📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 সবার জীবনকাল সুনির্দিষ্ট করেছেন

📄 সবার জীবনকাল সুনির্দিষ্ট করেছেন


সবার জীবৎকাল সুনির্দিষ্ট করেছেন: কারণ আল্লাহ ছাড়া সবাই মরণশীল। পবিত্র কুরআনে তিনি ঘোষণা করেছেন,
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ . وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَالِ وَالْإِكْرَامِ .
অর্থ: 'ভূপৃষ্ঠের উপর বিদ্যমান সকল প্রাণী ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমাময় ও মহানুভব পালনকর্তাই অবশিষ্ট থাকবেন।' [আর-রাহমান: ২৬-২৭] আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেন,
كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ অর্থ: 'আল্লাহ ব্যতীত সবকিছু ধ্বংসশীল।' [কাসাস: ৮৮]
আল্লাহ সবার জীবনক্ষণ সুনির্ধারিত করে দিয়েছেন। ফলে যখন মৃত্যুর সময় এসে যায়, এক মহূর্তও অগ্রে-পশ্চাতে হয় না। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ অর্থ: 'প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছনে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে।' [আরাফ: ৩৪] আল্লাহ অন্যত্র বলেন,
وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَّا تَرَكَ عَلَيْهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ. অর্থ: 'যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে চলমান কোনোকিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুত সময় পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা তরান্বিত করতে পারবে না।' [নাহল: ৬১] আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন,
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتْبًا مُؤَجَّلًا অর্থ: 'আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করে না। সবার মৃত্যুর জন্য রয়েছে একটা নির্ধারিত সময়।' [আলে ইমরান: ১৪৫]
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাজি. থেকে বর্ণিত, নবিজির স্ত্রী উম্মে হাবিবা রাজি. দোয়া করলেন, 'হে আল্লাহ, আপনি আমার স্বামী রাসুলুল্লাহ, আমার পিতা আবু সুফিয়ান ও আমার ভাই মুয়াবিয়ার দীর্ঘ হায়াত দান করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 একটি সন্দেহের অপনোদন

📄 একটি সন্দেহের অপনোদন


আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি তো আল্লাহর কাছে নির্ধারিত বয়স, সীমাবদ্ধ সময় এবং বর্ণিত জীবিকার প্রার্থনা করলে, যার কিছুই তিনি তার নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কিংবা নির্ধারিত সময়ের পরে করবেন না। যদি তুমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে যেন তিনি তোমাকে জাহান্নামের শান্তি থেকে এবং কবরের শান্তি থেকে মুক্তি দান করেন, তা হলে তা তোমার জন্য খুবই কল্যাণকর ও উত্তম হতো।
এসব আয়াত ও হাদিস দ্বারা বোঝা গেল, পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এমনকি কোন ব্যক্তি কীভাবে মারা যাবে, জলে নাকি ডাঙায় মারা যাবে, বিছানায় নাকি ময়দানে মারা যাবে, বাড়িতে নাকি বিদেশে মারা যাবে, স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে নাকি পুড়ে বা পড়ে মরবে, আল্লাহ সবকিছু লিখে রেখেছেন।

একটি সন্দেহের অপনোদন: উপরে বর্ণিত কথাগুলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা। অপরদিকে তাকদির অস্বীকারকারী মুতাজিলাদের বিশ্বাস হলো, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, তবে সে মৃত্যু আসার আগেই চলে যায়। যদি এভাবে নিহত না হতো, তবে তাঁর জীবনকাল পুরা করে মরত! এর ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির জন্য তারা দুটি জীবনকাল নির্ধারণ করে। একটি নিহত হওয়া পর্যন্ত, অন্যটি (তাদের ধারণায়) যখন স্বাভাবিক মৃত্যু লেখা ছিল। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ বাতিল ও ভিত্তিহীন কথা। এটা সর্বজ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে প্রযোজ্য নয়। এটা প্রযোজ্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে, যারা ভবিষ্যৎ-জ্ঞান রাখে না। অথবা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যে জানে না ভবিষ্যতে কী কী হবে। ফলে দুটি মৃত্যুর সময় লিখে রাখে। কারণ নিহত ব্যক্তি সময়ের আগেই মৃত্যুবরণ করেছে বলার অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য এমন জীবন নির্ধারণ করে রেখেছেন, যে পর্যন্ত সে বাঁচলে না, অন্য একজন আল্লাহর নির্ধারিত সেই সময় আসার আগেই মৃত্যু দিয়ে দিলো। এভাবে তারা পৃথিবীতে স্রষ্টা ও সৃষ্টি দুজন খোদা নির্ধারণ করে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকদির অস্বীকারকারীদের এ উম্মতের ‘অগ্নিপূজক’ বলেছেন।

টিকাঃ
১. মুসলিম (২৬৬০)।
২. আত্বহাবি (১২৮); হারারি (৪৫)।
৩. আবু দাউদ (৪৬৯১); মুসতাদরাকে হাকেম (২৬২)।
৪. আল-মু'জামুল আওসাত, তাবরানি (৯৪৭); মুসনাদে আবু ইয়ালা (৪১০৪)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 তাকদির বদলায় কি?

