📄 রাসূলের শাফায়াত কীভাবে পাওয়া যাবে?
কিয়ামতের দিন রাসুলের শাফায়াতে ধন্য হওয়া বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই শাফায়াত নসিব হলে জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়া যাবে, জাহান্নামের ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পরেও জান্নাতে যাওয়া যাবে। এমনকি জাহান্নামে প্রবেশ করে থাকলেও (নাউজুবিল্লাহ) এই শাফায়াতের উসিলায় আল্লাহ বের করে আনবেন।¹ প্রশ্ন হলো, রাসুলুল্লাহর শাফায়াত কীভাবে পাওয়া যাবে?
আমাদের সৌভাগ্য যে, আল্লাহর রাসুল তাঁর শাফায়াত পাওয়ার জন্য অনেকগুলো পথ বাতলে দিয়েছেন; বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আমলের বিনিময়ে শাফায়াত প্রাপ্তির সুসংবাদ দিয়েছেন। ফলে সামান্য আন্তরিকতা থাকলেও কিয়ামতের দিন আল্লাহ চাইলে তাঁর শাফায়াত পাওয়া সহজ। শাফায়াতপ্রাপ্তির কিছু পথ ও পদ্ধতি:
এক. তাওহিদের উপর মৃত্যুবরণ করা। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সঙ্গে হৃদয়ের গভীর থেকে বলবে 'আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই', সে কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াতের সৌভাগ্য লাভ করবে।²
দুই. আজানের পরে দোয়া পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আজানের পরে এই দোয়া পাঠ করবে: اللَّهُمَّ رَبِّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ জন্য আমার শাফায়াত অবধারিত হয়ে যাবে।³
তিন. মদিনায় সবর করে বসবাস করা এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মদিনার কষ্ট এবং প্রতিকূলতা সহ্য করে এখানে বসবাস করবে এবং মৃত্যুবরণ করবে আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য শাফায়াতকারী হব।'⁴ আরেকটি হাদিসে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মদিনাতে মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম, সে যেন এখানে মৃত্যুবরণ করে। কারণ, এখানে যে মৃত্যুবরণ করবে, আমি তার জন্য সুপারিশ করব।'⁵
আগের দিনে মদিনাতে বসবাস করা কষ্টকর ছিল, কিন্তু যে-কেউ চাইলে সেটা সম্ভব ছিল। এখন মদিনায় বসবাস করা কষ্টকর নয়, কিন্তু চাইলেই সেটা সম্ভব হয় না। তবে বসবাস সম্ভব না হলেও মৃত্যু সম্ভব, আল্লাহ যদি সে সৌভাগ্য কপালে লিখে রাখেন। এ জন্য আমাদের অনেক শাইখ মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে চাইতেন। এটা সম্ভব না হলেও প্রথম দুটি সবার জন্যই সম্ভব।
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমদ (২৩২১৪)।
২. বুখারি (৯৯, ৬৫৭০); বাজ্জার (৮৪৬৯)।
৩. বুখারি (৬১৪); আবু দাউদ (৫২৯); ইবনে খুজাইমা (৪২০)।
৪. মুসলিম (১৩৭৪, ১৩৭৮); তিরমিজি (৩৬২৪)।
৫. তিরমিজি (৩৬১৭); ইবনে মাজা (৩১১১); মুসনাদে আহমদ (৫৫৩৪)।