📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি দুটোই ‘কাদিম’

📄 আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি দুটোই ‘কাদিম’


আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি দুটোই 'কাদিম': অর্থাৎ আল্লাহর সত্তার যেমন কোনো শুরু ও শেষ নেই, তেমনইভাবে তাঁর গুণাবলিরও শুরু নেই, শেষও নেই; হ্রাস-বৃদ্ধি নেই, পরিবর্তন-পরিবর্ধন নেই। এমন কোনো সময় ছিল না, যখন আল্লাহর কোনো গুণ অবিদ্যমান ছিল, পরে তা অস্তিত্বে এসেছে। বরং তাঁর গুণ তাঁর সত্তার মতোই সর্বদাই ছিল, সর্বদাই থাকবে। যখন সৃষ্টির কিছুই ছিল না, তখনও আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল গুণ-সহ বিদ্যমান ছিলেন। সৃষ্টির মতো তাঁর কোনো গুণ নতুন করে তৈরি হয় না। কারণ, তাঁর গুণগুলো তাঁর পূর্ণতা (কামাল)। ফলে নতুন কোনো গুণ অস্তিত্বে এলে এর অর্থ দাঁড়াবে, পূর্ণতার আগে তিনি অপূর্ণ ছিলেন যা অসম্ভব।১এখানে আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে 'খালিক' এবং 'বারী' দুটো নাম ব্যবহৃত হয়েছে। ইমাম আবু মানসুর আল-মাতুরিদি মনে করেন, এই দুটো সমার্থক শব্দ।২
এটুকু পর্যন্ত সকল আলিম একমত পোষণ করেন। অর্থাৎ আল্লাহর সিফাতগুলোও তাঁর মতো শুরু থেকেই রয়েছে। কিন্তু এর পরে তারা দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে যান। এক

টিকাঃ
১. গজনবি (৫৬); ইবনে আবিল ইজ (৭৯); সালেহ ফাওজান (৩৪)।
২. তুর্কিস্তনি (৭০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর

📄 আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর


আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর: এখানে কিছু কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তাই সে সম্পর্কে কিছু বলা মুনাসিব মনে করছি। বিষয়টি হলো: 'আল্লাহর সিফাত কি তাঁর সত্তা, নাকি সত্তার উপর অতিরিক্ত কিছু গুণ?' অন্যকথায় 'আল্লাহর সিফাত কি আল্লাহ, নাকি আল্লাহ থেকে ভিন্ন?' আহলে সুন্নাতের উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে এক কথায় সিদ্ধান্ত দেন না। আল্লাহর কোনো সিফাতের ক্ষেত্রে বলেন না, 'এটাই আল্লাহ', আবার 'এটাই আল্লাহ নন', সেটাও বলেন না। কারণ, সত্তা ও বিশেষণ (জাত ও সিফাত) আলাদা। তবে সিফাত জাতের সঙ্গে এমনভাবে জড়িত, যাকে আলাদা করা যায় না। ফলে কেউ যদি বলে أعوذ بالله সেটা যেমন আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়া হবে, একইভাবে কেউ যদি বলে أعوذ بعزة الله তখনও আল্লাহর কাছেই আশ্রয় নেওয়া উদ্দেশ্য হবে। ফলে সিফাতকে আল্লাহ থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন

টিকাঃ
১. দেখুন: ইবনে আবিল ইজ্জ (৮১-৮২)।
২. দেখুন: তুর্কিস্তানি (৭১)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী

📄 আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী


প্রতিপালিত (সৃষ্টি) ছাড়াই তিনি প্রতিপালক, সৃষ্টিজগৎ ছাড়াই তিনি সৃষ্টিকর্তা। তিনি মৃতকে জীবনদানকারী, জীবনদানের আগেই তিনি এই নামের অধিকারী ছিলেন। তদ্রুপ সৃষ্টি করার আগেই তিনি সৃষ্টিকর্তা নামের অধিকারী ছিলেন। কারণ তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশালী। সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী। সব বিষয় তাঁর জন্য সহজ। তাঁর কিছু প্রয়োজন নেই। 'তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু দেখেন'।

ব্যাখ্যা
আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী: আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি এবং পালনের গুণ অন্যান্য গুণের মতোই সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সৃষ্টির অস্তিত্বে আসার মাধ্যমে এই গুণ অস্তিত্বে এসেছে এমন নয়। বরং তিনি সর্বদাই এ গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা এখন গোটা সৃষ্টির প্রতিপালক। কিন্তু যখন প্রতিপালনের মতো কোনো সৃষ্টি ছিল না, তখনও তিনি ছিলেন এবং তাঁর প্রতিপালন গুণ ছিল। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টির মাঝে 'সৃষ্টিকর্তা' নাম হয়েছে তাঁর। কিন্তু সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি এই নামের অধিকারী হয়েছেন, কিংবা সৃষ্টিজগৎ তাঁকে এই নাম এনে দিয়েছে এমন নয়। বরং কোনোকিছু সৃষ্টির আগেই তিনি 'সৃষ্টিকর্তা' নামের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
ذلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۚ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহ সর্বশক্তিমান

📄 আল্লাহ সর্বশক্তিমান


আল্লাহ সর্বশক্তিমান: সবকিছুর উপর ক্ষমতাশালী। এটাও আল্লাহ তায়ালার চিরন্তন গুণ। সৃষ্টিজগৎকে সৃষ্টি করার পরে তাঁর মাঝে এই গুণ এসেছে এবং তাঁর ক্ষমতা ও শক্তি প্রকাশ পেয়েছে-এমন নয়। বরং গোটা সৃষ্টির উপর ক্ষমতার গুণ তাঁর মাঝে সর্বদাই ছিল।২ পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে বিষয়টির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كَلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَّشَوْا فِيْهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
অর্থ: 'বিজলির আলোতে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন তারা কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তা হলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল।' [বাকারাহ: ২০] আল্লাহ বলেন,

টিকাঃ
১. বুখারি (৩১৯০, ৩১৯১); ইবনে হিব্বান (৬১৪০); মুসনাদে আহমদ (২০১৩৬); আরশ সম্পর্কিত বিশদ আলোচনা সামনে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
২. সালেহ ফাওজান (৩৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00