📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 অধমের পর্যবেক্ষণ

📄 অধমের পর্যবেক্ষণ


অধমের পর্যবেক্ষণ
উভয় দলের বক্তব্য পর্যবেক্ষণের পরে অধমের মনে হয়েছে, যারা নবিগণকে সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র বলেছেন, তারা সগিরা গুনাহের নিচে (যাল্লাত/সাহু) সামান্য ভুল-বিচ্যুতি ইত্যাদি হয়ে থাকতে পারে বলে মত দিয়েছেন, যেমনটা ইমাম আবু হানিফা রাহি.-এর কথাতে স্পষ্ট। তিনি নবিদের সগিরা, কবিরা-সহ সব ধরনের কুফর ও মানহানিকর বিষয় থেকে মাসুম বললেও তাদের ভুল ও বিচ্যুতি (যাল্লাত/খাতায়া) হয়ে থাকতে পারে বলেন।১ একইভাবে ইমাম সদরুল ইসলাম বাজদাবির কথা দ্বারাও অভিন্ন বিষয় বুঝে আসে। তিনি বলেন, ‘আম্বিয়াগণ ইচ্ছাকৃত কবিরা ও সগিরা সকল গুনাহ থেকে মুক্ত। তবে ভুলে সংঘটিত বিচ্যুতি (জাল্লাত) থেকে মুক্ত নন।’২ খুব সম্ভবত সগিরা গুনাহ এবং এই সামান্য ভুল-বিচ্যুতির সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকার ফলেই আলিমদের মাঝে এ মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ফলে কেউ ওটাকে সগিরা গুনাহ ধরেছেন। কেউ গুনাহ নয়, বরং সামান্য বিচ্যুতি কিংবা এটি উত্তম-অনুত্তম ধরেছেন। তবে এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের সকল উলামায়ে কেরাম একমত যে, নবিগণ কোনো ধরনের সগিরা গুনাহ কিংবা ভুল-বিচ্যুতির উপরও অটল থাকেন না। ফলে এটি তাদের মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর নয়।

আরও একটি ব্যাপার এখানে উল্লেখযোগ্য; তা হলো, পাঠকের কাছে নিশ্চয়ই স্পষ্ট হয়েছে যে, ব্যাপারটি মতভেদপূর্ণ। ফলে কেবল আবেগ দিয়ে এটাকে বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ, প্রত্যেক আবেগের বিষয় বাহ্যিকভাবে সুন্দর হলেও ভিতরে তেমন নাও হতে পারে। যেমন: ভ্রান্ত শিয়া সম্প্রদায় নবিদের কবিরা, সগিরা, ইচ্ছাকৃত/অনিচ্ছাকৃত সব ধরনের ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করে।৩ উৎসুক পাঠক জিজ্ঞাসা করতে পারেন, শিয়া সম্প্রদায় নবিদের এত শ্রদ্ধা করে কীভাবে? বাস্তবতা হলো, তারা নবিদের জন্য নয়, বরং তাদের ইমামদের জন্য এই নীতি অবলম্বন করেছে। কারণ, তারা ইমামদের মাসুম মনে করে।৪ সুতরাং তিনি নবিদের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের ভুল সাব্যস্ত করতে গেলে তাদের মতাদর্শই ভেঙে পড়বে। তাই বিষয়গুলো আবেগ নয়, নস দিয়ে বুঝতে হবে।

টিকাঃ
১. আল-ফিকহুল আকবার (৩৭) ।
২. উসুলুদ্দিন, বাজদাবি (১৭২) ।
৩. মিনহাজুস সুন্নাহ, ইবনে তাইমিয়া (১/৪৭২) ।
৪. ইসমাতুল আম্বিয়া, রাজি (৪০) ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px