📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 অনুবাদকের সম্ভাষণ

📄 অনুবাদকের সম্ভাষণ


بِسمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ
জনসাধারণের মাঝে বিশুদ্ধ আকিদার চর্চাকে বেগবান করার লক্ষ্যে এবং সহজবোধ্যভাবে নির্ভেজাল আকিদা শেখানোর উদ্দেশ্যে সালাফদের যুগ থেকে নিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত সুন্নাহপন্থি উলামাগণ নানাবিধ কিতাব ও পুস্তিকা রচনা করেছেন। বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটিও এর ব্যতিক্রম নয়। এটি মূলত ষোলো লাইনের একটি ছোট্ট কবিতা, যা শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ লিখেছেন বলে মনে করা হয়। এই কবিতাকে 'লামিয়্যা' বলা হয়, কারণ এর প্রতিটি চরণ শেষ হয়েছে আরবি 'লাম' বর্ণ দিয়ে। এজন্য এটি 'আল-কাসিদাতুল লামিয়্যা', 'আল-মানজুমাতুল লামিয়্যা', 'আল-আকিদাতুল লামিয়্যা' প্রভৃতি নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কবিতার রচয়িতাকে জনৈক ব্যক্তি তাঁর আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজের আকিদা বর্ণনা করে এই কবিতা রচনা করেন। কবিতার রচয়িতা আমাদের সবার পরিচিত, জগদ্বিখ্যাত মনীষী এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বিদ্বান শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৭২৮ হি.)। যাঁর জ্ঞান ও মহত্ত্বের প্রশংসায় মুখর হয়েছেন বড়ো বড়ো হাদিসবেত্তা ও ফিকহবিশারদ ইমাম। এমনকি তাঁর ব্যাপারে বলা হয়েছে, “ইমাম ইবনু তাইমিয়া যেই হাদিস জানেন না, সেটা কোনো হাদিসই নয়।”¹
'আকিদা লামিয়্যা' কি আসলেই শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ রচনা করেছিলেন কিনা তা নিয়ে উলামা ও গবেষকদের মধ্যে তিনটি মতে মতভেদ হয়েছে।
প্রথম মত : শাইখুল ইসলাম থেকে আকিদা লামিয়্যা প্রমাণিত। তিনি নিজেই এই কবিতা রচনা করেছেন। কারণ এই কবিতার ম্যানুস্ক্রিপ্টগুলোতে লেখক হিসেবে শাইখুল ইসলামের নাম লেখা আছে।² শাইখুল ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত করে এই কবিতা নিজ নিজ গ্রন্থে লিখেছেন ইমাম নুমান আল-আলুসি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৩১৭ হি.),³ আল্লামা সালিহ আল-বুলাইহি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪১০ হি.),⁴ শাইখ আহমাদ বিন হাজার আলু বুতামি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪২৩ হি.),⁵ শাইখ আব্দুস সালাম বিন বারজিস আলু আব্দুল কারিম রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪২৫ হি.)⁶ প্রমুখ। যাঁরা এই কবিতাটি শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়ার রচনা হিসেবে বিবেচনা করেছেন, তাঁদের অন্যতম-আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন নাসির আর-রশিদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪০৮ হি.),⁷ আল্লামা ইবনু জিবরিন রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪৩০ হি.)⁸ প্রমুখ।
