📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 প্রথম দলের মত

📄 প্রথম দলের মত


প্রথম দলের মত
একদল আলিমের বক্তব্য হলো, নবিগণ কবিরা গুনাহ ও অন্যান্য সগিরা গুনাহ থেকে পবিত্র, কিন্তু এই প্রকারের (লঘু) সগিরা গুনাহ থেকে নন। ইবনে বাত্তাল মালেকি (৪৪৯ হি.) বলেন, আহলে সুন্নাতের মতে, নবিগণ থেকে সগিরা গুনাহ প্রকাশ পেতে পারে।২ ইবনে আবদুল বার (৪৬৩ হি.) বলেন, ‘নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেবল সগিরা গুনাহ ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। কারণ, এ কথা সর্বজনবিদিত যে, তিনি কিংবা কোনো নবি কখনও কবিরা গুনাহ করেন না। কারণ, তারা কবিরা গুনাহ থেকে মাসূম।’৩ কাজি ইয়াজ (৫৪৪ হি.) বলেন, ‘সালাফের একদল ইমাম নবিদের কাছ থেকে সগিরা গুনাহ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব বলেছেন। এটা আবু জাফর তাবারি-সহ অন্যান্য অনেক ফকিহ, মুহাদ্দিস ও মুতাকাল্লিমিনের মাজহাব।’৪ আমেদি (৬৩১ হি.) তাঁর ‘আল-ইহকাম’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে লম্বা আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, অধিকাংশ শাফেয়ি এবং মুতাজিলি আলিমদের মতে, সগিরা গুনাহ থেকে নবিগণ নিষ্পাপ নন।৫ ইমাম নববি সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেন, এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তবে সালাফ ও খালাফের অধিকাংশ ফকিহ, মুহাদ্দিস ও মুতাকাল্লিমিনের মতে, নবিদের কাছ থেকে সগিরা গুনাহ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব। তাদের দলিল কুরআন ও সুন্নাহর বাহ্যিক নসসমূহ।৬ ইবনে তাইমিয়া (৭২৮ হি.) বলেন, অধিকাংশ আলিমের বক্তব্য হলো, নবিগণ কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র, সগিরা গুনাহ থেকে নন। এমনকি অধিকাংশ আহলুল কালামেরও এই মত। আমেদির মতে, অধিকাংশ আশআরি এমন মত পোষণ করেন। বস্তুত সাহাবি, তাবেয়িন-সহ সালাফ থেকে এসংশ্লিষ্ট যেসব বক্তব্য পাওয়া যায়, সেগুলো এই মতকেই সমর্থন করে।১ জাহাবিও (৭৪৮ হি.) নবিগণ থেকে সাময়িকভাবে সগিরা গুনাহ প্রকাশ পেতে পারে বলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমের মত হিসেবে উল্লেখ করেন।২

এই মত পোষণকারীরা তাদের উক্ত মতের সমর্থনে কুরআন-সুন্নাহ থেকে একাধিক দলিল পেশ করেন। তন্মধ্যে:

• আদম আলাইহিস সালাম কর্তৃক আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ, যেটাকে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
ওয়া আ’ছা আদামু রাব্বাহু ফাগাওয়া।
যার শাব্দিক অর্থ: ‘আদম আল্লাহর আদেশ অমান্য করে পথচ্যুত হয়ে পড়লেন।’ [ত্বহা: ১২১] তাদের মতে, উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে ইছইয়ান (অবাধ্যতা) যোগ করেছেন যাতে এ ব্যাপারে আর সন্দেহ থাকে না।

• নুহ আলাইহিস সালামকে আল্লাহ কর্তৃক ভৎর্সনা। যখন তিনি তাঁর ছেলের ব্যাপারে সুপারিশ করেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সতর্ক করে দেন যে, এটা ঠিক নয়। ফলে নুহ আলাইহিস সালাম তৎক্ষণাৎ তাওবা করেন এবং বলেন, যদি তাঁর অপরাধ ক্ষমা করা না হয় তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ওয়া নাদা নুহুর রাব্বাহু ফাক্বালা রাব্বি ইন্না বানি মিন আহলি... ইন্নাহু আমালুন গাইরু ছালিহ... ক্বালা রাব্বি ইন্নি আউজুবিকা আন আসআলাকা মা লাইসা লি বিহি ইলমুন ওয়া ইল্লা তাগফিরলি ওয়া তারহামনি আকুম মিনাল খাসিরিন। [হুদ: ৪৫-৪৭] তাদের মতে, এটা গুনাহের প্রমাণ।

