📄 তাবীয ব্যাবহারের অতিত ও বর্তমান
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
তাবীজ ব্যবহার: অতীত ও বর্তমান
তাবীজ ব্যবহার জাহেলী যুগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সে যুগে মানুষের উপর চেপে বসেছিল অজ্ঞতা, আর তারা পরিণত হয়েছিল শয়তানের দাসে। তাই বৃদ্ধি পেয়েছিল তাদের ভ্রষ্টতা। যেমন, আল্লাহ তা,আলা বলেন:
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا الجن ٦
অর্থাৎ আর কতিপয় মানুষ কতক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত। (সূরা জিন ৬ আয়াত) জাহেলী যুগের ইতিহাসে উল্লেখিত হয়েছে যে, তৎকালীন আরবরা যখন কোন বিশাল মরু প্রান্তরে বন্য পশুদের এলাকায় গিয়ে পৌঁছতো তখন ভূত-প্রেত, জিন ও শয়তানের আশঙ্কা করত এবং কাফেলার মধ্যস্থিত একজন দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে এই বলে আওয়াজ দিত- আমরা এ উপত্যকারা সরদারের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন তারা কোন বিপদের সম্মুখীন হত না এবং উক্ত আওয়াজ তাদের জন্য নিরাপত্তা হিসাবে গণ্য করত। এজন্যই জাহেলী যুগের লোকেরা বিভিন্ন পশু জবাই করে নিজেদের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করত, যাতে তার কোন প্রকার ক্ষতি সাধন না করে। তাদের কেউ ঘর নির্মাণ করলে কিংবা কোন কূপ খনন করলে জিনদের ক্ষতি রোধের লক্ষে পশু জবাই করত। এভাবেই তাদের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধ মূল হয়ে গেল যে, কোন কোন পাথর, গাছপালা, জীবজন্তু এবং খনিজ পদার্থের এমন এমন গুণাবলি রয়েছে, যেগুলি তাদেরকে জিনের ক্ষতি এবং মানুষের বদ নজর থেকে রক্ষা করে। তাই সেগুলি দিয়ে তাবীজ বানিয়ে ব্যবহার করতে লাগল এবং সে গুলির উপর পূর্ণ ভরসা করতে লাগল। মূলত: এর প্রধান কারণ ছিল আল্লাহ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা, এবং তাঁর উপর পূর্ণ ভরসা ও বিশ্বাস না থাকা। এ কারণেই তাদের তাবীজ ব্যবহার ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তাদের কাছে প্রচলিত তাবীজগুলি নিম্নরূপ.
১। আননাফরা এটা এক ধরনের তাবীজ যা জিন ও মানুষের বদ নজর থেকে হিফাযতে থাকার জন্য শিশুদের হাত, পা কিংবা গলায় বেঁধে দেয়া হয়। আবার কখনও অপবিত্র জিনিস দ্বারা 'নাফরা' নামক তাবীজ দেয়া হত। যেমন ঋতু স্রাবের ন্যাকড়া, হাড় ইত্যাদি। কখনও বা বিশ্রী নাম দিয়ে তাবীজ বানাত। যেমন قنفذ কনফয ইত্যাদি।
২। শৃগাল কিংবা বিড়ালের দাঁত।
৩। العقرة আকরা- এটা ঐ তাবীজকে বলা হয়, যা মহিলারা বাচ্চা না হওয়ার কারণে কোমরে বাঁধে।
৪। الينجليب ইয়ানজালীব- স্বামী রাগ করলে বা কোথাও রাগ করে চলে গেলে তার মনকে স্ত্রীর প্রতি অনুরাগী করার জন্য কিংবা তার ফিরে আসার জন্য যে তাবীজ ব্যবহার করা হয় তাকে ইয়ানজালীব বলে।
৫। التولة তিয়ালা القزحلة কারযাহালা, در دبیس দারদাবীস, الكحلة কাহলা الكرار কারার এবং الهمرة হামরা- এসব হচ্ছে পূতি জাতীয় তাবীজ। স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার জন্য এগুলি ব্যবহার করা হয়। কারার এবং হামরা-এর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট মন্ত্র: یا کرار كريه يا همرة اهمريه أن أقبل فسريه وأن أدبر فضريه من فرجه إلى فيه. বলা বাহুল্য যে, এই মন্ত্র আল্লাহর ربوبية রবুবিয়্যত ও إلهية ইলাহিয়াত এর ক্ষেত্রে বড় শিরক। কারণ, মন্ত্রের ربوبية এই অংশে এই ধারণা ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এটা ক্ষতি ও উপকারের মালিক। আর ইহাই হচ্ছে রাবৃবিয়তের শিরক। অনুরূপভাবে, এই মন্ত্রে গাইরুল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে, তার কাছে দু'আ চাওয়া হয়েছে إلهية অংশে। সুতরাং, এটা ইলাহিয়াতের শিরক। আল্লাহ আমাদেরকে এসব শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দিন।
