📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহর গুণাবলি বিষয়ক আয়াতসমগ্রের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর আকিদা

📄 আল্লাহর গুণাবলি বিষয়ক আয়াতসমগ্রের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর আকিদা


মূলপাঠ :
وَجَمِيعُ آيَاتِ الصَّفَاتِ أُمِرُّهَا ... حَقًّا كَمَا نَقَلَ الطَّرَازُ الأَوَّلُ
আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত সকল আয়াত আমি সত্যসত্যই সেভাবে সাব্যস্ত করি (ও ইমান রাখি), যেভাবে বর্ণনা করেছেন (এই উম্মতের) প্রথম প্রজন্ম।
وأَرُدُّ عُهْدَتَها إِلَى نُقَالِهَا ... وَأَصُونُها عَنْ كُلِّ مَا يُتَخَيَّلُ
আমি এই আকিদার জিম্মাদারি প্রত্যার্পণ করি উক্ত আকিদার বর্ণনাকারীদের (সালাফদের) কাছে। আর উক্ত আকিদাকে আমি হেফাজত করি যাবতীয় কল্পনাপ্রসূত বিষয় থেকে।
قُبْحاً لِمَنْ نَبَذَ القُرَانَ وَرَاءَهُ ... وَإِذَا اسْتَدَلَّ يَقُولُ قَالَ الأَخْطَلُ
সুতরাং ধিক সেই ব্যক্তির প্রতি, যে কুরআনকে নিজের পেছনে ছুঁড়ে ফেলে। আর দলিল পেশ করার সময় বলে বসে, “আখতাল বলেছেন এই কথা।”
ব্যাখ্যা: এই তিনটি চরণে শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ সাব্যস্ত করেছেন, তিনি কিতাব-সুন্নাহয় উল্লিখিত আল্লাহর সকল বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইমান রাখেন। তিনি এসব বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইমান রাখেন এবং আরবি ভাষার দাবি অনুযায়ী সিফাতগুলোকে এমন অর্থ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, যা আল্লাহর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং তিনি 'আল-ওয়াজহ তথা চেহারা' সাব্যস্ত করলে বলেন, “আমি আল্লাহর জন্য চেহারা সাব্যস্ত করি, যা আল্লাহর মর্যাদার সাথে মানানসই।” 'আল-ইয়াদ তথা হাত' সাব্যস্ত করলে বলেন, “আমি আল্লাহর জন্য হাত সাব্যস্ত করি, যা আল্লাহর মর্যাদার সাথে মানানসই।” 'আল-আইন তথা চোখ' সাব্যস্ত করলে বলেন, “আমি আল্লাহর জন্য চোখ সাব্যস্ত করি, যা আল্লাহর মর্যাদার সাথে মানানসই।”
অনুরূপভাবে যত সিফাত বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোর ক্ষেত্রেই এই কথা বলা হবে। চাই সেসব সিফাত সত্তাগত গুণাবলি হোক, যেমনটি কিছুপূর্বের উদাহরণে বলা হলো; আর চাই সেসব সিফাত কর্মগত গুণাবলি হোক, যেমন আরশের ওপরে আরোহণ, দুনিয়ার আসমানে অবতরণ প্রভৃতি।⁴⁵
প্রথম প্রজন্ম তথা সাহাবিবর্গ, তাবেয়িবৃন্দ ও তাবে তাবেয়িগণ-প্রথম তিন যুগের মানুষ, যাঁদের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-যা সাব্যস্ত করতেন এবং যেই আকিদা পোষণ করতেন, সেই আকিদা অনুযায়ীই সমুদয় সিফাত সাব্যস্ত করতে হবে।
শাইখুল ইসলাম বলেছেন,
وَأَصُونُها عَنْ كُلِّ مَا يُتَخَيَّلُ
“আর উক্ত আকিদাকে আমি হেফাজত করি যাবতীয় কল্পনাপ্রসূত বিষয় থেকে।”
অর্থাৎ মানবমস্তিষ্ক (আল্লাহর সিফাতকে) সৃষ্টিকুলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যাওয়ার মতো যেসব কল্পনা করে, তা থেকে আমি সিফাত বিষয়ক আকিদাকে হেফাজত করি।
