📘 আকীদার মানদণ্ডে তাবীজ > 📄 কুরআন-হাদীসে তাবীজ ব্যবহার করার হুকুম

📄 কুরআন-হাদীসে তাবীজ ব্যবহার করার হুকুম


তৃতীয় পরিচ্ছেদ
কুরআন ও হাদীসের তাবীজ দুআ হিসাবে ব্যবহার করার হুকুম
কুরআন, হাদীছ ও ছাহাবাদের মতামতের দলীলের আলোকে ত'বিজ ব্যবহারের হুকুম আমরা আলোচনা করছি। এতে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ব্যবহারকারীর অবস্থা ও তাবীযের বিষয় বস্তুর বিভিন্নতার কারণে ওটা হয়তো বা শিরকে আকবারে (বড় শিরক) নতুবা শিরকে আছগার (ছোট শিরক) বলে গণ্য হবে। এ হুকুমের মধ্যে কোন প্রকার মতপার্থক্য নেই। তবে কুরআন ও হাদীসের তাবীজ ব্যবহার করার মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এক শ্রেণির আলেমের মতে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুআ সমূহের তাবীজ ব্যবহার করা জায়েয। আর এই শ্রেণির তাবীজ উপরোক্ত হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়। যারা এই মত পোষণ করেন, তারা হলেন: সাঈদ বিন মুসাইয়িব, আতা আবু জাফর আল-বাকের, ইমাম মালেক। এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমদ, ইবনে আব্দুল বার, বাইহাকী, কুরতুবী, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাইয়িম এবং ইবনে হাজার। পক্ষান্তরে অধিকাংশ ছাহাবা রা. এবং তাঁদের পরে যারা এসেছেন, তাদের মতে কুরআন ও হাদীসের তাবীজ ব্যবহার করা জায়েয নেই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, উকবা বিন আমের, ইবনে ওকাইম, ইব্রাহীম নাখয়ী, একটি বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদ, ইবনুল আরাবী, শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান আলুশ শায়খ, শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, শায়খ আব্দুর রহমান বিন সা'আদী, হাফেজ আল হাকামী এবং মুহাম্মদ হামিদ আলফাকী। আর সম সাময়ীক মনীষীদের মধ্যে আছেন- শায়খ আলবাণী ও শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায প্রমুখ।
প্রথম মত পোষণকারীদের দলীলসমূহ সংক্ষেপে নিম্নে উপস্থাপন করা হল:
১। وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَة (الاسراء ৮২)
অর্থাৎ আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সু-চিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত। (সুরা ইসরা ৮২ আয়াত)
২। আয়েশা রা. বলেন: নিশ্চয়ই তাবীজ ঐ জিনিস যা বালা মুসিবতে পতিত হওয়ার পূর্বে শরীরে যা ধারণ করা হয়। পরে যা ব্যবহার করা হয় তা নয়। (বায়হাকী)
৩। আব্দুল্লাহ বিন 'আমরের রা. ব্যক্তিগত 'আমলে বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ বিন 'আমর রা. তাঁর ঐ সমস্ত সন্তানদের সাথে তাবীজ ঝুলিয়ে দিতেন, যারা ভয়ের দুআ মুখস্থ করার বয়স পর্যন্ত পৌঁছে।
দুআটি নিম্নরূপঃ
بسم الله أعوذ بكلمات الله التامات من غضبه وعقابه وشر عباده ومن همزات الشياطين وأن يحضرون (أحمد والترمذي وأبوداود)
অর্থাৎ আল্লাহর নামে তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে) (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, হাসান)