৬। الخصمة খাছমা- এই তাবীজ রাজা-বাদশাহ কিংবা বিচারকের কাছে যাওয়ার সময়, মামলায় জিতার জন্য আংটির নীচে, জামার বোতামে অথবা তরবারীর কভারে ব্যবহার করা হয়।
৭। العطفة আতফা- এটা ব্যবহারকারীর প্রতি মানুষের দয়া মায়া সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হয়।
৮। السلوانة সালওয়ানা- এটা সাদা পূতি জাতীয় বস্তু দ্বারা তৈরি তাবীজ। বালুতে পুতে রাখলে কাল হয়ে যায়। অতঃপর সেখান থেকে উঠিয়ে তা ধৌত করে অস্থির মানুষকে পানি পান করালে সে শান্তি ফিরে পায় বলে মনে করা হয়।
৯। القبلة কাবলা - বদ নজর থেকে রক্ষা পাবার জন্য সাদা পূতির এ তাবীজ ঘোড়ার গলায় বেঁধে দেয়া হয়।
১০। الودعة ওয়াদাআ- এটি পাথরের তাবীজ। বদ নজর থেকে হিফাযতে থাকার উদ্দেশ্যে এটাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়।
১১। যাকে সাপে দংশন করেছে, তার গলায় স্বর্ণের অলংকার বেঁধে দেয়া, আর ধারণা পোষণ করা যে, এরকম লোকের গলায় সীসার অলংকার ঝোলানো হলে সে মারা যাবে।
১২। যাদু ও বদ নজরের অনিষ্টতা থেকে বাঁচার জন্য খরগোশের হাঁড় ব্যবহার করা হয়।
১৩। تحويطة তাহবীতা লাল ও সাদা রংয়ের তাগায় ছিগা তুলে মহিলার কোমরে বাঁধা হয় এবং তাতে পূতি ও রৌপ্যের চন্দ্র গেঁথে দেয়া হয়। ঐ তাবীজ তাদের ধারণা মতে বদ নজর থেকে হিফাযত করে।
এগুলি হচ্ছে, জাহেলী যুগের তাবীজ সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস ও কিছু কুসংস্কারের চিত্র। তাবীযের আকার আকৃতি বা ধারণা পরিবর্তন হলেও আকীদাহ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এগুলির অনেকটাই বর্তমান সমাজে বিদ্যমান। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, জাহেলী যুগে যে ব্যক্তি বদ নজর থেকে বাছার জন্য ঘোড়ার গলায় খেজুরের ছিলা লটকাত এবং বর্তমানে বদ নজর থেকে বাঁচার জন্য যে জুতা লটকায় এত দু ভয়ের মধ্যে মূলত: কোন পার্থক্য নেই। উভয়ের হুকুম অভিন্ন। শায়খ নাছিরুদ্দিন, আল-বানী من علق تميمة فقد أشرك এই হাদীছকে সহীহ আখ্যায়িত করার পর তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, তাবীজ ব্যবহারের এই গোমরাহী বেদুঈন-কৃষক থেকে শুরু করে অনেক শহুরে লোকদের মধ্যেও ছড়িয়ে আছে। এভাবে দেখা যায়, অনেক ড্রাইভার তাদের গাড়ীর সামনের গ্লাসে তাগায় পূতি গেঁথে তা ঝুলিয়ে রাখে। অনুরূপভাবে, বাড়ি অথবা দোকানের সামনে ঘোড়ার খুরের লোহার আংটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ সকল জিনিস ব্যবহারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বদ নজর থেকে হিফাযতে থাকা। আসলে এ ধারণাগুলি তাওহীদ, শিরক ও মূর্তি পূজা সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। যুগে যুগে মানব সমাজে রাসূল প্রেরণ করার পিছনে যে কারণ ছিল, তা হল সমস্ত শিরক, মূর্তি পূজা, ইত্যাদি দুর করে তাওহীদকে প্রতিষ্ঠিত করা। সুতরাং, আজকের দুনিয়ায় মুসলিমদেরকে অজ্ঞতা, দ্বীন থেকে তাদের দুরত্ব