📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 কারও উসিলা দিয়ে দোয়া করা (তাওয়াসসুল)

📄 কারও উসিলা দিয়ে দোয়া করা (তাওয়াসসুল)


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা কারও উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। সালাফ ও খালাফের একদল আলিম এটাকে জায়েজ মনে করেন না। সুতরাং কেউ যদি বলে, ‘হে আল্লাহ, অমুকের কারণে (بحق فلان) আমাদেকে ক্ষমা করে দিন’, তবে এটা বৈধ হবে না। তাদের মতে, কারণ এটা আল্লাহর উপর অন্যের নাম দিয়ে শপথ করা হচ্ছে এবং তাঁর উপর হক দাবি করা হচ্ছে। অথচ আল্লাহর উপর কারও হক নেই। যত বড় ফেরেশতা বা নবি-রাসুল হোন, সবাই তাঁর দাস ও অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল।
একইভাবে কেউ যদি নবি-রাসুলদের উসিলায় দোয়া করে এই চিন্তা করে যে, নবি- রাসুলগণ আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তাই তাদের সম্মানে দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায়, যেমন বলে, 'হে আল্লাহ, অমুক নবির/ওলির উসিলায়/সম্মানে/ বরকতে'... তবুও এমন দোয়া নিষিদ্ধ বিদআত। কারণ, সাহাবাগণ এমন দোয়া করেননি। অথচ তারা রাসুলুল্লাহর সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন, তাঁকে পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। হাদিসে বনি ইসরাইলের তিন ব্যক্তির গুহায় আটকে পড়া এবং নেক আমলের উসিলা ধরে দোয়া করার মাধ্যমে নাজাত পাওয়াও প্রমাণ করে, আমলের উসিলায় দোয়া করা যায়, ব্যক্তির উসিলায় নয়।১ তা ছাড়া-তাদের মতে-আল্লাহর রাসুল কিংবা সাহাবারা এভাবে দোয়া করতেন না। বরং তারা আল্লাহর নাম নিয়ে দোয়া করতেন, যেভাবে কুরআন-সুন্নাহ আমাদের শিখিয়েছে। কুরআনে এসেছে, وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوْهُ بِهَا ‘আর আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম, তোমরা সেসব নামে তাকে ডাকো।' [আরাফ: ১৮০]
হানাফি মাজহাবের মুতাকাদ্দিম ইমামদের থেকেও এ ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়্যাহ ও দুররে মুখতার-সহ বিভিন্ন গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ রাহি.-এর বরাতে বলা হয়েছে, আল্লাহর সত্তা, তাঁর নাম ও গুণাবলি ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে তাঁর কাছে দোয়া করা উচিত নয়। ... 'দোয়ার মাঝে আপনার নবি/রাসুল/ওলির হকের উসিলায়' বলা মাকরুহ। কারণ, আল্লাহর উপর কারও হক তথা অধিকার নেই।২ ইমাম আলাউদ্দিন কাসানি (৫৮৭ হি.) লিখেন, 'হে আল্লাহ, আপনার নবি-রাসুল কিংবা অন্য কারও হকের উসিলায়' দোয়া করা মাকরুহ।৩ ইমাম জাইলায়ি রাহি. একই কথা লিখেছেন। সঙ্গে কাবা ঘরের হকের উসিলা দেওয়াকেও যুক্ত করেছেন। ইবনুল হুমাম রাহি. থেকেও একই বক্তব্য পাওয়া যায়। হানাফি মাজহাবের বাইরে আল্লামা মুনাভি, ইজ ইবনে আবদুস সালাম থেকে জায়েজ হওয়ার যেসব বক্তব্য পাওয়া যায়, সেটাও কেবল রাসুলুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যদের উসিলা দিয়ে দোয়া করা তাদের মতেও জায়েজ নেই।৬
কিন্তু এটার উপর উম্মাহর আমল নয়। ফলে মুতাআখখিরিন হানাফি এবং মুতাকাদ্দিমিন শাফেয়ি, হাম্বলি ও মালেকি মাজহাব-সহ উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিম নবি ও রাসুলদের হক/সম্মানের উসিলা দিয়ে দোয়া করা জায়েজ মনে করেন। তকিউদ্দিন সুবকি এটাকে জায়েজ বলে লিখেন, এটা জায়েজ ও ভালো কাজ হওয়া স্পষ্ট।১ হাম্বলি ফকিহ বাহুতি লিখেন, নেককার বান্দাদের উসিলা দিয়ে দোয়া করতে সমস্যা নেই। ইমাম আহমদ রাহি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি নবিজির উসিলা দিয়ে দোয়া করা বৈধ বলেছেন।