📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 মুসলমানকে তাকফির করা নিষিদ্ধ

📄 মুসলমানকে তাকফির করা নিষিদ্ধ


আহলে সুন্নাতের মানহাজ অনুযায়ী নির্দিষ্ট করে কাউকে জান্নাতি অথবা জাহান্নামি বলা বৈধ নয়। কারণ, আমাদের কারও শেষ পরিণতি জানা নেই। তাই একজন মুসলিম যত গুনাহ করুক, আমরা তাকে জাহান্নামি বলব না। কারণ, সে হয়তো মৃত্যুর আগে তাওবা করে জান্নাতি হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। হ্যাঁ, শরিয়তে যাদের ব্যাপারে জান্নাতের ঘোষণা এসেছে, আমরা তাদের জান্নাতি বিশ্বাস করব।

প্রত্যেক মুসলমানের ব্যাপারে আমরা সুধারণা রাখব, যতক্ষণ না তার কথা বা কর্মের মাধ্যমে কুফর সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এমনকি কুফর প্রকাশ পেলেও সাধারণ মানুষ তাকফির করবে না; বরং বিজ্ঞ আলিমগণ ফয়সালা দেবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না; মুসলমানদের পিছনে লেগো না। কারণ, যে মুসলমানদের পিছনে লাগে, আল্লাহ তার পিছনে লাগবেন।'১

টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৮৮০); তিরমিজি (২০০২)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 মুসলমানের রক্ত সুরক্ষিত

📄 মুসলমানের রক্ত সুরক্ষিত


ইসলামে মানুষের রক্ত অত্যন্ত সম্মানিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওয়া মাই ইয়াক্বতুল মু’মিনাম মুতাআমমিদান ফাজাজাউহু জাহান্নামু খালিদান ফিহা... [নিসা: ৯৩] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যখন মানুষ কালিমার সাক্ষ্য দেয়, নামাজ আদায় করে, জাকাত প্রদান করে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ হয়ে যায়।'১

বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাময়।'২ অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'একজন মুমিনের মর্যাদা আল্লাহর কাছে কাবার মর্যাদার চেয়েও বেশি।'৩ অপর একটি হাদিসে এসেছে, 'একজন মুসলিম নিহত হওয়ার চেয়ে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অধিক তুচ্ছ।'৪ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে আমার সাহাবাদের কষ্ট দিলো, সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিলো।'৩

টিকাঃ
১. বুখারি (২৫); মুসলিম (২২)।
২. বুখারি (৬৭)।
৩. সুনানে ইবনে মাজা (৩৯৩২)।
৪. তিরমিজি (১৩৯৫)।
৩. তিরমিজি (৩৮৬২)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 মুরতাদ কিন্তু হওয়ার কারণসমূহ

📄 মুরতাদ কিন্তু হওয়ার কারণসমূহ


স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত নিরাপদ, কিন্তু সে যদি এমন কোনো কাজ করে যা আল্লাহর আইন ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন এই সুরক্ষা নষ্ট হয়ে যাবে। একটি হাদিসে এসেছে, 'তিন ব্যক্তি ছাড়া কোনো মুসলমানের রক্ত হালাল নয়: এক. বিবাহিত ব্যভিচারী। দুই. হত্যার বিনিময়ে হত্যা। তিন. মুরতাদ তথা ইসলাম ত্যাগকারী।'১

অনুরূপভাবে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে... যদি একদল সীমালঙ্ঘন করে, তবে আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।' [হুজুরাত: ৯] একইভাবে ডাকাতদেরও কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ইন্নামা জাজাউল্লাজিনা ইউহারিবুনাল্লাহা ওয়া রাসুলুহু... [মায়িদা: ৩৩]

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 ইসলামে মুরতাদের বিধান

📄 ইসলামে মুরতাদের বিধান


'ইরতিদাদ' বা 'রিদ্দাহ' হলো ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাওয়া। মুরতাদ হলো, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে সুস্থ অবস্থায় ইসলাম ত্যাগ করে। ইসলামে মুরতাদের সাধারণ শাস্তি হত্যা। এটা আলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।১ কারণ, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন: 'যে ব্যক্তি তার ধর্ম বদল করে, তাকে হত্যা করে দাও।'২

মুরতাদকে হত্যা করা হয় মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ফলে। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ নয়; বরং ইসলামের বিশুদ্ধতাকে প্রত্যাখ্যান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শাস্তি। মুরতাদ কেবল নিজে ইসলাম থেকে বেরিয়ে ক্ষান্ত থাকে না, বরং সে হাজার হাজার মানুষের ঈমান নষ্টের কারণ হয়। রাসুলুল্লাহর যুগে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদের মতো মুনাফিকদের অনেক সময় সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যারা বিদ্রোহ করেছে তাদের কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে। আবু বকর রাজি. রিদ্দাহর যুদ্ধে জাকাত অস্বীকারকারীদের হত্যা করেছেন।

বিদ্রোহী মুরতাদের ক্ষেত্রে ইসলামের ইতিহাসে আমরা দুই ধরনের আমল পাই: হত্যা করা, অথবা অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের করণীয় হলো: সবর করা, সাধ্যমতো দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করা এবং মুরতাদদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

টিকাঃ
১. তিরমিজি (১৪৫৮); আল-মুগনি (৯/৩)।
২. বুখারি (৩০১৭, ৬৯২২)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px