ইত্যাদি থেকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি। মুসলিমরা যে শুধু দ্বীনের বিরোধী কাজ করে তাই নয় বরং তাদের অনেকেই এরূপ ধারণা পোষণ করে যে, এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, দালায়েল আল-খাইরাত গ্রন্থের লেখক শায়খ আল-জাযুলী বলেছেন: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد ما سجعت الحمائم وحمت الحوائم وسرحت البهائم ونفعت التمائم (سلسلة الأحاديث الصحيحة) অর্থাৎ হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সা. এবং তাঁর বংশধরের উপর শান্তি বর্ষণ করুন, ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ কবুতর গাইতে থাকে, পাখিরা ঘোরাফেরা করতে থাকে। (আস্ সিলসিলা আস-ছহীহা) বর্তমানেও অনেক দেশে বই আকারে শিরকী তাবীজ সমূহ ছাপানো হয় “আকবর” নামক কক্ষ পথে চন্দ্রের অবস্থান কালে সেই তাবীজগুলোতে বিচ্ছুর ছবি অঙ্কন করা হয়। এই তাবীজ সম্পর্কে ধারণা পোষণ করা হয় যে, এটা যার হাতে বাঁধা থাকবে তাকে বিচ্ছু দংশন করবে না। আল্লামা আশ্ শকীরী তার রচিত আসুনান ওয়াল- মুবতাদা'আত নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে সমস্ত শিরকী তাবীজ বর্তমান যুগে প্রসার লাভ করেছে, সেগুলির মধ্যে একটি নিম্নে প্রদত্ত হল। এই তাবীজ ঐ লোকের জন্য লেখা হয়, যার চক্ষু জ্বালা যন্ত্রণা করে। তাবীজটিতে লেখা হয়: قل هو الله أحد * إن في العين رمد * احمرار في البياض * حسبي الله الصمد * يا الهي باعترافي * في اعتزالك عن ولد * عاف عيني يا الهي * اكفني شر الرماد * ليس الله شريك * لا ولا كفوا احد অর্থাৎ বলুন আল্লাহ এক, চোখে জ্বালা যন্ত্রণা করছে, চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে গেছে, অমুখাপেক্ষী আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। প্রভু হে! আমি স্বীকার করছি, তুমি সন্তান থেকে পবিত্র, হে আল্লাহ আমার চক্ষু ভাল করে দাও, চোখের জালা যন্ত্রণা দুর করে দাও। আল্লাহর কোন অংশীদার নেই, নেই তাঁর কোন সমকক্ষ। লক্ষণীয় যে, উক্ত তাবীজ কুরআনের সাথে কবিতা মিশ্রিত করা হয়েছে, অথচ কুরআনকে কবিতা থেকে পবিত্র রাখা আমাদের কর্তব্য। (সুনান ও বিদ'আত) কিতাব الرحمة في الطب والحكمة নামক কিতাবে এরকম আরেকটি তাবীযের কথা উল্লেখ করেছেন যার দ্বারা অন্ধের তদবীর করা হয়: عزمت عليك ايتها العين بحق شراهيا براهيا ادنواي أصباؤت آل شداى عزمت عليك أيتها العين التي في فلان بحق شهت بهت اشهت (المصدر السابق) এই তা'বিজে শয়তানের নামে শপথ করা হয়েছে, সেটা শিরক ও কুফরের অন্তর্ভুক্ত। (আলালাহ আমাদেরকে কুফর ও শিরক থেকে হিফাযত করুন)। শায়খ আরো একটি তাবীযের বর্ণনা দিয়েছেন। তাবীজটি নিম্নরূপ: الم تر كيف فعل ربك بالقرينة الم يجعل كيد القرينة في تضليل وارسل علي القرينة طيرا أبابيل ترميهم بحجارة من سجيل فجعل القرينة كعصف مأكول يا عافی یا شدید ذا الطول (السنن المبتدعات ٣٣٢) এটা কি কুরআনের সাথে খেলা করা নয়? কুরআন বিকৃতি নয়? কুরআনের সাথে বিদ্রূপ করা নয়? এখন আমরা বুঝতে পারছি যে, যারা বলেছেন- কুরআনের তাবীজ হারাম তাদের কথা অনেক শক্তিশালী এবং অগ্রাধিকার যোগ্য। কারণ, এর দ্বারা ঐ সমস্ত শিরকের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, যেগুলির কিছু দৃষ্টান্ত একটু আগে আমরা পেশ করলাম। শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায বলেন- যে