২ ইমাম মালেক রাহি.-কে যখন মসজিদে নববিতে খলিফা আবু জাফর জিজ্ঞাসা করল, 'কিবলামুখী হয়ে দোয়া করব, নাকি রাসুলুল্লাহর দিকে মুখ করে?' তিনি বললেন, 'কেন আপনি তাঁর কাছ থেকে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেবেন, অথচ তিনি কিয়ামতের দিন আপনার ও আপনার পিতা আদমের উসিলা? বরং তাঁর দিকে মুখ করুন, তাঁর কাছে শাফায়াত প্রার্থনা করুন, আল্লাহ তাঁর শাফায়াত গ্রহণ করবেন।'৩ ইমাম সাবি মালেকি আশ-শরহুস সগির-এর ব্যখ্যায় লিখেন, 'এরপর রওজার সামনে এসে সালাম পেশ করবে, নিজের সকল প্রার্থনায় তাঁর উসিলা গ্রহণ করবে।৪ ইবনে আবিদিন রাহি. আদ-দুররুল মুখতারের মূল ভূমিকার শেষে ব্যাখ্যায় লিখেন, 'আল্লাহর নবি এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত প্রত্যেক পুণ্যবানের উসিলা দিয়ে দোয়া করছি'...।'৫ আল্লামা ইসহাক দেহলভি, হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি, রশিদ আহমদ গঙ্গুহি, আশরাফ আলি থানভি, খলিল আহমদ সাহারানপুরি, জফর আহমদ উসমানি, মাহমুদ হাসান গঙ্গুহি-সহ আকাবিরে দেওবন্দের সকল বিজ্ঞ ইমামের মতে, জীবিত কিংবা মৃত যে-কারও উসিলা দিয়ে দোয়া করা বৈধ।৬ আল্লামা শাওকানিও এ ধরনের দোয়াকে জায়েজ বলেছেন।৭
তাওয়াসসুল জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে অনেক জাল হাদিস থাকলেও বেশ কিছু বিশুদ্ধ হাদিসও রয়েছে। একটি হাদিস হচ্ছে অন্ধ সাহাবির দোয়া, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ وَأَتَوَجَّهُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ نَبِيَّ الرَّحْمَةِ হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে চাচ্ছি, আপনার নবি রহমতের নবির মাধ্যমে আপনার অভিমুখী হয়েছি'...১ এখানে স্পষ্ট যে, উক্ত সাহাবি আল্লাহর রাসুলের উসিলা দিয়ে দোয়া করেছেন।২ একইভাবে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়া : اَللّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ بِحَقِّ السَّائِلِينَ عَلَيْكَ، وَأَسْأَلُكَ بِحَقِّ مَمْشَائى هَذَا অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনাকারীদের হকের উসিলায়, আমার (মসজিদের দিকে) হাঁটার উসিলায়, আপনার কাছে প্রার্থনা করছি...।'৩ একইভাবে আলি রাজি.-এর মাতা ফাতিমা বিনতে আসাদ রাজি.-এর জন্য রাসুলুল্লাহর দোয়া : اَللَّهُ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيُّ لَا يَمُوتُ ، اِغْفِرْ لِأُمِّي فَاطِمَةَ بِنْتِ أَسَدٍ ، وَلَقَّنْهَا حُجَّتَهَا ، وَوَسِّعْ عَلَيْهَا مُدْخَلَهَا ، بِحَقِّ نَبِيِّكَ وَالْأَنْبِيَاءِ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِي فَإِنَّكَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ এখানেও স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের ও অন্য নবিদের উসিলায় দোয়া করছেন। অন্য নবিগণ কিন্তু দুনিয়ার হিসেবে মৃত। ফলে এর মাধ্যমে মৃতদের নামে উসিলা দিয়ে দোয়া করাও প্রমাণিত।৪ তা ছাড়া উমর রাজি. কর্তৃক আব্বাস রাজি.-এর উসিলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করাও এটা জায়েজ হওয়ার প্রমাণ।৫ এই হাদিসগুলো বিভিন্ন মানের। তাই সবগুলোকে পাইকারি হারে জাল ও ভিত্তিহীন বলার সুযোগ নেই, যেমনটা প্রথম দলের অনেক আলিম দাবি করেছেন!৬
