📄 জুবাইর ইবনুল আউয়াম রাজি
জুবাইর ইবনুল আউয়াম রাজি. (মৃ. ৩৬ হি.): তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো ভাই, প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। আলি রাজি.-এর মতো তিনিও কিশোর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।¹ প্রথমে হাবশায় হিজরত করেন, পরে দ্বিতীয়বার মদিনাতে হিজরত করেন। তিনি আসমা বিনতে আবু বকর রাজি.-এর স্বামী এবং আবদুল্লাহ বিন জুবাইর রাজি.-এর পিতা। আবদুল্লাহ বিন জুবাইর ছিলেন মদিনায় মুসলমানদের প্রথম সন্তান।² রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাইর রাজি.-এর ব্যাপারে বলেছেন, 'প্রত্যেক নবির একজন হাওয়ারি (সাহায্যকারী বন্ধু) থাকে; আর আমার হাওয়ারি জুবাইর।'³ তিনি সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। রাসুলুল্লাহর সঙ্গে সকল জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। রাসুলুল্লাহর পরে মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ইয়ারমুকের যুদ্ধ, মিশর বিজয়-সহ বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উমর রাজি.-এর উপদেষ্টা পরিষদের একজন। তালহা রাজি.-এর মতো তিনিও উসমানের রক্তের দাবিতে জামাল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পরে কয়েকজন গাদ্দার তাকে পিছনের দিক থেকে আক্রমণ করে শহিদ করে দেয়।
টিকাঃ
১. হাকেম (৫৫৯৩); আল-মুজামুল কাবির; তাবারানি (২৩৯)।
২. বুখারি (৩৯০৯); মুসলিম (২১৪৬)।
৩. বুখারি (৩৭১৯); মুসলিম (২৪১৫)।
৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৪৫)।
📄 সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি. (মৃ. ৫৫ হি.): প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। সম্পর্কে তিনি রাসুলুল্লাহর (চাচাতো) মামা ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিয়ে গর্ব করে বলতেন, 'এই আমার মামা। কার এমন মামা আছে?'¹ তিনি ছিলেন বীর যোদ্ধা। রাসুলুল্লাহর সঙ্গে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেন। উহুদ যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, 'তুমি তির ছোড়ো। আমার পিতা-মাতা তোমার উপর কুরবান।'² রাসুলুল্লাহর পরে পারস্যদের বিরুদ্ধে বিখ্যাত কাদেসিয়্যার যুদ্ধে তিনি সর্বাধিনায়কের ভূমিকা পালন করেন, মাদায়েন ও ইরাক জয় করেন। উমর রাজি.-এর গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ৫৫ হিজরিতে ওফাত লাভ করেন।³ রাসুলুল্লাহর দোয়ার বরকতে তিনি ‘মুস্তাজাবুদ-দাওয়াহ’ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।⁴
টিকাঃ
১. তিরমিজি (৩৭৫২)।
২. বুখারি (২৯০৫); মুসলিম (২৪১১)।
৩. হিলইয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম (১/৯২)।
৪. তিরমিজি (৩৭৫১); ইবনে হিব্বান (৬৯৯০)।
📄 সাইদ বিন জায়দ রাজি
সাইদ বিন জায়দ রাজি. (মৃ. ৫১ হি.): প্রথম পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবাদের একজন। তার পিতা জায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল জাহেলি যুগেও একত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে বলেছেন, ‘তিনি একাই এক উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন।’¹ সাইদ রাজি. ছিলেন উমর রাজি.-এর ভগিনীপতি। রাসুলুল্লাহর সঙ্গে অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রোমানদের বিপক্ষে ইয়ারমুকের ময়দানে যুদ্ধ করেন। সাইদ বিন জায়দ রাজি. ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’ এবং দুনিয়াবিমুখ সাহাবি ছিলেন।² ৫১ হিজরিতে তিনি ওফাত লাভ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাজি. তার জানাজা আদায় করেন।
টিকাঃ
১. সুনানে কুবরা, নাসায়ি (৮১৩১); বাজ্জার (১৩০১)।
২. মুসলিম (১৬১০)।
📄 আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি
আবদুর রহমান বিন আউফ রাজি. (মৃ. ৩২ হি.): প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। আবু বকর রাজি.-এর দাওয়াতে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দারুল আরকামে প্রবেশের আগেই ইসলামে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে তার পিছনে মুক্তাদি হয়ে ফজরের নামাজ পড়েন।¹ মদিনায় মুহাজির হিসেবে গেলে তখন দীনহীন নিঃস্ব ছিলেন, কিন্তু ব্যাবসায় মনোযোগী হন। একসময় তিনি শীর্ষ ধনী সাহাবাদের মাঝে গণ্য হন। তিনি সেই সম্পদ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ব্যয় করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও দুনিয়াত্যাগী ছিলেন। তিনি ৩২ হিজরিতে উসমান রাজি.-এর খেলাফতের আমলে ইন্তেকাল করেন।²
টিকাঃ
১. আবু দাঊদ (১৪৯)।
২. আল-ইসতিআব, ইবনে আবদুল বার (২/৮৪৬-৮৪৭); সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৫৪-৬০)।