দ্বিতীয় মত : আকিদা লামিয়্যা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ থেকে প্রমাণিত নয়। এই মত ব্যক্ত করেছেন ইমাম ইবনু উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪২১ হি.),⁹ আল্লামা বাকার আবু জাইদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪২৯ হি.),¹⁰ শাইখ সালিহ সিন্ধি হাফিজাহুল্লাহ,¹¹ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আলু আব্দুল লাতিফ হাফিজাহুল্লাহ¹² প্রমুখ।
তৃতীয় মত : আকিদা লামিয়্যা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া থেকে প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করা, কিন্তু স্পষ্টভাবে 'প্রমাণিত নয়' এমনটি না বলা। এ ধরনের অবস্থান নিয়েছেন ইমাম সুলাইমান বিন সিহমান রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৩৪৯ হি.),¹³ আল্লামা আব্দুল কারিম আল-খুদাইর হাফিজাহুল্লাহ (জ. ১৩৭৪ হি.),¹⁴ শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান হাফিজাহুল্লাহ (জ. ১৩৫২ হি.)¹⁵ প্রমুখ।
এসবের মধ্যে যে মতটিই অগ্রগণ্য হোক না কেন, 'আকিদা লামিয়্যা' স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল আকিদার এক চমকপ্রদ বিবরণ। সুন্নাহপন্থি উলামাগণ এই কবিতা প্রচার করেছেন, জনসাধারণের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর ওপর ভাষ্য রচনা করেছেন। এই কিতাবের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এর ওপর উলামা ও গবেষকবৃন্দ বিরচিত উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যার নাম পেশ করছি :
১. আল-লাআলিল বাহিয়্যা শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা, লেখক : আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাদাওয়ি আল-হাম্বালি। এই কিতাব ইমাম সালিহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহর টীকা-সহ 'দারুল মুসলিম' থেকে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে 'দারু ইবনি হাজম' থেকে ইয়াদ বিন আব্দুল লাতিফের তাহকিকে প্রকাশিত হয়েছে।
২. জাদুল মাআদ ফি ইতিকাদি খাইরিল ইবাদ, লেখক : মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জাবারতি। এই কিতাব মুদ্রিত হয়েছে কিনা জানতে পারিনি। তবে এর ২২ পৃষ্ঠাব্যাপী ম্যানুস্ক্রিপ্ট আছে।¹⁶
৩. গুনইয়াতুস সায়িল বিমা ফি লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলামি মিনাল মাসায়িল, লেখক : আল্লামা আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজমি। এটাই আমাদের অনূদিত বক্ষ্যমাণ ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৪. শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম আহমাদ ইবনি আব্দিল হালিম ইবনি তাইমিয়্যা, রচয়িতা : আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরিন। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর দারস দিয়েছেন আল্লামা সালিহ আল-উসাইমি হাফিজাহুল্লাহ।
৫. শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা, রচয়িতা : আল্লামা আব্দুল কারিম আল-খুদাইর।
৬. আল-ফাওয়ায়িদুস সানিয়্যা শারহুল আকিদাতিল লামিয়্যা, রচয়িতা : শাইখ মুহাম্মাদ হিশাম তাহিরি।
