📄 তাকদিরের ক্ষেত্রে সতর্কতা
সুতরাং কেউ ইসলাম-বিধ্বংসী কোনো বাতিল আকিদা রাখলে যেমন মুরতাদ হয়ে যাবে, একইভাবে যদি এমন কোনো কথা বলে বা এমন কোনো কাজ করে যা বাতিল আকিদার নির্দেশক, তখনও দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে। তবে এটা হলো কুফর বর্ণনার স্বাভাবিক নীতি। কিন্তু তাকফিরে মুআইয়ান তথা ব্যক্তিবিশেষকে এভাবে কাফের সাব্যস্ত করা যাবে না। সেক্ষেত্রে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন অপরিহার্য। কারণ, কোন বিষয় অস্বীকার করছে, কী পরিস্থিতিতে করছে, তাকফিরের শর্তগুলো পাওয়া যাচ্ছে কি না, প্রতিবন্ধকতাগুলো অনুপস্থিত কি না—এসব বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি। একইভাবে দ্বীনের কোন বিষয়গুলো লঙ্ঘন করছে সেটাও বোঝা জরুরি। কেউ যদি দ্বীনের কোনো সুস্পষ্ট ও সরিহ বিষয় অস্বীকার করে, অথবা অস্বীকারের মতো কাজ করে বা কথা বলে এবং সেক্ষেত্রে তাকে মাজুর ধরা না যায়, তখন সে মুরতাদ হয়ে যাবে। কিন্তু যেগুলো মতভেদপূর্ণ বিষয়, কিংবা যেগুলোতে ইজতিহাদ ও ইখতিলাফের সুযোগ রয়েছে, অথবা যাতে জাহালত/শুবুহাত ইত্যাদির অবকাশ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে কাউকে হুট করেই কাফের ফাতাওয়া দেওয়া যাবে না; বরং এটা বিজ্ঞ আলিমসমাজ ও ফকিহদের উপর ছেড়ে দিতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের স্পর্শকাতরতা, ব্যক্তির অবস্থা, পারিপার্শ্বিকতা—সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ফয়সালা দেবেন। যেমন: খারেজি, কাদারিয়্যাহ, মুতাজিলা, জাহমিয়্যাহ, মুরজিয়া, শিয়া, বিভিন্ন কবর-পূজারী বিদআতি সম্প্রদায় এবং সমকালীন বিভিন্ন মতবাদ, যেমন: সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদির অনুসারী। তারা প্রত্যেকেই অসংখ্য দল-উপদলে বিভক্ত এবং তাদের আকিদা-আচারও ভিন্ন ভিন্ন। ফলে সবাইকে একযোগে কাফের বলা যাবে না। আবার যে সম্প্রদায় সুস্পষ্ট কুফরিতে লিপ্ত, যেমন: কাদিয়ানি ও বাতেনি সম্প্রদায় প্রভৃতি, তাদেরও প্রত্যেক সদস্যকে নাম ধরে ধরে কাফের বলা যাবে না। কারণ অনেকে শুবহাত/তাবিলাত/জাহালত ইত্যাদির কারণে তাদের অনুসরণ করতে পারে। ফলে সেক্ষেত্রে তারা মাজুর গণ্য হবে।
অতএব, নির্দিষ্ট কাউকে কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে সরাসরি কাফের বলা জটিল ও ভয়াবহ ব্যাপার। উদাহরণস্বরূপ: খারেজিদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদিস এসেছে, তারা জাহান্নামের কুকুর। তাদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিহতদের পৃথিবীর সর্বনিকৃষ্ট নিহত বলা হয়েছে। অন্য হাদিসে তাদের ব্যাপারে দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পেলে আদ জাতির মতো হত্যা করার কথা বলেছেন। ইসলামের সঙ্গে তাদের সকল সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কথা বলেছেন। এতকিছু সত্ত্বেও আমাদের সালাফ (সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িন) তাদের পাইকারিভাবে কাফের বলেননি। তা হলে মুতাজিলা, মুরজিয়া ও শিয়াদের আমভাবে কাফের বলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সহজে অনুমেয়। আলি রাজি.-কে খারেজিদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'তারা কি মুশরিক?' তিনি বললেন, 'শিরক থেকে তো তারা পলায়ন করেছে।' জিজ্ঞেস করা হলো, 'মুনাফিক?' তিনি বললেন, 'মুনাফিকরা খুব কমই আল্লাহকে স্মরণ করে।' বলা হলো, 'তা হলে তারা কী?' তিনি বললেন, 'তারা বাগি (বিদ্রোহী) সম্প্রদায়, আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।' সাহাবাদের ইনসাফের স্তর দেখুন। আলি রাজি.-কে খারেজিদের বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও ভয়ংকর যুদ্ধ করতে হয়েছে, তাদের কারণে তিনি সীমাহীন মুসিবতের সম্মুখীন হয়েছেন; বরং শেষ পর্যন্ত এই খারেজিদের হাতেই তিনি শহিদ হয়েছেন; অথচ তাদের ব্যাপারে বক্তব্যের ক্ষেত্রে তিনি কী বিরল ও বিপুল ইনসাফের পরিচয় দিয়েছেন!
