📄 জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা
জাহান্নাম সব ধরনের মর্মন্তুদ শাস্তি দ্বারা পরিপূর্ণ। জিবরাইল আলাইহিস সালাম দেখেছিলেন সেটা তুফানের মতো এক অংশ আরেক অংশের উপর ভেঙে পড়ছে।¹ জাহান্নাম একদিকে আগুন দিয়ে ভরে রাখা হয়েছে, যা দুনিয়ার আগুনের তুলনায় সত্তর গুণ তীব্র।² মানুষ ও পাথর হবে জাহান্নামের ইন্ধন। [তাহরিম: ৬] একইভাবে জাহান্নামে তীব্র শীতের উপকরণও রাখা হয়েছে। জাহান্নাম বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছু, হাতুড়ি-গদা, শিকল-বেড়ি দিয়ে পরিপূর্ণ। সেখানের সাপগুলো উটের ঘাড়ের মতো বিশাল।³
জাহান্নামের খাবার অত্যন্ত বিস্বাদ। পাপীদের জন্য রয়েছে জাক্কুম বৃক্ষ, যা গলিত তাম্রের মতো পেটে ফুটতে থাকবে। ৪ এছাড়াও জাহান্নামিদের পুঁজ পান করতে দেওয়া হবে। [ইবরাহিম: ১৬-১৭] জাহান্নামে মুনাফিকরা থাকবে সর্বনিম্ন স্তরে। ৫ সেখানে অপরাধ অনুযায়ী শাস্তির তারতম্য হবে। সবচেয়ে কম শাস্তি হবে যার, তাকে আগুনের জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে যাতে তার মাথার ঘিলু টগবগ করে ফুটতে থাকবে। ৬ জাহান্নামিদের চামড়া যখনই পুড়ে যাবে, আল্লাহ পুনরায় নতুন চামড়া সৃষ্টি করবেন যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। ৭
টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৭৪৪); তিরমিজি (২৫৬০); ইবনে হিব্বান (৭৩৯৪)।
২. বুখারি (৩২৬৫); মুসলিম (২৮৪৩)।
৩. মুসনাদে আহমদ (১৭৯৮৯)।
৪. তিরমিজি (২৫৮৫); ইবনে মাজা (৪৩২৫)।
৫. মুসতাদরাকে হাকেম (৮৮৩৮)।
৬. বুখারি (৬৫৬১); মুসলিম (২১৩)।
৭. নিসা (৫৬)।
📄 জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা
জাহান্নামিরা শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরে সবকিছু দিয়ে হলেও সেখান থেকে বের হতে চাইবে। অপরাধী সেদিনের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য নিজের সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী ও ভাইকেও পণস্বরূপ রাখতে চাইবে। তারা বারবার আল্লাহর কাছে আবেদন করবে আরেকটিবার দুনিয়াতে পাঠিয়ে সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু আল্লাহ তাদের আবেদনে সাড়া দেবেন না। [ফাতির: ৩৬-৩৭] তারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে শাস্তি একটু লাঘব করতে, কিন্তু তাদের ডাকাডাকি নিস্ফল হবে। অবশেষে তারা মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করবে, কিন্তু তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
📄 জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংসহীন
জান্নাতে যারা যাবে, তারা চিরকাল তথায় থাকবে। একইভাবে জাহান্নামে যারা যাবে, সেসব কাফের-মুশরিকও কখনও সেখান থেকে বের হবে না। জান্নাত ও জাহান্নাম দুটোই আল্লাহর চিরস্থায়ী সৃষ্টি। আহলে সুন্নাতের সর্বসম্মত মত এটি।¹ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদাকালো মেষের আকৃতিতে এনে জান্নাত ও জাহান্নামিদের সামনে জবেহ করা হবে। অতঃপর ঘোষণা করা হবে—আজ থেকে আর কোনো মৃত্যু নেই।'²
অস্থায়ী জীবনের কুফরের জন্য স্থায়ী শাস্তি কেন? এর উত্তর আল্লাহ কুরআনে দিয়েছেন। তিনি জানতেন কাফেরদের পুনরায় দুনিয়াতে পাঠালে তারা আবারও কুফরি করত। সুতরাং তাদের কুফরি যেহেতু স্থায়ী, তাই তাদের শাস্তিও স্থায়ী হবে। তাছাড়া কর্মের সময়ের সাথে শাস্তির সময়ের মিল থাকা জরুরি নয়; বরং অপরাধের ভয়াবহতাই মুখ্য।
📄 জান্নাত আল্লাহর অনুগ্রহ আর জাহান্নাম ইনসাফ
মানুষ নিজের আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যেতে পারবে না; বরং আল্লাহর অনুগ্রহই তাকে জান্নাতে নেবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না, তবে আল্লাহ যদি তাঁর অনুগ্রহের চাদরে আমাকে ঢেকে নেন।'¹ অপরদিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ আল্লাহর জুলুম নয়, বরং ইনসাফ। কারণ আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন। কাফেররা তাদের কর্মের মাধ্যমেই জাহান্নামের উপযুক্ত হয়েছে। আল্লাহ কাউকে বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না।
টিকাঃ
১. বুখারি (৫৬৭৩); মুসলিম (২৮১৬)।