প্রথম দলের যুক্তির জবাবে তারা বলেন, নবি-রাসুল এবং ওলিগণ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও মহব্বতের পাত্র। আর স্বাভাবিকভাবেই কারও কাছে কারও ভালোবাসার মানুষের নাম নিয়ে প্রার্থনা করা যায়। সে হিসেবে এমন দোয়া অবৈধ নয়। তাদের মতে, এখানে হক বলতে আল্লাহর উপর তাদের অধিকার উদ্দেশ্য নয়; বরং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা অধিকার দিয়েছেন সেটা কিংবা কেবল সম্মান ও মর্যাদা বোঝানো উদ্দেশ্য। আর এ কারণেই এটা মুতাকাদ্দিমিন হানাফি ইমামগণ থেকে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। ফলে উম্মাহর সর্বসম্মত বৈধ আমল গণ্য হবে।
আমরা গভীর দৃষ্টি বোলালে দেখব, উভয় পক্ষের বক্তব্যের মাঝে সমন্বয় বিধান সম্ভব। অর্থাৎ যারা এমন দোয়াকে অবৈধ বলেন, তারাও কিছু কিছু সুরতকে বৈধ বলেন; অপরদিকে যারা বৈধ বলেন, তারা মূলত এগুলোই উদ্দেশ্য নেন, ফলে উভয়ের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই। আরেকটু খুলে বলা যাক! প্রথম দলের মতে, কারও সত্তার উসিলা দিয়ে দোয়া করা বৈধ হবে না; কিন্তু কারও অনুসরণ ও মহব্বতের উসিলা দিয়ে দোয়া করা বৈধ (অর্থাৎ এটা নেক আমলের উসিলায় দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে)। ইবনে তাইমিয়া লিখেন, 'নবি-রাসুল ও পুণ্যবানদের আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু তাদের এই মর্যাদাই কারও দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে কার্যকর কারণ নয়। হ্যাঁ, যদি কেউ তাদের অনুসরণ করে, তাদের মহব্বত করে, কিংবা তারা কারও জন্য দোয়া করেন, কারও জন্য সুপারিশ করেন, সেটা তাকে উপকার করবে। কিন্তু এগুলোর পরিবর্তে কেবল তাদের নাম ও সম্মানের উসিলা দিয়ে দোয়া করার অর্থ হলো, এমন বস্তুর মাধ্যমে দোয়া করা যা তার নয়!'১
এটা কেবল আখিরাতের বিষয়ে নয়, দুনিয়ার বিষয়েও সম্ভব। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক! প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে তাঁর ছেলে অত্যন্ত প্রিয় ও মূল্যবান। এখন আপনি কোনো ব্যক্তির ছেলের কাছের বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষ হলে যদি সেই ছেলের বাবার কাছে তার উসিলা দিয়ে কোনোকিছু প্রার্থনা করেন, তবে তা গৃহীত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। কারণ, তিনি জানেন আপনি তার ছেলের বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষ। কিন্তু যদি এমন হয়, আপনি তার ছেলের কেউ নন, তার সঙ্গে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই; আপনি কেবল তাকে চেনেন, এর পর তার নামে তার পিতার কাছে কিছু প্রার্থনা করেন, সেটা গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে? না, নেই। কারণ, সেটা গৃহীত হওয়ার মতো কোনো কাজ আপনি করেননি। বরং উলটো ধমক খাওয়ারও আশঙ্কা আছে। তিনি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমার ছেলের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কী? তার নাম ভাঙিয়ে খাওয়ার অভিযোগেও অভিযুক্ত হতে পারেন।
ফলে দেখা যাচ্ছে, যারা এমন দোয়াকে অবৈধ বলছেন, তারা কেবল সত্তা বোঝাচ্ছেন, নতুবা নবিদের অনুসরণের (নেক আমল) উসিলা দিয়ে দোয়া করাকে তারাও বৈধ বলেন। অপরদিকে যারা নবিদের উসিলা দিয়ে দোয়া করাকে বৈধ বলেন, আমরা দেখব, তারাও মূলত এই অনুসরণ ও মহব্বতের ভিত্তিতেই দোয়া করেন। কেউ আল্লাহকে, তাঁর নবি-রাসুলকে ভালোবাসে, তাদের প্রতি সুধারণা রাখে বিধায়ই তাদের নামের উসিলা দিয়ে দোয়া করে। বাহ্যত তাদের নামের উসিলা হলেও প্রকৃত অর্থে এটা তাদের ভালোবাসার উসিলা। নতুবা চেনা নেই, জানা নেই, মহব্বত নেই, ইত্তিবা নেই এমন মানুষের উসিলা দিয়ে দোয়া করা অযৌক্তিক। তখন সেটা দোয়ার পরিবর্তে অনধিকার চর্চা ও উপহাসে পরিণত হয়। ফলে মুসলমানদের কেউ যদি নবিজির উসিলা দিয়ে দোয়া করে, স্পষ্ট যে, সে নবির মহব্বত ও ইত্তিবার ভিত্তিতেই দোয়া করছে। ফলে উভয় বক্তব্যের মাঝে আর বৈপরীত্য থাকল না এবং অবৈধ বলার সুযোগ থাকল না।
