📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 পুলসিরাত বিষয়ক আকিদা

📄 পুলসিরাত বিষয়ক আকিদা


মূলপাঠ :
وَكَذَا الصِّراطُ يُمَدُّ فَوْقَ جَهَنَّمٍ ... فَمُسَلَّمْ نَاجٍ وَآخَرَ مُهْمَلُ
তদ্রুপ (স্বীকৃতি দিই), জাহান্নামের ওপরে বিস্তৃত পুলসিরাত থাকবে; কেউ কেউ সেখান থেকে নিরাপদে পরিত্রাণ পাবে, আবার কেউ কেউ হবে পরিত্যাক্ত।
ব্যাখ্যা : পুলসিরাত এমন একটি ব্রিজ বা সাঁকো, যা জাহান্নামের পৃষ্ঠের ওপর স্থাপিত থাকবে।⁵⁶ প্রকৃতপ্রস্তাবে পরকালের এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পুলসিরাত ইহকালের অ-ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সিরাত তথা পথের প্রতিনিধিত্ব করবে।⁵⁷
ইহকালের সিরাত তথা পথের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ.
“নিশ্চয় এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথের অনুসরণ করো।”⁵⁸
তিনি আরও বলেছেন,
وَ إِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ.
“নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করে থাকে।”⁵⁹
ইহকালে যেই সিরাত তথা পথের অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটা আল্লাহর কিতাব এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহয় বিবৃত শরিয়ত। যে ব্যক্তি ইহকালে এই পথের ওপর সুদৃঢ় থাকবে, কেয়ামতের দিন পুলসিরাত অতিক্রমের সময়ও সুদুঢ় থাকবে। আল্লাহর শরিয়তের প্রতি যে যত দ্রুত ধাবমান থাকবে, সে জাহান্নামের ওপরে বিস্তৃত পুলসিরাতও তত দ্রুত অতিক্রম করবে।
বিশুদ্ধ হাদিস থেকে জানা যায়, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পুলসিরাতের ওপর মুসলিমদের পারাপার একইরকম হবে না, বরং সেখানে বিরাট তারতম্য ঘটবে। কেউ কেউ চোখের পলকে অতিক্রম করবে, কেউ কেউ বিজলির গতিতে, কেউ কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ কেউ উৎকৃষ্ট অশ্বের গতিতে, আবার কেউ কেউ মানুষের দৌড়ের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ কেউ হেঁটে হেঁটে যাবে, আবার কেউ কেউ হামাগুড়ি দিয়ে যাবে, এমনকি কেউ কেউ পেটের ওপর ভর দিয়ে অতিক্রম করবে।⁶⁰ আল্লাহর শরিয়ত অনুযায়ী চলা এবং শরিয়ত পালনে দ্রুত ধাবিত হওয়ার তারতম্য অনুযায়ী পুলসিরাতের এই তারতম্য ঘটবে।
এরপর শাইখুল ইসলাম বলেছেন,
فَمُسَلَّمْ نَاجٍ وَآخَرَ مُهْمَلُ
“কেউ কেউ সেখান থেকে নিরাপদে পরিত্রাণ পাবে, আবার কেউ কেউ হবে পরিত্যাক্ত।”
অর্থাৎ ইহকালে সরল পথের ওপরে যে ব্যক্তির 'অ-ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পথচলা' সুদৃঢ় ও সঠিক হবে, সে পুলসিরাতে পরিত্রাণ লাভ করবে। পক্ষান্তরে ইহকালে যার পথচলা দোদুল্যমান হবে, পুলসিরাত থেকে তার পতন ঘটবে। আল-ইয়াজু বিল্লাহ; আল্লাহর পানা!

