📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আল্লাহর দিদার

📄 আল্লাহর দিদার


জান্নাতের সর্বোচ্চ নিয়ামত হলো আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ। জান্নাতবাসী যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ পর্দা তুলে নেবেন। তখন তাদের কাছে আল্লাহর দিকে তাকানোর চেয়ে অধিকতর প্রিয় আর কিছু থাকবে না।¹ আলি ইবনে আবি তালিব এবং আনাস বিন মালিক রাজি. থেকে বর্ণিত, 'আরও অধিক' দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে 'আল্লাহ তায়ালার দর্শন।'² আনাস ইবনে মালেক রাজি.-এর একটি হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, প্রতি সপ্তাহে একবার জান্নাতবাসী আল্লাহকে দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে এবং আল্লাহ তাদের সালাম দেবেন।

টিকাঃ
১. মুসলিম (১৮১); তিরমিজি (২৫৫২); ইবনে মাজা (১৮৭)।
২. তাফসিরে তাবারি (২২/৩৬৭-৩৭০); তাফসিরে ইবনে কাসির (৭/৩৮০)।
৩. আল মুজামুল আওসাত, তাবারানি (৬৭১৭); মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (৫৫৬০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জাহান্নামের পরিচয়

📄 জাহান্নামের পরিচয়


জাহান্নাম আল্লাহর একটি সৃষ্টি। তিনি এটা তার অবাধ্য ও তাকে অস্বীকারকারী মানুষ ও জিনদের চিরস্থায়ী শাস্তির জায়গা হিসেবে তৈরি করেছেন। আহলে সুন্নাতের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, জাহান্নাম বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে।¹ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবদ্দশায় জাহান্নাম দেখেছেন এবং বলেছেন—এমন ভয়ানক দৃশ্য কখনও দেখিনি। সেখানে নারীদের সংখ্যা বেশি ছিল।²

টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৭৫৩); মুসনাদে আহমদ (১৮৮৩২)।
২. বুখারি (১০৫২); মুসলিম (৯০৭)।
৩. মুসলিম (৪২৬); ইবনে খুজাইমা (১৬০২); মুসনাদে আহমদ (১২১২২)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জাহান্নামের অবস্থান

📄 জাহান্নামের অবস্থান


জান্নাতের মতো জাহান্নামেরও অনেক নাম ও দরজা রয়েছে। জাহান্নাম রয়েছে, কিন্তু কোথায় রয়েছে আল্লাহ ভালো জানেন। কুরআনে জাহান্নামকে মাটির সর্বনিম্ন স্তরে [মুতাফফিফিন: ৭] বলা হয়েছে।¹ তবে জাহান্নামের বিশালতা মানুষের মাথায় হিসাব করা সম্ভব নয়। হাদিসে এসেছে, জাহান্নামির এক কাঁধ থেকে অন্য কাঁধের দূরত্ব হবে দ্রুতগামী সওয়ারির তিন দিনের অতিক্রম করার মতো পথ।² একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড় পরিমাণ বিশাল।³ জাহান্নামের উপর থেকে যদি একটা পাথর ফেলা হয়, তবে নিচে পৌঁছতে সত্তর বছর সময় লাগে।⁴ মহাবিশ্বের অসংখ্য গ্রহের যেসব বর্ণনা আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে, তা কুরআন-হাদিসে বর্ণিত জাহান্নামের বর্ণনার চেয়ে মোটেই কম ভয়ংকর নয়।

টিকাঃ
১. মুসতাদরাকে হাকেম (৮৭৯৫)।
২. বুখারি (৬৫৫১); মুসলিম (২৮৫২)।
৩. মুসলিম (২৮৫১); ইবনে হিব্বান (৭৪৮৭)।
৪. মুসলিম (২৮৪৪); তিরমিজি (২৫৭৫)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা

📄 জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা


জাহান্নাম সব ধরনের মর্মন্তুদ শাস্তি দ্বারা পরিপূর্ণ। জিবরাইল আলাইহিস সালাম দেখেছিলেন সেটা তুফানের মতো এক অংশ আরেক অংশের উপর ভেঙে পড়ছে।¹ জাহান্নাম একদিকে আগুন দিয়ে ভরে রাখা হয়েছে, যা দুনিয়ার আগুনের তুলনায় সত্তর গুণ তীব্র।² মানুষ ও পাথর হবে জাহান্নামের ইন্ধন। [তাহরিম: ৬] একইভাবে জাহান্নামে তীব্র শীতের উপকরণও রাখা হয়েছে। জাহান্নাম বিষাক্ত সাপ-বিচ্ছু, হাতুড়ি-গদা, শিকল-বেড়ি দিয়ে পরিপূর্ণ। সেখানের সাপগুলো উটের ঘাড়ের মতো বিশাল।³
জাহান্নামের খাবার অত্যন্ত বিস্বাদ। পাপীদের জন্য রয়েছে জাক্কুম বৃক্ষ, যা গলিত তাম্রের মতো পেটে ফুটতে থাকবে। ৪ এছাড়াও জাহান্নামিদের পুঁজ পান করতে দেওয়া হবে। [ইবরাহিম: ১৬-১৭] জাহান্নামে মুনাফিকরা থাকবে সর্বনিম্ন স্তরে। ৫ সেখানে অপরাধ অনুযায়ী শাস্তির তারতম্য হবে। সবচেয়ে কম শাস্তি হবে যার, তাকে আগুনের জুতা পরিয়ে দেওয়া হবে যাতে তার মাথার ঘিলু টগবগ করে ফুটতে থাকবে। ৬ জাহান্নামিদের চামড়া যখনই পুড়ে যাবে, আল্লাহ পুনরায় নতুন চামড়া সৃষ্টি করবেন যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। ৭

টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৭৪৪); তিরমিজি (২৫৬০); ইবনে হিব্বান (৭৩৯৪)।
২. বুখারি (৩২৬৫); মুসলিম (২৮৪৩)।
৩. মুসনাদে আহমদ (১৭৯৮৯)।
৪. তিরমিজি (২৫৮৫); ইবনে মাজা (৪৩২৫)।
৫. মুসতাদরাকে হাকেম (৮৮৩৮)।
৬. বুখারি (৬৫৬১); মুসলিম (২১৩)।
৭. নিসা (৫৬)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px