📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 মুরতাদ কিন্তু হওয়ার কারণসমূহ

📄 মুরতাদ কিন্তু হওয়ার কারণসমূহ


স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত নিরাপদ, কিন্তু সে যদি এমন কোনো কাজ করে যা আল্লাহর আইন ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন এই সুরক্ষা নষ্ট হয়ে যাবে। একটি হাদিসে এসেছে, 'তিন ব্যক্তি ছাড়া কোনো মুসলমানের রক্ত হালাল নয়: এক. বিবাহিত ব্যভিচারী। দুই. হত্যার বিনিময়ে হত্যা। তিন. মুরতাদ তথা ইসলাম ত্যাগকারী।'১

অনুরূপভাবে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে... যদি একদল সীমালঙ্ঘন করে, তবে আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।' [হুজুরাত: ৯] একইভাবে ডাকাতদেরও কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ইন্নামা জাজাউল্লাজিনা ইউহারিবুনাল্লাহা ওয়া রাসুলুহু... [মায়িদা: ৩৩]

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 ইসলামে মুরতাদের বিধান

📄 ইসলামে মুরতাদের বিধান


'ইরতিদাদ' বা 'রিদ্দাহ' হলো ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাওয়া। মুরতাদ হলো, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে সুস্থ অবস্থায় ইসলাম ত্যাগ করে। ইসলামে মুরতাদের সাধারণ শাস্তি হত্যা। এটা আলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।১ কারণ, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন: 'যে ব্যক্তি তার ধর্ম বদল করে, তাকে হত্যা করে দাও।'২

মুরতাদকে হত্যা করা হয় মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ফলে। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ নয়; বরং ইসলামের বিশুদ্ধতাকে প্রত্যাখ্যান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শাস্তি। মুরতাদ কেবল নিজে ইসলাম থেকে বেরিয়ে ক্ষান্ত থাকে না, বরং সে হাজার হাজার মানুষের ঈমান নষ্টের কারণ হয়। রাসুলুল্লাহর যুগে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদের মতো মুনাফিকদের অনেক সময় সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যারা বিদ্রোহ করেছে তাদের কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে। আবু বকর রাজি. রিদ্দাহর যুদ্ধে জাকাত অস্বীকারকারীদের হত্যা করেছেন।

বিদ্রোহী মুরতাদের ক্ষেত্রে ইসলামের ইতিহাসে আমরা দুই ধরনের আমল পাই: হত্যা করা, অথবা অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের করণীয় হলো: সবর করা, সাধ্যমতো দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করা এবং মুরতাদদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

টিকাঃ
১. তিরমিজি (১৪৫৮); আল-মুগনি (৯/৩)।
২. বুখারি (৩০১৭, ৬৯২২)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 মুরতাদকে কে শাস্তি দেবে?

📄 মুরতাদকে কে শাস্তি দেবে?


উম্মাহর সর্বসম্মত রায় অনুযায়ী, মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক কিংবা তার পক্ষ থেকে নিযুক্ত দায়িত্বশীল উক্ত শাস্তি কার্যকর করবে, অন্য কেউ নয়। মুসলিম সমাজের ব্যক্তিবিশেষের জন্য মুরতাদকে হত্যা করা ফিতনার দরজা উন্মুক্ত করতে পারে। ইসলামে কাউকে মুরতাদ বললেই হুট করে হত্যা করা হয় না, বরং তাকে তাওবার সুযোগ দেওয়া হয়। ইমাম কারখি বলেন, 'আমাদের সকলের বক্তব্য হচ্ছে, সবসময় তাকে তাওবার সুযোগ দেওয়া হবে।'৪

যদি কোনো মুসলিম কোনো মুরতাদকে হত্যা করে ফেলে, তবে হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে না। কারণ মুরতাদের রক্ত মূল্যহীন। তবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে শাসক চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন।৩

টিকাঃ
৪. রদ্দুল মুহতার (৪/২২৫)।
৩. আল-ফুরু', ইবনে মুফলিহ (৯/৩৬৮)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 শাফিয়তের রাসূলের বিধান

📄 শাফিয়তের রাসূলের বিধান


শাতিম অর্থ গালিগালাজকারী। কোনো মুসলিম আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিলে উম্মাহর সর্বসম্মত মত অনুযায়ী মুরতাদ হয়ে যাবে। রাসুলকে গালিগালাজ সরাসরি রাসুলের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা রিদ্দাহর চেয়েও জঘন্য। তাই যদি কোনো ব্যক্তি রাসুলুল্লাহকে গালি দেয়, তবে সর্বাবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে।২

একাধিক হাদিস দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাব বিন আশরাফকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।৩ একইভাবে রাসুলকে গালিদাতা এক ইহুদি নারীকে এক সাহাবি হত্যা করলে রাসুলুল্লাহ সেই নারীর রক্তকে বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।১ মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ ইবনে খাতালের দুই দাসীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যারা আল্লাহর রাসুলের সমালোচনা করে গান গাইত।৪

টিকাঃ
২. শিফা, কাজি ইয়াজ (২/২১৫)।
৩. বুখারি (৩০৩১); মুসলিম (১৮০১)।
১. আবু দাউদ (৪৩৬২)।
৪. আস-সারিমুল মাসলুল, ইবনে তাইমিয়া (১২৮)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px