📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আসমানি গ্রন্থ কতগুলো?

📄 আসমানি গ্রন্থ কতগুলো?


নবিদের সংখ্যার মতো আসমানি গ্রন্থের সংখ্যাও সন্দেহাতীতভাবে জানা যায় না। তবে অনুমান করা যায় যে, এসব গ্রন্থের সংখ্যা কম হবে না। কারণ, পৃথিবীর শুরু থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত আল্লাহ সকল সম্প্রদায়ের ভিতরে অগণিত-অসংখ্যক নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন এবং নিশ্চিতভাবেই তাদের অনেকের উপর তিনি ছোট-বড় অনেক গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং এসব গ্রন্থের সংখ্যা কম হবে না তা সহজেই অনুমেয়। তবে কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলে দেয়নি, যে কারণে এ ব্যাপারে অনুমানভিত্তিক কোনো কিছু বলার সুযোগ নেই; বরং সামগ্রিকভাবে সকল নবির উপর অবতীর্ণ গ্রন্থগুলোতে ইজমালি ঈমান রাখতে হবে। পাশাপাশি যেসব গ্রন্থের কথা কুরআন-সুন্নাহে এসেছে, সেগুলো সত্যায়ন করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা কিছু আসমানি পুস্তিকা (সুহুফ) ইবরাহিম আলাইহিস সালামের উপর অবতীর্ণ করেছেন, যেমনটা তিনি কুরআনে বলেন,
ইন্না হাজা লাফিস সুহুফিল উলা সুহুফি ইবরাহিমা ওয়া মুসা।
অর্থ: ‘নিশ্চয়ই এগুলো রয়েছে পূর্বের পুস্তিকাগুলোতে। ইবরাহিম ও মুসার সুহুফে।’ [আলা: ১৮-১৯]

মুসা আলাইহিস সালামের উপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ বলেন,
ইন্না আনযালনাত তাওরাতা ফিহা হুদাওঁ ওয়া নূর।
অর্থ: আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে ছিল হিদায়াত ও নুর।’ [মায়িদা: ৪৪]

তবে তাওরাত ছাড়াও কুরআনে মুসা আলাইহিস সালামের উপর কিছু সহিফা অবতীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা পিছনে ইবরাহিমের সহিফার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য কিছু আয়াতেও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: আল্লাহ বলেন,
আমলাম ইয়ুনাব্বা বিমা ফি সুহুফি মুসা
অর্থ: ‘তাকে কি জানানো হয়নি যা রয়েছে মুসার সুহুফে?” [নাজম: ৩৬]

তবে এই সহিফাগুলো তাওরাত থেকে ভিন্ন কিছু নাকি তাওরাতকেই সুহুফ নামে ডাকা হয়েছে এটা অস্পষ্ট। ফলে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত কিছু বলা যাবে না। এক্ষেত্রে ইজমালি ঈমান রাখাই যথেষ্ট। আল্লাহ তায়ালা দাউদ আলাইহিস সালামের উপর জাবুর (গ্রন্থ) অবতীর্ণ করেছেন। তিনি বলেন,
ওয়া আতাইনা দাউদা যাবূরা।
অর্থ: ‘আর আমি দাউদকে জাবুর দান করেছি।’ [নিসা: ১৬৩]

অন্য আয়াতে বলেন,
ওয়া আতাইনা দাউদা যাবূরা।
অর্থ: ‘আর আমি দাউদকে জাবুর দান করেছি।’ [ইসরা: ৫৫]

ঈসা আলাইহিস সালামকে দান করেছেন ইনজিল (সুসংবাদ)। আল্লাহ বলেন,
ওয়া ক্বাফফাইনা আলা আছারিহিম বিঈসাবনি মারইয়ামা মুছাদ্দিক্বাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহি মিনাত তাওরাতি ওয়া আতাইনাহুল ইনজিলা ফিহি হুদাওঁ ওয়া নূরুঁ ওয়া মুছাদ্দিক্বাল লিমা বাইনা ইয়াদাইহি মিনাত তাওরাতি ওয়া হুদাওঁ ওয়া মাউইজাতালিল মুত্তাক্বিন।
অর্থ: ‘আর আমি তাদের পরে ঈসা ইবনে মারইয়ামকে প্রেরণ করেছি। তিনি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আমি তাঁকে ইনজিল দান করেছি, যাতে ছিল সুপথ ও আলো, আর যা পূর্ববতী গ্রন্থ তাওরাতের সত্যায়ন করে, আর যা ছিল খোদাভীরুদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।’ [মায়িদা: ৪৬]