আলোচ্য চরণত্রয়ের তৃতীয় লাইনে শাইখুল ইসলাম ওই ব্যক্তির নিন্দা করেছেন, যে দলিলগ্রহণের ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ বর্জন করে খ্রিষ্টান কাফির কবি 'আখতালের' কথা দিয়ে দলিল দেয়! যে ব্যক্তি এই কাজ করেছে, সে নিন্দিত হওয়ার এবং নিকৃষ্টতা ও কদর্যতার গুণে গুণান্বিত হওয়ারই উপযুক্ত। কেননা সে হক বর্জন করে বাতিল গ্রহণ করেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এখানে আখতালের কথা দিয়ে দলিল দেওয়া বলতে বোঝানো হয়েছে, আশারিদের কর্মকাণ্ডকে। যেহেতু তারা 'ইস্তিওয়া আলাল আরশ তথা আরশের ওপর আরোহণ' সিফাতের তাবিল তথা ভিন্নার্থ করে বলে, এর মানে 'আরশ দখল করা' (আরশের ওপর আরোহণ করা নয়)। তারা এই তাবিলের পক্ষে আখতালের কথা দিয়ে দলিল দেয়; যেখানে আখতাল বলেছে—
قَدِ اسْتَوَى بِشْرٌ عَلَى الْعِرَاقِ ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ أَوْ دَمٍ مِهْرَاقِ
“কোনো তরবারি কিংবা প্রবহমান রক্ত (রক্তপাত) ছাড়াই বিশর ইরাকের ওপর ইস্তিওয়া করেছেন (অর্থাৎ ইরাক দখল করেছেন)।”⁴⁶
এই দলিলগ্রহণ বাতিল। কারণ বিশর বিন মারওয়ানের ক্ষেত্রে যদি বলা হয়, তিনি ইরাক দখল করেছেন, কেননা তিনি ইতঃপূর্বে ইরাকের দখলদারিত্ব নেননি; তাহলে বলতে হয়, এই কথা মাখলুকের ক্ষেত্রে সঠিক হলেও স্রষ্টার ক্ষেত্রে সঠিক হবে না। কারণ আল্লাহর পূর্বে তাঁর আরশ অন্য কারও দখলে ছিল না। এটা একদম স্পষ্ট বিষয়। কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি অন্ধ না হলেও বক্ষস্থিত অন্তর অন্ধ হয়ে যায়। কে আছে এমন, যে আল্লাহর বিরোধী হয়ে তাঁর পূর্বে তাঁরই আরশ দখল করে রাখবে?! আল্লাহর কাছে ভ্রষ্টতা থেকে পানা চাইছি।
আল্লাহ বলেছেন,
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا.
“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যদি আল্লাহ ছাড়া একাধিক মাবুদ থাকত, তাহলে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।”⁴⁷
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন,
قُل لَّوْ كَانَ مَعَهُ عَالِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَّابْتَغَوْاْ إِلَىٰ ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا * سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا * تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ، وَلَكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا * وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْءَانَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مَّسْتُورًا.
“বলুন, তাদের কথা মতো যদি তাঁর সাথে আরও মাবুদ থাকত, তাহলে তারা আরশ অধিপতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপায় অন্বেষণ করত। তিনি পবিত্র, মহিমান্বিত এবং তারা যা বলে তা হতে তিনি বহু ঊর্ধ্বে রয়েছেন। সাত আকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের অন্তর্বর্তী সব কিছু তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং এমনকিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে না। কিন্তু ওদের পবিত্রতা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; তিনি অতিশয় সহনশীল, অধিক ক্ষমাপরায়ণ। আপনি যখন কুরআন পাঠ করেন, তখন আপনার এবং পরকালে অবিশ্বাসীদের মধ্যে আমি এক প্রচ্ছন্ন পর্দা টেনে দিই।”⁴⁸ ⁴⁹

টিকাঃ
৪৫ অনুবাদকের টীকা: যেসব গুণে আল্লাহ সীমাহীন অতীত থেকে সদা বিশেষিত আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন, সেগুলোকে সত্তাগত গুণাবলি (الصفات الذاتية) বলা হয়। যেমন : আল্লাহর জ্ঞান, ক্ষমতা প্রভৃতি। পক্ষান্তরে যেসব গুণ আল্লাহর ইচ্ছের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, আল্লাহ ইচ্ছে করলে তা কার্যকর করেন, আবার ইচ্ছে করলে তা কার্যকর করেন না, সেগুলোকে কর্মর্গত গুণাবলি (الصفات الفعلية) বলা হয়। যেমন : দুনিয়ার আকাশে মহান আল্লাহর অবতরণ। দ্রষ্টব্য : মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, মুজাক্কিরাতুন আলাল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যা (রিয়াদ : মাদারুল ওয়াতান, প্রকাশের ক্রমধারাবিহীন, ১৪২৬ হি.), পৃ. ১০। টীকা সমাপ্ত।
