📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 মুরজিয়াদের সংশয় নিরসন

📄 মুরজিয়াদের সংশয় নিরসন


কেউ কেউ এখানে সেসব হাদিস তুলে ধরতে পারেন, যেগুলোতে কেবল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মাধ্যমেই জান্নাতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে; কিংবা 'বিন্দু পরিমাণ ঈমান' থাকার কারণে জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের কথা বলা হয়েছে। তাদের কথা—পিছনে যেসব উদাহরণ উল্লেখ করা হলো—সেগুলোর মাধ্যমে কাউকে কাফের বলা কি বাড়াবাড়ি বা চরমপন্থা নয়? কারণ, অসংখ্য হাদিসে এসেছে, কারও অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও সে জান্নাতে যাবে। কেউ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন, তা হলে উপরে যাদের কথা বলা হলো, মুখে তারা ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলেও, অন্তরে ও কাজেকর্মে ইসলাম ও শরিয়তের প্রতি তাদের বিতৃষ্ণা থাকলেও, দ্বীনদার মুসলিমদের প্রতি তারা বিদ্বেষ রাখলেও নিজেদের তো মুসলিম দাবি করে, এক আল্লাহকে মানে। তা হলে তাদের কেন কাফের-মুরতাদ বলা হবে? অথচ হাদিসে তাদের জান্নাতিই বলা হচ্ছে।

এটা মূলত মুসলিম উম্মাহর উপর মুরজিয়া সম্প্রদায়ের চিন্তাধারার প্রভাব। সালাফের বুঝে বোঝা ইসলাম ও ঈমানের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। অনেকের ধারণা, মুরজিয়া সম্প্রদায় হাজার বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো, মুরজিয়াদের উত্তরাধিকার আজও, বরং আরও সুন্দর রূপে আধুনিকতা, উদারতা ও প্রগতিশীলতার মোড়কে বিকিয়ে চলেছে নব্য মুতাজিলা ও মুরজিয়ারা। তাদের কাছে ইসলাম ও ঈমান অন্যান্য ধর্মের মতোই, যেমন হিন্দু ও বৌদ্ধধর্ম। আপনি নিজেকে হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ পরিচয় দিলে এবং তেমন একটি নাম বহন করলেই যথেষ্ট। বাস্তবে আপনি কী করেন, কী বিশ্বাস রাখেন এসব তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইহুদি-খ্রিষ্টান-সহ জগতের অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের অবস্থাও তথৈবচ। ফলে তাদের সংস্পর্শে এসে কিছু মুসলিম ইসলামকেও এমন ভাবতে শুরু করে। যেহেতু প্রবৃত্তির প্রবঞ্চনার ফলে আগে থেকেই তারা ইসলাম-সম্পর্কে মনে একটা ফ্রেম বানিয়ে রাখে, পরবর্তী সময়ে গবেষণার নামে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে কেবল সেসব আয়াত ও হাদিস কেটেকুটে বের করে, যেগুলো তাদের মতাদর্শকে আপাতদৃষ্টিতে সমর্থন করে। এরপর জোড়াতালি দিয়ে সেগুলোকে কোনোরকম একটা গ্রহণোগ্য সুরতে মুসলমানদের সামনে পেশ করে। এভাবে তারা নিজেদের কুরআন-সুন্নাহের অনুসারী হিসেবে পেশ করতে চায়, তাদের গোমরাহিকে কুরআন-সুন্নাহ ও গবেষণার মোড়কে মুসলমানদের গেলাতে চায়। অথচ কুরআন-সুন্নাহ তাদের সকল বিচ্যুতি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