৭. শারহুল লামিয়্যা, লেখক : ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিম। এই কিতাবের ভূমিকা লিখেছেন শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান হাফিজাহুল্লাহ।
৮. বাদরুত তামام শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম, লেখক : শাইখ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল।
উপরিউক্ত কিতাবগুলো ছাড়াও আল্লামা সালিহ আস-সুহাইমি হাফিজাহুল্লাহ, আল্লামা আব্দুর রাজ্জাক আল-বদর হাফিজাহুল্লাহ, শাইখ মুহাম্মাদ সায়িদ রাসলান হাফিজাহুল্লাহ, শাইখ আলি আশ-শিবল হাফিজাহুল্লাহ-সহ অনেকেই 'আকিদা লামিয়্যার' দারস দিয়েছেন; যা ইউটিউবে অ্যাভেইলেবল, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
আর তাইতো আল্লামা আব্দুল কারিম আল-খুদাইর হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, “এই কবিতায় যেসব কথা বলা হয়েছে, তা হক; চাই তা শাইখুল ইসলামের হোক, কিংবা অন্য কারও। সংক্ষিপ্ত হলেও এটি একটি উত্তম কবিতা। এতে রয়েছে আকিদা বিষয়ক বেশকিছু সর্ববাদিসম্মত মাসায়েল। যেহেতু এই কবিতার কথাগুলো হক, সেহেতু তালিবুল ইলমের উচিত হবে এটাকে গুরুত্ব দেওয়া, মুখস্থ করা এবং এর ব্যাখ্যাসমূহ অধ্যয়ন করা।”¹⁷
আকিদা লামিয়্যার ওপর রচিত বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে আমরা আল্লামা আহমাদ আন-নাজমি রাহিমাহুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুবাদ করেছি। কারণ এটা সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য ব্যাখ্যা। আমরা অনুবাদের পাশাপাশি বেশকিছু কাজ করেছি এই কিতাবে। যেমন আকিদা লামিয়্যার ব্যাপারে আমরা একটি গবেষণাধর্মী ভূমিকা লিখেছি, ব্যাখ্যাকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখে কিতাবের শুরুতে যুক্ত করে দিয়েছি, বেশকিছু প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন করেছি এবং ব্যাখ্যাকারের কথার পক্ষে প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো রেফারেন্স যুক্ত করেছি, যা ব্যাখ্যাকার যুক্ত করেননি। মহান আল্লাহ আমাদের এই সামান্য প্রচেষ্টাকে তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ করুন, আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং এর মাধ্যমে মূল লেখক, ব্যাখ্যাকার, অনুবাদক, প্রকাশক, পাঠক নির্বিশেষে সমগ্র মুসলিম জনসাধারণকে উপকৃত করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
মহান আল্লাহর ক্ষমাভিখারী বান্দা—
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা

টিকাঃ
১ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি আল-হাম্বালি, আল-উকুদুদ দুরিয়‍্যা ফি জিকরি বাদি মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা, তাহকিক : আলি বিন মুহাম্মাদ আল-ইমরান (রিয়াদ : দারু আতাআতিল ইলম, ৩য় প্রকাশ, ১৪৪০ হি./২০১৯ খ্রি.), পৃ. ৩৫।
২ যেমন রিয়াদস্থ কিং সউদ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে বিদ্যমান এই কবিতার ম্যানুস্ক্রিপ্ট, ম্যানুস্ক্রিপ্ট নং : ১৬/১৯২৮; জেদ্দাস্থ কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে বিদ্যমান এই কবিতার ম্যানুস্ক্রিপ্ট, ম্যানুস্ক্রিপ্ট নং : ৮২০, ২/২৩৫৬; গৃহীত: আলি বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল, আল-আসবাত ফি মাখতুতাতিল আয়িম্মা: শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা ওয়াল আল্লামা ইবনিল কাইয়্যিম ওয়াল হাফিজ ইবনি রজাব (রিয়াদ : প্রকাশনার নামবিহীন, প্র. ১৪২৩ হি./২০০২ খ্রি.), পৃ. ১৯২।