• মুসা আলাইহিস সালাম যখন তার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে অন্য লোককে হত্যা করে ফেলেন। যদিও কাজটা অনিচ্ছায় ছিল, কিন্তু তিনি এটার জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হন এবং এটাকে শয়তানের কাজ বলে আখ্যা দেন; পাশাপাশি তিনি নিজের উপর জুলুম করেছেন এই মর্মে স্বীকৃতি দেন।
ওয়া দাখালাল মদিনাতা আলা হিনি গাফলাতিম মিন আহলিহা ফাওয়াজাদা ফিহা রাজুলাইনি ইয়াক্বতাতিলান... ক্বালা হাজা মিন আমালিশ শাইতানি ইন্নাহু আদুউউম মুদিল্লাম মুবিন। [কাসাস: ১৫]

• দাউদ আলাইহিস সালাম একবার বিচার করার সময় দ্বিতীয় পক্ষের রায় না শুনেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ফেলল। পরে তিনি বুঝতে পারেন এটা ঠিক হয়নি। ফলে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।
ওয়া জান্না দাউদু আন্নামা ফাতান্নাহু ফাসতাগফারা রাব্বাহু ওয়া খাররা রাকিআও ওয়া আনাব। [সাদ: ২৪]

• ইউনুস আলাইহিস সালাম নিজ কওমকে ছেড়ে যাওয়াতে আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হয়ে শাস্তি দান করেন এবং ইউনুস আলাইহিস সালাম নিজের উপর জুলুম করেছেন বলে স্বীকার করেন।
ফানাাদা ফিজ জুলুমাতি আন লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। [আম্বিয়া: ৮৭]

• ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, আমি আশা করি, তিনি বিচারের দিবসে আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন।
ওয়াল্লাজি আতমাউ আই ইয়াগফিরা লি খাতিআতি ইয়াওমাদ্দিন। [শুআরা: ৮২]

• রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আল্লাহ তায়ালা একাধিকবার ভর্ৎসনা করেন। একবার যখন তিনি স্ত্রীদের কারণে নিজের উপর মধু হারাম ঘোষণা করেন, তখন: ইয়া আইয়্যুহান নাবিয়্যু লিমা তুহাররিমু মা আহাল্লাল্লাহু লাকা। [তাহরিম: ১] অন্যবার যখন তিনি অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে দেখে কিছুটা বিরক্ত হন: আবাছা ওয়া তাওয়াল্লা আন জাআহুল আমা... [আবাসা: ১-৩] আরেকবার বদরের যুদ্ধে কাফের বন্দিদের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তেও আল্লাহ তায়ালা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। [আনফাল: ৬৮]

• এ ছাড়া তারা স্বয়ং নবিদের মুখে স্বীকার করা ত্রুটির কথা দিয়েও দলিল দেন। যেমন ‘হাদিসে শাফায়াহ’ নামে প্রসিদ্ধ হাদিসে একাধিক নবি নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকার কথা স্বীকারপূর্বক সুপারিশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করবেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পাঠাবেন।১

টিকাঃ
২. শরহে সহিহিল বুখারি, ইবনে বাত্তাল (১০/৪৩৯) ।
৩. আল-ইসতিজকার, ইবনে আবদুল বার (২/৪৯৬) ।
৪. শিফা, কাজি ইয়াজ (২/১৪৪) ।
৫. আল-ইহকাম, আমেদি (১/১৭১) ।
৬. শরহে মুসলিম, নববি (৩/৫৪) ।
১. মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/৩১৯) ।
২. আল-মুনতাকা, জাহাবি (৫০) ।
১. বুখারি (৩৩৪০); মুসলিম (১৯৪); তিরমিজি (২৪৩৪) ।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 দ্বিতীয় দলের মত