সকল মন্ত্র রোগী ও শিশুদের সাথে ঝুলিয়ে দেয়া হয়, সেগুলিও তামিমা- এর অন্তর্ভুক্ত। তাই সেগুলি ব্যবহার করা হারাম হবে, এটাই বিশুদ্ধ রায়। এসব শিরক হিসাবে পরিণত হবে। কারণ, রাসূল সা. এরশাদ করেছেন: من تعلق تميمة فلا أتم الله له. ومن تعلق ودعة فلا ودع الله له ولقول النبي صلى الله عليه وسلم من تعلق تميمة فقد أشرك وقوله صلى الله عليه وسلم الرقي والتمائم والتولة شرك অর্থাৎ যে ব্যক্তি তাবীজ ঝুলাবে, আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ বা সমাধা করবেন না। যে ব্যক্তি কড়ির তাবীজ ঝুলাবে, আল্লাহ তাকে শান্তি দেবেন না। নিশ্চয়ই ঝাড়-ফুক কিংবা মন্ত্র, তাবীজ এবং বিশেষ ধরনের ভালোবাসার তাবীজ ব্যবহার করা শিরক। আর যে তাবীজ ব্যবহার করল, সে শিরক করল। কুরআন হাদীসে তাবীযের ব্যাপারে এই মর্মে মতবিরোধ রয়েছে যে, এটা হারাম কিনা। বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, এটা হারাম। কারণ, প্রথমত: তামীমা প্রসঙ্গে যে সকল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, সবগুলোই ব্যাপক। অতএব, এগুলি কুরআনের হোক কিংবা কুরআনের বাইরের হোক কিংবা কুরআনের বাইরের হোক, সকল তাবীজকেই শামিল করে। দ্বিতীয়ত: শিরকের পথ বন্ধ করে দেয়ার নিমিত্তে সকল তাবীজ হারাম হওয়া উচিত। কারণ, কুরআনের তাবীজ বৈধ গণ্য হলে, সে পথে অন্যান্য তাবীযের আগমনও শুরু হবে। সেগুলি এবং কুরআনের তাবীজ একাকার হয়ে জটিল অবস্থার সৃষ্টি করবে। এভাবে নির্দ্বিধায় সকল তাবীযের ব্যবহার শুরু হয়ে যাবে এবং শিরকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এটা সকলেরই জানা যে, যে সমস্ত মাধ্যম বা উপকরণ মানুষকে শিরক কিংবা গুনাহর দিকে নিয়ে যায়, সেগুলি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। শায়খ মুম্মদ ছালেহ বিন 'ওছায়মিন তাবীজ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন- তাবীজ দুই ধরনের হয়ে থাকে। ১। কুরআনের তাবীজ এবং ২। কুরআন ছাড়া অন্যান্য জিনিসের তাবীজ, যার অর্থ বোধগম্য নয়। প্রথম প্রকারের তাবীযের ব্যাপারে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল স্তরের আলেমগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ তাবীজকে এই বলে জায়েয গণ্য করেছেন যে, তা কুরআনের নিন্মোক্ত দুটি আয়াতের অন্তর্ভুক্ত এবং এটা ব্যবহার করা, তার দ্বারা মন্দ ও অকল্যাণ দুর করা কুরআনি বরকতের অন্তর্ভুক্ত। وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (الاسراء ৮২) অর্থাৎ আমি অবতীর্ণ করেছি কুরআন, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য রহমত। (সূরা ইসরা ৮২ আয়াত) كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ (ص ২৯) অর্থাৎ এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি। (সূরা সাদ ২৯ আয়াত) আর কিছু সংখ্যক আলেমের মতে, এটা সম্পূর্ণ নাজায়েয। কারণ, নবী কারীম সা. থেকে সাব্যস্ত হয়নি যে, ওটা মন্দ দুর করার বা তা থেকে হিয়াযতে থাকার শরীয়ত সম্মত মাধ্যম। এ সমস্ত ক্ষেত্রে মূল নীতি হল الوفيق তাওফীক। এটাই নির্ভরযোগ্য। তাই কুরআনের হলেও, তাবীজ ঝোলানো নাজায়েয। এভাবে রুগির বালীশের নীচে রাখা, দেয়ালে ঝোলানো ইত্যাদি সবই নাজায়েয। এ ব্যাপারে শুধু এটুকুই শরীয়ত সম্মত যে, রুগ্ন ব্যক্তির জন্য দুআ করা যাবে এবং সরাসরি তার উপর পাঠ করা যাবে, যেমন রাসুলুল্লাহ সা. করতেন।