৩ আবুল বারাকাত নুমান বিন মাহমুদ আল-আলুসি, জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতিল আহমাদাইন (মাতবাআতুল মাদানি, প্রকাশের ক্রমধারাবিহীন, ১৪০১ হি./১৯৮১ খ্রি.), পৃ. ৭৩-৭৪।
৪ সালিহ বিন ইবরাহিম আল-বুলাইহি, আকিদাতুল মুসলিমিন ওয়ার রদ্দু আলাল মুলহিদিনা ওয়াল মুবতাদিয়িন (প্রকাশনার নামবিহীন, ২য় প্রকাশ, ১৪০৪ হি.), পৃ. ৪০৭-৪০৮।
৫ আহমাদ বিন হাজার আলু বুতামি, আশ-শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারা আলাইহি (সংযুক্ত আরব আমিরাত : দারুল ফাতহিশ শারিকা, ১ম প্রকাশ, ১৪১৫ হি./১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ১৩৭।
৬ আব্দুস সালাম বিন বারজিস আলু আব্দুল কারিম, আস-সহিহ মিনান নাজমিল ফাসিহ, পৃ. ৫-৬; গৃহীত : আব্দুস সালাম বিন বারজিস আলু আব্দুল কারিম, মাজমুউ মুআল্লাফাতি ওয়া তাহকিকাতি ফাদিলাতিশ শাইখিদ দুকতুর আব্দিস সালাম ইবনি বারজিস আলি আব্দিল কারিম (রিয়াদ : দারুস সামিয়ি, ১ম প্রকাশ, ১৪৩৫ হি./২০১৪ খ্রি.), পুস্তিকা নং: ১২।
৭ আব্দুল আজিজ বিন নাসির আর-রশিদ, আত-তাম্বিহাতুস সানিয়‍্যা আলাল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যা (দোহা : দারুল ইমামিল বুখারি, ১ম প্রকাশ, তাবি), পৃ. ৩৪২।
৮ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরিন, শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম আহমাদ ইবনি আব্দিল হালিম ইবনি তাইমিয়্যা (রিয়াদ : মুআসসাসাতুশ শাইখ ইবনি জিবরিন, ২য় প্রকাশ, ১৪৩৯ হি./২০১৮ খ্রি.), পৃ. ১০।
৯ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, শারহুস সাফফারিনিয়্যা (দারুল বাসিরা), পৃ. ৪২৭; গৃহীত : আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আল-আকল, বাদরুত তামাম শারহু লামিয়‍্যাতি শাইখিল ইসলাম (কাসিম : মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যা, ২য় প্রকাশ, ১৪৩৭ হি./২০১৬ খ্রি.), পৃ. ১৪; শাইখ ইবনু উসাইমিনের এই বক্তব্য আমাদের সংগ্রহে বিদ্যমান 'দারুল ওয়াতান' থেকে প্রকাশিত 'শারহুল আকিদাতিস সাফফারিনিয়্যা' কিতাবে নেই।
১০ বাকার বিন আব্দুল্লাহ আবু জাইদ, আল-মাদাখিল ইলা আসারি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা (রিয়াদ ও বৈরুত : দারু আতাআতিল ইলম ও দারু ইবনি হাজম, ৪র্থ প্রকাশ, ১৪৪০ হি./২০১৯ খ্রি.), পৃ. ৮০।
১১ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ সিন্ধি, “হাল তাসিহহু নিসবাতুল কাসিদাতিল লামিয়্যা লি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ? / উ.দু. সালিহ সিন্ধি”, ইউটিউবে প্রকাশকারী চ্যানেল : مقتطفات من دروس أ.د. صالح سندي, ভিডিও আপলোডের তারিখ : ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রি., এডুকেশনাল विडियो, https://youtu.be/GpeIDpObiOQ?si=bdyiarSyxnG4RCqb|