সর্বশেষ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ করেছেন পবিত্র কুরআন। আল্লাহ বলেন,
নাযযালা বিহির রূহুল আমিন। আলা ক্বালবিকা লিতাকুনা মিনাল মুনযিরিন। বিলিসানিন আরাবিয়্যিম মুবিন। ওয়া ইন্নাহু লাফি যুবুরিল আউওয়ালিন।
অর্থ: ‘বিশ্বস্ত ফেরেশতা এটা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে; আপনার অন্তরে; যাতে আপনি সতর্ককারীদের একজন হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়। নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী গ্রন্থে এর কথা এসেছে। [শুআরা: ১৯৩-১৯৬]

একটি হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, সকল আসমানি কিতাব রমজান মাসে নাজিল হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সহিফাগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল রমজানের প্রথম রাতে। তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল ষষ্ঠ তারিখ দিবাগত রাতে। ইনজিল অবতীর্ণ হয়েছিল তেরো তারিখ দিবাগত রাতে। জাবুর অবতীর্ণ হয়েছিল আঠারো তারিখ দিবাগত রাতে। কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল চব্বিশ তারিখ দিবাগত রাতে (অর্থাৎ পঁচিশতম রাতে)।১

এর বাইরে আর কোনো আসমানি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যাক বা না যাক, যেগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলোও অবিকৃত নয়, যেমনটা পূর্বে বলা হয়েছে। কারণ, আল্লাহ এসব কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব নেননি। আল্লাহ কুরআন সম্পর্কে বলেন,
ইন্না নাহনু নাযযালনায যিকরা ওয়া ইন্না লাহু লাহাজিফুন।
অর্থ: ‘নিশ্চয় আমি এই উপদেশগ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি আর আমি এর সংরক্ষণকারী।’ [হিজর: ৯]

বিপরীতে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন,
ফাওয়াইলুল লিল্লাজিনা ইয়াকতুবুনাল কিতাবা বিআইদিহিম ছুম্মা ইয়াকুলুনা হাজা মিন ইনদিল্লাহি লিইয়াশতারু বিহি ছামানান ক্বালিলা ফাওয়াইলুল লাহুম মিম্মা কাতাবাত আইদিহিম ওয়া ওয়াইলুল লাহুম মিম্মা ইয়াকসিবুন।
অর্থ: ‘অতএব, তাদের জন্য আফসোস যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব, তাদের প্রতি আক্ষেপ তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ তাদের উপার্জনের জন্য।’ [বাকারা: ৭৯]

আরেক জায়গায় বলেন,
আফাতাৎমাউনা আই ইউমিনু লাকুম ওয়া ক্বাদ কানা ফারিক্বুম মিনহুম ইয়াসমাউনা কালামাল্লাহি ছুম্মা ইউহাররিফুনাহু মিম বা’দি মা আক্বালুহু ওয়া হুম ইয়া’লামুন।
অর্থ: ‘তোমরা কি আশা করো যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? অথচ তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত অতঃপর বুঝেশুনে তা বিকৃত করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল।’ [বাকারা: ৭৫]

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন,
ওয়া মা ক্বাদারুল্লাহা হাক্বাক ক্বাদরিহি ইয ক্বালু মা আনযালা ল্লাহা আলা বাশারিম মিন শাই। ক্বুল মান আনযালা কিতাবাল্লাজি জাআ বিহি মুসা নূরান ওয়া হুদাল লিননাছি তাজআলুনাহু ক্বারতিসা তুবদুনাহা ওয়া তুখফুনা কাছিরা...।
অর্থ: ‘তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বলেছিল, আল্লাহ কোনো মানুষের প্রতি কোনো কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুন ওই গ্রন্থ কে নাজিল করেছে যা মুসা নিয়ে এসেছিলেন আলো ও মানুষের হিদায়াতস্বরূপ, যা তোমরা বিভিন্ন খাতাপত্রে রেখে লোকদের জন্য প্রকাশ করছ এবং অনেক কিছু গোপন করছ...’ [আনআম: ৯১]

টিকাঃ
১. সহিহ ইবনে হিব্বান (৩৬১)। হাদিসটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের ঘোর আপত্তি রয়েছে...।
১. তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম (১/১৮২)।
২. মুসনাদ আহমদ (১১৯৩১); মুসতাদরাকে হাকেম (৪১৯০)।
৩. মুসনাদে আবু ইয়ালা (৪১৩২); আল-মাতালিবুল আলিয়াহ (৩৪৪৪)।
৪. তাফসিরে ইবনে কাসির (২/৪১৭)।
১. মুসনাদে আহমদ (১৭২৫৮); ইবনে আবি শাইবা (৩০৮১৪); আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি (১৮৫)।
২. সহিহ ইবনে হিব্বান (৩৬১)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 আসমানি গ্রন্থসমূহে ইমান আনার স্বরূপ

