📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা 📄 কে শ্রেষ্ঠ, মানুষ না ফেরেশতা?

📄 কে শ্রেষ্ঠ, মানুষ না ফেরেশতা?


ফেরেশতারা মাসুম। তারা কোনো গুনাহ করেন না। তারা আল্লাহর অবাধ্য হন না। মন্দ চরিত্রের কোনো কাজে লিপ্ত হন না। এটা সকল মুসলমানের আকিদা। এ কারণে ভালো মানুষ বোঝাতে আমরা বলি ফেরেশতা। কারও ভালো চরিত্র বোঝাতে আমরা বলি ‘ফেরেশতা-চরিত্রের অধিকারী’। ফলে স্বাভাবিকভাবে ফেরেশতারা মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত হন। আর এখান থেকেই কে শ্রেষ্ঠ সে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। আসলে কুরআন ও সুন্নাহে এটা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ফয়সালা দেওয়া হয়নি। ফলে স্বভাবতই আলিমদের মাঝে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে。

কেউ কেউ মনে করেন, ফেরেশতা মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমের মতে ব্যাপারটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ (কাফের ও ফাসেক) থেকে ফেরেশতা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু নবি-রাসুল, ওলি-আউলিয়া, ও পুণ্যবান মুসলমানরা ফেরেশতার চাইতে শ্রেষ্ঠ। কারণ, আদম আলাইহিস সালামকে ফেরেশতারা সিজদা করেছেন [বাকারা: ৩৪, কাহাফ: ৫০]। আর উত্তম অনুত্তমের জন্য সিজদা করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা আরেকটি আয়াতে বলেন, ‘নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তারা গোটা সৃষ্টিজগতের সর্বোত্তম।’ [বাইয়িনাহ: ৭] যেহেতু ফেরেশতারাও সৃষ্টিজগতের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং পুণ্যবান মানুষ ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত হলো。

কিন্তু এটা কোনো চূড়ান্ত মতামত নয়। বরং ইমাম আবু হানিফা রাহি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ মত রাখতেন। কাউকে শ্রেষ্ঠ না বলে নীরব থাকতেন। ৩ তাই এটা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো কথা বলা কিংবা অতিরিক্ত ঘাঁটাঘাঁটি নিষ্প্রয়োজন। কারণ, এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা নয়। দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও এটা কাজে লাগার মতো কিছু নয়। মুমিনের কর্তব্য হলো পুণ্য অর্জন করা এবং ফেরেশতাদের ভালোবাসা। ইমাম বাইহাকি লিখেন, এটা একটা সাধারণ বিষয়। এটা জানার মাঝে বিশেষ কোনো উপকার নেই। ১ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর যেসব বিষয় ফরজ করেছেন, সেগুলো নষ্ট করো না; যেসব বিষয় হারাম করেছেন, সেগুলোর মাঝে লিপ্ত হয়ো না; যেসব সীমারেখা বেঁধে দিয়েছেন, সেগুলো লঙ্ঘন করো না। আর কিছু বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ (অনুগ্রহ করে, ভুলে গিয়ে নয়) নীরব থেকেছেন; তোমরা তা খোঁজাখুঁজি করো না।’ ২

টিকাঃ
৩. ইবনে আবিল ইজ (২৮১)।
১. শুআবুল ঈমান, বাইহাকি (১/৩২২)।
২. সুনানে দারাকুতনি (৪৩৯৬)। আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি (৫৮৯)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px