📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 পরকালে মুমিন ও কাফেরের পার্থক্য

📄 পরকালে মুমিন ও কাফেরের পার্থক্য


পরকালে গুনাহগার মুসলিম আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে থাকবে—চাইলে তিনি ক্ষমা করতে পারেন, চাইলে শাস্তিও দিতে পারেন; কিন্তু শাস্তির ক্ষেত্রে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হতে হবে না। তার কাছে এমন একটি সম্পদ রয়েছে, যা কাফের ও মুশরিকদের কাছে নেই—আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি। আল্লাহ কুরআনের একাধিক আয়াতে বলেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করেন না যে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করে। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' [নিসা: ১১৬]

আল্লাহ তায়ালা তাঁর মারিফাতপ্রাপ্ত বান্দাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফলে তারা তাদের মতো হতে পারে না যারা তাঁকে চেনে না। জাবের রাজি. থেকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদিস বর্ণিত আছে, 'আমার শাফায়াত আমার উম্মতের কবিরা গুনাহকারীদের জন্য।'১ উবাদা ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, '...যদি কেউ অন্যায় করে এবং আল্লাহ তায়ালা সেটাকে ঢেকে রাখেন, তা হলে এর ফয়সালা আল্লাহর হাতে থাকবে। চাইলে তিনি শাস্তি দেবেন, চাইলে ক্ষমা করে করবেন।'১

টিকাঃ
১. সহিহ ইবনে হিব্বান (৬৪৬৭); আবু দাউদ (৪৭৩৯); তিরমিজি (২৪৩৫)।
১. বুখারি (৪৮৯৪); মুসলিম (১৭০৯)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 নামাজ পরিত্যাগকারী কি কাফের?

📄 নামাজ পরিত্যাগকারী কি কাফের?


নামাজের অস্তিত্ব ও জরুরতকে অস্বীকার করে যদি কেউ নামাজ না পড়ে, সকল আলিমের মতে সে কাফের।১ অস্বীকার নয়, যদি অলসতাবশত মাঝে মাঝে পরিত্যাগ করে, তবে সেটার কী বিধান? ইমাম আহমদ রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি নামাজ পরিত্যাগকারীকে কাফের বলতেন। বিপরীতে তিন ইমাম আবু হানিফা, মালেক ও শাফেয়ি—সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিম নামাজ পরিত্যাগকে বড় গুনাহ মনে করেন; পরিত্যাগকারীকে কাফের বলেন না। ইমাম আবু হানিফা রাহি. বলেছেন, তাকে হত্যাও করা হবে না, বরং আমৃত্যু বন্দি করে রাখা হবে।২

তথাচ অলসতাবশত নামাজ পরিত্যাগকারীকে কাফের বললে সেটা খারেজিদের মাজহাব হয়ে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, তার উপর জানাজা পড়ো।১ ইবনে কুদামা সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামের মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।৩ তবে কেউ যদি সারা জীবন একেবারেই নামাজ না পড়ে, সম্পূর্ণরূপে বিমুখ থাকে, তবে সে কাফের।

টিকাঃ
১. আল-ইসতিজকার, ইবনে আবদুল বার (১/২৩৫); রদ্দুল মুহতার (১/৩৫২)।
২. আল-মুগনি, ইবনে কুদামা (২/৩২৯-৩৩২); ইমদাদুল আহকাম (১/১১৩)।
১. দারাকুতনি (১৭৬১); আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি (১৩৬২২)।
৩. আল-মুগনি (২/৩৩২)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 হিদায়াতের উপর অবিচল থাকার উপায়

📄 হিদায়াতের উপর অবিচল থাকার উপায়


প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হচ্ছে সর্বদা নিজের সীমাবদ্ধতাকে জানা ও মনে রাখা। আমি সত্যের উপর আছি—এটা নিয়ে আহ্লাদিত না হওয়া; বরং সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং তাঁর কাছে সত্যের উপর অবিচল থাকার দোয়া করা। আল্লাহর নবি ইবরাহিম আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, 'হে আল্লাহ, আমাকে এবং আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।' [ইবরাহিম: ৩৫] ইউসুফ আলাইহিস সালামও ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুর দোয়া করেছেন।

ইবলিস অহংকারের কারণে অভিশপ্ত হয়েছে। সুতরাং হিদায়াতের কারণে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর কাছে আরও বিনীত হয়ে হিদায়াতের পথে অটল থাকার দোয়া করতে হবে। যেমন: রব্বানা লা তুযিগ ক্বুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা... [আলে ইমরান: ৮]

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 সকল মুসলমানের পিছনে নামাজ আদায়

📄 সকল মুসলমানের পিছনে নামাজ আদায়


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়ে, তার পিছনে নামাজ পড়ো।”১ এখানে সকল মুসলমান বলতে সাধারণ গুনাহগার মুসলমান এবং শাসকগোষ্ঠী—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। হাসান বসরি রাহি. বলতেন, 'তুমি বিদআতির পিছনে নামাজ পড়বে। তার বিদআত তার কাঁধে।'১ ফিতনাগ্রস্ত ও বিদআতির পিছনে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ইমাম বুখারি স্বতন্ত্র শিরোনাম দিয়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে আহলে সুন্নাতের পিছনে নামাজ পড়াই উত্তম।৩

সালাফে সালেহিনের কেউ ফাসেক শাসকের পিছনে নামাজ আদায় বর্জন করেননি। আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও আনাস ইবনে মালিকের মতো সাহাবাগণ হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের পিছনে নামাজ পড়তেন।৩ উসমান রাজি.-কে যখন বিদ্রোহীরা ঘেরাও করে রেখেছিল, তখন তাদের একজনের ইমামতিতে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, 'নামাজ হলো সবচেয়ে ভালো কাজ।'৪ ইবনে মাসউদ রাজি. ওয়ালিদ ইবনে উকবার পিছনে নামাজ আদায় করতেন।৫ এটি ইমাম আবু হানিফারও মাজহাব।৭

টিকাঃ
১. দারাকুতনি (১৭৬১)।
১. বুখারি (৬৯৫)।
৩. ইবনে আবিল ইজ (৩৬৮-৩৬৯)।
৩. সালেহ ফাওজান (১২৭-১২৮)।
৪. বুখারি (৬৯৫)।
৫. মাজমুউল ফাতাওয়া (২৩/৩৫৩)।
৭. শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (২২৮)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px