📄 আসমানি গ্রন্থসমূহে ইমান আনার স্বরূপ


একজন মুসলিমকে সকল আসমানি গ্রন্থে ঈমান আনতে হবে। তবে সকল গ্রন্থের ব্যাপারে ঈমান একই স্তরের নয়। কারণ, আমরা সবার গ্রন্থের ব্যাপারে জানি না। কুরআন-সুন্নাহে মাত্র কয়েকটা গ্রন্থের বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন: মুসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাওরাত দিয়েছেন; দাউদ আলাইহিস সালামকে জাবুর দিয়েছেন; ঈসা আলাইহিস সালামকে ইনজিল দিয়েছেন; মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন দিয়েছেন। এই চারটি গ্রন্থ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এর বাইরে আরও কিছু নবিকে গ্রন্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। যেমন: মুসা আলাইহিস সালাম ও ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুহুফ (পুস্তিকাসমূহ)। সবগুলোর উপর ঈমান আনতে হবে।

এক্ষেত্রে ঈমান আনার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা অনেক নবির উপর অনেক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আমরা সেসব কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বাস করি। এটুকু সংক্ষিপ্ত ঈমান যথেষ্ট। সেসব কিতাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তুর উপর ঈমান আনা প্রয়োজন নেই বরং সুযোগই নেই। কারণ, সেগুলো আমরা জানি না। সেসব কিতাবের মাঝ থেকে যেগুলো আজও বিদ্যমান রয়েছে এবং অভিন্ন শিরোনাম বহন করছে, সেগুলোকে আসমানি গ্রন্থ বলার সুযোগ নেই, যেমন ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের গ্রন্থগুলো। আল্লাহ তায়ালা এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব নেননি। ফলে এগুলো সংরক্ষিত থাকেনি, যা উপরে বিস্তারিত সপ্রমাণ বলা হয়েছে। সুতরাং তাওরাত (বাইবেলের পুরাতন নিয়মের প্রথম পাঁচ পুস্তক), জাবুর (পুরাতন নিয়মের অন্তর্ভুক্ত) ও ইনজিল (নতুন নিয়মের প্রথম চার পুস্তক) নামে বাজারে যেসব বই প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোকে আল্লাহর বাণী মনে করার কোনো সুযোগ নেই: বরং ওগুলো মানুষের লেখা। হ্যাঁ, অসম্ভব নয় যে, তাতে দু-একটি সত্য বাক্য ও আল্লাহর ওহি থাকতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ওগুলো মানবরচিত গ্রন্থ। তাই আমরা যখন তাওরাত, জাবুর ও ইনজিলের উপর ঈমানের কথা বলি, তখন ইহুদি-খ্রিষ্টানদের হাতে থাকা প্রচলিত বাইবেল উদ্দেশ্য নয়; বরং আল্লাহ মুসা, দাউদ ও ঈসা আলাইহিস সালামের উপর যে তাওরাত, জাবুর ও ইনজিল অবতীর্ণ করেছিলেন সেগুলো উদ্দেশ্য। তাদের হাতে বিদ্যমান গ্রন্থগুলোর ব্যাপারে আমাদের তিনটি কর্মপদ্ধতি হবে। এক, যেগুলো কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সেগুলো গ্রহণ করব। দুই. যেগুলো কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে, সেগুলো প্রত্যাখ্যান করব। তিন. এর বাইরে যেসব ঘটনা, বিবরণ ইত্যাদি থাকবে, সে ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর মতো আমরাও নীরব থাকব। সত্য বলব না, মিথ্যাও বলব না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের আহলে কিতাবরা যা বলে, সেগুলো সত্য হিসেবে গ্রহণ করো না, মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না; বরং বলো, আমরা আল্লাহর ফেরেশতা, কিতাব এবং রাসুলদের উপর ঈমান এনেছি। তাহলে তাদের কথা যদি সত্য হয়, সেটা তোমরা মিথ্যা বললে না; আর যদি মিথ্যা হয়, সেটা সত্য বললে না...।’১

টিকাঃ
১. সহিহ ইবনে হিব্বান (৬২৫৭); মুসনাদে আহমদ (১৭৪৯৮)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 বেদ ও ত্রিপিটক কি আসমানি কিতাব?

📄 বেদ ও ত্রিপিটক কি আসমানি কিতাব?