টিকাঃ
৫৬ সহিহুল বুখারি, হা. ৭৪৩৯।
৫৭ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য : পঞ্চেন্দ্রিয়ের কোনো একটি দিয়ে সরাসরি অনুভব করা যায় এমন। মানবদেহের পাঁচটি ইন্দ্রিয় হলো- শ্রবণ, দর্শন, গন্ধ, স্বাদ ও স্পর্শ। পক্ষান্তরে অ-ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য : পঞ্চেন্দ্রিয়ের কোনোটি দিয়েও সরাসরি অনুভব করা যায় না এমন। – অনুবাদক।
৫৮ সুরা আনআম : ১৫৩।
৫৯ সুরা শুরা : ৫২।
৬০ সহিহুল বুখারি, হা. ৭৪৩৯।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 জান্নাত ও জাহান্নাম বিষয়ক আকিদা

📄 জান্নাত ও জাহান্নাম বিষয়ক আকিদা


মূলপাঠ :
والنَّارُ يَصْلَاهَا الشَّقِيُّ بِحِكْمَةٍ ... وَكَذَا التَّقِيُّ إِلَى الْجِنَانِ سَيَدْخُلُ
আল্লাহর হিকমা (প্রজ্ঞা) অনুযায়ী হতভাগা ব্যক্তি প্রবেশ করবে জাহান্নামে। তদ্রুপ মুত্তাকি বান্দাও প্রবেশ করবে জান্নাতে।
ব্যাখ্যা : মহান আল্লাহ জান্নাতের জন্য তার অধিবাসী প্রস্তুত করেছেন এবং জাহান্নামের জন্যও তার অধিবাসী প্রস্তুত করেছেন।⁶¹ এটা কেবল তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে এবং মহান আল্লাহ তাদের জন্য যেই সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য তাকদিরে লিপিবদ্ধ করেছেন, সে অনুযায়ী সংঘটিত হবে। হে আল্লাহ, আপনার রহমত দিয়ে আপনি আমাদেরকে পরিত্রাণপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং সাফল্যবান হিসেবে আমাদেরকে লিপিবদ্ধ করুন; যারা লাঞ্ছনার আজাব থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে, যেই লাঞ্ছনার আজাব মূলত কুফরকারী ও পাপাচারীদের জন্য নির্ধারিত, যেই আজাব তারা ভোগ করবে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডে। আল-ইয়াজু বিল্লাহ; আল্লাহর পানা চাই!

টিকাঃ
৬১ সহিহ মুসলিম, হা. ২৬৬২।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 কবরের প্রশ্নোত্তর এবং কবরের সুখ ও শাস্তি বিষয়ক আকিদা