মুরজিয়াদের সকল সন্দেহের অপনোদন এই গ্রন্থে সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা সংক্ষিপ্ত কিছু কথা তুলে ধরছি। সর্বপ্রথম যে বিষয়টি স্পষ্ট হতে হবে, তা হলো— কুরআন-সুন্নাহর মূল ম্যাসেজ বিশেষ এক-দুটি আয়াত বা হাদিস দিয়ে বোঝা যায় না। বরং সবগুলো আয়াত ও হাদিস একত্র করে এরপর মর্ম বুঝতে হয়। সকল বিভ্রান্ত সম্প্রদায় প্রথম কাজটি করার ফলে বিভ্রান্ত। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত দ্বিতীয় পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে সুপথপ্রাপ্ত। তাই প্রথমেই কুরআন-সুন্নাহ কাটাকাটি ও জোড়াতালি দেওয়া বর্জন করতে হবে। সবগুলো আয়াত ও হাদিসকে সামনে রেখে ফয়সালা দিতে হবে। মুরজিয়াদের খণ্ডনে এই একটা মূলনীতিই যথেষ্ট।

তারা তাদের পক্ষে যেসব দলিল পেশ করে, তার কয়েকটি এমন-

এক. হুজাইফা ইবনুল ইয়ামানের হাদিস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'ইসলাম ক্ষয়ে যেতে থাকবে যেভাবে সুন্দর কাপড় ক্ষয়ে যায়। একপর্যায়ে রোজা, নামাজ, অন্য কোনো ইবাদত, সদকা বাকি থাকবে না। কোনো এক রাতে কুরআন উঠিয়ে নেওয়া হবে। ফলে ভূপৃষ্ঠে কুরআনের কোনে আয়াত বাকি থাকবে না। কেবল কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকবে। তারা বলবে- আমরা আমাদের পূর্বপুরুষকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এই কালিমার উপর পেয়েছি। আমরা সেটাই বলব।' বর্ণনাকারী সিলাহ হুজাইফাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটুকু তাদের রক্ষা করবে, অথচ তাদের কাছে নামাজ-রোজা কিছু নেই? তিনবার জিজ্ঞাসা করার পরে হুজাইফা বললেন, 'হ্যাঁ, এটা তাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে।'

এই হাদিসটি পড়লেই, যাদের চোখ আছে, তাদের বোঝার কথা এটা মুরজিয়াদের পক্ষে দলিল হতে পারে না। কারণ, এটা একটা বিশেষ অবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটা জনবিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপের অধিবাসী কিংবা কিয়ামতের আগমুহূর্তের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, যখন কুরআন-সুন্নাহ কিছু থাকবে না। এটার জন্য তো বিদ্যমান লোকেরা দায়ী হতে পারে না। কারণ, তারা কালিমা পড়েছে এবং এটাই তাদের একমাত্র সামর্থ্যের বিষয় ছিল। সবকিছু থাকতে কালিমা কীভাবে যথেষ্ট হবে?

দুই. ‘হাদিসুল বিতাকাহ’ বা পত্রের হাদিস নামে প্রসিদ্ধ একটি বর্ণনা, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন একব্যক্তির আমলনামা পুরোটাই গুনাহ এবং অপরাধে ভরপুর থাকবে। কিন্তু তার কাছে একটি কাগজের টুকরা থাকবে, যেটাতে ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু’ লেখা থাকবে। আর এই কাগজের টুকরাটি তার সকল (খারাপ) আমলনামার চেয়ে ভারী হয়ে যাবে এবং সে মুক্তি পাবে।

তিন. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এ অবস্থায় যে, সে জানে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’

চার. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসুল। ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা, তার দাসী (মারইয়ামের) পুত্র এবং তাঁর কালিমা যা তিনি মারইয়ামের উপর ঢেলে দিয়েছেন। আরও সাক্ষ্য দেবে যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য। আল্লাহ তাকে জান্নাতের আটটি দরজার যেটা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করাবেন।’

পাচ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল’, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।

ছয়. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তির উপর জান্নাত হারাম করে দেবেন, যে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য বলবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'।

