📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আরেকটি সন্দেহের অপনোদন

📄 আরেকটি সন্দেহের অপনোদন


আরেকটি সন্দেহের অপonোदन: মৃত্যু কি কোনো অস্তিত্বশীল স্বতন্ত্র (শরীরী/মূর্ত) বস্তু, নাকি অস্তিত্বহীন (অশরীরী/বিমূর্ত) বিষয়? দার্শনিকরা মনে করেন, মৃত্যু অস্তিত্বহীন বিষয়। অর্থাৎ জীবন একটি বিশেষণ। এই জীবনের অনুপস্থিতিই মৃত্যু। আলাদা করে মৃত্যুর স্বতন্ত্র উপস্থিতি নেই। মুতাজিলা ও আহলে সুন্নাতের কোনো কোনো আলিমও উক্ত আকিদা রাখেন। কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমের মতে, মৃত্যু অস্তিত্বহীন সৃষ্টি নয়; বরং অস্তিত্বধারী সৃষ্টি। এটা জীবনের অনুপস্থিতি নয়; বরং এটা এমন একটি বিশেষণ যা জীবনের বিপরীত। মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষ শেষ হয়ে যায় না। বরং এক জীবন থেকে আরেক জীবনে স্থানান্তরিত হয়। মৃত্যু সেই স্থানান্তরের মাধ্যম মাত্র।'কুরআন ও হাদিসে এর প্রমাণ রয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَ الْحَيُوةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ
অর্থ: 'যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ।' [মুলক: ২]
বুখারি ও মুসলিমের একটি বিশুদ্ধ হাদিসে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকৃতিতে আনা হবে। তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসী! তখন তারা মাথা উঁচু করে তাকাবে। ঘোষক বলবে, তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা প্রত্যেকেই তাকে দেখেছে। তারপর ঘোষক আবার ঘোষণা করবে, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামিরা মাথা উঁচু করে তাকাবে। তখন ঘোষক বলবে, তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা প্রত্যেকেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটি) জবেহ করা হবে। এরপর ঘোষক বলবে, 'হে জান্নাতবাসী, চিরদিন এখানে থাকো। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামবাসী, চিরস্থায়ীভাবে এখানে থাকো। তোমাদের আর মৃত্যু নেই।' এই হাদিস দ্বারা মৃত্যুর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি সুস্পষ্ট।²
মৃত্যুর স্বতন্ত্র বিষয়টি নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই, অবিশ্বাস করার সুযোগ নেই। বিশুদ্ধ হাদিসে পাওয়া গেলে আত্মসমর্পণই একজন প্রকৃত মুমিনের ঈমানের নিদর্শন। অস্বীকার করতে থাকলে অস্বীকারের সীমা নেই। মানুষের বোধ-বুদ্ধির উর্ধ্বের এমন বক্তব্য কেবল মৃত্যুর ক্ষেত্রে নয়, আরও অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রেই এসেছে। যেমন: বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন আমলকে দাঁড়িপাল্লায় মাপা হবে। অথচ আমল আমাদের কাছে ওজনযোগ্য শরীরী বস্তু নয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দুটি বাক্য এমন, যা মুখে উচ্চারণ অতি সহজ, কিন্তু মিজানের পাল্লায় অনেক ভারী, আর আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। তা হলো: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।'¹ একইভাবে আরেকটি হাদিসে এসেছে, 'তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিন তা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে। তোমরা দুই আলোকিত সুরা বাকারা ও আলে ইমরান তিলাওয়াত করো। কারণ, এ দুটি কিয়ামতের দিন ছায়া বিস্তারকারী মেঘ কিংবা ডানামেলা পাখির মতো এসে উপস্থিত হবে এবং তাদের তিলাওয়াতকারীদের পক্ষে সাহায্যকারী হবে।'² এভাবে প্রত্যেকটা বিষয় কুরআন-সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত। ফলে অস্বীকারের সুযোগ নেই। তা ছাড়া সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য এগুলো কঠিন কিছুই নয়। তিনি যা ইচ্ছা, শুধু বলেন 'হয়ে যাও', ফলে তা হয়ে যায়।

টিকাঃ
¹. আল-বাহরুর রায়েক (১/১১৬); ইবনে আবিল ইজ (৭৯); সাইদ ফুদাহ (২১৩)।
². বুখারি (৪৭৩০); মুসলিম (২৮৪৯)।
¹. বুখারি (৭৫৬৩)।
². মুসলিম (৮০৪); ইবনে হিব্বান (১১৬)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি দুটোই ‘কাদিম’

📄 আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি দুটোই ‘কাদিম’


আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি দুটোই 'কাদিম': অর্থাৎ আল্লাহর সত্তার যেমন কোনো শুরু ও শেষ নেই, তেমনইভাবে তাঁর গুণাবলিরও শুরু নেই, শেষও নেই; হ্রাস-বৃদ্ধি নেই, পরিবর্তন-পরিবর্ধন নেই। এমন কোনো সময় ছিল না, যখন আল্লাহর কোনো গুণ অবিদ্যমান ছিল, পরে তা অস্তিত্বে এসেছে। বরং তাঁর গুণ তাঁর সত্তার মতোই সর্বদাই ছিল, সর্বদাই থাকবে। যখন সৃষ্টির কিছুই ছিল না, তখনও আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল গুণ-সহ বিদ্যমান ছিলেন। সৃষ্টির মতো তাঁর কোনো গুণ নতুন করে তৈরি হয় না। কারণ, তাঁর গুণগুলো তাঁর পূর্ণতা (কামাল)। ফলে নতুন কোনো গুণ অস্তিত্বে এলে এর অর্থ দাঁড়াবে, পূর্ণতার আগে তিনি অপূর্ণ ছিলেন যা অসম্ভব।১এখানে আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে 'খালিক' এবং 'বারী' দুটো নাম ব্যবহৃত হয়েছে। ইমাম আবু মানসুর আল-মাতুরিদি মনে করেন, এই দুটো সমার্থক শব্দ।২
এটুকু পর্যন্ত সকল আলিম একমত পোষণ করেন। অর্থাৎ আল্লাহর সিফাতগুলোও তাঁর মতো শুরু থেকেই রয়েছে। কিন্তু এর পরে তারা দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে যান। এক

টিকাঃ
১. গজনবি (৫৬); ইবনে আবিল ইজ (৭৯); সালেহ ফাওজান (৩৪)।
২. তুর্কিস্তনি (৭০)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর

📄 আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর


আরেকটি প্রশ্ন ও উত্তর: এখানে কিছু কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তাই সে সম্পর্কে কিছু বলা মুনাসিব মনে করছি। বিষয়টি হলো: 'আল্লাহর সিফাত কি তাঁর সত্তা, নাকি সত্তার উপর অতিরিক্ত কিছু গুণ?' অন্যকথায় 'আল্লাহর সিফাত কি আল্লাহ, নাকি আল্লাহ থেকে ভিন্ন?' আহলে সুন্নাতের উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে এক কথায় সিদ্ধান্ত দেন না। আল্লাহর কোনো সিফাতের ক্ষেত্রে বলেন না, 'এটাই আল্লাহ', আবার 'এটাই আল্লাহ নন', সেটাও বলেন না। কারণ, সত্তা ও বিশেষণ (জাত ও সিফাত) আলাদা। তবে সিফাত জাতের সঙ্গে এমনভাবে জড়িত, যাকে আলাদা করা যায় না। ফলে কেউ যদি বলে أعوذ بالله সেটা যেমন আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়া হবে, একইভাবে কেউ যদি বলে أعوذ بعزة الله তখনও আল্লাহর কাছেই আশ্রয় নেওয়া উদ্দেশ্য হবে। ফলে সিফাতকে আল্লাহ থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন

টিকাঃ
১. দেখুন: ইবনে আবিল ইজ্জ (৮১-৮২)।
২. দেখুন: তুর্কিস্তানি (৭১)।

📘 আকীদাহ ত্বহাবিয়্যাহ সালাফ ও খালাফের ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী

📄 আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী


প্রতিপালিত (সৃষ্টি) ছাড়াই তিনি প্রতিপালক, সৃষ্টিজগৎ ছাড়াই তিনি সৃষ্টিকর্তা। তিনি মৃতকে জীবনদানকারী, জীবনদানের আগেই তিনি এই নামের অধিকারী ছিলেন। তদ্রুপ সৃষ্টি করার আগেই তিনি সৃষ্টিকর্তা নামের অধিকারী ছিলেন। কারণ তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশালী। সবকিছু তাঁর মুখাপেক্ষী। সব বিষয় তাঁর জন্য সহজ। তাঁর কিছু প্রয়োজন নেই। 'তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু দেখেন'।

ব্যাখ্যা
আল্লাহ শাশ্বত সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও পুনরুত্থানকারী: আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি এবং পালনের গুণ অন্যান্য গুণের মতোই সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সৃষ্টির অস্তিত্বে আসার মাধ্যমে এই গুণ অস্তিত্বে এসেছে এমন নয়। বরং তিনি সর্বদাই এ গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা এখন গোটা সৃষ্টির প্রতিপালক। কিন্তু যখন প্রতিপালনের মতো কোনো সৃষ্টি ছিল না, তখনও তিনি ছিলেন এবং তাঁর প্রতিপালন গুণ ছিল। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টির মাঝে 'সৃষ্টিকর্তা' নাম হয়েছে তাঁর। কিন্তু সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি এই নামের অধিকারী হয়েছেন, কিংবা সৃষ্টিজগৎ তাঁকে এই নাম এনে দিয়েছে এমন নয়। বরং কোনোকিছু সৃষ্টির আগেই তিনি 'সৃষ্টিকর্তা' নামের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
ذلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۚ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00