📄 শিরকের ক্ষেত্রে প্রান্তিকতা বর্জন
এমন অসংখ্য দলিলের মাধ্যমে বোঝা যায় (এক.) মক্কার কাফের, ইহুদি-নাসারা- সহ আগেকার নবিদের উম্মতগুলো মোটেই তাওহিদে রবুবিয়্যাহতে বিশ্বাসী ছিল না। হ্যাঁ, রবুবিয়্যাহর কিছু কিছু বিষয় তারা স্বীকার করত। কিন্তু এ কারণে তাদের কস্মিনকালেও তাওহিদে বিশ্বাসকারী বলা যায় না। (দুই) এর মাধ্যমে আরও একটা ভুল ধারণার অবসান ঘটে। তা হলো, রবুবিয়্যাহ এবং উলুহিয়্যাহ তাওহিদের অবিচ্ছেদ্য আরকান। দুটোকে আলাদা করা ভুল। কারণ, একজনকে রব মেনে অন্য জনের উপাসনা করা যায় না। মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা তখনই করে, যখন সে তার ব্যাপারে আল্লাহর কোনো গুণের বিশ্বাস রাখে। ফলে রবুবিয়্যাহ এবং উলুহিয়্যাহ একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রবুবিয়্যাহ প্রকৃত অর্থে স্বীকার করলে উলুহিয়্যাহ অস্বীকারের সুযোগ নেই। কেবল 'আল্লাহ আছেন' কিংবা 'আল্লাহ আকাশ ও মাটি সৃষ্টি করেছেন' এটাই তাওহিদুর রবুবিয়্যাহ নয়, যেমনটা তারা বুঝেছেন। হিন্দুরাও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করে, 'উপরওয়ালা'য় বিশ্বাস করে, তাই বলে তারা তাওহিদুর রবুবিয়্যাহতে বিশ্বাসী একত্ববাদী? বরং যে ব্যক্তি উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে শিরক করে, সে মূলত রবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রেও শিরক করে। আর যে রবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রে শিরক করে, সে উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রে একত্ববাদী হতে পারে না। একটা অপরটার জন্য অত্যাবশ্যক।
কুরআনে মুসা আলাইহিস সালাম এবং ফেরাউনের কথাবার্তার মাধ্যমেও স্পষ্ট হয়, রব এবং ইলাহ অবিচ্ছেদ্য বিষয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ابَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ . قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونَ. قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ . قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهًا غَيْرِي لَاجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ.
অর্থ: 'মুসা বললেন, 'তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী মানুষদেরও রব। ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসুল নিশ্চয়ই বদ্ধপাগল। মুসা বললেন, তিনি পূর্ব-পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা বুঝতে। ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে 'ইলাহ'রূপে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।' [শুআরা: ২৬-২৯]
রুহের জগতে আল্লাহ সবার কাছ থেকে রব হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, ইলাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেননি। আল্লাহ বলেন,