📄 একটু দৃষ্টি আকর্ষণ
আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যাকার শাইখ আবু হাফস সিরাজুদ্দিন গজনবি উপরে মূল টেক্সটের (...) চিহ্নিত স্থানে একটি বাক্য যোগ করেছেন, যা মূল গ্রন্থ কিংবা অন্য কোনো প্রাচীন ব্যাখ্যাগ্রন্থে অনুপস্থিত। বাক্যটি হলো: لا يكون مكون إلا بتكوينه، والتكوين لا يكون إلا حسنا جميلا যার সরল অর্থ হলো: পৃথিবীর প্রত্যেকটা বস্তুই তাকউইন তথা গঠনের মাধ্যমে অস্তিত্বে এসেছে। আর এই তাকউইন তথা গঠন সবসময় সুন্দর হওয়া আবশ্যক। কথা হলো, এই বাক্যটি গজনবি কোথায় পেলেন? অধমের কাছে আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহর চারটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি আছে। বাস্তবতা হলো, মাত্র একটি পাণ্ডুলিপিতে উক্ত বাক্যটি বিদ্যমান; অপর তিনটি পাণ্ডুলিপিতে অনুপস্থিত। উপরন্তু গজনবি ছাড়া আশআরি ও মাতুরিদি ধারার সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থেও বাক্যটি অনুপস্থিত। কেবল সমকালীন ব্যাখ্যাকার শাইখ সাইদ ফুদাহ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে তার কথাতে স্পষ্ট যে, তিনি বাক্যটি কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে নয়, বরং—তার ভাষ্যমতে—বাবিরতি থেকে নিয়েছেন। যদিও বাবিরতির ব্যাখ্যাটি মূলত গজনবির ব্যাখ্যাই, ভুলে বাবিরতির নামে প্রচারিত হয়েছে।
উক্ত বাক্যটা কি ইমাম তহাবির? চূড়ান্তভাবে ফয়সালা দেওয়া কঠিন, যেহেতু একটা পাণ্ডুলিপিতে এটা পাওয়া যায়। কিন্তু ইমাম তহাবির শব্দচয়ন ও লেখার ধারা খুব সম্ভবত এটার পরবর্তী সময়ে অনুপ্রবেশের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। কারণ, প্রথমত বাক্যটির এই স্থানে প্রাসঙ্গিকতা কম। দ্বিতীয়ত ‘তাকউইন’ হচ্ছে মাতুরিদি ধারার একটি বিশেষ আকিদা, যা অন্যান্য ধারার মাঝে বলতে গেলে অনুপস্থিত। আর ইমাম তহাবির পুরো বইয়ে আমরা তার শব্দচয়নে কোনো বিশেষ ধারার বিশেষ আকিদার প্রতিনিধিত্ব দেখি না। ফলে এমন একটি বাক্যের উপস্থিতি এখানে বেশ অদ্ভুত। আল্লাহ ভালো জানেন。
টিকাঃ
১. তিরমিজি (২১৪৯); ইবনে মাজা (৬২); মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ (৫৭৯)।
২. গজনবি (১০৩)।