📄 কবরের প্রশ্নোত্তর এবং কবরের সুখ ও শাস্তি বিষয়ক আকিদা


মূলপাঠ :
ولِكُلِّ حَيَّ عَاقِلٍ فِي قَبْرِهِ ... عَمَلٌ يُقَارِنُهُ هُنَاكَ وَيُسْأَلُ
প্রত্যেক বিবেকবান জীবিত ব্যক্তির কবরে (পার্থিব জীবনের) আমলই হবে তার সঙ্গী। আর সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।
ব্যাখ্যা : কবিতার এই চরণে বলা হয়েছে, মানুষের কাছে তার আমলকে আকৃতি বা রূপ দিয়ে পেশ করা হবে। বর্ণিত হয়েছে,
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ، فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ، وَلَمَّا يُلْحَدْ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ ﷺ، وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ، كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرَ، وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ فِي الْأَرْضِ، فَرَفَعَ رأْسَهُ، فَقَالَ: «اسْتَعِيذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ، أَوْ ثَلَاثًا،» ، ثُمَّ قَالَ: "إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ، نَزَلَ إِلَيْهِ مَلَائِكَةٌ مِنَ السَّمَاءِ بِيضُ الْوُجُوهِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ، مَعَهُمْ كَفَنٌ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ، وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ، حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ، اخْرُجِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ». قَالَ: «فَتَخْرُجُ تَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السَّقَاءِ، فَيَأْخُذُهَا، فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَأْخُذُوهَا، فَيَجْعَلُوهَا فِي ذَلِكَ الْكَفَنِ، وَفِي ذَلِكَ الْحَنُوطِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ مِسْكٍ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ قَالَ: فَيَصْعَدُونَ بِهَا، فَلَا يَمُرُّونَ، يَعْنِي بِهَا ، عَلَى مَلَةٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ، إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرُّوحُ الطَّيِّبُ ؟ فَيَقُولُونَ: فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ، بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانُوا يُسَمُّونَهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا، حَتَّى يَنْتَهُوا بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَسْتَفْتِحُونَ لَهُ، فَيُفْتَحُ لَهُمْ فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا، حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ، فَيَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ، وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ، فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ، وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ، وَمِنْهَا أُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى». قَالَ: "فَتْعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ، فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ، فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ : مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: رَبِّيَ اللَّهُ، فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: دِينِيَ الْإِسْلَامُ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هُوَ رَسُولُ اللهِ ﷺ، فَيَقُولَانِ لَهُ: وَمَا عِلْمُكَ؟ فَيَقُولُ: قَرَأْتُ كِتَابَ اللهِ، فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ، فَيُنَادِي مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ: أَنْ صَدَقَ عَبْدِي، فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ». قَالَ: «فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا، وَطِيبِهَا، وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ». قَالَ: «وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ، حَسَنُ الثَّيَابِ، طَيِّبُ الرِّيحِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُرُّكَ، هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ، فَيَقُولُ لَهُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالْخَيْرِ، فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ، فَيَقُولُ: رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي، وَمَالِي». قَالَ: «وَ إِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعٍ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ، نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ، مَعَهُمُ الْمُسُوحُ، فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ، حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ، اخْرُجِي إِلَى سَخَطِ مِنَ اللهِ وَغَضَبٍ». قَالَ: «فَتُفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ، فَيَنْتَزِعُهَا كَمَا يُنْتَزَعُ السَّفُودُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ، فَيَأْخُذُهَا، فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَجْعَلُوهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ، وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، فَيَصْعَدُونَ بِهَا، فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، إِلَّا قَالُوا: مَا هَذَا الرُّوحُ الْخَبِيثُ؟ فَيَقُولُونَ: فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَقْبَحْ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا، حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيُسْتَفْتَحُ لَهُ، فَلَا يُفْتَحُ لَهُ»، ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ﴿لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمٌ الْخِيَاطِ﴾ [الأعراف: ٤٠] فَيَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: «اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّينٍ فِي الْأَرْضِ السُّفْلَى، فَتَطْرَحُ رُوحُهُ طَرْحًا » . ثُمَّ قَرَأَ : ﴿وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ، فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ﴾ [الحج: ۳۱] " فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ، وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ، فَيُجْلِسَانِهِ، فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي، فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا دِينُكَ؟ فَيَقُولُ: هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي، فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ فَيَقُولُ: هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي، فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ، فَافْرِشُوا لَهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ، فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا، وَسَمُومِهَا، وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ، وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ، قَبِيحُ الثَّيَابِ، مُنْتِنُ الرِّيحِ، فَيَقُولُ: أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُوءُكَ، هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ، فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ يَجِيءُ بِالشَّرِّ ، فَيَقُولُ: أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ، فَيَقُولُ: رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ».
বারা বিন আজিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক আনসার সাহাবির জানাজায় বের হলাম। আমরা কবরের নিকটে পৌঁছলাম। তখন কবর খনন করা হচ্ছিল বলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসে গেলেন। আমরাও তাঁর চারপাশে শান্তভাবে বসলাম, যেন আমাদের মাথার ওপরে পাখি বসে আছে। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে একটি কাষ্ঠখণ্ড ছিল, যা দিয়ে তিনি মাটিতে দাগ কাটছিলেন। এরপর তিনি মাথা ওঠালেন এবং বললেন, 'তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আজাব হতে পানা চাও।' তিনি একথা দুইবার বা তিনবার বললেন।
তারপর বললেন, “মুমিন বান্দা যখন দুনিয়া ত্যাগ করে এবং আখেরাতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন তার নিকট আসমান থেকে উজ্জ্বল চেহারাবিশিষ্ট একদল ফেরেশতা আসেন; যাদের চেহারা যেন সূর্যের মতো। তাঁদের সাথে জান্নাতের কাফনসমূহের একটি কাফন থাকে এবং জান্নাতের সুরভিসমূহের এক জাতীয় সুরভি থাকে। তাঁরা তার দৃষ্টিসীমার দূরে বসেন। এরপর মৃত্যুর ফেরেশতা তার নিকটে আসেন এবং তার মাথার নিকটে বসে বলেন, 'হে পবিত্র রুহ (আত্মা), বের হয়ে এসো, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে।'
তখন তার রুহ সেরকমভাবে বের হয়ে আসে, যেরকমভাবে মশক থেকে পানি বের হয়ে আসে (সহজে)। তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তা গ্রহণ করেন এবং এক মুহূর্তের জন্যও তা নিজের হাতে রাখেন না। বরং ওইসকল অপেক্ষমাণ ফেরেশতা এসে তা গ্রহণ করেন এবং ওই কাফن ও সুরভিতে রাখেন। তখন তা থেকে পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমস্ত সুরভি অপেক্ষা উত্তম মিসকের সুরভি বের হতে থাকে।
ফেরেশতাগণ তা নিয়ে ওপরে উঠতে থাকেন এবং যখনই তাঁরা ফেরেশতাদের মধ্যে কোনো ফেরেশতাদলের নিকট পৌঁছেন, তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, 'এই পবিত্র রুহ কার?' তখন তাঁরা দুনিয়াতে লোকেরা তাকে যেসকল উপাধি দ্বারা ভূষিত করত, সে সকলের মধ্যে উত্তম উপাধি দ্বারা ভূষিত করে বলেন, 'এটা অমুকের পুত্র অমুকের রুহ।'
তারা প্রথম আসমান অবধি পৌঁছা পর্যন্ত এরকম প্রশ্নোত্তর চলতে থাকে। এরপর তাঁরা আসমানের দরজা খুলতে চান, আর অমনি তাঁদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রত্যেক আসমানের সম্মাননীয় ফেরেশতাগণ তাঁদের অনুগামী হন, তার ওপরের আসমান পর্যন্ত। এভাবে তাঁরা সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছেন। তখন আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দার ঠিকানা “ইল্লিয়িয়নে” লিখ এবং তাকে জমিনে (কবরে) ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা আমি তাদেরকে জমিন হতে সৃষ্টি করেছি এবং জমিনেই তাদেরকে ফিরিয়ে দেব। অতঃপর জমিন হতে আমি তাদেরকে পুনরায় বের করব।' সুতরাং তার রুহ তার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন তার নিকট দুজন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাঁরা তাকে প্রশ্ন করেন, 'তোমার রব কে?” তখন সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ।' এরপর প্রশ্ন করেন, 'তোমার দ্বীন কী?” তখন সে বলে, 'আমার দ্বীন হলো ইসলাম।' আবার তাঁরা প্রশ্ন করেন, 'তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে?' সে উত্তরে বলে, 'তিনি হলেন আল্লাহর রসুল।' পুনরায় তাঁরা তাকে প্রশ্ন করেন, 'তুমি তা কী করে জানতে পারলে?” সে বলে, 'আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি। আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি এবং তাঁকে সত্যায়ন করেছি।' তখন আসমানের দিক থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দেন, 'আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের একটি পোশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও!'