১২ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আলু আব্দুল লাতিফ, রাসায়িল ওয়া মাসায়িল মানসুবাতুন লিবনি তাইমিয়্যা (মাজাল্লাতুল বায়ান, ১ম প্রকাশ, ১৪৩২ হি.), পৃ. ২৪-২৮।
১৩ সুলাইমান বিন সিহমান আন-নাজদি, তাম্বিহু জাবিল আলবাবিস সালিমা আনিল উকুয়ি ফিল আলফাজিল মুবতাদাআতিল ওয়াখিমা (রিয়াদ : দারুল আসিমা, তাবি), পৃ. ২১।
১৪ আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর, শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যা (মক্কা : দারু তাইবাতিল খাদরা, ১ম প্রকাশ, ১৪৪১ হি./২০২০ খ্রি.), পৃ. ২০।
১৫ ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিম, শারহুল লামিয়্যা (রিয়াদ : দারুত তাদমুরিয়‍্যা, ১ম প্রকাশ, ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি.), পৃ. ৫।
১৬ আশ-শিবল, আল-আসবাত ফি মাখতুতাতিল আয়িম্মা, পৃ. ১৩১।
১৭ আল-খুদাইর, শারহু লামিয়্যাতি শাইখিল ইসলাম, পৃ. ২০।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 ব্যাখ্যাকারকের সংক্ষিপ্ত জীবনী

📄 ব্যাখ্যাকারকের সংক্ষিপ্ত জীবনী


আল্লামা আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজমি রাহিমাহুল্লাহ একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস, ফাকিহ, মুসনিদ এবং দক্ষিণ সৌদি আরবের মুফতি ছিলেন। তিনি ১৩৪৬ হিজরি মোতাবেক ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে সৌদি আরবের জাজান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকজন শিক্ষক হলেন-ইমাম আব্দুল্লাহ আল-কারআবি, ইমাম হাফিজ বিন আহমাদ আল-হাকামি, ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আলুশ শাইখ, ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুমুল্লাহ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ছাত্র হলেন-আল্লামা রাবি বিন হাদি আল-মাদখালি, আল্লামা জাইদ আল-মাদখালি, আল্লামা আলি বিন নাসির আল-ফাকিহি প্রমুখ।
বড়ো বড়ো আলিমের নিকট তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও অবস্থান ছিল। ইমাম সালিহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ (জ. ১৩৫৪ হি.) বলেছেন, “আমরা মহান আল্লাহর কাছে আমাদের ভাই, আমাদের প্রিয়জন শাইখ আহমাদ আন-নাজমির জন্য সুস্থতা ও নিরাময় কামনা করছি।”¹⁸
মদিনার মুহাদ্দিস আল্লামা রাবি আল-মাদখালি হাফিজাহুল্লাহ (জ. ১৩৫১ হি.) বলেছেন, “আমাদের শাইখ, জাজান প্রোভিন্সে হাদিস, তাওহিদ ও সুন্নাহর ঝাণ্ডাবাহী, আল-আল্লামা, আশ-শাইখ আহমাদ আন-নাজমি তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'আল-মাওরিদুল আজবুজ জুলাল ফিমা উনতুকিদা আলা বাদিল মানাহিজিদ দাআউয়িয়্যা মিনাল আকায়িদি ওয়াল আমাল'- এ যা লিখেছেন, তা পড়লাম। নিশ্চিতভাবেই আমাদের শাইখ সুন্দর ও ভালো লিখেছেন।”¹⁹
মদিনার আরেক মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মাদ বিন হাদি আল-মাদখালি হাফিজাহুল্লাহ (জ. ১৩৮৬ হি.) শাইখ নাজমির পরিচয় দিতে যেয়ে বলেছেন, “তিনি হলেন আমাদের সম্মাননীয় শাইখ, আল-আল্লামা, আল-মুহাদ্দিস, আল-মুসনিদ, আল-ফাকিহ, জাজান প্রোভিন্সের বর্তমান মুফতি, জাজান অঞ্চলে সুন্নাহ ও হাদিসের ঝাণ্ডাধারী, শাইখ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন শিব্বির আন-নাজমি।”²⁰