দ্বিতীয় মত পোষণ কারী গণ, যারা কুরআন ও হাদীসের তাবীজ ধারণ করা নিষিদ্ধ বলেছেন, তারা প্রথম মত পোষণকারীদের দলীল সমূহকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন না। কুরআনুল কারীম থেকে তাঁদের পেশকৃত আয়াতটি 'মুজমালা' বা সংক্ষিপ্ত। উপরন্তু রাসূল সা. কুরআনে পাক দ্বারা চিকিৎসা করার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আর তা হল কুরআন তিলাওয়াত এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এ ছাড়া কোন কিছু তাবীজ আকারে ব্যবহারের ব্যাপারে রাসূল সা. থেকে কোন বর্ণনা নেই। এমনকি এ ব্যাপারে ছাহাবাদের থেকেও কোন বর্ণনা নেই। তবে আয়িশার রা. উক্তি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ, যেহেতু কুরআন থেকে লটকানোর কোন বর্ণনা তাঁর ঐ হাদীসে নেই, বরং শুধুমাত্র বলা হয়েছে- “তাবীজ” ঐ জিনিস, যা বালা মুছিবতে পতিত হওয়ার পূর্বে (শরীরে) ধারণ করা হয়, পরে নয়। যেহেতু তাঁর এই কথা নিশ্চিতভাবে কিছু বোঝাচ্ছে না, তাই শুধু এই উক্তির ভিত্তিতেই এটা বলা যাবে না যে, আয়িশার রা. মতে কুরআনের তাবীজ ধারণ করা জায়েয। তা ছাড়া আব্দুল্লাহ বিন 'আমর রা. থেকে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা বিশুদ্ধ নয়। কারণ, ঐ হাদীসে মুহাম্মদ ইসহাক বর্ণনায় আন্ আনাহ্ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। অথচ তিনি মোহাদ্দিসগণের নিকট একজন মুদাল্লিস হিসাবে পরিচিত। (আবু দাউদ) শায়খ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফাকি র. ঐ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন- আব্দুল্লাহ বিন 'আমর রা. থেকে যে বর্ণনা এসেছে তা দুর্বল এবং এ ব্যাপারে সেটা দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। কারণ, এই হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যে, ইবনে 'আমর রা. তাঁর বয়স্ক সন্তাদেরকে ভয়ের দুআ মুখস্থ করাতেন এবং ছোট ছোট সন্তানদের জন্য লোহার পাতে লিখে গলায় লটকিয়ে দিতেন। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, ছোটদের মুখস্থ না থাকার কারণেই তিনি ওটা লটকাতেন, তাবীজ হিসাবে নয়। যেহেতু তাবীজ লেখা হয় কাগজে, পাতে নয়। ব্যাপারটা যখন এমন, তখন এটা পরিষ্কার যে, কুরআন ও হাদীসের তাবীজ সমর্থনকারীদের পক্ষে শক্তিশালী কোন দলীলই নেই।
নিম্ন বর্ণিত দলীল সমূহের মাধ্যমে নিষিদ্ধকারীদের মতামতের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়:
১। এই আলোচনায় তাবীজ সমূহ হারাম হওয়ার যে সমস্ত দলীল পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে, সেগুলিতে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতা বিদ্যমান এবং এর বিপরীতে কোন দলীল আসেনি। অতএব, দলীল গুলি ব্যাপকতার উপর বহাল থাকবে।
২। যদি তাবীজ ব্যবহার বৈধ হত তাহলে রাসূল সা. অবশ্যই স্পষ্ট ভাবে বলে দিতেন। যেমনি ঝাড়-ফুকের ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেছেন এবং তার মধ্যে যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার অনুমতি দিয়েছেন। রাসূল সা. বলেছেন: قال اعرضوا على رقاكم لا بأس بالرقى ما لم يكن فيها شرك (রواه মুসলিম) অর্থাৎ তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ কর, ওটা শিরকের আওতাধীন না হলে তাতে কোন প্রকার বাধা নেই। (মুসলিম) অথচ, তিনি তাবীজ সম্পর্কে এরূপ কিছু বলেন নি।