৪৬ অনুবাদকের টীকা: আশারি-মাতুরিদিদের অসংখ্য কিতাবে খ্রিষ্টান কবি আখতালের এই পঙ্ক্তি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে তারা 'ইস্তিওয়া আলাল আরশ' সিফাতের অর্থ 'আরশ দখল করা' সাব্যস্ত করে; আর আল্লাহ যে আরশের ওপর আরোহণ করেছেন বা উঠেছেন-সেই অর্থ অস্বীকার করে। এই জায়গায় আশারি-মাতুরিদিরা বিলকুল মুতাজিলিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। কারণ মুতাজিলিরা এই পঙ্ক্তি ব্যবহার করে উক্ত সিফাতের তাবিল করত। এই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন বিখ্যাত আশারি বিদ্বান আল্লামা আব্দুল কাহির আল-বাগদাদি রাহিমাহুল্লাহু ওয়া গাফারা লাহু (মৃ. ১০৩৭ হি.)। দ্রষ্টব্য : আব্দুল কাহির বিন তাহির আত-তাইমি আল-বাগদাদি, উসুলুদ দিন (ইস্তাম্বুল : মাদরাসাতুল ইলাহিয়্যাত বি দারিল ফুনুনিত তুর্কিয়্যা, ১ম প্রকাশ, ১৩৪৬ হি./১৯২৮ খ্রি.), পৃ. ১১২। ইমাম ইবনু কাসির রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৭৭৪ হি.) বলেছেন, وَالْجَهْمِيَّةُ تَسْتَدِلُّ عَلَى الاسْتِوَاءِ عَلَى الْعَرْشِ بِأَنَّهُ الِاسْتِيلَاءُ بِبَيْتِ الْأَخْطَلِ، فِيمَا مَدَحَ بِهِ بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ، وَهُوَ قَوْلُهُ: قَدِ اسْتَوَى بِشْرٌ عَلَى الْعِرَاقِ ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ وَدَمٍ مُهْرَاقٍ وَلَيْسَ فِيهِ دَلِيلٌ : فَإِنَّ هَذَا اسْتِدْلَالٌ بَاطِلٌ مِنْ وُجُوهِ كَثِيرَةٍ، وَقَدْ كَانَ الْأَخْطَلُ نَصْرَانِيًّا. “জাহমি সম্প্রদায়ের লোকেরা কবি আখতালের পঙ্ক্তি দিয়ে 'ইস্তিওয়া আলাল আরশ' মানে 'আরশ দখল করা'-র পক্ষে দলিল দেয়; যেই পঙ্ক্তিতে মূলত সে (আখতাল) বিশর বিন মারওয়ানের প্রশংসা করেছিল। পঙ্ক্তিটি হলো— قَدِ اسْتَوَى بِشْرٌ عَلَى الْعِرَاقِ ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ أَوْ دَمٍ مِهْرَاقِ 'কোনো তরবারি কিংবা প্রবহমান রক্ত (রক্তপাত) ছাড়াই বিশর ইরাকের ওপর ইস্তিওয়া করেছেন (অর্থাৎ ইরাক দখল করেছেন)।' এই পঙ্ক্তিতে (তাদের দাবির পক্ষে) কোনো প্রমাণ নেই। কেননা অনেক দিক থেকে এই দলিলগ্রহণ বাতিল। আর আখতাল একজন খ্রিষ্টান ছিল।” দ্রষ্টব্য : আবুল ফিদা ইসমায়িল বিন উমার ইবনু কাসির আল-কুরাশি, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, তাহকিক: আব্দুল্লাহ আত-তুর্কি (দারু হাজার, প্র. ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রি.), খ. ১২, পৃ. ২৪১। টীকা সমাপ্ত।
৪৭ সুরা আম্বিয়া : ২২।
৪৮ সুরা ইসরা : ৪২-৪৫।