শাইখ নাজমি রাহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-আল-মাওরিদুল আজবুজ জুলাল ফিমা উনতুকিদা আলা বাদিল মানাহিজিদ দাআউয়িয়‍্যা মিনাল আকায়িদি ওয়াল আমাল, তাসিসুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম, আল-ইরশাদ ইলা বায়ানিল হাক্কি ফিল জিহাদ, আল-ফাতাওয়াল জালিয়্যা আনিল মানাহিজিদ দাআউয়িয়্যা প্রভৃতি।
এই মহান আলিম ১৪২৯ হিজরি মোতাবেক ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে দাখিল করুন। আমিন।²¹

টিকাঃ
১৮ সালিহ আল-ফাওজান, “কালামুশ শাইখ সালিহ আল-ফাওজান হাওলাল আল্লামা আহমাদ আন-নাজমি রাহিমাহুল্লাহ”, ইউটিউবে প্রকাশকারী চ্যানেল : أبو عبد الله يونس المغربي, ভিডিয়ো আপলোডের তারিখ : ১৩ই জুন, ২০১৩ খ্রি., এডুকেশনাল ভিডিয়ো, https://m.youtube.com/watch?v=MOMBqy_w3Xci
১৯ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজমি, আল-মাওরিদুল আজবুজ জুলাল ফিমা উনতুকিদা আলা বাদিল মানাহিজিদ দাআউয়িয়‍্যা মিনাল আকায়িদি ওয়াল আমাল (অন্তর্জালিক সংস্করণ, তাবি), পৃ. ১৫।
২০ আন-নাজমি, আল-মাওরিদুল আজবুজ জুলাল, পৃ. ৪।
২১ জীবনীসূত্র : আন-নাজমি, আল-মাওরিদুল আজবুজ জুলাল, পৃ. ৩-১৫।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 আকিদা লামিয়্যার মূলপাঠ

📄 আকিদা লামিয়্যার মূলপাঠ


بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।
يَا سَائِلِي عَنْ مَذْهَبِي وَعَقِيدَتِي ... رُزِقَ الهُدَى مَنْ لِلْهِدَايَةِ يَسْأَلُ
ওহে আমার মতাদর্শ ও আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী, যে ব্যক্তি হেদায়েত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করুন।
اسْمَعْ كَلامَ مُحَقَّقٍ فِي قَولِه ... لَا يَنْتَنِي عَنْهُ وَلَا يَتَبَدَّلُ
আপন মতাদর্শের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় গবেষক আকিদাধারীর কথা শুনুন; যিনি নিজের মতাদর্শ (আকিদা) থেকে সরে আসেন না এবং (সালাফদের মতাদর্শ পরিবর্তন করে) আদর্শের ক্ষেত্রে পরিবর্তিতও হন না।
حُبُّ الصَّحَابَةِ كَلِّهِمْ لِي مَذْهَبٌ ... وَمَوَدَّةُ الْقُرْبَى بِهَا أَتَوَسَلُ
সমুদয় সাহাবিকে ভালোবাসা আমার আদর্শ। আর নবিপরিবারকে ভালোবাসার অসিলায় আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনাও করি।
وَلِكُلِّهِمْ قَدْرٌ عَلا وَفَضَائِلٌ ... لَكِنَّمَا الصِّدِّيقُ مِنْهُمْ أَفْضَلُ
আর তাঁদের (সাহাবিবর্গের) প্রত্যেকেরই সুউন্নত সম্মান ও মর্যাদা আছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
وَأَقُولُ فِي القُرْآنِ مَا جَاءَتْ بِهِ ... آيَاتُهُ فَهُوَ الْكَرِيمُ الْمُنزَلُ
কুরআনের আয়াতসমূহ যা আনয়ন করেছে, কুরআনের ব্যাপারে আমি সেটাই বলি। বস্তুত কুরআন মহিমান্বিত নাজিলপ্রাপ্ত কিতাব।
وَأَقُولُ قَالَ اللهُ جَلَّ جَلالُهُ ... وَالْمُصْطَفَى الْهَادِي وَلَا أَتَأَوَّلُ
আমি বলি, 'মহান আল্লাহ বলেছেন, আর সুপথপ্রদর্শক মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।' (এর বাইরে গিয়ে) আমি (তাঁদের কথার) তাবিল বা ভিন্নার্থ করি না।
