📄 মানুষের সৃষ্টি ইবাদতের জন্য
এটাকেই ইমাম তহাবি 'তিনি তাদের তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেছেন' বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ.
অর্থ: 'আমি মানুষ ও জিনকে কেবল আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।' [জারিয়াত: ৫৬]
তিনি আরও বলেন,
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيُوةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
অর্থ: 'যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ।' [মুলক: ২]
প্রশ্ন উঠতে পারে, আল্লাহ যদি সৃষ্টির আগেই সবার পরিণতি সম্পর্কে জানেন, তবে কাফেরদের ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার কী রহস্য? উত্তর হলো: আল্লাহ তায়ালা কারও প্রতি সামান্য জুলুম করেন না। ফলে তিনি কাউকে স্রেফ জানার ভিত্তিতে শাস্তি দেন না। কারণ, তাতে সে যুক্তি দিতে পারে, তাকে সুযোগ ও স্বাধীনতা দেওয়া হলে সে কুফরি করত না। বরং সুযোগ দেওয়ার পরেও কাফেররা মৃত্যুর সময় বলে,
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِ . لَعَلَى أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِن وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ
অর্থ: 'যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে পুনরায় (পৃথিবীতে) প্রেরণ করুন, যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি। (আল্লাহ বলেন) কখনোই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।' [মুমিনুন: ৯৯-১০০]
তাই আল্লাহ প্রত্যেককে সুযোগ দেন। অতঃপর সে কুফরি করে নিজেকে শাস্তির যোগ্য করে নেয়। ফলে প্রতিদানটা আল্লাহর জ্ঞান কিংবা তাকদিরের উপর নির্ভরশীল নয়, মানুষের কর্মের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ সবাইকে সৎ কাজের আদেশ দিয়েছেন। যে সেগুলো মান্য করবে, সে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত হবে। যে অমান্য করবে, সে শাস্তি পাবে।¹
টিকাঃ
১. সালেহ ফাওজান (৪১)।
📄 আল্লাহর ইচ্ছা চূড়ান্ত। সৃষ্টির ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন
এ ব্যাপারে কুরআনে অসংখ্য আয়াত এসেছে। নিচে আমরা কয়েকটি তুলে ধরছি: আল্লাহ তায়ালা বলেন, وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا.
অর্থ: 'আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে তোমরা কোনো ইচ্ছা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।' [ইনসান: ৩০]
তিনি আরও বলেন, وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعُلَمِينَ.
অর্থ: 'বিশ্বজগতের পালনকর্তার ইচ্ছা ব্যতিরেকে তোমরা কোনো ইচ্ছা করো না।' [তাকভির: ২৯]
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন, وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلْئِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتُ وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ وَلَكِنَّ اكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ.
অর্থ: 'আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদের অবতারণ করতাম, তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে পেশ
১৩ | আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ |
📄 আরেকটি সন্দেহের অপনোদন
একটি সন্দেহের অপনোদন:
প্রশ্ন হতে পারে, আল্লাহ তায়ালা যদি পৃথিবীর সবার জন্য ঈমান কামনা করেন, তবে আবু বকর রাজি.-এর কপালে ঈমান লিখে থাকলে আবু লাহাবের কপালে কেন লিখলেন না? আবু বকর রাজি.-কে ঈমান গ্রহণে সহায়তা করেছেন, আবু লাহাবকে কেন করলেন না? উত্তর হলো:
এক. আল্লাহ তায়ালা তাঁর গায়েবি ইলমের মাধ্যমে প্রথমেই জেনেছেন যে, আবু লাহাবের ঈমান তার কোনো উপকারে আসবে না। অর্থাৎ সে গোমরাহির পথেই চলবে, ফলে তাকে মুমিন বানিয়ে সৃষ্টি করেননি, কিংবা তাকে ঈমান গ্রহণে সাহায্য করেননি।