ইবনে হাজার খাত্তাবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে সকল ইমাম একমত যে, খারেজিরা তাদের ভ্রান্তি-সহ মুসলমানদের একটি সম্প্রদায়। তাদের সঙ্গে বিয়ে-শাদি বৈধ। তাদের জবাই করা প্রাণী খাওয়া বৈধ। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো আঁকড়ে ধরে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কাফের বলা বৈধ হবে না। তাকফিরের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। আবু মাআলিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অসম্মতি জানান। কারণ, কোনো কাফেরকে ইসলামে ঢোকানো কিংবা মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার। গাজালি লিখেন, মানুষকে তাকফির করা থেকে যথাসাধ্য বিরত থাকা উচিত। কারণ, তাওহিদের স্বীকৃতিদানকারী ও নামাজ আদায়কারীদের রক্ত হালাল বানানো অত্যন্ত জঘন্য ব্যাপার। বরং ভুলে একজন মুসলিমের রক্তপাতের চেয়ে এক হাজার কাফেরকে ছেড়ে দেওয়া উত্তম।
টিকাঃ
১. বিস্তারিত দেখুন: আল-ইসতিজকার (৮/২৬৮); মাজমুউল ফাতাওয়া (৩/৩৫৩-৩৫৪); আত তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়িম (১৪৬); আল-ইনসাফ, মারদাভি (১২/৪৮)।
২. সুনানে ইবনে মাজা (১৭৬); হাকেম (২৬৬৯); হুমাইদি (৯৩২); ইবনে আবি শাইবা (৩৯০৫১)।
৩. বুখারি (৩৩৪৪); মুসলিম (১০৬৪); আবু দাউদ (৪৭৬৫)।
৪. সুনানে কুবরা, বাইহাকি (১৬৮২০); মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (৩৯০৯৭); ফাতহুল বারি (১২/৩০০)।
১. ফাতহুল বারি (১২/৩০০)।
📄 গুনাহ ইমানকে ক্ষতি করে
এটা মুরজিয়া সম্প্রদায়ের খণ্ডন। গুনাহ ঈমানের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও ত্রুটি সৃষ্টি করে। ফলে মুরজিয়াদের বক্তব্য—গুনাহ ঈমানের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না—সঠিক নয়। ইমাম তহাবিয়্যার উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সেসব লোকের গলতি প্রমাণিত হয়, যারা ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের মুরজিয়াতুল ফুকাহা বলে। অথচ এটা তাদের উপর সুস্পষ্ট অপবাদ। কারণ হিসেবে বলা হয়, ইমাম আবু হানিফা আমলকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত ধরেন না। মুরজিয়াদের মতো একটি ভ্রান্ত সম্প্রদায়, যারা পুণ্য কিংবা পাপকে কোনো পাত্তাই দেয় না, উম্মাহর বড় বড় ইমামকে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে তাদেরও মুরজিয়া সাব্যস্ত করা দুঃসাহসিকতা। ইমাম আবু হানিফা ও হানাফি মাজহাবের উলামায়ে কেরাম এমন অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। জমহুর আহলে সুন্নাতের সঙ্গে বাহ্যিক ও শাব্দিক মতপার্থক্য থাকলেও ঈমানের সংজ্ঞায় মৌলিকভাবে আবু হানিফা এবং অন্যান্য ইমামের মাঝে কোনো মতপার্থক্য নেই। জমহুর আহলে সুন্নাত আমলকেও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বলেন। ফলে আমলের হ্রাস-বৃদ্ধিতে ঈমানেরও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে বলেন। ইমাম আজম মনে করেন, আমল সরাসরি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, ঈমান ও আমল স্পষ্টতই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। তা ছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন জিবরাইল আলাইহিস সালাম ঈমানের ব্যাপারে প্রশ্ন করেন, তিনি কেবল বিশ্বাস-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই তুলে ধরেন। ফলে মূল ঈমানের মাঝে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। যেমন: কেউ ঈমানের পাঁচটি রুকনের উপর ঈমান আনল, একটি রুকন অস্বীকার করল, সে কি মুমিন হবে? তার ব্যাপারে কি বলা যাবে তার ঈমান দুর্বল? নাকি ন্যূনতম যেসব বিষয়ের উপর ঈমান আনা আবশ্যক, সেগুলো সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য? বাস্তব কথা হলো, ন্যূনতম যেসব বিষয়ের উপর একজন নবির ঈমান আনতে হবে, সেসব বিষয়ের উপর একজন সাধারণ মানুষেরও ঈমান আনতে হবে। তাই বলে কি দুজনের ঈমান সমান? না, তা নয়। এইদিক থেকে সমান, কিন্তু অন্য সব দিক থেকে ভিন্ন। তা হলে মূল ঈমানের ক্ষেত্রে সবাই একমত। পার্থক্য আমলের ক্ষেত্রে। জমহুর আমলকে ঈমানের অংশ বলেন, অথচ আমল পরিত্যাগ করলে কাফের বলেন না। ঈমান কম ও দুর্বল হয়ে গেছে বলেন। ইমাম আবু হানিফাও ঈমানের শক্তি কম ও দুর্বল হয়ে গেছে বলেন, কাফের বলেন না, যেটা ইমাম তহাবি উপরে নিশ্চিত করেছেন। বিপরীতে মুরজিয়াদের মতে, আমলের কারণে ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস কিছুই ঘটে না। এর পরও আবু হানিফা ও তাঁর শাগরিদদের মুরজিয়া বলা ইনসাফের কাজ হতে পারে না।
টিকাঃ
১. গজনবি (১০৯); আকহাসারি (১৮৩); সালেহ ফাওজান (১০৪-১০৫)।
২. কারি মুহাম্মাদ তৈয়ব (৮৮-৮৯)।
📄 মুমিনদের পারস্পরিক ইমানি দায়িত্ব
কুফর ও তাকফিরের মাসআলা বর্ণনা করার পরে ইমাম তহাবি রাহি. মুমিনদের পারস্পরিক কিছু ঈমানি অধিকার ও দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, মুমিনরা পরস্পরকে কাফের বলবে, একদল আরেক দলকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেবে, এটা সঠিক নয়। বরং মুমিনদের পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে যথাসম্ভব ঈমানের গণ্ডিতে রাখার চেষ্টা করা। যারা পুণ্যবান, তাদের ব্যাপারে জান্নাতের আশা করা। আর যারা গুনাহগার, তাদের ব্যাপারে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। কারণ, ঈমানের অবস্থান হচ্ছে ভয় ও আশার মাঝে। নবিদের গুণাবলির ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
ফাসতাজাবনা লাহু ওয়া ওয়াহাবনা লাহু ইয়াহইয়া... কানু ইউসারিউনা ফিল খাইরাতি... [আম্বিয়া: ৯০]
পুণ্যবান মুমিনদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
তাতাজাাফা জুনুবুহুম আনিল মাদাজিয়ি ইয়াদউনা রাব্বাহুম খাউফাওঁ ওয়া তয়ামাআ... [সাজদা: ১৬]
অন্যত্র মুমিনদের ব্যাপারে বলেন,
ওয়ালা তুফসিদু ফিল আরদি বা’দা ইসলাহিহা ওয়াদউহু খাউফাওঁ ওয়া তয়ামাআ ইন্না রাহমাতাল্লাহি ক্বারিবুম মিনাল মুহসিনিন। [আরাফ: ৫৬]
আল্লাহ হতাশা ও আশা দুটোর তুলনামূলক আলোচনা করে আশাকে শ্রেষ্ঠ দেখিয়েছেন। তিনি বলেন,
আম্মান হুয়া ক্বানিতুন আনাআল লাইলি সাজিদাওঁ ওয়া ক্বা ইমান ইয়াহজারুল আখিরাতা ওয়া ইয়ারজু রাহমাতা রাব্বিহি... [জুমার: ৯]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের তিন দিন আগেও বলেন, 'তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে।'
টিকাঃ
১. মুসলিম ২৮৭৭); আবু দাউদ (৩১১৩); ইবনে মাজা (৪১৬৭)।