৪৯ অনুবাদকের টীকা: আখতালের আরেকটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি দিয়ে আশারি-মাতুরিদিরা দলিল দেয়; যা ব্যাখ্যাকার রাহিমাহুল্লাহ এখানে উল্লেখ করেননি। আল্লাহর কথা বলা গুণের ব্যাপারে আশারি-মাতুরিদিদের আকিদা হচ্ছে—আল্লাহর কথা মূলত কালামুন নাফসি তথা নফসের কথা; তাঁর কথা একটিই, যা কখনো বিভাজিত হয় না, এবং তাঁর কথায় কোনো বর্ণ ও আওয়াজ নেই। সোজাকথায়, তাদের আকিদা অনুযায়ী আল্লাহর সত্তা থেকে কোনো কথা বের হয় না; সুতরাং কথা মানে মনের কথা, বা মনের ভাবনা! নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক। তারা তাদের এই বাতিল আকিদার পক্ষে খ্রিষ্টান কবি আখতালের পঙ্ক্তি দিয়ে দলিল দেয়। আখতাল বলেছে, إِنَّ الْكَلَامَ لَفِي الْفُؤَادِ وَ إِنَّمَا ... جُعِلَ النِّسَانُ عَلَى الْكَلَامِ دَلِيلًا “নিশ্চয় 'কথা' তো তাকেই বলে, যা অন্তরে থাকে। মানুষের জবানকে তো কেবল (অন্তরস্থ কথার) দলিল বানানো হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে ইমাম জাহাবি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৭৪৮ হি.) একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। শাফিয়ি মাজহাবের এক বিদ্বান ছিলেন আবুল বায়ান রাহিমাহুল্লাহ। তাঁর সাথে জনৈক আশারি বিদ্বানের পর্যালোচনা হয়। তিনি সেখানে ওই আশারি বিদ্বানের উদ্দেশে বলেছিলেন, “ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কতইনা হতভাগা! হাম্বালিদেরকে (এখানে হাম্বালি মানে আহলুস সুন্নাহ – অনুবাদক) যখন জিজ্ঞেস করা হয়, 'কুরআন যে বর্ণ ও আওয়াজ-সহ বলা হয়েছে, তার দলিল কী?” তখন তারা উত্তরে বলে, 'আল্লাহ বলেছেন, আর রসুল বলেছেন (শুধু কুরআন-সুন্নাহ থেকে দলিল দেয়)।' আর তোমাদেরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, 'কুরআন যে স্রেফ নফসে থাকা একটি বিষয় (আল্লাহ কোনো বর্ণ ও আওয়াজ-সহ কুরআন বলেননি), তার দলিল কী?” তখন তোমরা বল, 'আখতাল বলেছেন, নিশ্চয় কথা তো তাকেই বলে, যা অন্তরে থাকে!” আশ্চর্য! সে একজন নিকৃষ্ট খ্রিষ্টান। তোমরা কুরআন-সুন্নাহ পরিত্যাগ করে তার মতো লোকের কবিতার ওপর নির্ভর করে তোমাদের আকিদা নির্ধারণ করতে পারলে?!” দ্রষ্টব্য : আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আজ-জাহাবি, তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফাইয়াতুল মাশাহিরি ওয়াল আলাম, তাহকিক : উমার আব্দুস সালাম আত-তাদমুরি (বৈরুত : দারুল কিতাবিল আরাবি, ২য় প্রকাশ, ১৪১৩ হি./১৯৯৩ খ্রি.), খ. ৩৮, পৃ. ৬৮। এই পঙ্ক্তি দিয়ে আশারি-মাতুরিদিদের দলিল দেওয়ার এই কদর্য বিষয় প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু আবিল ইজ আল-হানাফি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৭৯২ হি.) বলেছেন, “(আকিদা বিষয়ে সুন্নাহপন্থি) কোনো দলিলগ্রহণকারী বুখারি-মুসলিমের হাদিস দিয়ে দলিল দিলে তারা বলে, 'এটা তো খবরে আহাদ (বিপুলসংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত নয়)!' যদিও ওই হাদিসকে সত্যায়ন করা, সেটাকে সাদরে গ্রহণ করে নেওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে উলামাগণ একমত হয়ে থাকেন (তবুও তারা এমন কথা বলে হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করে)। তাহলে কীভাবে এই পঙ্ক্তি দিয়ে দলিল দেওয়া সঙ্গত হতে পারে, যা কিনা বানোয়াট এবং আখতালের নামে চালিয়ে দেওয়া কথা, যা তার কাব্যসমগ্রে নেই?! ... পরন্তু এই কবিতার সূত্রকে বিশুদ্ধ ধরে নেওয়া হলেও এটা দিয়ে দলিল দেওয়া জায়েজ হবে না। কারণ খ্রিষ্টানরা 'কথার' মর্মার্থ কী (কথা কাকে বলে), সে বিষয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। তারা মনে করে, ইসা আলাইহিস সালাম স্বয়ং আল্লাহর কথা!” দ্রষ্টব্য : ইবনু আবিল ইজ, শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যা, খ. ১, পৃ. ১৯৯। টীকা সমাপ্ত।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 আল্লাহকে দেখা এবং আল্লাহর অবতরণ বিষয়ক আকিদা

