📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আশারায়ে মুবাশশারার শ্রেষ্ঠত্ব

📄 আশারায়ে মুবাশশারার শ্রেষ্ঠত্ব


আশারায়ে মুবাশশারা শব্দের অর্থ হলো সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন। তারা সেই সৌভাগ্যবান দশজন মানুষ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে থেকেই যাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। ইসলামের সাধারণ নিয়ম হলো নির্ধারিত কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে জান্নাত ও জাহান্নামের সাক্ষ্য না দেওয়া। কারণ, প্রত্যেকের শেষ পরিণতি ও ভিতরের খবর আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু তারা এর ব্যতিক্রম। স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আবু বকর জান্নাতে, উমর জান্নাতে, উসমান জান্নাতে, আলি জান্নাতে, তালহা জান্নাতে, জুবাইর জান্নাতে, আবদুর রহমান ইবনে আউফ জান্নাতে, সাদ জান্নাতে, সাইদ জান্নাতে, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতে।'¹ আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনিবার্য সত্য। ফলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ বিশ্বাস করে, উক্ত দশজন সাহাবি পরকালে সুনিশ্চিতভাবে জান্নাতি। আর এ কারণে তারা উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। ঘৃণ্য রাফেজিদের দুর্ভাগ্য যে, তারা উক্ত দশজনের মাঝে কেবল আলি রাজি. বাদে বাকি সবাইকে কাফের-ফাসেক মনে করে।

টিকাঃ
১. তিরমিজি (৩৭৪৭); আবু দাউদ (৪৬৪৯); ইবনে মাজা (১৩৩)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাজি

📄 তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাজি


তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাজি. (মৃ. ৩৬ হি.): জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবির একজন। ইসলামের একেবারে শুরুর দিকে আবু বকর রাজি.-এর দাওয়াতে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেন, হিজরত করেন, আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে কাফেরদের তিরের আঘাতে তার হাত প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং আমৃত্যু তেমন থাকে। কাফেরদের আঘাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ে গেলে তিনি তাঁর সামনে পিঠ পেতে দেন। রাসুল তার পিঠে আরোহণ করে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে বলেন, 'যার কোনো জীবিত শহিদ দেখতে মনে চায় সে যেন তালহাকে দেখে।'¹ তালহা রাজি. ছিলেন অঢেল সম্পদের অধিকারী, কিন্তু তিনি তা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বিলিয়ে দেন। উমর রাজি. ওফাতের সময় যখন শীর্ষস্থানীয় সাহাবাদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন, তিনি ছিলেন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। উসমান রাজি.-এর শাহাদাতের পরে সৃষ্ট জটিলতায় তিনিও জড়িয়ে পড়েন এবং উসমান রাজি.-এর হত্যার বিচারের দাবিতে আলি রাজি.-এর সঙ্গে জামাল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

টিকাঃ
১. বুখারি (৩৭২৪); তিরমিজি (৩৭৩৯); ইবনে মাজা (১২৫); মুসনাদে আহমদ (১৪৩৪)।
২. হাকেম (৫৬৫০); আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি (১৯৭)।
৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির (৭/২৭৩)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জুবাইর ইবনুল আউয়াম রাজি

📄 জুবাইর ইবনুল আউয়াম রাজি


জুবাইর ইবনুল আউয়াম রাজি. (মৃ. ৩৬ হি.): তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফাতো ভাই, প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। আলি রাজি.-এর মতো তিনিও কিশোর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন।¹ প্রথমে হাবশায় হিজরত করেন, পরে দ্বিতীয়বার মদিনাতে হিজরত করেন। তিনি আসমা বিনতে আবু বকর রাজি.-এর স্বামী এবং আবদুল্লাহ বিন জুবাইর রাজি.-এর পিতা। আবদুল্লাহ বিন জুবাইর ছিলেন মদিনায় মুসলমানদের প্রথম সন্তান।² রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুবাইর রাজি.-এর ব্যাপারে বলেছেন, 'প্রত্যেক নবির একজন হাওয়ারি (সাহায্যকারী বন্ধু) থাকে; আর আমার হাওয়ারি জুবাইর।'³ তিনি সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। রাসুলুল্লাহর সঙ্গে সকল জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। রাসুলুল্লাহর পরে মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ইয়ারমুকের যুদ্ধ, মিশর বিজয়-সহ বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উমর রাজি.-এর উপদেষ্টা পরিষদের একজন। তালহা রাজি.-এর মতো তিনিও উসমানের রক্তের দাবিতে জামাল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পরে কয়েকজন গাদ্দার তাকে পিছনের দিক থেকে আক্রমণ করে শহিদ করে দেয়।

টিকাঃ
১. হাকেম (৫৫৯৩); আল-মুজামুল কাবির; তাবারানি (২৩৯)।
২. বুখারি (৩৯০৯); মুসলিম (২১৪৬)।
৩. বুখারি (৩৭১৯); মুসলিম (২৪১৫)।
৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৪৫)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি

📄 সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি


সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি. (মৃ. ৫৫ হি.): প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। সম্পর্কে তিনি রাসুলুল্লাহর (চাচাতো) মামা ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিয়ে গর্ব করে বলতেন, 'এই আমার মামা। কার এমন মামা আছে?'¹ তিনি ছিলেন বীর যোদ্ধা। রাসুলুল্লাহর সঙ্গে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেন। উহুদ যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, 'তুমি তির ছোড়ো। আমার পিতা-মাতা তোমার উপর কুরবান।'² রাসুলুল্লাহর পরে পারস্যদের বিরুদ্ধে বিখ্যাত কাদেসিয়্যার যুদ্ধে তিনি সর্বাধিনায়কের ভূমিকা পালন করেন, মাদায়েন ও ইরাক জয় করেন। উমর রাজি.-এর গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ৫৫ হিজরিতে ওফাত লাভ করেন।³ রাসুলুল্লাহর দোয়ার বরকতে তিনি ‘মুস্তাজাবুদ-দাওয়াহ’ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।⁴

টিকাঃ
১. তিরমিজি (৩৭৫২)।
২. বুখারি (২৯০৫); মুসলিম (২৪১১)।
৩. হিলইয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম (১/৯২)।
৪. তিরমিজি (৩৭৫১); ইবনে হিব্বান (৬৯৯০)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px