📄 দ্বিতীয় দলের মত


দ্বিতীয় দলের মত
দ্বিতীয় মত পোষণকারীরা বলেন, নবিগণ কবিরা গুনাহের মতো সব ধরনের সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র। কারণ আল্লাহ তাদের গোটা সৃষ্টির উপর মনোনীত করেছেন। তারা মানুষের জন্য সামগ্রিক আদর্শ। ফলে তাদের দ্বারা সগিরা গুনাহও হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি আদর্শ হতে পারেন না। তা ছাড়া তাদের মতে, নবিগণ ইনসানে কামেল তথা পূর্ণাঙ্গ মানব; আর সগিরা গুনাহ সেই পূর্ণাঙ্গতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক, তাওবা করা হলেও। ফলে নবিগণ সগিরা গুনাহ থেকে পবিত্র। এই দলের প্রথমে আছেন ইমাম আবু হানিফা (১৫০ হি.)। তিনি নবিদের সগিরা, কবিরা-সহ সব ধরনের কুফর ও মানহানিকর বিষয় থেকে মাসুম বলেন। তবে তাদের ভুল ও বিচ্যুতি (যাল্লাত/খাতায়া) হয়ে থাকতে পারে।২ আবু ইসহাক ইসফারায়েনি (৪১৮ হি.) এই মতকে অগ্রাধিকার দেন এবং এটাকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমের মত হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি প্রথম মতকে ‘কারও কারও মত বলে’ ভিত্তিহীন আখ্যা দেন।৩ ইমাম আবুল ইউসর (সদরুল ইসলাম) বাজদাবি (৪৯৩ হি.) নবিগণকে সগিরা ও কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে মাসুম বলেছেন।৪ মুফাসসির ইবনে আতিয়্যাহও (৫৪২ হি.) মতানৈক্যের কথা বর্ণনা করে সব ধরনের গুনাহ থেকে মাসুম হওয়ার মতকে অগ্রাধিকার দেন।১ ইমাম নববি (৬৭৬ হি.) লিখেন, আমাদের ইমামদের মাঝ থেকে একদল মুহাক্কিক ফকিহ ও মুতাকাল্লিমিন এই মত পোষণ করেন। তাদের মতে, নবুওতের মসনদের সঙ্গে এ ধরনের গুনাহও শোভনীয় নয়। তারা এ ব্যাপারে বর্ণিত কুরআনের আয়াতগুলোকে তাবিল করেন। এগুলো বলার পরে ইমাম নববি এটাকেই গ্রহণযোগ্য বলে মত দেন।২ বদরুদ্দিন আইনি (৮৫৫ হি.) মতভেদ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার মাজহাব হলো, নবিগণ নবুওতের আগে-পরে সগিরা- কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে মাসুম। তাদের কারও কারও কাছ থেকে সগিরা গুনাহ- সদৃশ যে সামান্য কিছু বিষয় প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো গুনাহ নয়; বরং উত্তমের বদলে অনুত্তম বলা যায়।’৩ ইবনে হাজার আসকালানিও (৮৫২ হি.) এই মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।৪ হজরত থানভিরও এই মত।৫

প্রথম দলের উলামায়ে কেরাম তাদের তাবিলকে বর্জন করেন। তাদের মতে, এসব তাবিল আর রাফেজ-বাতেনি সম্প্রদায়ের তাবিলের মাঝে পার্থক্য নেই। ইবনে তাইমিয়া মনে করেন, ইসমাতে মুতলাক (অর্থাৎ সগিরা ও কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্রতার) ধারণা সূচিত হয় রাফেজিদের হাতে। তারা তাদের ইমামের ব্যাপারে এসব আকিদার সূচনা করে। নতুবা আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ি আহমদ-সহ আহলে সুন্নাতের কোনো ইমাম কিংবা তাদের অনুসারী, এমনকি ইবনে কুল্লাব, আবুল হাসান আশআরি, ইবনে কাররাম-সহ বড় বড় মুতাকাল্লিম থেকেও এ ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। তাই এ ব্যাপারে মুসলমানদের কাফের কিংবা ফাসেক বলা জায়েজ নেই। হ্যাঁ, ভুল-শুদ্ধ বললে সেটা ভিন্ন কথা।৬ আমেদিও বলেছেন, শিয়ারা তাদের সগিরা থেকেও নিষ্পাপ ভাবে।৭ রাজিও বলেছেন, শিয়ারা রাসুলদের (জ্ঞাতসারে- অজ্ঞাতসারে) সম্পূর্ণরূপে সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্ত মনে করে।৮

এর পর তারা তাদের যুক্তির জবাব দেন। তাদের মতে, আদর্শ হওয়ার জন্য সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র হওয়া জরুরি নয়। হ্যাঁ, তাদের কথা সঠিক হতো, যদি গুনাহ করার পরে তারা সেটার উপর অবিচল থাকতেন। তাহলে গুনাহের ক্ষেত্রেও তাদের আদর্শ হতে হতো। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। বরং নবিগণ কোনো গুনাহ করে ফেললে দ্রুত তাওবা করে ফেলেন। সেটা বরং মুমিনদের জন্য আদর্শ। আর দ্বিতীয় যুক্তির জবাবে বলেন, সগিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া মানুষের কামালতকে নষ্ট করে না; মানুষের মর্যাদা ও স্তরকে নিচু করে না; বরং অনেক সময় তাওবা মানুষের কামালতকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কখনও কখনও গুনাহের মাধ্যমে মানুষ গুনাহের আগের অবস্থার চেয়ে আল্লাহর আরও বেশি কাছাকাছি চলে যেতে পারে তাওবা, ইস্তিগফার ও আমলের মাধ্যমে, যেমনটা আদম আলাইহিস সালামের সঙ্গেও হয়েছিল।১

