📄 হিদায়াতের উপর অবিচল থাকার উপায়
প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হচ্ছে সর্বদা নিজের সীমাবদ্ধতাকে জানা ও মনে রাখা। আমি সত্যের উপর আছি—এটা নিয়ে আহ্লাদিত না হওয়া; বরং সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং তাঁর কাছে সত্যের উপর অবিচল থাকার দোয়া করা। আল্লাহর নবি ইবরাহিম আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, 'হে আল্লাহ, আমাকে এবং আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।' [ইবরাহিম: ৩৫] ইউসুফ আলাইহিস সালামও ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুর দোয়া করেছেন।
ইবলিস অহংকারের কারণে অভিশপ্ত হয়েছে। সুতরাং হিদায়াতের কারণে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর কাছে আরও বিনীত হয়ে হিদায়াতের পথে অটল থাকার দোয়া করতে হবে। যেমন: রব্বানা লা তুযিগ ক্বুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা... [আলে ইমরান: ৮]
📄 সকল মুসলমানের পিছনে নামাজ আদায়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়ে, তার পিছনে নামাজ পড়ো।”১ এখানে সকল মুসলমান বলতে সাধারণ গুনাহগার মুসলমান এবং শাসকগোষ্ঠী—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। হাসান বসরি রাহি. বলতেন, 'তুমি বিদআতির পিছনে নামাজ পড়বে। তার বিদআত তার কাঁধে।'১ ফিতনাগ্রস্ত ও বিদআতির পিছনে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইমাম বুখারি স্বতন্ত্র শিরোনাম দিয়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে আহলে সুন্নাতের পিছনে নামাজ পড়াই উত্তম।৩
সালাফে সালেহিনের কেউ ফাসেক শাসকের পিছনে নামাজ আদায় বর্জন করেননি। আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও আনাস ইবনে মালিকের মতো সাহাবাগণ হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে নামাজ পড়তেন।৩ উসমান রাজি.-কে যখন বিদ্রোহীরা ঘেরাও করে রেখেছিল, তখন তাদের একজনের ইমামতিতে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, 'নামাজ হলো সবচেয়ে ভালো কাজ।'৪ ইবনে মাসউদ রাজি. ওয়ালিদ ইবনে উকবার পিছনে নামাজ আদায় করতেন।৫ এটি ইমাম আবু হানিফারও মাজহাব।৭
টিকাঃ
১. দারাকুতনি (১৭৬১)।
১. বুখারি (৬৯৫)।
৩. ইবনে আবিল ইজ (৩৬৮-৩৬৯)।
৩. সালেহ ফাওজান (১২৭-১২৮)।
৪. বুখারি (৬৯৫)।
৫. মাজমুউল ফাতাওয়া (২৩/৩৫৩)।
৭. শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (২২৮)।
📄 সকল মুসলমানের উপর (জানা) নামাজ আদায়
কেউ ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজা পড়তে হবে। খারেজিদের মতে কবিরা গুনাহকারী কাফের, যা ভুল। হ্যাঁ, যদি কেউ কাফের, মুরতাদ বা মুশরিক হয়ে যায়, সর্বসম্মতিক্রমে তার জানাজা পড়া হবে না। হুজাইফা রাজি. ও উমর রাজি. চিহ্নিত মুনাফিকদের জানাজা পড়তেন না।১
তবে মুসলিম শাসক এবং শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ অনেক সময় কিছু পাপাচারীর জানাজা পড়বেন না, যাতে করে মানুষ সতর্ক হয়। যেমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আত্মহত্যাকারীর জানাজার নামাজ পড়েননি।২ ইমাম নববি লিখেন: 'ইমামদের কাছে আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া বৈধ। রাসুলুল্লাহ পড়েননি যাতে আর কেউ এমন করার সাহস না পায়।'৩ বিদ্রোহী ও ডাকাতদের জানাজা পড়ার ব্যাপারেও কোনো কোনো ইমাম আপত্তি করেছেন।৪
ধর্মহীন লেখক-বুদ্ধিজীবী ও চরমপন্থি সেকুলারদের ক্ষেত্রে যদি তাদের রিদ্দাহ সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়, তবে তার কোনো জানাজা পড়া হবে না। আল্লাহ বলেন, ওয়ালা তুছাল্লি আলা আহাদিম মিনহুম মাতা আবাদাওঁ ওয়ালা তাক্বুম আলা ক্বাবরিহি... [তাওবা: ৮৪]
টিকাঃ
১. ইবনে আবিল ইজ (৩৬৯)।
২. মুসলিম (৯৭৮)।
৩. শরহে মুসলিম, নববি (৭/৪৭)।
৪. তুর্কিস্তানি (১৪১)।
📄 মুসলমানকে তাকফির করা নিষিদ্ধ
আহলে সুন্নাতের মানহাজ অনুযায়ী নির্দিষ্ট করে কাউকে জান্নাতি অথবা জাহান্নামি বলা বৈধ নয়। কারণ, আমাদের কারও শেষ পরিণতি জানা নেই। তাই একজন মুসলিম যত গুনাহ করুক, আমরা তাকে জাহান্নামি বলব না। কারণ, সে হয়তো মৃত্যুর আগে তাওবা করে জান্নাতি হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। হ্যাঁ, শরিয়তে যাদের ব্যাপারে জান্নাতের ঘোষণা এসেছে, আমরা তাদের জান্নাতি বিশ্বাস করব।
প্রত্যেক মুসলমানের ব্যাপারে আমরা সুধারণা রাখব, যতক্ষণ না তার কথা বা কর্মের মাধ্যমে কুফর সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এমনকি কুফর প্রকাশ পেলেও সাধারণ মানুষ তাকফির করবে না; বরং বিজ্ঞ আলিমগণ ফয়সালা দেবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না; মুসলমানদের পিছনে লেগো না। কারণ, যে মুসলমানদের পিছনে লাগে, আল্লাহ তার পিছনে লাগবেন।'১
টিকাঃ
১. আবু দাউদ (৪৮৮০); তিরমিজি (২০০২)।