📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জান্নাতের স্তর

📄 জান্নাতের স্তর


জান্নাত মৌলিক বস্তু হিসেবে একটিই, কিন্তু গুণাবলি ও স্তর তারতম্যে জান্নাত অনেকগুলো। প্রত্যেকে তার ঈমান, তাকওয়া, আমল এবং আল্লাহর অনুগ্রহে সেখানে ভিন্ন ভিন্ন স্তর লাভ করবে। সবচেয়ে উন্নত স্তর হলো ফিরদাউস। এর পরে অন্যান্য জান্নাত। হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, এগুলো একটা অপরটার নিচে হবে। ফলে নিম্নস্তরের লোকজন উপরে তাকিয়ে উঁচু স্তরের লোকদের দেখতে পাবে। আর উপরের লোকজন নিচের লোকদের দেখতে আসবে। এটি ইনসাফপূর্ণ; কারণ যারা দ্বীনের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, তাদের মর্যাদা সাধারণ মুমিনদের মতো হতে পারে না। তবে জান্নাতবাসীর পরস্পরের মাঝে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। সবাই একটি হৃদয়ের মতো থাকবে।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জান্নাতের গিলমান

📄 জান্নাতের গিলমান


জান্নাতে অন্যান্য উপহারের মাঝে মুমিনদের জন্য চিরস্থায়ী শিশু-কিশোররা থাকবে, যাদের গিলমান বলা হয়। তারা জান্নাতিদের বিভিন্ন সেবা করবে। তারা মণি-মুক্তোর মতো সুন্দর হবে। [ওয়াকিয়া: ১৭, ইনসান: ১৯]। আল্লাহ হুরদের মতো তাদেরও জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের সেবার জন্য সৃষ্টি করেছেন। জান্নাত ও জান্নাতবাসী সব ধরনের অপরাধ, অনৈতিকতা, চারিত্রিক স্খলন ও কুৎসিত কর্ম থেকে পবিত্র। ফলে জান্নাতে সমকামিতার মতো ঘৃণ্য কাজের কোনো স্থান নেই। গিলমানের সৃষ্টি কেবল সেবার জন্য।

টিকাঃ
১. তাফসিরে বাগাবি (৫/৭)।
২. আল-মুনতাজাম, ইবনুল জাওজি (১৬/২৪৮-২৪৯)।
৩. তাফসিরে ইবনে কাসির (৩/৩৯৯)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আল্লাহর দিদার

📄 আল্লাহর দিদার


জান্নাতের সর্বোচ্চ নিয়ামত হলো আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ। জান্নাতবাসী যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ পর্দা তুলে নেবেন। তখন তাদের কাছে আল্লাহর দিকে তাকানোর চেয়ে অধিকতর প্রিয় আর কিছু থাকবে না।¹ আলি ইবনে আবি তালিব এবং আনাস বিন মালিক রাজি. থেকে বর্ণিত, 'আরও অধিক' দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে 'আল্লাহ তায়ালার দর্শন।'² আনাস ইবনে মালেক রাজি.-এর একটি হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, প্রতি সপ্তাহে একবার জান্নাতবাসী আল্লাহকে দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে এবং আল্লাহ তাদের সালাম দেবেন।

টিকাঃ
১. মুসলিম (১৮১); তিরমিজি (২৫৫২); ইবনে মাজা (১৮৭)।
২. তাফসিরে তাবারি (২২/৩৬৭-৩৭০); তাফসিরে ইবনে কাসির (৭/৩৮০)।
৩. আল মুজামুল আওসাত, তাবারানি (৬৭১৭); মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (৫৫৬০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জাহান্নামের পরিচয়

📄 জাহান্নামের পরিচয়


জাহান্নাম আল্লাহর একটি সৃষ্টি। তিনি এটা তার অবাধ্য ও তাকে অস্বীকারকারী মানুষ ও জিনদের চিরস্থায়ী শাস্তির জায়গা হিসেবে তৈরি করেছেন। আহলে সুন্নাতের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, জাহান্নাম বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে।¹ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবদ্দশায় জাহান্নাম দেখেছেন এবং বলেছেন—এমন ভয়ানক দৃশ্য কখনও দেখিনি। সেখানে নারীদের সংখ্যা বেশি ছিল।²

টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৭৫৩); মুসনাদে আহমদ (১৮৮৩২)।
২. বুখারি (১০৫২); মুসলিম (৯০৭)।
৩. মুসলিম (৪২৬); ইবনে খুজাইমা (১৬০২); মুসনাদে আহমদ (১২১২২)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px