📄 সকল মুসলমানের উপর (জানা) নামাজ আদায়
কেউ ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজা পড়তে হবে। খারেজিদের মতে কবিরা গুনাহকারী কাফের, যা ভুল। হ্যাঁ, যদি কেউ কাফের, মুরতাদ বা মুশরিক হয়ে যায়, সর্বসম্মতিক্রমে তার জানাজা পড়া হবে না। হুজাইফা রাজি. ও উমর রাজি. চিহ্নিত মুনাফিকদের জানাজা পড়তেন না।১
তবে মুসলিম শাসক এবং শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ অনেক সময় কিছু পাপাচারীর জানাজা পড়বেন না, যাতে করে মানুষ সতর্ক হয়। যেমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আত্মহত্যাকারীর জানাজার নামাজ পড়েননি।২ ইমাম নববি লিখেন: 'ইমামদের কাছে আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া বৈধ। রাসুলুল্লাহ পড়েননি যাতে আর কেউ এমন করার সাহস না পায়।'৩ বিদ্রোহী ও ডাকাতদের জানাজা পড়ার ব্যাপারেও কোনো কোনো ইমাম আপত্তি করেছেন।৪
ধর্মহীন লেখক-বুদ্ধিজীবী ও চরমপন্থি সেকুলারদের ক্ষেত্রে যদি তাদের রিদ্দাহ সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়, তবে তার কোনো জানাজা পড়া হবে না। আল্লাহ বলেন, ওয়ালা তুছাল্লি আলা আহাদিম মিনহুম মাতা আবাদাওঁ ওয়ালা তাক্বুম আলা ক্বাবরিহি... [তাওবা: ৮৪]
টিকাঃ
১. ইবনে আবিল ইজ (৩৬৯)।
২. মুসলিম (৯৭৮)।
৩. শরহে মুসলিম, নববি (৭/৪৭)।
৪. তুর্কিস্তানি (১৪১)।
📄 মুসলমানকে তাকফির করা নিষিদ্ধ
আহলে সুন্নাতের মানহাজ অনুযায়ী নির্দিষ্ট করে কাউকে জান্নাতি অথবা জাহান্নামি বলা বৈধ নয়। কারণ, আমাদের কারও শেষ পরিণতি জানা নেই। তাই একজন মুসলিম যত গুনাহ করুক, আমরা তাকে জাহান্নামি বলব না। কারণ, সে হয়তো মৃত্যুর আগে তাওবা করে জান্নাতি হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। হ্যাঁ, শরিয়তে যাদের ব্যাপারে জান্নাতের ঘোষণা এসেছে, আমরা তাদের জান্নাতি বিশ্বাস করব।
প্রত্যেক মুসলমানের ব্যাপারে আমরা সুধারণা রাখব, যতক্ষণ না তার কথা বা কর্মের মাধ্যমে কুফর সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এমনকি কুফর প্রকাশ পেলেও সাধারণ মানুষ তাকফির করবে না; বরং বিজ্ঞ আলিমগণ ফয়সালা দেবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না; মুসলমানদের পিছনে লেগো না। কারণ, যে মুসলমানদের পিছনে লাগে, আল্লাহ তার পিছনে লাগবেন।'১
টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৮৮০); তিরমিজি (২০০২)।
📄 মুসলমানের রক্ত সুরক্ষিত
ইসলামে মানুষের রক্ত অত্যন্ত সম্মানিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওয়া মাই ইয়াক্বতুল মু’মিনাম মুতাআমমিদান ফাজাজাউহু জাহান্নামু খালিদান ফিহা... [নিসা: ৯৩] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যখন মানুষ কালিমার সাক্ষ্য দেয়, নামাজ আদায় করে, জাকাত প্রদান করে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ হয়ে যায়।'১
বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাময়।'২ অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'একজন মুমিনের মর্যাদা আল্লাহর কাছে কাবার মর্যাদার চেয়েও বেশি।'৩ অপর একটি হাদিসে এসেছে, 'একজন মুসলিম নিহত হওয়ার চেয়ে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে অধিক তুচ্ছ।'৪ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে আমার সাহাবাদের কষ্ট দিলো, সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিলো।'৩
টিকাঃ
১. বুখারি (২৫); মুসলিম (২২)।
২. বুখারি (৬৭)।
৩. সুনানে ইবনে মাজা (৩৯৩২)।
৪. তিরমিজি (১৩৯৫)।
৩. তিরমিজি (৩৮৬২)।
📄 মুরতাদ কিন্তু হওয়ার কারণসমূহ
স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত নিরাপদ, কিন্তু সে যদি এমন কোনো কাজ করে যা আল্লাহর আইন ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন এই সুরক্ষা নষ্ট হয়ে যাবে। একটি হাদিসে এসেছে, 'তিন ব্যক্তি ছাড়া কোনো মুসলমানের রক্ত হালাল নয়: এক. বিবাহিত ব্যভিচারী। দুই. হত্যার বিনিময়ে হত্যা। তিন. মুরতাদ তথা ইসলাম ত্যাগকারী।'১
অনুরূপভাবে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে... যদি একদল সীমালঙ্ঘন করে, তবে আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।' [হুজুরাত: ৯] একইভাবে ডাকাতদেরও কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ইন্নামা জাজাউল্লাজিনা ইউহারিবুনাল্লাহা ওয়া রাসুলুহু... [মায়িদা: ৩৩]