📄 বাহ্যিক অবস্থার উপর ফয়সালা
ইসলাম আমাদের মানুষের বাহ্যিক অবস্থার উপর ফয়সালা দিতে বলেছে; আর ভিতরের অবস্থা আল্লাহর কাছে সমর্পিত থাকবে। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলকে স্বীকৃতি দেবে, ইসলাম ও ঈমানের যাবতীয় বিষয়ের উপর বিশ্বাস রাখবে, আমরা তাকে মুসলিম ও মুমিন আখ্যা দেবো। ভিতরে আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক কীরূপ, পরকালে তার কী হবে, সেটা আল্লাহর কাছে সমর্পিত থাকবে। কোনো ধ্যান-ধারণা, অনুমান, পূর্ব-বিশ্বাস ইত্যাদির উপর নির্ভর করে কারও ব্যাপারে ফয়সালা দেওয়া যাবে না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ الْقَى إِلَيْكُمُ السَّلْمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا .
অর্থ: 'হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর করো, তখন যাচাই করে নাও। আর যে ব্যক্তি তোমাদের সালাম করে, তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও।' [নিসা: ৯৪] অর্থাৎ যদি কোনো কাফের ব্যক্তি মুসলিম বাহিনী দেখে তাদের সালাম দেয়, কিংবা ইসলাম গ্রহণের উপর ইঙ্গিতবাহী কিছু করে, তবে তাকে অমুসলিম মনে করে হত্যা করা যাবে না; বরং বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে মুসলিম গণ্য করে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমি মানুষের সঙ্গে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল। নামাজ আদায় করে, জাকাত প্রদান করে যখন তারা এগুলো করবে, তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার কাছ থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। তবে ইসলামের কোনো হক থাকলে ভিন্ন কথা। আর তাদের অন্তরের হিসাব থাকবে আল্লাহর উপর।' উসামা ইবনে জায়দ রাজি. একবার এক কাফেরের সম্মুখীন হন। হত্যার আগমুহূর্তে সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে। উসামা রাজি. মনে করেন, সে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে এটা বলেছে। তাই তাকে হত্যা করে ফেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই কথা জানানোর পরে তিনি বলেন, সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করে ফেললে? তিনি বললেন, আমি মনে করেছি সে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে বলেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন, তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছ? তুমি কি তার হৃদয় ফেড়ে দেখেছ? শব্দটা তিনি এতবার বললেন যে, উসামা বলেন, আমার কাছে মনে হলো, আমি যদি সেদিন মুসলমান হতাম (অর্থাৎ তা হলে সেদিনের এই ঘটনা ঘটত না)।
টিকাঃ
১. বুখারি (২৫); মুসলিম (২২); দারাকুতনি (৮৯৮)।
২. বুখারি (৬৮৭২); মুসলিম (৯৬)।
📄 মুসলিম ও মুমিন
ইসলাম ও ঈমান শব্দ দুটোর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। ইসলাম শব্দের অর্থ হচ্ছে দ্বীনের বাহ্যিক ইবাদত-বন্দেগি, যেমন: নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। আর ঈমান হচ্ছে অন্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যেমন: আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবি-রাসুল, পরকাল, তাকদিরে বিশ্বাস করা। সে হিসেবে মুসলিম হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে বাহ্যিক ইবাদতগুলো ঠিকভাবে পালন করে। আর মুমিন হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে প্রকৃত অর্থেই অন্তরে আল্লাহকে বিশ্বাস করে আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠাবান থাকে। তবে ইমাম তহাবি একত্রে দুটো শব্দ ব্যবহার করেছেন। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে মুসলিম ও মুমিন সমার্থক শব্দ। অর্থাৎ যে ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ইসলামের বিধি-বিধান পালন করবে, সে যেমন মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে, মুমিন হিসেবেও গণ্য হবে। কারও অন্তরের অবস্থা নিয়ে অমূলক সন্দেহ করা উচিত হবে না।
টিকাঃ
৩. মুসলিম (৮); তিরমিজি (২৬১০); আবু দাউদ (৪৬৯৫)।
📄 দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ
