📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জান্নাতের পরিচয়

📄 জান্নাতের পরিচয়


জান্নাত আল্লাহর একটি সৃষ্টি। তাঁর প্রিয় মুমিন বান্দাদের চিরস্থায়ী আবাস হিসেবে তিনি এটা তৈরি করেছেন। আহলে সুন্নাতের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, জান্নাত বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে।¹ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাত দেখেছেন। মিরাজের রাতে তিনি সিদরাতুল মুনতাহার পাশে 'আদন জান্নাত' দেখেছেন।² পুণ্যবান ব্যক্তি যখন মারা যায়, জান্নাতের দিকে তার কবরের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়।³ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবদ্দশায় জান্নাতের ফল ধরেছেন। ৪ জান্নাতের অবস্থান কোথায় সেটা আমাদের জানা নেই। কুরআনে জান্নাতকে উপরে [মুতাফফিফিন: ১৮] এবং হাদিসে সপ্তম আকাশে বলা হয়েছে।⁵
জান্নাতে আল্লাহ যা রেখেছেন তা মানুষের কল্পনারও বাইরে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের জন্য (জান্নাতে) যা প্রস্তুত করে রেখেছি, তা কোনো চোখ দেখেনি, কান শুনেনি, কোনো মানুষের কল্পনাতেও উদিত হয়নি।'⁶ জান্নাতবাসী জান্নাতে সর্বোত্তম আকৃতি এবং সবচেয়ে সুন্দর দেহাবয়ব নিয়ে প্রবেশ করবে। বয়স থাকবে ত্রিশ থেকে তেত্রিশের মাঝামাঝি। সবাই আদম আলাইহিস সালামের আকৃতিতে থাকবে। জান্নাতবাসী পূর্ণিমার চাঁদের মতো চমকাতে থাকবে। তাদের শারীরিক সব ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকবে। তাদের কারও মাঝে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।

টিকাঃ
১. ইবনে আবিল ইজ (৪২০)।
২. বুখারি (৩৩৪২); মুসলিম (১৬৩)।
৩. আবু দাউদ (৪৭৫৩); মুসনাদে আহমদ (১৮৮৩২)।
৪. বুখারি (৭৪৮, ১০৫২); মুসলিম (৯০৭)।
৫. মুসতাদরাকে হাকেম (৮৭৯৫)।
৬. বুখারি (৩২৪৪); মুসলিম (২৮২৪)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জান্নাতে কী আছে?

📄 জান্নাতে কী আছে?


জান্নাত মুমিনদের আবাস্থল হিসেবে একটি জায়গা; কিন্তু সেখানে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। সেখানে আটটি দরজার কথা এসেছে। জান্নাতের প্রশস্ততা সম্পর্কে বলা হয়েছে আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মতো। এর একটি ইট সোনার, অপরটি রুপার। জান্নাতের কঙ্কর ও নুড়িগুলো মোতি ও ইয়াকুতের। মাটি জাফরানের।¹ জান্নাতের প্রাসাদ এবং তাঁবুগুলো সোনা-রুপা ও মণিমুক্তার দ্বারা নির্মিত।² জান্নাতে অসংখ্য সবুজ বাগান, নদী-নহর, ঝরনা-প্রস্রবণ থাকবে। সেসব নদীর কোনোটা মিষ্টি পানির, কোনোটা দুধের, কোনোটা মদের এবং কোনোটা মধুর হবে। জান্নাতের বাগানের গাছগুলো একশত বছরের পথ সমান দীর্ঘ ও বড় থাকবে।³ জান্নাতে সব ধরনের ফল-ফুল ও পশুপাখি থাকবে।
জান্নাতে মানুষ সবকিছু করার অনুমতি পাবে। সেখানে মদ্যপান ও স্বর্ণালংকার হালাল হবে। রেশম, সোনা-রুপা যা ইচ্ছা পরিধান করতে পারবে। জান্নাতে হুরগণ পুরুষদের মধুর কণ্ঠে গান শোনাবেন। জান্নাতবাসী প্রত্যেকে প্রত্যেকের বোধগম্য ভাষায় কথা বলবে। পরিবারের সবাই জান্নাতে গেলে মানুষ একসঙ্গেই থাকবে। জান্নাতবাসী দুনিয়ার প্রিয় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গাতে মিশবে, একসঙ্গে বসবে, গল্প করবে। ৪ তবে সেখানে মানুষ এমন কিছু চাইবে না যা শোভনীয় নয়; যেমন ব্যভিচার বা অজাচার।

টিকাঃ
১. তিরমিজি (২৫২৬)।
২. বুখারি (৭০২৪); মুসলিম (২৮৩৮)।
৩. বুখারি (৩২৫১); মুসলিম (২৮২৬)।
১. মুসলিম (১৮৭)।
১. তিরমিজি (২৫৪৩); তয়ালিসি (৮৪৩)।
২. বুখারি (৫৫৭৫, ৫৬৩৩, ২০০৩); মুসলিম (২০৬৭); তিরমিজি (১৮৬১); আবু দাউদ (৩৭২৩)।
৩. আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি (৭৩৪); আল-আওসাত (৪৯১৭)।
৪. বুখারি (৬১৬৮); মুসলিম (২৬৩৯)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জান্নাতের স্তর

📄 জান্নাতের স্তর


জান্নাত মৌলিক বস্তু হিসেবে একটিই, কিন্তু গুণাবলি ও স্তর তারতম্যে জান্নাত অনেকগুলো। প্রত্যেকে তার ঈমান, তাকওয়া, আমল এবং আল্লাহর অনুগ্রহে সেখানে ভিন্ন ভিন্ন স্তর লাভ করবে। সবচেয়ে উন্নত স্তর হলো ফিরদাউস। এর পরে অন্যান্য জান্নাত। হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, এগুলো একটা অপরটার নিচে হবে। ফলে নিম্নস্তরের লোকজন উপরে তাকিয়ে উঁচু স্তরের লোকদের দেখতে পাবে। আর উপরের লোকজন নিচের লোকদের দেখতে আসবে। এটি ইনসাফপূর্ণ; কারণ যারা দ্বীনের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, তাদের মর্যাদা সাধারণ মুমিনদের মতো হতে পারে না। তবে জান্নাতবাসীর পরস্পরের মাঝে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। সবাই একটি হৃদয়ের মতো থাকবে।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 জান্নাতের গিলমান

📄 জান্নাতের গিলমান


জান্নাতে অন্যান্য উপহারের মাঝে মুমিনদের জন্য চিরস্থায়ী শিশু-কিশোররা থাকবে, যাদের গিলমান বলা হয়। তারা জান্নাতিদের বিভিন্ন সেবা করবে। তারা মণি-মুক্তোর মতো সুন্দর হবে। [ওয়াকিয়া: ১৭, ইনসান: ১৯]। আল্লাহ হুরদের মতো তাদেরও জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের সেবার জন্য সৃষ্টি করেছেন। জান্নাত ও জান্নাতবাসী সব ধরনের অপরাধ, অনৈতিকতা, চারিত্রিক স্খলন ও কুৎসিত কর্ম থেকে পবিত্র। ফলে জান্নাতে সমকামিতার মতো ঘৃণ্য কাজের কোনো স্থান নেই। গিলমানের সৃষ্টি কেবল সেবার জন্য।

টিকাঃ
১. তাফসিরে বাগাবি (৫/৭)।
২. আল-মুনতাজাম, ইবনুল জাওজি (১৬/২৪৮-২৪৯)।
৩. তাফসিরে ইবনে কাসির (৩/৩৯৯)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px