি. নিজের দাঁত দিয়ে তা টেনে বের করেন।³ খেলাফতে রাশেদার যুগে তিনি মুসলিম বাহিনীর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৮ হিজরিতে শামে ছড়িয়ে-পড়া আমওয়াস মহামারিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

টিকাঃ
১. বুখারি (৩৭৪৪); মুসলিম (২৪১৯)।
২. তিরমিজি (৩৬৫৭)।
৩. হাকেম (৫১৯৫); বাজ্জার (৬৩)।
৪. মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক (২০৬২৮)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 সাহাবাদের সত্যের মাপকাঠি

📄 সাহাবাদের সত্যের মাপকাঠি


'সত্যের মাপকাঠি' শব্দটি খুব সম্ভব উর্দু শব্দ 'মি'ইয়ারে হক'-এর বাংলা অনুবাদ। পাক-ভারতের উলামায়ে কেরাম সাহাবায়ে কেরামের শানে উক্ত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি যুগযুগ ধরে সালাফ ও খালাফের আলিমদের মাঝে ব্যবহৃত পরিভাষা 'আদালত' বা 'আদালাতুস সাহাবাহ'-এর উর্দু ও বাংলা অনুবাদ। আদালত-এর অর্থ হলো দ্বীন ও চারিত্রিক বিশুদ্ধতা, যার বলে একজন মানুষ তাকওয়া ও আত্মমর্যাদার অধিকারী হয়।¹ সাহাবাদের ক্ষেত্রে যখন 'আদালত' শব্দটা ব্যবহার করা হয়, তখন বাংলাতে এর সর্বাধিক যথাযথ অনুবাদ 'হকের কষ্টিপাথর' বা 'সত্যের মাপকাঠি'ই হয়। উম্মাহর ইমামদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, সাধারণভাবে সকল সাহাবি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন। সামগ্রিকভাবে সকল সাহাবি সর্বতোভাবে সত্যের মাপকাঠি; বরং একমাত্র তারাই হকের কষ্টিপাথর। তারা যেটাকে হক বলবেন সেটাই হক, তারা যেটাকে বাতিল বলবেন সেটাই বাতিল।
কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘অন্যান্য মানুষ যেভাবে ঈমান এনেছে, তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো।’ [বাকারা: ১৩] এখানে 'মানুষ' বলতে সাহাবায়ে কেরাম উদ্দেশ্য। সাহাবাদের ঈমানকে আদর্শ ঈমানের কষ্টিপাথর সাব্যস্ত করে এটাকেই হিদায়াতপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, তারা যদি ঈমান আনে তোমাদের ঈমান আনার মতো, তবে তারা সুপথ পাবে।’ [বাকারা: ১৩৭] ইবনে আবু হাতেম রাহি. লিখেন, 'আল্লাহ তায়ালা তাদের রাসুলুল্লাহর সঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেছেন, তাদের আমাদের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মানিত করেছেন এবং পরবর্তী সকলের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। তাদের তিনি সন্দেহ, মিথ্যা, ভুল, পারস্পরিক সমালোচনা ইত্যাদি থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।'

টিকাঃ
১. আল-মুসতাসফা, গাজালি (১২৫)।
২. নুজহাতুন নাজার, ইবনে হাজার (৬৯)।
৩. আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির, সুযুতি (৩৮৪)।
৪. আল-জারহ ওয়াত তাদিল, ইবনে আবি হাতেম (১/৭)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 সাহাবাদের সমালোচনা নিষিদ্ধ

📄 সাহাবাদের সমালোচনা নিষিদ্ধ


সাহাবাদের ভালোবাসা প্রত্যেক মুমিনের উপর ওয়াজিব। আর সাহাবাদের ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হচ্ছে তাদের কেবল উত্তম দিকগুলো আলোচনা করা; তাদের মাঝে যেসব বিবাদ, বিভেদ ও লড়াই হয়েছে, সেসব ব্যাপারে নীরব থাকা। সাহাবায়ে কেরামের মাঝে জটিলতা দেখা দিয়েছে, যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু সেগুলো তারা দুনিয়ার জন্য করেননি; ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। উম্মাহর সকল ইমামের মতে প্রত্যেক মুসলিমের উপর সেসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব এবং সাহাবায়ে কেরামকে পরম সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা আবশ্যক। এ কারণেই ইমাম তহাবি লিখেছেন, 'আমরা তাদের কেবল উত্তম পন্থায় স্মরণ করি।'
ইবনে আব্বাস রাজি. বলেন, 'তোমরা রাসুলের সাহাবাদের গালি দিয়ো না; কারণ আল্লাহ আমাদের তাদের জন্য ইসতিগফারের নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ তিনি জানতেন যে, তারা নিজে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।'¹ কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর মুহাজির ও আনসারদের মাঝে যারা ইসলামে প্রথম ও অগ্রসর, আর যারা তাদের সত্যের সঙ্গে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।’ [তাওবা: ১০০] ইবনুস সালাহ লিখেন, 'সকল সাহাবির একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর তা হলো, তাদের কারও আদালত (সততা ও সত্যের উপর অবিচলতা) নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। এটা তাদের ব্যাপারে একটি মীমাংসিত সিদ্ধান্ত।'² ইমাম নববি লিখেন, 'আলি ও মুআবিয়া রাজি.-এর মাঝে যে দ্বন্দ্ব হয়েছিল, সেখানে আলি রাজি.-এর খেলাফত ছিল বিশুদ্ধ। অপরদিকে মুআবিয়াও আদেল সম্মানিত ও মর্যাদাময় সাহাবি। তারা সকলেই সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে আহলে সুন্নাতের নির্ভরযোগ্য ইমামদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দ্বন্দ্বের পরও তাদের সবার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।'³

টিকাঃ
১. শরহুস সুন্নাহ, লালাকায়ি (৭/১৩১৮)।
২. মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ (২৯৫)।
৩. শরহে মুসলিম, নববি (১৫/১৪৯)।
৪. আল-বায়িসুল হাসিস, ইবনে কাসির (১৮১-১৮২)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px