দুই. আবু বকর রাজি.-কে আল্লাহ ঈমান গ্রহণে সহায়তা করে অনুগ্রহ করেছেন। কারণ, তিনি নিজের পুণ্য, উত্তম চরিত্র, হৃদয়ের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতার ফলে সেই অনুগ্রহ লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরদিকে আবু লাহাব তার মন্দ গুণ ও মন্দ চরিত্র, হৃদয়ের অস্বচ্ছতার ফলে অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিন. আল্লাহ তায়ালা হক ও বাতিল তৈরি করেছেন। মানুষকে এই দুটো থেকে যেকোনো একটা গ্রহণের স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতা দিয়েই ছেড়ে দেননি। বরং নিজ অনুগ্রহে তাদের হক ও বাতিল চিনিয়ে দিয়েছেন। হক গ্রহণ করতে এবং বাতিল বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্ক করার জন্য নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন, গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। এর পরেও আবু লাহাব কুফর করলে সেটার দায়ভার আল্লাহর উপর হতে পারে?।¹
এ কারণে একটি বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবাদের বললেন, সকল মানুষের জন্মের আগেই জান্নাত কিংবা জাহান্নামে তার জন্য জায়গা নির্ধারিত হয়ে যায়। সে সৌভাগ্যবান হবে, নাকি দুর্ভাগা হবে, লেখা হয়ে যায়। তখন এক সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, তা হলে তাকদিরের উপর নির্ভর করে বসে থাকলেই তো হয়। আমল করার কী দরকার? কারণ, যে সৌভাগ্যবান হওয়ার, সে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সৌভাগ্যের আমল করবে। আর যে দুর্ভাগা হওয়ার, সে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সে পথে অগ্রসর হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং তোমরা কাজ করত থাকো। প্রত্যেককে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে। যাকে সৌভাগ্যের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সেসব কাজ তার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে। আর যাকে দুর্ভাগ্যের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সেসব কাজ তার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন,
فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَ اتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى . فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى : وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى.
অর্থ: 'অতএব, যে দান করে, আল্লাহভীরু হয় এবং উত্তম বিষয়কে সত্যায়ন করে, তার জন্য সুখের বিষয় সহজ করে দেবো। আর যে কৃপণতা করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য দুঃখের পথ সহজ করে দেবো।'² [লাইল: ৫-১০]
দেখা যাচ্ছে, সৃষ্টির আগেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইলমের মাধ্যমে কে জান্নাতি হবে এবং কে জাহান্নামি হবে সেটা লিখে রাখলেও মানুষকে তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন। ভালো ও মন্দ এখতিয়ার করার সুযোগ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকদিরের উপর নির্ভর করে বসে থাকতে নিষেধ করেছেন। কারণ, কেউই জানে না যে, তার তাকদিরে কী আছে। তা ছাড়া পার্থিব বিষয়ে মানুষ তাকদিরের উপর বসে না থেকে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে সে তাকদিরে যা আছে তা-ই হবে বলে বসে থাকে না। আখিরাতের ক্ষেত্রেও আমাদের তা-ই করতে হবে। হিদায়াতের জন্য চেষ্টা ব্যয় করলে আল্লাহ জান্নাতের পথ খুলে দেবেন বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বরং পার্থিব ব্যাপারেও তাকদির মানুষের সুখের অবলম্বন। বিপদ-আপদে মুমিন তাকদিরের কথা বলে প্রবোধ ও সান্ত্বনা লাভ করে। কারণ, সে জানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيرٌ . لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ.