📄 আল্লাহকে দেখা এবং আল্লাহর অবতরণ বিষয়ক আকিদা


মূলপাঠ :
وَالمُؤْمِنُونَ يَرَوْنَ حَقًّا رَبَّهُمْ ... وَ إِلَى السَّمَاءِ بِغَيْرِ كَيْفَ يَنْزِلُ
মুমিনগণ সত্যিকারার্থেই তাঁদের রবকে দেখবেন। যিনি (মহান আল্লাহ) আসমানে নেমে আসেন; যার (নেমে আসার) ধরন আমাদের অজানা।
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ কেয়ামতের দিন মুমিনগণ তাঁদের রবকে দেখবেন; যেমনটি সাব্যস্ত হয়েছে অসংখ্য হাদিসে। সেসবের অন্যতম হলো বুখারি-মুসলিমে উল্লিখিত জারির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
سترون ربكم كما ترون الشمس في الظهيرة ليس دونها سحاب، وكما ترون القمر ليلة البدر ليس دونه سحاب.
“নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে, যেমনভাবে তোমরা দুপুরবেলায় সূর্য দেখতে পাও, যখন তার নিচে কোনো (আড়াল সৃষ্টিকারী) মেঘ থাকে না। এবং যেমনভাবে তোমরা পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে পাও, যখন তার নিচে কোনো (আড়াল সৃষ্টিকারী) মেঘ থাকে না।”⁵⁰
কেয়ামতের দিন যে মুমিনগণ তাদের রবকে দেখবেন, সে ব্যাপারে অনেক এবং প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
শাইখুল ইসলাম বলেছেন,
وَ إِلَى السَّمَاءِ بِغَيْرِ كَيْفَ يَنْزِلُ
“মহান আল্লাহ আসমানে নেমে আসেন; যার ধরন আমাদের অজানা।”
অর্থাৎ মহান আল্লাহ রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ.
“মহান আল্লাহ প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন, যে আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।”⁵¹
আহলুস সুন্নাহ এই সিফাতের প্রতি ইমান রাখে এবং তাঁদের রবের জন্য উক্ত সিফাত সেভাবে সাব্যস্ত করে, যেমনভাবে তা মানানসই হয় আল্লাহর জন্য।

টিকাঃ
৫০ অনুবাদকের টীকা: বুখারি-মুসলিমে সরাসরি এই শব্দরূপে হাদিসটি নেই। বুখারি-মুসলিমে হাদিসটি এসেছে এই শব্দরূপে- عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةً - يَعْنِي الْبَدْرَ - فَقَالَ : «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا». জারির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা অবশ্যই দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভীড় বা জুলুমের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাজ (জামাতে) আদায় করতে সমর্থ হলে তোমরা তাই করবে।” দ্রষ্টব্য: সহিহুল বুখারি, হা. ৫৫৪, সহিহ মুসলিম, হা: ৬৩৩। টীকা সমাপ্ত।
৫১ সহিহুল বুখারি, হা. ১১৪৫; সহিহ মুসলিম, হা. ৭৫৮।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 দাঁড়িপাল্লা ও হাউজ বিষয়ক আকিদা

📄 দাঁড়িপাল্লা ও হাউজ বিষয়ক আকিদা


মূলপাঠ :
وَأُقِرُ بِالْمِيزَانِ وَالْحَوضِ الَّذِي ... أَرجُو بِأَنِّي مِنْهُ رَيَّا أَنْهَلُ
আমি আল-মিজান (দাঁড়িপাল্লা) সাব্যস্ত করি; এবং সাব্যস্ত করি হাওজকেও, যেই হাওজের ব্যাপারে আশা রাখি, তৃষ্ণা নিবারণের জন্য আমি সেখান থেকে পানি পান করব।
ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলাম জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মিজান তথা দাঁড়িপাল্লার প্রতি ইমান রাখেন, যার মাধ্যমে আমলকে ওজন করা হবে। এটি এমন মিজান তথা দাঁড়িপাল্লা হবে, যার দুটি পাল্লা এবং একটি জবান (মাপনির্দেশক) থাকবে।⁵²