সমকালীন কিছু আলিম ব্যাপারটি নিয়ে অতিরঞ্জন করছেন এবং এটাকে শিরকের পথ আখ্যায়িত করে নিকৃষ্টতম বিদআত বলছেন। অথচ এটা সুস্পষ্ট বাড়াবাড়ি। উভয় পক্ষেরই দলিল রয়েছে। ফলে একটার চেয়ে আরেকটাকে উত্তম বলা যায়; কিন্তু বিদআত বলা একেবারেই পরিত্যাজ্য। বরং স্বয়ং ইবনে তাইমিয়া এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন।১ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব বলেন, (তাওয়াসসুল) বিষয়টি মতভেদপূর্ণ এবং এমন মতভেদ বৈধ। যদিও আমাদের কাছে এটা মাকরুহ, তথাপি যে এটা করবে, আমরা তাকে বাধা দিই না।'২
তাম্বিহ: শেষে একটা জরুরি বিষয় উল্লেখ করা হচ্ছে। এই ধরনের দোয়া বৈধ ধরা হলেও আমাদের কর্তব্য হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহর কাছাকাছি থাকা। কুরআন আমাদের হিদায়াতের উৎস, সকল কল্যাণ ও আলোর আধার। নবিগণ আমাদের আদর্শ। কুরআনে আমরা যদি নবিদের দোয়াগুলো দেখি, দেখব, তারা কেবল আল্লাহর নামে দোয়া করতেন। দোয়া যেহেতু একটি ইবাদত, এটা কেবল আল্লাহর জন্যই হওয়া উচিত। আল্লাহ তায়ালা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দোয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন এভাবে:
وَقُلْ رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّحِمِينَ.
অর্থ: 'আপনি বলুন, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে ক্ষমা করে দিন, অনুগ্রহ করুন। আপনি সর্বোত্তম অনুগ্রহকারী।' [মুমিনুন: ১১৮] জাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়া সম্পর্কে কুরআন আমাদের বলছে,
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَرِثِينَ.
অর্থ: 'হে আল্লাহ, আপনি আমাকে নিঃসন্তান রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।' [আম্বিয়া: ৮৯] মুসা আলাইহিস সালামের দোয়া সম্পর্কে কুরআন বলছে,
انْتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الْغُفِرِينَ.
অর্থ: 'আপনি আমাদের অভিভাবক, তাই আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের রহম করুন। আপনি সর্বোত্তম ক্ষমাকারী।' [আরাফ: ১৫৫] শুআইব আলাইহিস সালামের দোয়া ছিল এমন,
رَبَّنَا افْتَحُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفُتِحِينَ.
অর্থ: 'হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মাঝে ফয়সালা করে দিন। আপনিই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।' [আরাফ: ৮৯] ঈসা আলাইহিস সালামের দোয়া এসেছে কুরআনে এভাবে,
وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرُّزِقِينَ.
অর্থ: 'আপনি আমাদের রিজিক দান করুন। আপনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা।' [মায়িদা: ১১৪] উপরের সবগুলো কুরআনি দোয়াতে শুধু আল্লাহ তায়ালার বিভিন্ন নাম ও গুণের উসিলা দিয়ে দোয়া করা হয়েছে। ফলে এটাই দোয়ার ক্ষেত্রে নবি-রাসুলের সুন্নাত।
মোট কথা, কারও উসিলা দিয়ে দোয়া বিশেষ বিশেষ সুরতে করা গেলেও স্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহর নাম নিয়েই দোয়া করা চাই। বিশেষ অবস্থা যেমন: রাসুলুল্লাহর প্রতি বিশেষ কোনো মহব্বতের প্রকাশকালে কিংবা তাঁর কবর জিয়ারতের সময় রওজার সামনে দাঁড়িয়ে। এ কারণে ইমাম কামাল ইবনুল হুমামকে দেখি, উপরে নবিদের হকের উসিলা দিয়ে দোয়া করা মাকরুহ লিখলেও রওজা জিয়ারতের সময় লিখেন, 'এরপর রাসুলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে।'১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00