وَجَمِيعُ آيَاتِ الصَّفَاتِ أُمِيُّهَا ... حَقًّا كَمَا نَقَلَ الطَّرَازُ الأَوَّلُ
আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত সকল আয়াত আমি সত্যসত্যই সেভাবে সাব্যস্ত করি (ও ইমান রাখি), যেভাবে বর্ণনা করেছেন (এই উম্মতের) প্রথম প্রজন্ম।
وأَرُدُّ عُهْدَتَها إِلَى نُقَالِهَا ... وَأَصُونُها عَنْ كُلِّ مَا يُتَخَيَّلُ
আমি এই আকিদার জিম্মাদারি প্রত্যার্পণ করি উক্ত আকিদার বর্ণনাকারীদের (সালাফদের) কাছে। আর উক্ত আকিদাকে আমি হেফাজত করি যাবতীয় কল্পনাপ্রসূত বিষয় থেকে।
قُبْحاً لِمَنْ نَبَذَ القُرَانَ وَرَاءَهُ ... وَإِذَا اسْتَدَلَّ يَقُولُ قَالَ الأَخْطَلُ
সুতরাং ধিক সেই ব্যক্তির প্রতি, যে কুরআনকে নিজের পেছনে ছুঁড়ে ফেলে। আর দলিল পেশ করার সময় বলে বসে, “আখতাল বলেছেন এই কথা।”
وَالْمُؤْمِنُونَ يَرَوْنَ حَقًّا رَبَّهُمْ ... وَ إِلَى السَّمَاءِ بِغَيْرِ كَيْفَ يَنْزِلُ
মুমিনগণ সত্যিকারার্থেই তাঁদের রবকে দেখবেন। যিনি (মহান আল্লাহ) আসমানে নেমে আসেন; যার ধরন আমাদের অজানা।
وأُقِرُ بِالْمِيزَانِ وَالْحَوضِ الَّذِي ... أَرجُو بِأَنِّي مِنْهُ رَيَّا أَنْهَلُ
আমি আল-মিজান (দাঁড়িপাল্লা) সাব্যস্ত করি; এবং সাব্যস্ত করি হাওজকেও, যেই হাওজের ব্যাপারে আশা রাখি, তৃষ্ণা নিবারণের জন্য আমি সেখান থেকে পানি পান করব।
وَكَذَا الصِّراطُ يُمَدُّ فَوْقَ جَهَنَّمٍ ... فَمُسَلَّمْ نَاجٍ وَآخَرَ مُهْمَلُ
তদ্রুপ (স্বীকৃতি দিই), জাহান্নামের ওপরে বিস্তৃত পুলসিরাত থাকবে; কেউ কেউ সেখান থেকে নিরাপদে পরিত্রাণ পাবে, আবার কেউ কেউ হবে পরিত্যাক্ত।
والنَّارُ يَصْلاهَا الشَّقِيُّ بِحِكْمَةٍ ... وَكَذَا التَّقِيُّ إِلَى الجِنَانِ سَيَدْخُلُ
আল্লাহর হিকমা (প্রজ্ঞা) অনুযায়ী হতভাগা ব্যক্তি প্রবেশ করবে জাহান্নামে। তদ্রুপ মুত্তাকি বান্দাও প্রবেশ করবে জান্নাতে।
ولِكُلِّ حَيَّ عَاقِلٍ فِي قَبْرِهِ ... عَمَلٌ يُقَارِنُهُ هُنَاكَ وَيُسْأَلُ
প্রত্যেক বিবেকবান জীবিত ব্যক্তির কবরে (পার্থিব জীবনের) আমলই হবে তার সঙ্গী। আর সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে।
هذا اعْتِقَادُ الشَّافِعِي وَمَالِكٍ ... وَأَبِي حَنِيفَةَ ثُمَّ أَحْمَدَ يُنْقَلُ
এটাই শাফিয়ি, মালিক, আবু হানিফা ও আহমাদ থেকে বর্ণিত আকিদা।
فَإِنِ اتَّبَعْتَ سَبِيلَهُمْ فَمُوَفِّقٌ ... وَإِنِ ابْتَدَعْتَ فَمَا عَلَيْكَ مُعَوَّلُ
সুতরাং আপনি যদি তাঁদের পথ অনুসরণ করেন, তাহলে তৌফিকপ্রাপ্ত হবেন। আর যদি বিদাত করেন, তাহলে আপনার ওপর নির্ভর করা হবে না।

📘 আকিদা লামিয়্যা ও তার ব্যাখ্যা > 📄 ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা

📄 ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা


আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। সালাত ও সালাম ধার্য হোক আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি।
বক্ষ্যমাণ পুস্তিকা শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বিরচিত 'লামিয়‍্যা' কবিতার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00