ভালো আমলসমগ্র এক পাল্লায় রাখা হবে, আর মন্দ আমলসমগ্র আরেক পাল্লায় রাখা হবে। যদি মন্দ আমলের পাল্লা ভালো আমলের পাল্লার চেয়ে বেশি ঝুঁকে যায়, তাহলে এসব আমলকারী ব্যক্তি আজাবে নিপাতিত হতে পারে।⁵³ কিন্তু পরবর্তীতে (মুমিন হওয়ার কারণে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; হয় শাফায়াতকারীদের শাফায়াতে, আর নয়তো স্রেফ সর্বাপেক্ষা দয়ালু আল্লাহর দয়ায়।⁵⁴
আর হাওজ বলতে উদ্দেশ্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাওজ। যা দৈর্ঘ্যে এক মাসের পথ, আবার প্রস্থেও এক মাসের পথ। কেয়ামতের দিন (এই উম্মতের) মুমিনগণ এই হাওজ থেকে পানি পান করবেন। যে ব্যক্তি উক্ত হাওজ থেকে এক ঢোক পানি পান করবে, সে আর কখনোই পিপাসিত হবে না। এই হাওজের পানপাত্রের সংখ্যা হবে তারকারাজির সমান।⁵⁵

টিকাঃ
৫২ অনুবাদকের টীকা : ইমাম সাফফারিনি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১১৮৮ হি.) বলেছেন, فَقَدْ دَلَّتِ الْآثَارُ عَلَى أَنَّهُ مِيزَانٌ حَقِيقِيٌّ ذُو كِفَّتَيْنِ وَلِسَانٍ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسِ وَالْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ، وَصَرَّحَ بِذَلِكَ عُلَمَاؤُنَا وَالْأَشْعَرِيَّةُ وَغَيْرُهُمْ، وَقَدْ بَلَغَتْ أَحَادِيثُهُ مَبْلَغَ التَّوَاتُرِ، وَانْعَقَدَ إِجْمَاعُ أَهْلِ الْحَقِّ مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَيْهِ. “হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়েছে, এটা সত্যিকারের মিজান (দাঁড়িপাল্লা), যার দুটো পাল্লা ও একটি জবান (মাপনির্দেশক) আছে। যেমনটি ইবনু আব্বাস ও হাসান বাসরি বলেছেন এবং আমাদের উলামাগণ, আশারি সম্প্রদায়ের লোকজন ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। এ সম্পর্কিত হাদিসগুলো মুতাওয়াতির (বিপুলসংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত এমন) পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং এ বিষয়ে হকপন্থি মুসলিমরা একমত পোষণ করেছে।” দ্রষ্টব্য: আবুল আওন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আস-সাফফারিনি আল-হাম্বালি, লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যা ওয়া সাওয়াতিউল আসরারিল আসারিয়‍্যা লি শারহিদ দুর্রাতিল মুদিয়্যা ফি আকদিল ফিরকাতিল মারদিয়্যা (দামেস্ক : মুআসসাসাতুল খাফিকিনা ওয়া মাকতাবাতুহা, ২য় প্রকাশ, ১৪০২ হি./১৯৮২ খ্রি.), খ. ২, পৃ. ১৮৫। টীকা সমাপ্ত।
৫৩ সুরা মুমিনুন : ১০২, ১০৩।
৫৪ সহিহুল বুখারি, হা. ৭৪৩৯; সহিহ মুসলিম, হা. ১৮৩।
৫৫ সহিহুল বুখারি, হা. ৬৫৭৯; সহিহ মুসলিম, হা. ২২৯২।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 পুলসিরাত বিষয়ক আকিদা

📄 পুলসিরাত বিষয়ক আকিদা


মূলপাঠ :
وَكَذَا الصِّراطُ يُمَدُّ فَوْقَ جَهَنَّمٍ ... فَمُسَلَّمْ نَاجٍ وَآخَرَ مُهْمَلُ
তদ্রুপ (স্বীকৃতি দিই), জাহান্নামের ওপরে বিস্তৃত পুলসিরাত থাকবে; কেউ কেউ সেখান থেকে নিরাপদে পরিত্রাণ পাবে, আবার কেউ কেউ হবে পরিত্যাক্ত।
ব্যাখ্যা : পুলসিরাত এমন একটি ব্রিজ বা সাঁকো, যা জাহান্নামের পৃষ্ঠের ওপর স্থাপিত থাকবে।⁵⁶ প্রকৃতপ্রস্তাবে পরকালের এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পুলসিরাত ইহকালের অ-ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সিরাত তথা পথের প্রতিনিধিত্ব করবে।⁵⁷
ইহকালের সিরাত তথা পথের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ.