📄 কারও ব্যাপারে জান্নাত-জাহান্নামের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না
এক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে থাকতে হবে। অর্থাৎ পুণ্যবান মুমিনদের জন্য ক্ষমা ও জান্নাতের আশা করলেও তাদের ব্যাপারে জান্নাতের গ্যারান্টি দেওয়া যাবে না এবং জাহান্নাম থেকে নিরাপদ মনে করা যাবে না। কারণ, কেউ পুণ্য ও সৎকাজ করলেই জান্নাতে চলে যাবে ব্যাপারটা এমন নয়। এক্ষেত্রে কিছু মানুষ ব্যতিক্রম; যেমন: সকল নবি-রাসুল জান্নাতি, তাই তাদের ব্যাপারে জান্নাতের সাক্ষ্য দিতে হবে। নবি-রাসুল ছাড়া সেসব সৌভাগ্যবান মানুষ কুরআন কিংবা সুন্নাহ যাদের জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছে; যেমন: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন-সহ অন্য অনেক সাহাবি।
এই ব্যতিক্রম মানুষজন ছাড়া আর কারও ব্যাপারে জান্নাতের সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ নয়। হ্যাঁ, আশা করা যাবে, কিন্তু নিশ্চিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। যত বড় ওলি-আউলিয়া কিংবা পির-মাশায়েখ হোন না কেন, কারও ব্যাপারে এ কথা বলা যাবে না যে, তিনি জান্নাতি। কেউ মারা গেলে 'জান্নাতবাসী হয়েছেন'—এ-জাতীয় বক্তব্য পরিহার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমাদের কাউকে তার আমল মুক্তি দিতে পারবে না।' তখন একব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার আমলও না? তিনি বললেন, 'না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর অনুগ্রহের চাদরে ঢেকে নেন। তাই তোমরা যথাসাধ্য আমল করতে থাকো।' জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, 'তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না কিংবা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে না, আমাকেও না, যদি না আল্লাহ আমাকে অনুগ্রহ করেন।' এর মাধ্যমে আবার 'আমল করে লাভ নেই'—এটা বোঝা যাবে না, যেমন মুরজিয়া ও কিছু ভ্রান্ত সুফি দাবিদার বলে থাকে। কারণ, স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, 'তাই তোমরা যথাসাধ্য আমল করতে থাকো।'
একইভাবে গুনাহগার মুসলমানদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং তাদের ব্যাপারে আশঙ্কা থাকলেও তাদের নিরাশ করে দেওয়া যাবে না। কারণ, নিরাশা ও হতাশা ইসলামে সমর্থিত নয়। নৈরাশ্য কোনো কাজে আসে না। নিরাশ লোক কোনো কাজ করতে পারে না। এ জন্য একজন মুমিনকে জীবনের যেকোনো অন্ধকারঘন পরিস্থিতিতে আল্লাহর অনুগ্রহের একচিলতে ঝলকের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এটা ইসলামের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সৌন্দর্যেরও অংশ। মুমিন নিজে নিরাশ হয় না, অন্যকেও নিরাশ করে না। এভাবে সবাই মিলেমিশে একটা ইতিবাচক ইসলামি সমাজ গঠিত হয়। ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তার সন্তানদের নসিহত করেন,
ইয়াবানিয়্যা ইজহাবু ফাতাহাসসাসু মিন ইউসুফা ওয়া আখিহি ওয়ালা তাইআসু মির রাওহিল্লাহি... [ইউসুফ: ৮৭]
টিকাঃ
১. গুনাইমি (৯৬-৯৭)।
১. মুসলিম (২৮১৬); ইবনে হিব্বান (৩৪৮); মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক (২০৫৬২)।
২. মুসলিম (২৮১৭)।