উপরের দুই থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত পাঁচটি হাদিস দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায় যে, কালিমা পড়াই মুক্তির জন্য যথেষ্ট, আমল আবশ্যক নয়। আমরা এর উপর কয়েকটি কথা বলব। প্রথমেই মনে রাখতে হবে, কালিমার গুরুত্ব অস্বীকারের সুযোগ নেই। নিঃসন্দেহে কালিমা গুরুত্বপূর্ণ এবং মুসলিম ও কাফেরের মাঝে পার্থক্যকারী। কিন্তু এসব হাদিসের কোথাও কি বলা হয়েছে-কালিমা পড়ে বসে থাকবে আর কোনো আমল করবে না? না, কোথাও এই কথা বলা হয়নি। বরং হাদিসের ভাষ্য দেখলে বোঝা যায়, স্রেফ কালিমার কথা বলা হয়নি। যেমন: শেষ হাদিসে বলা হয়েছে 'আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য'। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কালিমা পড়ে সারা জীবন সব ধরনের ইবাদত বর্জন করতে পারে? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে কালিমা পড়ে, সে আল্লাহ কিংবা আল্লাহর রাসুলের প্রতি, দ্বীনের প্রতি বিদ্বেষ রাখতে পারে?

বাস্তবে উক্ত হাদিসগুলোর মর্ম হলো, কাফের থেকে মুমিনকে আলাদা করা, কাফেরের উপর মুমিনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা এবং মুমিন ব্যক্তি একদিন-না-একদিন জান্নাতি সেটা প্রমাণ করা। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কালিমা পড়ে এই দ্বীনে প্রবেশ করবে, সে কিছু ভুল-বিচ্যুতি করলেও আল্লাহ তায়ালা তাকে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে দেবেন না; বরং এই কালিমার বরকতে সে জান্নাতি হবে। ফলে এই কালিমা আমলের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণে সহায়ক হবে, কুফর ও রিদ্দতের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে না। বরং এই কালিমা তো কুফরের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। যে ব্যক্তি অন্তর থেকে এই কালিমা পাঠ করে ও এতে বিশ্বাস রাখে, সে দ্বীন নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করতে পারে? দ্বীনের বিরোধিতা করতে পারে? যে ব্যক্তি আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে, সে আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধানকে মধ্যযুগীয় বর্বর শাসন বলতে পারে? আল্লাহর বিধানকে আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার সঙ্গে অচল বলতে পারে? মানব রচিত শাসনকে আল্লাহর শাসনের চেয়ে উত্তম ভাবতে পারে? বোঝা গেল, এটা পড়ে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সে কুফরিতে লিপ্ত হয়েছে, কিংবা এটা মুখে আওড়ালেও এর প্রতি আত্মসমর্পণ করেনি। আর সকল আলেমের মতে, কালিমা কেবল মুখে পড়া যথেষ্ট নয়; বরং অন্তরে বিশ্বাস করতে হবে এবং আমলে পরিণত করতে হবে। সুতরাং এ ধরনের ব্যক্তি যদি তাওবা করে কালিমার ছায়াতলে আশ্রয় না নেয়, তবে কেবল মুসলিম পরিবারে জন্ম, ইসলামি নাম বা পরিচয় বহন তাকে পরকালে উদ্ধার করতে পারবে না। এ জন্য সহিহ মুসলিমে বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে এবং আল্লাহ ছাড়া যা-কিছুর উপাসনা করা হয় সবগুলোকে প্রত্যাখ্যান করবে'..., তার জন্য উপরের সুসংবাদগুলো প্রযোজ্য হবে। কেবল মুখে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে জীবনভর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহ করলে পরকালে এটা কোনো উপকারে আসবে না। ইবলিস কাফের কেন? সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, সে আল্লাহকে সর্বশক্তিমান, সৃষ্টিকর্তা ও জীবনদাতা মানে। তার পরেও সে কাফের তার অহংবোধ থেকে আল্লাহর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার কারণে।