অর্থ: 'পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের উপর যা-কিছু বিপদ আসে, তা জগৎ সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। এটা এ জন্য, যাতে তোমরা যা হারাও তার জন্য দুঃখিত না হও, আর তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত না হও। আল্লাহ উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না।' [হাদিদ: ২২-২৩]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যা তুমি পেয়েছ, তা কখনও হারানোরই ছিল না। আর যা হারিয়েছ, তা কখনও পাওয়ারই ছিল না।'³ বিপরীতে নাস্তিক ও কাফেরের কাছে সান্ত্বনার এই দুর্গটা নেই। ফলে তাকে নিজের উপরই নিজের নির্ভর করতে হয়। যখন সে নিজের বোঝা আর বইতে পারে না, নিরাশার অন্ধকারে আত্মহননের পথে এগিয়ে যায়।
টিকাঃ
১. ঘুমাইয়িস (২১০-২১১)।
২. বুখারি (৪৯৪৯); মুসলিম (২৬৪৭)।
৩. এটা রাসুলুল্লাহর প্রসিদ্ধ হাদিস। তিরমিজি (২১৪৪); মুসনাদে আহমদ (২১৮৩৫); বাজ্জার (৪১০৭)-সহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
📄 হিদায়াত ও গোমরাহির মালিক আল্লাহ
যথাযথভাবে অনুসরণ করতেন। ইমাম তহাবির বক্তব্যও তা-ই: মুসলিম শাসকদের অধীনে—তারা সৎ কিংবা অসৎ হোক—কিয়ামত পর্যন্ত হজ এবং জিহাদ অব্যাহত থাকবে।
ব্যাখ্যা
হিদায়াত ও গোমরাহির মালিক আল্লাহ: এটা মুতাজিলা সম্প্রদায়ের খণ্ডন। তাদের ধারণা, আল্লাহ নিজে কাউকে হিদায়াত দান করেন না কিংবা গোমরাহও করেন না; বরং তাদের হিদায়াতের অর্থ কেবল সঠিক পথের কথা বলে দেওয়া; তাওফিক দেওয়া নয়। গোমরাহ করার অর্থ বান্দাকে কেবল গোমরাহ হিসেবে আখ্যা দেওয়া। অর্থাৎ তিনি নিজে কাউকে সৎপথে পরিচালিত করেন না, আবার কাউকে বিপথগামীও করেন না। তবে তিনি মানুষ কেবল সৎপথে চলুক সেটা চান; অসৎপথে চলুক এটা চান না। এবং এটাকে তারা আল্লাহর উপর কর্তব্য বলে মনে করে। মুতাজিলাদের এমন বক্তব্য মূলত তাকদির অস্বীকার থেকে উদ্ভূত। পিছনে আমরা বলেছি, তারা তাকদির অস্বীকার করে। ফলে মানুষকেই তার সকল কাজের স্রষ্টা এবং দায়ী মনে করে। তাদের বিশ্বাস, আল্লাহ যেহেতু অন্যায় কাজের নির্দেশ দেন না, ফলে অন্যায় কাজ মানুষ নিজের ইচ্ছাতে করে, আল্লাহর ইচ্ছা নয়! অথচ এমন বিশ্বাস কুরআনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।¹
কুরআন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ অর্থ : ‘আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দেন, আর যাকে চান বিপথগামী করেন’ [ইবরাহিম: ৪]।
অন্যত্র বলেন, يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ অর্থ : ‘আল্লাহ যাকে চান হিদায়াত দেন, আর যাকে চান বিপথগামী করেন’ [মুদ্দাসসির: ৩১]।
যদি হিদায়াত দান করার অর্থ কেবল পথ দেখিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে কুরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে বলতেন না, إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ অর্থ : ‘আপনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না। কিন্তু আল্লাহ যাকে চান, তাকে হিদায়াত দেন’ [কাসাস: ৫৬]।
উল্লেখ্য, হিদায়াতের একাধিক অর্থ রয়েছে। যেমন: সঠিক পথ বলে দেওয়া; ডাকা ও আহ্বান করা; সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার তাওফিক দেওয়া। প্রথম দুটি মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। তৃতীয়টি কেবল আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু মুতাজিলারা শেষ প্রকারের হিদায়াতকে অস্বীকার করে।
আহলে সুন্নাতের মতে, ‘আল্লাহ কাউকে গোমরাহ করেন’-এর অর্থ হলো: কেউ যদি গোমরাহ হতে চায়, আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন। কিন্তু তিনি কাউকে গোমরাহ হতে নির্দেশ দেন, কিংবা গোমরাহি পছন্দ করেন—এমন নয়। মুতাজিলারা এটাকেও ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে। তারা মনে করে, আল্লাহ কাউকে গোমরাহ করেন না; বরং তিনি সবাইকে হিদায়াত দিয়েছেন। কিন্তু কাফের তার জন্য কুফর বেছে নিয়েছে (আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে)।²
টিকাঃ
১. গজনবি (৬৬); ইবনে আবিল ইজ্জ (১০৮-১০৯); তুহ্ফাতুল আহওয়াজি (৭৮-৮১); আক্বায়িদুল ইসলাম (১০২); ওনাইমি (৬২); হারারি (৪২)।
২. তুহ্ফাতুল আহওয়াজি (৬২); আক্বায়িদুস্ সালাফ (১০২); ওনাইমি (৬২)।