📄 তাকদির বদলায় কি?


তাকদির বদলায় কি? একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা মানুষের জীবন বৃদ্ধি করে।’ যদি মানুষের জন্ম ও
মৃত্যু সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে সূক্ষ্মভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক মানুষের জীবন কীভাবে বৃদ্ধি করবে? উলামায়ে কেরাম বিভিন্নভাবে উত্তর দিয়েছেন। সবচেয়ে উত্তম উত্তর হলো: আত্মীয়তার সম্পর্ক মানুষের জীবন বৃদ্ধির কারণ; স্বতন্ত্রভাবে এটা জীবন বৃদ্ধি করে এমন নয়। কারণ, জীবন বৃদ্ধির মালিক আল্লাহ তায়ালা। ফলে তিনি প্রত্যেকের তাকদিরে লিখেই দিয়েছেন কে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে জীবন বৃদ্ধি করবে এবং কতটুকু করবে আর কে করবে না। ফলে আর আপত্তির সুযোগ নেই।১ এভাবেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেকটি হাদিস বুঝতে হবে, যেখানে তিনি বলেছেন, 'কেবল দোয়াই তাকদিরকে ফেরাতে পারে। সৎকর্ম হায়াত বৃদ্ধি করে। গুনাহ রিজিক হ্রাস করে ফেলে।'২ যেহেতু কে দোয়া করবে এবং কী দুআ করবে, কে সৎকর্ম করবে কে করবে না, কে গুনাহ করবে, কী গুনাহ করবে এবং কখন করবে, সবকিছু আল্লাহ তায়ালা জানেন, ফলে তিনি সেভাবেই তার জন্ম-মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। আরও একটি হাদিস আছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি তার রিজিক বৃদ্ধি করতে চায় এবং মৃত্যু পেছাতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।'৩ আরেকটি হাদিসে বলেছেন, 'সদকা অপমৃত্যুকে দূর করে।'৪ সবগুলো ক্ষেত্রে উপরের মূলনীতি প্রযোজ্য হবে।

টিকাঃ
১. ইবনে আবিল ইজ (১০১); আকহাসারি (১২৯)।
২. তিরমিজি (২১৩৯); মুসনাদে বাজ্জার (২৫৪০)।
৩. বুখারি (৫৯৮৬); মুসলিম (২৫৫৭); ইবনে হিব্বান (৪৩৯); বাজ্জার (৬৩১৬)।
৪. তিরমিজি (৬৬৪); ইবনে হিব্বান (৩৩০৯)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 একটি প্রশ্ন ও উত্তর

📄 একটি প্রশ্ন ও উত্তর


একটি প্রশ্ন ও উত্তর: প্রশ্ন হলো, একটু আগে উম্মে হাবিবা রাজি. যখন তাঁর জীবনসঙ্গী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বাবা ও ভাইয়ের দীর্ঘ জীবনের জন্য দোয়া চেয়েছেন, তখন তিনি তাঁকে বলেছেন, এসব নির্ধারিত এবং অপরিবর্তনীয় বিষয়। এখন আবার বলছেন, দোয়া তাকদিরকে ফেরাতে পারে। দুটোর মাঝে সমতাবিধান কীভাবে?
প্রথম কথা হলো, জীবন বৃদ্ধির জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হাবিবার ব্যাপারে আপত্তি করলেও অবৈধ ঘোষণা করেননি। তিনি কেবল তাকে আখিরাত সংক্রান্ত দোয়ায় উৎসাহিত করেছেন। তাই দুই হাদিসের মাঝে বৈপরীত্য নেই। যদিও সালাফের কোনো কোনো ইমাম থেকে জীবন বৃদ্ধির দোয়া অপছন্দ করার কথা এসেছে। যেমন: ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের জন্য কেউ দীর্ঘ হায়াতের দোয়া

টিকাঃ
১. ইবনে আবিল ইজ (১৩০)।
২. বুখারি (৫৭২৯); মুসলিম (২২১৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00