টিকাঃ
২. আল-ফিকহুল আকবার (৩৭) ।
৩. তাফসিরে কুরতুবি (১/৩০৯) ।
৪. উসুলুদ্দিন, বাজদাবি (১৭২) ।
১. তাফসিরে ইবনে আতিয়‍্যাহ (১/২১১) ।
২. শরহে মুসলিম, নববি (৩/৫৪) ।
৩. উমদাতুল কারি, আইনি (১৮/৯) ।
৪. ফাতহুল বারি (১১/১০১) ।
৫. ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/৪১২-৪১৩) ।
৬. মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/৩২১) ।
৭. আল-ইহকাম, আমেদি (১/১৭১) ।
৮. ইসমাতুল আম্বিয়া, রাজি (৪০) ।
১. মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/৩০৯) ।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 অধমের পর্যবেক্ষণ

📄 অধমের পর্যবেক্ষণ


অধমের পর্যবেক্ষণ
উভয় দলের বক্তব্য পর্যবেক্ষণের পরে অধমের মনে হয়েছে, যারা নবিগণকে সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র বলেছেন, তারা সগিরা গুনাহের নিচে (যাল্লাত/সাহু) সামান্য ভুল-বিচ্যুতি ইত্যাদি হয়ে থাকতে পারে বলে মত দিয়েছেন, যেমনটা ইমাম আবু হানিফা রাহি.-এর কথাতে স্পষ্ট। তিনি নবিদের সগিরা, কবিরা-সহ সব ধরনের কুফর ও মানহানিকর বিষয় থেকে মাসুম বললেও তাদের ভুল ও বিচ্যুতি (যাল্লাত/খাতায়া) হয়ে থাকতে পারে বলেন।১ একইভাবে ইমাম সদরুল ইসলাম বাজদাবির কথা দ্বারাও অভিন্ন বিষয় বুঝে আসে। তিনি বলেন, ‘আম্বিয়াগণ ইচ্ছাকৃত কবিরা ও সগিরা সকল গুনাহ থেকে মুক্ত। তবে ভুলে সংঘটিত বিচ্যুতি (জাল্লাত) থেকে মুক্ত নন।’২ খুব সম্ভবত সগিরা গুনাহ এবং এই সামান্য ভুল-বিচ্যুতির সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকার ফলেই আলিমদের মাঝে এ মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ফলে কেউ ওটাকে সগিরা গুনাহ ধরেছেন। কেউ গুনাহ নয়, বরং সামান্য বিচ্যুতি কিংবা এটি উত্তম-অনুত্তম ধরেছেন। তবে এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের সকল উলামায়ে কেরাম একমত যে, নবিগণ কোনো ধরনের সগিরা গুনাহ কিংবা ভুল-বিচ্যুতির উপরও অটল থাকেন না। ফলে এটি তাদের মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর নয়।

আরও একটি ব্যাপার এখানে উল্লেখযোগ্য; তা হলো, পাঠকের কাছে নিশ্চয়ই স্পষ্ট হয়েছে যে, ব্যাপারটি মতভেদপূর্ণ। ফলে কেবল আবেগ দিয়ে এটাকে বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ, প্রত্যেক আবেগের বিষয় বাহ্যিকভাবে সুন্দর হলেও ভিতরে তেমন নাও হতে পারে। যেমন: ভ্রান্ত শিয়া সম্প্রদায় নবিদের কবিরা, সগিরা, ইচ্ছাকৃত/অনিচ্ছাকৃত সব ধরনের ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করে।৩ উৎসুক পাঠক জিজ্ঞাসা করতে পারেন, শিয়া সম্প্রদায় নবিদের এত শ্রদ্ধা করে কীভাবে? বাস্তবতা হলো, তারা নবিদের জন্য নয়, বরং তাদের ইমামদের জন্য এই নীতি অবলম্বন করেছে। কারণ, তারা ইমামদের মাসুম মনে করে।৪ সুতরাং তিনি নবিদের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের ভুল সাব্যস্ত করতে গেলে তাদের মতাদর্শই ভেঙে পড়বে। তাই বিষয়গুলো আবেগ নয়, নস দিয়ে বুঝতে হবে।

টিকাঃ
১. আল-ফিকহুল আকবার (৩৭) ।
২. উসুলুদ্দিন, বাজদাবি (১৭২) ।
৩. মিনহাজুস সুন্নাহ, ইবনে তাইমিয়া (১/৪৭২) ।
৪. ইসমাতুল আম্বিয়া, রাজি (৪০) ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px