“নিশ্চয় এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথের অনুসরণ করো।”⁵⁸
তিনি আরও বলেছেন,
وَ إِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ.
“নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করে থাকে।”⁵⁹
ইহকালে যেই সিরাত তথা পথের অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটা আল্লাহর কিতাব এবং রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহয় বিবৃত শরিয়ত। যে ব্যক্তি ইহকালে এই পথের ওপর সুদৃঢ় থাকবে, কেয়ামতের দিন পুলসিরাত অতিক্রমের সময়ও সুদুঢ় থাকবে। আল্লাহর শরিয়তের প্রতি যে যত দ্রুত ধাবমান থাকবে, সে জাহান্নামের ওপরে বিস্তৃত পুলসিরাতও তত দ্রুত অতিক্রম করবে।
বিশুদ্ধ হাদিস থেকে জানা যায়, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পুলসিরাতের ওপর মুসলিমদের পারাপার একইরকম হবে না, বরং সেখানে বিরাট তারতম্য ঘটবে। কেউ কেউ চোখের পলকে অতিক্রম করবে, কেউ কেউ বিজলির গতিতে, কেউ কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ কেউ উৎকৃষ্ট অশ্বের গতিতে, আবার কেউ কেউ মানুষের দৌড়ের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ কেউ হেঁটে হেঁটে যাবে, আবার কেউ কেউ হামাগুড়ি দিয়ে যাবে, এমনকি কেউ কেউ পেটের ওপর ভর দিয়ে অতিক্রম করবে।⁶⁰ আল্লাহর শরিয়ত অনুযায়ী চলা এবং শরিয়ত পালনে দ্রুত ধাবিত হওয়ার তারতম্য অনুযায়ী পুলসিরাতের এই তারতম্য ঘটবে।
এরপর শাইখুল ইসলাম বলেছেন,
فَمُسَلَّمْ نَاجٍ وَآخَرَ مُهْمَلُ
“কেউ কেউ সেখান থেকে নিরাপদে পরিত্রাণ পাবে, আবার কেউ কেউ হবে পরিত্যাক্ত।”
অর্থাৎ ইহকালে সরল পথের ওপরে যে ব্যক্তির 'অ-ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পথচলা' সুদৃঢ় ও সঠিক হবে, সে পুলসিরাতে পরিত্রাণ লাভ করবে। পক্ষান্তরে ইহকালে যার পথচলা দোদুল্যমান হবে, পুলসিরাত থেকে তার পতন ঘটবে। আল-ইয়াজু বিল্লাহ; আল্লাহর পানা!

টিকাঃ
৫৬ সহিহুল বুখারি, হা. ৭৪৩৯।
৫৭ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য : পঞ্চেন্দ্রিয়ের কোনো একটি দিয়ে সরাসরি অনুভব করা যায় এমন। মানবদেহের পাঁচটি ইন্দ্রিয় হলো- শ্রবণ, দর্শন, গন্ধ, স্বাদ ও স্পর্শ। পক্ষান্তরে অ-ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য : পঞ্চেন্দ্রিয়ের কোনোটি দিয়েও সরাসরি অনুভব করা যায় না এমন। – অনুবাদক।
৫৮ সুরা আনআম : ১৫৩।
৫৯ সুরা শুরা : ৫২।
৬০ সহিহুল বুখারি, হা. ৭৪৩৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00