তখন তার কাছে জান্নাতের সুখ-শান্তি ও জান্নাতের সুরভি আসতে থাকে এবং তার জন্য তার কবরকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় তার কাছে এক সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট, সুন্দর পোশাকবিশিষ্ট ও সুগন্ধিযুক্ত ব্যক্তি আসে এবং তার উদ্দেশে বলে, 'তোমাকে আনন্দিত করবে এমন বিষয়ের সুসংবাদ গ্রহণ করো। এই দিনেরই ওয়াদা তোমাকে দেওয়া হয়েছিল।' তখন সে তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'তুমি কে? তোমার চেহারা তো দেখবার মতো! তা যেন কল্যাণের বার্তা বহন করে।' ফলে সে বলে, 'আমি তোমার ভালো আমল, যা তুমি দুনিয়াতে করতে।' তখন সে বলে, 'হে আল্লাহ, তাড়াতাড়ি কেয়ামত কায়েম করুন, যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের কাছে ফিরে যেতে পারি (যেন জান্নাতের সামগ্রী দ্রুত পেতে পারি)।'
পক্ষান্তরে কাফির বান্দা যখন দুনিয়া ত্যাগ করে আখেরাতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তখন তার কাছে আসমান থেকে একদল কালো চেহারাবিশিষ্ট ফেরেশতা অবতীর্ণ হন। যাঁদের সাথে শক্ত চট থাকে। তাঁরা তার থেকে দৃষ্টিসীমার দূরে বসেন। এরপর মৃত্যুর ফেরেশতা আসেন এবং তার মাথার নিকটে বসেন। তারপর বলেন, 'হে নিকৃষ্ট রুহ (আত্মা)! বের হয়ে আয় আল্লাহর ক্রোধের দিকে।'
এ সময় রুহ ভয়ে তার শরীরে এদিক-সেদিক পালাতে থাকে। তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে এমনভাবে টেনে বের করেন, যেমনভাবে লোহার গরম শলাকা আর্দ্র পশম থেকে টেনে বের করা হয়। এরপর তিনি তা গ্রহণ করেন। কিন্তু যখন গ্রহণ করেন মুহূর্তকালের জন্যও নিজের হাতে রাখেন না। বরং অপেক্ষমাণ ফেরেশতাগণ তাড়াতাড়ি সেই আত্মাকে দুর্গন্ধময় চটে জড়িয়ে নেন। তখন তা থেকে এমন দুর্গন্ধ বের হতে থাকে, যা পৃথিবীতে প্রাপ্ত সমস্ত গলিত শবদেহের দুর্গন্ধ অপেক্ষা বেশি। তা নিয়ে তাঁরা ওপরে উঠতে থাকেন। কিন্তু যখনই তাঁরা তা নিয়ে ফেরেশতাদের কোনো দলের নিকট পৌঁছেন, তাঁরা জিজ্ঞাসা করেন, 'এই নিকৃষ্ট রুহ কার?” তখন তাঁরা তাকে দুনিয়াতে যে সকল মন্দ উপাধি দ্বারা ভূষিত করা হতো, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা মন্দ উপাধি দ্বারা ভূষিত করে বলেন, 'অমুকের পুত্র অমুকের রুহ।'
এভাবে তাকে প্রথম আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দিতে চাওয়া হয়; কিন্তু খুলে দেওয়া হয় না। এ সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথার সমর্থনে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করলেন,
إِنَّ الَّذِيْنَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لاَ تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ.
'অবশ্যই যারা আমার নিদর্শনাবলিকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করে এবং অহংকারবশত তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না সূচের ছিদ্রপথ দিয়ে উট প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।' (সুরা আরাফ : ৪০)
তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তার ঠিকানা “সিজ্জিনে” লিখে দাও, জমিনের সর্বনিম্ন স্তরে।' সুতরাং তার রুহকে জমিনে খুব জোরে নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথার সমর্থনে এই আয়াত পাঠ করলেন,
وَمَن يُشْرِكْ بِاللهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ.
'যে আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করেছে, সে যেন আকাশ থেকে পড়েছে, এরপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেছে অথবা ঝঞ্চাবায়ু তাকে নিক্ষিপ্ত করেছে বহুদূরে।' (সুরা হাজ : ৩১)
ফলে তার রুহ তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন তার নিকট দুজন ফিরিশতা আসেন এবং তাকে উঠিয়ে বসান। অতঃপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে?' সে বলে, 'হায়, হায়, আমি তো জানি না।' অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'হায়, হায়, আমি তো জানি না।' তারপর জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমাদের মধ্যে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে?' সে বলে, 'হায়, হায়, আমি তাও তো জানি না।'
এ সময় আকাশের দিক থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, 'সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।'
ফলে তার কাছে জাহান্নামের উত্তাপ ও দুর্গন্ধময় বাতাস আসতে থাকে এবং তার কবর তার প্রতি এত সংকুচিত হয়ে যায় যে, তার একদিকের পাঁজরের হাড় অপরদিকে ঢুকে যায়। এ সময় তার নিকট অতি কুৎসিত চেহারাবিশিষ্ট, নোংরাবেশী ও দুর্গন্ধযুক্ত লোক আসে এবং বলে, 'তোমাকে দুঃখিত করবে এমন জিনিসের দুঃসংবাদ গ্রহণ কর! এই দিনেরই ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল তোমাকে।' তখন সে প্রশ্ন করে, 'তুমি কে? কী কুৎসিত তোমার চেহারা, যেন তা খারাপ সংবাদ বহন করে!' সে বলে, 'আমি তোমার সেই মন্দ আমল, যা তুমি দুনিয়াতে করতে।' তখন সে বলে, 'হে আল্লাহ, কেয়ামত কায়েম করবেন না (কেননা কেয়ামত কায়েম কলে আমার কী উপায় হবে?)'।”⁶²
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ উক্ত বিবরণের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন (তাঁর কবিতায়)।

