📄 আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর
আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর: এখানে কিছু কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তাই সে সম্পর্কে কিছু বলা মুনাসিব মনে করছি। বিষয়টি হলো: 'আল্লাহর সিফাত কি তাঁর সত্তা, নাকি সত্তার উপর অতিরিক্ত কিছু গুণ?' অন্যকথায় 'আল্লাহর সিফাত কি আল্লাহ, নাকি আল্লাহ থেকে ভিন্ন?' আহলে সুন্নাতের উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে এক কথায় সিদ্ধান্ত দেন না। আল্লাহর কোনো সিফাতের ক্ষেত্রে বলেন না, 'এটাই আল্লাহ', আবার 'এটাই আল্লাহ নন', সেটাও বলেন না। কারণ, সত্তা ও বিশেষণ (জাত ও সিফাত) আলাদা। তবে সিফাত জাতের সঙ্গে এমনভাবে জড়িত, যাকে আলাদা করা যায় না। ফলে কেউ যদি বলে أعوذ بالله সেটা যেমন আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়া হবে, একইভাবে কেউ যদি বলে أعوذ بعزة الله তখনও আল্লাহর কাছেই আশ্রয় নেওয়া উদ্দেশ্য হবে। ফলে সিফাতকে আল্লাহ থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন
টিকাঃ
১. দেখুন: ইবনে আবিল ইজ্জ (৮১-৮২)।
২. দেখুন: তুর্কিস্তানি (৭১)।
📄 আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী
প্রতিপালিত (সৃষ্টি) ছাড়াই তিনি প্রতিপালক, সৃষ্টিজগৎ ছাড়াই তিনি সৃষ্টিকর্তা। তিনি মৃতকে জীবনদানকারী, জীবনদানের আগেই তিনি এই নামের অধিকারী ছিলেন। তদ্রুপ সৃষ্টি করার আগেই তিনি সৃষ্টিকর্তা নামের অধিকারী ছিলেন। কারণ তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশালী। সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী। সব বিষয় তাঁর জন্য সহজ। তাঁর কিছু প্রয়োজন নেই। 'তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু দেখেন'।
ব্যাখ্যা
আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী: আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি এবং পালনের গুণ অন্যান্য গুণের মতোই সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সৃষ্টির অস্তিত্বে আসার মাধ্যমে এই গুণ অস্তিত্বে এসেছে এমন নয়। বরং তিনি সর্বদাই এ গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা এখন গোটা সৃষ্টির প্রতিপালক। কিন্তু যখন প্রতিপালনের মতো কোনো সৃষ্টি ছিল না, তখনও তিনি ছিলেন এবং তাঁর প্রতিপালন গুণ ছিল। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টির মাঝে 'সৃষ্টিকর্তা' নাম হয়েছে তাঁর। কিন্তু সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি এই নামের অধিকারী হয়েছেন, কিংবা সৃষ্টিজগৎ তাঁকে এই নাম এনে দিয়েছে এমন নয়। বরং কোনোকিছু সৃষ্টির আগেই তিনি 'সৃষ্টিকর্তা' নামের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
ذلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۚ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ।
📄 আল্লাহ সর্বশক্তিমান
আল্লাহ সর্বশক্তিমান: সবকিছুর উপর ক্ষমতাশালী। এটাও আল্লাহ তায়ালার চিরন্তন গুণ। সৃষ্টিজগৎকে সৃষ্টি করার পরে তাঁর মাঝে এই গুণ এসেছে এবং তাঁর ক্ষমতা ও শক্তি প্রকাশ পেয়েছে-এমন নয়। বরং গোটা সৃষ্টির উপর ক্ষমতার গুণ তাঁর মাঝে সর্বদাই ছিল।২ পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে বিষয়টির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كَلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَّشَوْا فِيْهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
অর্থ: 'বিজলির আলোতে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন তারা কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তা হলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।' [বাকারাহ: ২০] আল্লাহ বলেন,
টিকাঃ
১. বুখারি (৩১৯০, ৩১৯১); ইবনে হিব্বান (৬১৪০); মুসনাদে আহমদ (২০১৩৬); আরশ সম্পর্কিত বিশদ আলোচনা সামনে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
২. সালেহ ফাওজান (৩৬)।
📄 আল্লাহ মুখাপেক্ষী
সবকিছু আল্লাহর মুখাপেক্ষী: নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের যাবতীয় বস্তু, মানুষ, জিন ও ফেরেশতা, জন্তু-জানোয়ার, বৃক্ষ-লতা-পাতা, নদী ও সমুদ্র, নির্জীব পাথর ও পদার্থ-সৃষ্টির সবকিছু আল্লাহর মুখাপেক্ষী। কোনোকিছু তাঁর মুখাপেক্ষিতার উর্ধ্বে নয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে লক্ষ করে বলেছেন,
يَأَيُّهَا النَّاسُ أَنتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ.
অর্থ: 'হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহ তিনি অভাবমুক্ত প্রশংসিত।' [ফাতির: ১৫] তিনি আরও বলেন,
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمواتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ وَإِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَواتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدًا.
অর্থ: 'আর যা-কিছু রয়েছে আসমানসমূহে ও জমিনে, সবই আল্লাহর। আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থের অধিকারীদের এবং তোমাদের—তোমরা সবাই আল্লাহকে ভয় করো। যদি তোমরা তা না মানো, তবে জেনে রাখো, সে সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার, যা-কিছু রয়েছে আসমানসমূহে ও জমিনে। আর আল্লাহ হচ্ছেন অমুখাপেক্ষী, সকল প্রশংসার অধিকারী।' [নিসা: ১৩১]