📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 ‘দিক’ ও ‘সীমা’ সাদৃশ্যকারীদের মানহাজের পর্যালোচনা

📄 ‘দিক’ ও ‘সীমা’ সাদৃশ্যকারীদের মানহাজের পর্যালোচনা


উপরে আমরা ইমাম তহাবির ব্যবহৃত শব্দগুলোর উপর একদল আলিমের আপত্তির কথা উল্লেখ করেছি। তারা ইমাম তহাবির সম্পূর্ণ বিপরীত মত পোষণ করেন এবং আল্লাহর জন্য 'হদ' (সীমা) এবং 'জিহাহ' (দিক) দুটোই সাব্যস্ত করেন। বরং তারা আল্লাহর 'সীমা' অস্বীকার করাকে বাতিল মনে করেন! আল্লাহর সীমা থাকাকে তারা সালাফের মানহাজ মনে করেন। তাদের মতে, আরশ আমাদের উপরে এবং এটা একটা 'দিক'। আর আল্লাহ আরশের 'উপরে' এটাও একটা 'দিক'। সুতরাং আল্লাহ একটা 'দিকেই' আছেন )في جهة( উপরন্তু এটাকে তারা ইমাম আহমদের মাজহাব হিসেবে ঘোষণা করেন। এক্ষেত্রে তাদের দলিল, ইমাম আহমদ আল্লাহর আরশে ইস্তিওয়াকে সাব্যস্ত করেন।¹

কিন্তু ইমাম আহমদ রাহি. এমন মাজহাব থেকে মুক্ত। যদি আরশের উপর ইস্তিওয়া সাব্যস্ত করার কারণে ইমাম আহমদ দিক সাব্যস্ত করেন বলা হয়, তবে তো সকল সালাফের ব্যাপারে বলতে হবে তারাও দিক সাব্যস্ত করেন। অথচ সালাফ কেবল 'জাহের' সাব্যস্ত করতেন। নুসুসের অনুসরণে ইস্তিওয়াসহ সকল সিফাতকে হুবহু যেভাবে এসেছে সেভাবে রেখে দিতেন। এর গভীর মর্ম, স্বরূপ ও ধরন উপলব্ধি করতে নিজেদের অক্ষম মনে করতেন, যেমনটা ইমাম মালেক ও শাফেয়ি থেকে প্রসিদ্ধ। ফলে আরশে আল্লাহর ইস্তিওয়ার স্বরূপ তিনিই ভালো জানেন। এর সঙ্গে 'দিকের' কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহর জন্য জিহাহ সাব্যস্ত করা সালাফ কিংবা খালাফ কোনো মুহাক্কিকেরই মাজহাব নয়।²

ইমাম আহমদ রাহি.-এর মাজহাব হলো: 'আরশ সৃষ্টির আগে কিংবা পরে আল্লাহর মাঝে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কোনো সীমারেখা আল্লাহকে পরিবেষ্টিত করতে পারে না।'³ ইবনে হামদান (৬৯৫ হি.) ইমাম আহমদ রাহি. থেকে বর্ণনা করেন, ইমাম আহমদ বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আরশের উপরে যেভাবে তিনি চেয়েছেন। কোনো সীমা (হদ) ছাড়া।'⁴ ইবনে হামদান ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের আকিদা বর্ণনা করে আরও লিখেন, “আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে 'নিচ', 'উপর', 'সম্মুখ', 'পিছন', 'স্বরূপ'

টিকাঃ
১. বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়‍্যাহ (৩/৪৬৬, ৫৯১, ৭৩০)।
২. ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ, মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি (১/২৪৬)।
৩. আকিদাহ, আহমদ ইবনে হাম্বল (১১)।
৪. নিহায়াতুল মুবতাদিয়ীন (৩১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00