টিকাঃ
৬২ মুসনাদ আহমাদ, হা. ১৮৫৩৪, বর্ণনার মান : সহিহ (তাহকিক : আরনাউত)।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 ইমাম চতুষ্টয়ের আকিদা

📄 ইমাম চতুষ্টয়ের আকিদা


মূলপাঠ :
هذا اعْتِقَادُ الشَّافِعِي وَمَالِكٍ ... وَأَبِي حَنِيفَةَ ثُمَّ أَحْمَدَ يُنْقَلُ
এটাই শাফিয়ি, মালিক, আবু হানিফা ও আহমাদ থেকে বর্ণিত আকিদা।
فَإِنِ اتَّبَعْتَ سَبِيلَهُمْ فَمُوَفَّقٌ ... وَإِنِ ابْتَدَعْتَ فَمَا عَلَيْكَ مُعَوَّلُ
সুতরাং আপনি যদি তাঁদের পথ অনুসরণ করেন, তাহলে তৌফিকপ্রাপ্ত হবেন। আর যদি বিদাত করেন, তাহলে আপনার ওপর নির্ভর করা হবে না।
ব্যাখ্যা: অর্থাৎ আমি এখানে যেই আকিদা সমীক্ষা ও অনুসন্ধান করে বর্ণনা করেছি, তা চার ইমামের আকিদা। আর তাঁরা হলেন শাফিয়ি, মালিক, আহমাদ ও আবু হানিফা। সুতরাং আপনি যদি তাঁদের পথ অনুসরণ করেন, তাহলে আপনি তৌফিকপ্রাপ্ত বিবেচিত হবেন। কিন্তু আপনি যদি বিদাত করেন এবং তাঁদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে আপনার ওপর নির্ভর করা হবে না।⁶³
আমরা আল্লাহর কাছে চাইছি, তিনি যেন আপনাকে হকের প্রতি এবং হক গ্রহণ করার প্রতি হেদায়েত দান করেন। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা। আল্লাহর তরফ থেকে মুহাম্মাদের জন্য এবং তাঁর অনুসারীবৃন্দ ও সাহাবিবর্গের জন্য ধার্য হোক সালাত ও সালাম।
সমাপ্ত।
আলহামদুলিল্লাহ। আমি (অনুবাদক) মহান আল্লাহর ফজল ও করমে নানাবিধ ব্যস্ততা সত্ত্বেও ১৪ই শাবান ১৪৪৬ হিজরি তারিখে ইশার নামাজের পর এই পুস্তিকার অনুবাদকর্ম আরম্ভ করেছি এবং পরদিন ১৫ই শাবান (১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি.) ইশার নামাজের আগে শেষ করেছি। এর সবই মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ ও তৌফিকের ফল; নিশ্চয় তিনি মহানুভব ও মহান দাতা। ফালহামদুলিল্লাহি আওয়্যালাও ওয়া আখিরা।

টিকাঃ
৬৩ অনুবাদকের টীকা: 'আপনার ওপর নির্ভর করা হবে না' – এর মানে, আপনার বিভ্রান্ত মতাদর্শ গৃহীত হবে না, আপনার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। বরং নসিহত করা সত্ত্বেও যদি বাতিল মতাদর্শ থেকে ফিরে না আসেন, তাহলে আপনার থেকে সতর্ক করা হবে। দ্রষ্টব্য: মুয়াজ বিন আহমাদ বিন ফুয়াদ আজ-জায়িম, নাসরুদ দুরারিল আসারিয়‍্যা আলাল মানজুমাতিল লামিয়্যা আল-মানসুবাতি লি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়‍্যা (অন্তর্জালিক সংস্করণ, তাবি), পৃ. ২৬৮। টীকা সমাপ্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00