📄 সাইদ বিন জায়দ রাজি
সাইদ বিন জায়দ রাজি. (মৃ. ৫১ হি.): প্রথম পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবাদের একজন। তার পিতা জায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল জাহেলি যুগেও একত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে বলেছেন, ‘তিনি একাই এক উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন।’¹ সাইদ রাজি. ছিলেন উমর রাজি.-এর ভগিনীপতি। রাসুলুল্লাহর সঙ্গে অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রোমানদের বিপক্ষে ইয়ারমুকের ময়দানে যুদ্ধ করেন। সাইদ বিন জায়দ রাজি. ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’ এবং দুনিয়াবিমুখ সাহাবি ছিলেন।² ৫১ হিজরিতে তিনি ওফাত লাভ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাজি. তার জানাজা আদায় করেন।
টিকাঃ
১. সুনানে কুবরা, নাসায়ি (৮১৩১); বাজ্জার (১৩০১)।
২. মুসলিম (১৬১০)।
📄 আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি
আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি. (মৃ. ৩২ হি.): প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। আবু বকর রাজি.-এর দাওয়াতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারুল আরকামে প্রবেশের আগেই ইসলামে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে তার পিছনে মুক্তাদি হয়ে ফজরের নামাজ পড়েন।¹ মদিনায় মুহাজির হিসেবে গেলে তখন দীনহীন নিঃস্ব ছিলেন, কিন্তু ব্যাবসায় মনোযোগী হন। একসময় তিনি শীর্ষ ধনী সাহাবাদের মাঝে গণ্য হন। তিনি সেই সম্পদ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ব্যয় করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও দুনিয়াত্যাগী ছিলেন। তিনি ৩২ হিজরিতে উসমান রাজি.-এর খেলাফতের আমলে ইন্তেকাল করেন।²
টিকাঃ
১. আবু দাঊদ (১৪৯)।
২. আল-ইসতিআব, ইবনে আবদুল বার (২/৮৪৬-৮৪৭); সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৫৪-৬০)।
📄 আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাজি
আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাজি. (মৃ. ১৮): ইসলামের প্রথম সারির মুসলমানদের একজন, পবিত্র শাম-বিজেতা ইসলামের সাহসী সিপাহসালার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই উম্মতের 'আমিন' (নির্ভরতা ও আস্থার প্রতীক) লকব দিয়েছেন।¹ আয়েশা রাজি.-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর ও উমরের পরে সকল মানুষের চেয়ে আবু উবাইদাকে বেশি ভালোবাসতেন।² উহুদের যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গালে শিরস্ত্রাণ ভেঙে ঢুকে গেলে আবু উবাইদা রাজি. নিজের দাঁত দিয়ে তা টেনে বের করেন।³ খেলাফতে রাশেদার যুগে তিনি মুসলিম বাহিনীর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৮ হিজরিতে শামে ছড়িয়ে-পড়া আমওয়াস মহামারিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
টিকাঃ
১. বুখারি (৩৭৪৪); মুসলিম (২৪১৯)।
২. তিরমিজি (৩৬৫৭)।
৩. হাকেম (৫১৯৫); বাজ্জার (৬৩)।
৪. মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক (২০৬২৮)।
📄 সাহাবাদের সত্যের মাপকাঠি
'সত্যের মাপকাঠি' শব্দটি খুব সম্ভব উর্দু শব্দ 'মি'ইয়ারে হক'-এর বাংলা অনুবাদ। পাক-ভারতের উলামায়ে কেরাম সাহাবায়ে কেরামের শানে উক্ত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি যুগযুগ ধরে সালাফ ও খালাফের আলিমদের মাঝে ব্যবহৃত পরিভাষা 'আদালত' বা 'আদালাতুস সাহাবাহ'-এর উর্দু ও বাংলা অনুবাদ। আদালত-এর অর্থ হলো দ্বীন ও চারিত্রিক বিশুদ্ধতা, যার বলে একজন মানুষ তাকওয়া ও আত্মমর্যাদার অধিকারী হয়।¹ সাহাবাদের ক্ষেত্রে যখন 'আদালত' শব্দটা ব্যবহার করা হয়, তখন বাংলাতে এর সর্বাধিক যথাযথ অনুবাদ 'হকের কষ্টিপাথর' বা 'সত্যের মাপকাঠি'ই হয়। উম্মাহর ইমামদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, সাধারণভাবে সকল সাহাবি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন। সামগ্রিকভাবে সকল সাহাবি সর্বতোভাবে সত্যের মাপকাঠি; বরং একমাত্র তারাই হকের কষ্টিপাথর। তারা যেটাকে হক বলবেন সেটাই হক, তারা যেটাকে বাতিল বলবেন সেটাই বাতিল।
কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘অন্যান্য মানুষ যেভাবে ঈমান এনেছে, তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো।’ [বাকারা: ১৩] এখানে 'মানুষ' বলতে সাহাবায়ে কেরাম উদ্দেশ্য। সাহাবাদের ঈমানকে আদর্শ ঈমানের কষ্টিপাথর সাব্যস্ত করে এটাকেই হিদায়াতপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, তারা যদি ঈমান আনে তোমাদের ঈমান আনার মতো, তবে তারা সুপথ পাবে।’ [বাকারা: ১৩৭] ইবনে আবু হাতেম রাহি. লিখেন, 'আল্লাহ তায়ালা তাদের রাসুলুল্লাহর সঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেছেন, তাদের আমাদের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মানিত করেছেন এবং পরবর্তী সকলের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। তাদের তিনি সন্দেহ, মিথ্যা, ভুল, পারস্পরিক সমালোচনা ইত্যাদি থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।'
টিকাঃ
১. আল-মুসতাসফা, গাজালি (১২৫)।
২. নুজহাতুন নাজার, ইবনে হাজার (৬৯)।
৩. আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির, সুযুতি (৩৮৪)।
৪. আল-জারহ ওয়াত তাদিল, ইবনে আবি হাতেম (১/৭)।