এখানে ইমাম তহাবি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা সাধারণ মুসলমান তো বটেই, আলিম ও আহলুল ইলমের জন্যও সমানভাবে সংবেদনশীল। মূলত ইমাম তহাবি এ ধরনের পয়গাম তার বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছেন, যা পিছনে আমরা উল্লেখ করেছি। তিনি এখানে বলতে চেয়েছেন, আমরা আল্লাহর ব্যাপারে চিন্তাভাবনায় নিজেদের ব্যস্ত করব না। কারণ, পিছনে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি নিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিভিন্ন ধারার মতভেদ উল্লেখ করেছি। আমরা দেখেছি, এসব মতভেদকে কেন্দ্র করে কীভাবে মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন দল অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। কীভাবে এমন অনেক বিষয় যা দ্বীনের কোনো মৌলিক মাসআলা নয়, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় নয়, দুনিয়া, কবর কিংবা হাশরে যা সম্পর্কে কাউকে প্রশ্ন করা হবে না, আমরা দেখেছি কীভাবে মুসলিম উম্মাহ সেসবকে কেন্দ্র করে পরস্পরের বিভীষণ শত্রুতে পরিণত হয়েছে; অথচ আল্লাহ আমাদের ভাই ভাই হয়ে থাকতে বলেছেন। দ্বীনের ক্ষেত্রে বিবাদ করতে বারণ করেছেন। তাই ইমাম তহাবি এখানে বলতে চেয়েছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহে আল্লাহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও জরুরি যেসব মাসআলা এসেছে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুর ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকব। আল্লাহর ব্যাপারে চিন্তাভাবনায় আমরা নিজেদের ব্যস্ত করব না এবং এ ব্যাপারে সব ধরনের বাড়াবাড়ি পরিত্যাগ করব। ইবনে আব্বাস রাজি.-এর সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, تَفَكَّرُوا فِي كُلِّ شَيْءٍ وَلَا تَفَكَّرُوا فِي ذَاتِ اللَّهِ অর্থ: ‘তোমরা সবকিছু নিয়ে চিন্তাভাবনা করো, কিন্তু আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করো না।’ যেখানে সালাফ আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা পর্যন্ত করতে নিষেধ করেছেন, সেখানে এগুলো নিয়ে নিজেদের ভিতরে বিবাদ ও বিভেদ কতটুকু শরিয়তসম্মত? মুসলমানদের নিদারুণ দুরবস্থার সময় নিজেদের এগুলোর মাঝে ব্যস্ত রাখা কতটুকু যৌক্তিক?
মোট কথা, আল্লাহ-সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে শুরু করে দ্বীনের কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি কিংবা বিবাদ করা যাবে না। হ্যাঁ, যারা দ্বীনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা প্রচার করে, তাদের প্রতিবাদ ও খণ্ডন করতে দোষ নেই। কিংবা যারা আহলুল ইলম, তাদের মাঝে আল্লাহর সিফাত-কেন্দ্রিক মাসআলা নিয়ে মুবাহাসা-মুনাকাশা হতে পারে। কারণ, তা কুরআন-সুন্নাহ চর্চা ও আল্লাহর গুণাবলি বোঝার পদ্ধতি; কিন্তু সাধারণ মানুষ যারা কুরআন-সুন্নাহের ন্যূনতম জ্ঞান রাখে না, তাদের সামনে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, অন্য ধারার আলিমদের বিরুদ্ধে তাদের উসকে দেওয়া একধরনের ইলমি খেয়ানত। কারণ, একজন আলিম হিসেবে আপনার দায়িত্ব ছিল একজন সাধারণ মানুষকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণকর ও প্রয়োজনীয় বিষয় শিক্ষা দেওয়া; কিন্তু আপনি তাকে শিক্ষা দিয়েছেন এমনসব বিষয়, যেগুলো তার জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নয়; বরং তার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তাই আহলুল ইলমের জন্য এমন কাজ কখনোই গবেষণাসম্মত নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত মুসলমানরা যেন নিজেরা নিজেরা দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি-মারামারি না করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজেকে সত্য জেনেও বিতর্ক পরিহার করবে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যখানে একটি ঘর বানানো হবে।
টিকাঃ
১. আল-আসমা ওয়াস সিফাত, বাইহাকি (২/৪৬)।
২. তিরমিজি (১৯৯৩); ইবনে মাজা (৫১)।
📄 কুরআন নিয়ে বিতর্ক বর্জন
একদিন কিছু সাহাবা কুরআনের একটি আয়াত নিয়ে বিতর্ক করছিলেন। এমন অবস্থা দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল ক্রোধে বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, থামো তোমরা। এভাবেই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগুলো ধ্বংস হয়েছে। তারা নবিদের ব্যাপারে মতভেদ করেছে। কিতাবের একটা আয়াতকে অপরটার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। কুরআনের এক আয়াত অন্য আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না; বরং এক আয়াত অন্য আয়াতকে সত্যায়ন করে। সুতরাং যা জানো সেটার উপর আমল করো। আর যা জানো না, তা যিনি জানেন তাঁর কাছে সঁপে দাও।'