কর্মের মাধ্যমে কুফরের প্রমাণ কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফের কালেই পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পরে আবু বকর রাজি.-এর শাসনামলে আরবের বেশ কিছু গোেত্র পরিপূর্ণরূপে ইসলাম থেকে বেরিয়ে মুরতাদ হয়ে যায়। কোনো কোনো গোেত্র ইসলামে থাকে, কিন্তু জাকাত দিতে অস্বীকার করে। তখন আবু বকর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তারা যেহেতু ইসলামের কালিমাকে অস্বীকার করত না, নামাজ অস্বীকার করত না, কিংবা অন্যান্য বিধানকে অস্বীকার করত না, শুধু জাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল, এ জন্য অনেক সাহাবির কাছে ব্যাপারটা খটকা লাগল যে, তারা তো মুসলমান। মুসলমানদের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করা যায়? স্বয়ং উমর ইবনুল খাত্তাব রাজি, আপত্তি তুললেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যতক্ষণ না তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কিন্তু যখন তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য দেবে, তখন তারা নিজেরা ও তাদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।” সুতরাং যারা জাকাত দিতে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কতটুকু সমীচীন হবে? আবু বকর রাজি. বললেন, 'আল্লাহর শপথ! রাসুলের যুগে যে ব্যক্তি একটি ছাগলের বাচ্চা জাকাত দিত, এখন যদি তা দিতে অস্বীকার করে, তা হলে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।' পরবর্তীকালে উমর-সহ অন্য সাহাবারা উপলব্ধি করেছিলেন যে, সে সময়ে আবু বকরের সিদ্ধান্তই সঠিক ও যথাযথ ছিল। আল্লাহ তায়ালা তাঁর হৃদয় খুলে দিয়েছিলেন।

কারণ, জাকাত ইসলামের একটি ভিত্তি; কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আর এটাকে তারা অস্বীকার করে মূলত কুরআন-সুন্নাহকেই অস্বীকার করল। যদি তারা জাকাতকে ফরজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আদায়ে গাফিলতি কিংবা গড়িমসি করত, সেটাকে কবিরা গুনাহ কিংবা অপরাধ হিসেবে দেখা হতো; কিন্তু তারা এটাকে অস্বীকার করে বসে। ফলে বোঝা যায়, আল্লাহ ও রাসুলকে মেনে নেওয়ার এবং তাদের নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণের যে ঘোষণা তারা দিয়েছে, সেটা নির্ভেজাল নয়। কারণ, তাদের কর্মই প্রমাণ করছে—তারা আল্লাহ ও রাসুলকে মানে না; তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি তারা শাসক হিসেবে আবু বকর রাজি.-এর আনুগত্যও অস্বীকার করে। এভাবে দ্বীন ও রাষ্ট্র দুটোর বিরুদ্ধেই বিদ্রোহে জড়ায়। ফলে সাহাবাগণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

হাফেজ হাকামি লিখেন, কর্মগত কুফরকে এ কারণে কর্মগত বলা হয়, কারণ সেটা মানুষের সামনে কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। নতুবা সেটা বিশ্বাসগত কুফরের একধরনের বহিঃপ্রকাশ। এটা তখনই একজন মানুষ থেকে প্রকাশ পায়, যখন তার অন্তর থেকে ঈমান, ইখলাস, আনুগত্য—সবকিছু দূরীভূত হয়ে যায়, ঈমানের ছিঁটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকে না। প্রথমে অন্তরে এগুলো তৈরি হয়, এর পর একসময় কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সুতরাং কর্মগত কুফর সন্দেহাতীতভাবে অন্তরের কুফরকে প্রমাণ করে। অন্তরে কুফর না থাকলে কেউ এমন কাজ করতে পারে না।

টিকাঃ
১. সুনানে ইবনে মাজা (৪০৪৯); মুসতাদরাকে হাকেম (৮৫৫৪)।
১. তিরমিজি (২৬৩৯); ইবনে মাজা (৪৩০০); ইবনে হিব্বান (২২৫)।
২. মুসলিম (২৬)।
৩. বুখারি (৩৪৩৫); মুসলিম (২৮)।
৪. মুসলিম (২৯)।
১. বুখারি (৪২৫); মুসলিম (৩৩)।
২. মাদারিসজুস সালেকিন, ইবনুল কাইয়িম (১/৩৪৬)।
১. বুখারি (৪২৫); মুসলিম (৩৩)।
২. আল-ফাসল (২/৬৬-৬৭); ফয়জুল বারি (৩/৯০-৯২)।
৩. বুখারি (১৩৯৯, ৬৯২৪); মুসলিমের বর্ণনায় ছাগলের বাচ্চার বদলে রশির কথা এসেছে (২০)।
১. আল-ফাসল (২/৬৬-৬৭); ফয়জুল বারি (৩/৯০-৯২)।
২. আলামুস সুন্নাহ, হাকামি (১০০)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية