📄 মুসতাজাবুদ দাওয়াত কে?
মুসতাজাবুদ দাওয়াহ কে? 'মুসতাজাবুদ দাওয়াহ' শব্দের অর্থ হলো এমন মানুষ যার দোয়া কবুল করা হয়। আমাদের সমাজে বিভিন্ন বুজুর্গকে 'মুসতাজাবুদ দাওয়াহ' বলা হয় এবং তাদের বিশেষ দৃষ্টিতে দেখা হয়। এর ভিত্তি কী? প্রথম কথা হলো, মুসতাজাবুদ দাওয়াহ কোনো বিশেষ পদ কিংবা বৈশিষ্ট্য নয়। আল্লাহ তায়ালা সকল মুমিনের দোয়া কবুল করেন। যার মাঝেই উপরে বর্ণিত দোয়া কবুলের শর্তগুলো বিদ্যমান থাকবে এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো অবিদ্যমান থাকবে, তার দোয়াই কবুল হবে। সে হিসেবে সকল মুমিনই মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হতে পারবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে লক্ষ্য করে বলেন—সাদ, পবিত্র খাবার খাও। তুমি মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হয়ে যাবে।¹
তবে কিছু কিছু মানুষকে বিশেষ কিছু আমলের বিনিময়ে আল্লাহ একটু ভিন্ন মর্যাদা দেন। তারা যেকোনো দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন। এসব মানুষ ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’ হিসেবে পরিচিত হন। এ কারণে আমরা দেখি, সকল নবি ও সাহাবি পুণ্যবান হওয়া সত্ত্বেও, তাদের দোয়া কবুল হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো নবি ও সাহাবি মুসতাজাবুদ দাওয়াহ নামেই পরিচিত ছিলেন। যেমন: নবিদের মাঝে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মুসতাজাবুদ দাওয়াহ ছিলেন। কুরআনে তার অনেকগুলো দোয়া কবুলের কথা এসেছে। সাহাবাদের মাঝে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাজি. মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। উপরে তার ব্যাপারে হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। এতদ্ব্যতীত হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে তার বিভিন্ন দোয়া কবুলের অনেক ঘটনা রয়েছে। আরেকজন মুসতাজাবুদ দাওয়াহ সাহাবি হলেন আনাস ইবনে মালেক রাজি.। তৃতীয় আরেকজন হলেন বারা বিন মালেক রাজি.; স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হওয়ার ঘোষণা করেছেন।² সাহাবাদের পরেও এমন ব্যক্তিত্ব বিদ্যমান ছিলেন; তাদের একজন হলেন তাবেয়ি ওয়াইস আল-করনি রাহি.। খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।³ পরবর্তীকালেও এমন অনেক মানুষ বিদ্যমান ছিলেন।⁴
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে; সেটা হচ্ছে, মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হওয়া ব্যক্তির কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বরং তার বিশেষ আমলের কারণে তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। ফলে তিনি সকল দিক থেকে অন্যদের চেয়ে উত্তম হবেন জরুরি নয়। এ কারণে সাহাবাদের মাঝে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, আনাস ও বারা প্রমুখ মুসতাজাবুদ দাওয়াহ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। আবু বকর, উমর, উসমান, আলি রাজি. এই বৈশিষ্ট্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন না; অথচ তারা সর্বসম্মতিক্রমে সাদ, আনাস ও বারার চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
১. আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি (৬৪৯৫)।
২. তিরমিজি (৩৮৫৪); মুসনাদে আবু ইয়ালা (৩৯৮৭)।
৩. মুসলিম (২৫৪২); মুসতাদরাকে হাকেম (৫৭৬৮)।
৪. বিস্তারিত দেখতে পারেন ইবনে আবিদ দুনইয়ার ‘মুজাবুদ দাওয়াহ’ গ্রন্থে।