যেমনইভাবে এগুলোর বাইরে যেসব গ্রন্থ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহে কোনো বর্ণনা নেই, অথচ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে সেগুলো আসমানি কিংবা পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত সেগুলোকেও আসমানি গ্রন্থ বলা যাবে না। যেমন: বৌদ্ধ ধর্মের ‘ত্রিপিটক’, হিন্দুদের ‘বেদ’, পারসি ধর্মের ‘জিন্দাবেস্তা’ ইত্যাদি। অথবা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মে বিদ্যমান অন্যান্য নবির নামে প্রচলিত গ্রন্থ। এগুলোকে আসমানি গ্রন্থ বলার সুযোগ নেই। এমনকি যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, ওগুলো মূলত একসময় আসমানি গ্রন্থ ছিল, বিশেষত হিন্দুধর্মের কিছু প্রাচীন গ্রন্থ, যেখানে তাওহিদের কথা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-সম্পর্কিত সুসংবাদ রয়েছে, তথাপি সেগুলো অক্ষত থাকেনি; বরং বিকৃতির শিকার হয়েছে। তাই ত্রিপিটক, বেদ-পুরাণে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো কথা পাওয়া গেলেই বিনা প্রমাণে ওগুলোকে আসমানি গ্রন্থ বলা যাবে না। আমরা সকল নবি-রাসুলের উপর অবতীর্ণ সকল গ্রন্থে সাধারণভাবে বিশ্বাস রাখি। সেখানে বেদ-বাইবেল থাকতে পারে; কিন্তু আছে কি না সেটা আমাদের কাছে অজ্ঞাত।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পড়ার বিধান

📄 অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পড়ার বিধান


অন্য ধর্মের গ্রন্থ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ইসলাম বিশেষ কোনো মূলনীতি বেঁধে দেয়নি। বরং যে কোনো সাধারণ গ্রন্থ পড়ার ক্ষেত্রে যে মূলনীতি, এখানেও সেটা প্রযোজ্য। সাধারণ গ্রন্থ পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো, ভালো বিষয়বস্তুর বই পড়া যাবে, মন্দ বিষয়বস্তুর বই পড়া যাবে না। যেহেতু পৃথিবীতে শিরকের চেয়ে মন্দ কোনো কিছু নেই; আর ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে প্রচলিত সেসব গ্রন্থে যেহেতু প্রচুর শিরকি কথা-বার্তা বিদ্যমান, তাই ওগুলো এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভালো বিষয়বস্তুর বই নয়। ফলে ওগুলো পড়াও উচিত নয়। বিশেষত সাধারণ মানুষের ওসব গ্রন্থ পড়ে বিভ্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। উপরন্তু জ্ঞানের জন্য ওগুলোর চেয়ে ভালো বই আছে। দুঃখজনকভাবে তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত অনেক মুসলিম দাবিদার নিয়মিত স্রেফ কৌতূহল কিংবা স্টাইল হিসেবে বেদ-বাইবেল পড়েন, কিন্তু কুরআন খুলে দেখার সুযোগ পান না। এটা সুস্পষ্ট গোমরাহি ও দুর্ভাগ্যের লক্ষণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনুল খাত্তাবের হাতে ইহুদিদের কিতাবের কিছু অংশ দেখে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন, তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং এগুলো পড়তে বারণ করে দেন।১ তাহলে সাধারণ মানুষ এগুলো পড়তে পারে কী করে? ইবনে আব্বাসও আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের গ্রন্থ পড়া কিংবা তাদের কাছে ধর্মীয় বিষয় জানতে চাওয়া কঠোরভাবে বারণ করতেন।২

হ্যাঁ, আলিম ও দাঈগণ দাওয়াতের উদ্দেশ্যে, খণ্ডনের উদ্দেশ্যে, সেসব গ্রন্থের অনুসারীদের সামনে সেগুলোর বাস্তবতা তুলে ধরে তাদের কুরআনের দিকে আহ্বানের লক্ষ্যে সেগুলো পড়তে পারেন, অধ্যয়ন করতে পারেন, গবেষণা করতে পারেন। তবে এর আগে কুরআন-সুন্নাহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং নিজের ঈমানের উপর ব্যাপক আস্থা তৈরি করে তবেই শুরু করা যেতে পারে। পাশাপাশি দিনরাত সেগুলো নিয়ে পড়ে থাকলে ঈমানের ক্ষতি হতে পারে। তাই কুরআন-সুন্নাহকে মূল রেখে প্রয়োজন অনুপাতে দেখার সুযোগ থাকবে।৩

টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ (১৫৩৮৮); মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (২৬৯৪৯)।
২. বুখারি (২৬৮৫, ৭৩৬৩)।
৩. দেখুন: ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার (১৩/৫২৫)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px