আমাদের সালাফ কুরআন নিয়ে যেকোনো বিতর্ক এডিয়ে চলতেন। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন ইমাম আবু হানিফার কাছে একদল লোক দুইজনকে ধরে নিয়ে এসে বলল, তাদের একজন বলে কুরআন মাখলুক, অন্যজন তার সঙ্গে বিবাদ করে বলে মাখলুক নয়। ইমাম বললেন, তাদের দুজনের কারও পিছনে নামাজ পড়ো না। আমি বললাম, যে কুরআনকে মাখলুক বলে, তার পিছনে নামাজ না পড়ার কারণ স্পষ্ট। কিন্তু যে কুরআনকে মাখলুক বলে না, তার পিছনে কেন নামাজ পড়া হবে না? ইমাম বললেন, তারা দুজনেই দ্বীন নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে। আর দ্বীন নিয়ে বিবাদে জড়ানো বিদআত।
ইমাম তহাবি যে যুগে বেঁচে ছিলেন, সে যুগে কুরআন-কেন্দ্রিক বিতর্ক অনেক বেশি ছিল। এ জন্য তিনি এই সংক্ষিপ্ত আকিদার গ্রন্থেও বিভিন্ন জায়গায় বারবার কুরআনের ব্যাপারে বিশুদ্ধ আকিদা তুলে ধরেছেন। বিশেষত এক্ষেত্রে মুতাজিলাদের বিভ্রান্তি খণ্ডন করেছেন। পিছনে আমরা বলেছি, গোটা মুসলিম উম্মাহর বিপরীতে মুতাজিলারা মনে করত কুরআন মাখলুক তথা সৃষ্টি। অথচ কুরআন আল্লাহর কালাম ও তাঁর গুণ; সৃষ্টি নয়। কুরআনকে যদি সৃষ্টি বলা হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়াবে, আল্লাহ নিজের মাঝে নিজে কিছু সৃষ্টি করেছেন। অথচ আল্লাহর গুণাবলি তাঁর সত্তার মতোই আজালি ও আবাদি—সবসময় ছিল এবং সবসময় থাকবে। এটাই সকল মুসলমানের আকিদা। সুতরাং এটাকে মাখলুক বলা মুসলমানদের আকিদার বিরোধিতা করার নামান্তর। আর সকল মুসলমানের (আমজনতা নয়; উলামা ও ফুকাহার) আকিদা ভুল হতে পারে না। বোঝা গেল, যারা মুসলমানদের আকিদা-বিরোধী কথা বলবে বরং তাদেরটা ভুল। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيْلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا.
অর্থ: 'যে ব্যক্তি সরল পথ স্পষ্ট হওয়ার পরেও রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুসলমানের অনুসৃত পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে, আমি তাকে ওই দিকেই ফেরাব যে দিকে সে গিয়েছে (অর্থাৎ বক্র করে দেবো)। আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। সেটা কতই না নিকৃষ্টতর গন্তব্য!' [নিসা: ১১৫] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে কখনোই গোমরাহির উপর ঐক্যবদ্ধ করবেন না। এরপর—দুই হাত উঁচু করে দেখিয়ে—বললেন, জামাতের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
ইমাম তহাবি মুসলমানদের সেই সর্বসম্মত আকিদার উপরই তাগিদ দিয়ে বলেছেন, কুরআন আল্লাহর কালাম। আল্লাহ তায়ালা লাওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতা জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এই গ্রন্থ দীর্ঘ প্রায় তেইশ বছর ধরে প্রয়োজন অনুপাতে অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَّبِّكَ بِالْحَقِّ
অর্থ: 'এটা আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে রুহুল কুদস (জিবরাইল) সত্য-সহ অবতীর্ণ করেছেন।' [নাহল: ১০২]
কুরআন যেহেতু আল্লাহর কালাম তথা তাঁর একটি গুণ, আর আল্লাহর কোনো গুণ সৃষ্টির গুণের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে না, যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেন:
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرুর
অর্থ: 'তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।' [শুরা: ১১] অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ অর্থ: 'তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।' সুতরাং কুরআন কোনো মানুষের কথার সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে না। মানুষের মতো মানুষের কথাও মাখলুক। কুরআন মাখলুক নয়। মক্কার কাফেররা বলত, কুরআন মুহাম্মাদের নিজের রচনা। কখনও বলত, তিনি অন্যদের কাছ থেকে এটা শিখেছেন ইত্যাদি। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের খণ্ডনে অবতীর্ণ করলেন,
إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ. سَأَصْلِيْهِ سَقَرَ.
অর্থ: 'সে বলে, এটা তো নিছক মানুষের কথা। আমি শীঘ্রই তাকে সাকারে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করব।' [মুদ্দাস্সির: ২৫-২৬]
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ (৬৮১৭); খালকু আফআলিল ইবাদ, বুখারি (৬৩)
২. শাইবানি (২৭); ময়দানি (৯৫)।
৩. মিরকাতুল মাফাতিহ, আলি কারি (১/২৬০)।
১. তিরমিজি (২১৬৭); মুসতাদরাকে হাকেম (৭৯৩)।
১. তাফসিরে ইবনে কাসির (৮/২৭৬, ৪/৫১৮)।