৩। এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার উপর ছাহাবাদের রা. যথেষ্ট বক্তব্য রয়েছে। আর যারা তার বিরোধিতা করেছেন, তাদের বক্তব্য ঠিক নয়। কারণ, ছাহাবাগণ এবং অধিকাংশ তাবেয়ী রাসূলের সা. হেদায়েত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। বিশেষ করে ইব্রাহীম নখয়ী ব্যাপক অর্থে বলেছেন যে, তারা কুরআন ও কুরআনের বাইরে যাবতীয় তাবীজ খারাপ মনে করতেন। শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান বলেন: এ কথা দ্বারা ইব্রাহীম নখয়ী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের রা. সাথী-সঙ্গীদেরকে বুঝিয়েছেন। যেমন আলকমা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, হারেছ বিন সোয়ায়েদ, ওবায়দা সঅলমানী, মাসরুক, রাবী বিন খায়সাম এবং সোয়ায়েদ বিন গাফলাহ প্রমুখ প্রসিদ্ধ তাবেয়ীগণ। উক্ত উদ্ধৃতিটি ইব্রাহীম নখয়ী র. তাবেয়ীনদের মতামত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন। হাফেজ ইরাকী এবং অন্যান্যদের বক্তব্য থেকে এটাই প্রমাণিত হয়। (ফতহুল মজীদ)
৪। শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষেধ কাজ সমূহের পথ বন্ধ করে দোয়া ওয়াজিব, যাতে কুরআনী তাবীযের সাথে শিরকী তাবীজ মিলে না যায়। এ রকম ঘটলে শিরকী তাবীজ নিষিদ্ধ করার সুযোগও থাকবে না। শায়খ হাফেয হাকামী বলেন: নিঃসন্দেহে এ নিষেধাজ্ঞা বাতিল 'আকীদাহ রুদ্ধ করার উত্তম পথ, বিশেষ করে আমাদের এ যুগে। ছাহাবা এবং তাবেয়ীনদের অন্তরে পাহাড়ের চেয়েও বৃহৎ ঈমান বিদ্যমান ছিল এবং তাঁদের সেই যুগ অনেক অনেক পবিত্র ছিল। তা সত্ত্বেও, তাঁদের অধিকাংশাই তাবীজকে খারাপ মনে করেছেন। সুতরাং, আমাদের এ ফিতনার যুগে তাবীজ পরিহার করা অধিক উত্তম। আর কেনইবা পরিহার করা উত্তম হবে না, অথচ তাবীজ পন্থীরা এ সুযোগ হারাম ও অত্যাচারের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমনকি তাদের অনেকেই তাবীজে কুরআনের আয়াত, সুরা, বিসমিল্লাহ অথবা এ জাতীয় পবিত্র জিনিস লিপিবদ্ধ করে, অতঃপর সেগুলির নীচে শয়তানের তেলেসমাতী লিখে থাকে, যেগুলোর অর্থ ঐ সমস্ত শয়তানী কিতাব যারা পাঠ করেছে, তারা ছাড়া আর কেউ বুঝে না। অন্যদিকে তারা সাধারণ মানুষের মন আল্লাহর উপর ভরসা করা থেকে বিমুখ করে, তাদের লিখিত তাবীযের প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলে। শুধু তাই নয়, ঐ সমস্ত শয়তানদের প্ররোচনার কারণে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অথচ তাদের কোন কিছুই হয়নি। অতঃপর তাদের প্রতি আসক্তির সুযোগে তাদের সহায়-সম্পদ লুটে নেয়ার ফন্দি আটে এবং তাদেরকে বলে, তোমাদের পরিবারে বা ধন সম্পত্তিতে অথবা উপর এরূপ এরূপ বিপদ আসবে, অথবা বলে- তোমার পিছনে জিন লেগেছে ইত্যাদি। এভাবে এমন কতকগুলো শয়তানী কথা-বার্তা তুলে ধরে যেগুলোর শুনে সে মনে করে যে, এ লোক ঠিকই বলেছে এবং তার প্রতি সে যথেষ্ট দয়াবান বলেই তার উপকার করতে চায়। ফলে সরলমনা মূর্খ লোকের অন্তর তার কথা শুনে ভয়ে অস্থির হয়ে যায়। তখন সে আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে এই দাজ্জালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার উপর ভরসা করতে থাকে। অবশেষে, তাকে জিজ্ঞেস করে যে, এ বিপদ থেকে বাঁচার উপায় কি? তার প্রশ্ন শুনে মনে হয়-যেন ঐ লোকের হাতেই ভাল-মন্দের চাবি কাঠি। এভাবে ঐ প্রতারক স্বীয় উদ্দেশ্য হাছিল করে নেয়। এবং তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বলে, যদি তুমি আমাকে এত এত পরিমাণ টাকা দাও বা অমুক জিনিস দাও, তাহলে তোমার এতখানি দৈর্ঘ্য প্রস্তের প্রতিরোধক তাবীজ লিখে দেব এবং আরো সাজিয়ে গুছিয়ে বরে যে, এই প্রতিরোধক তাবীজ অমুক অমুক বস্তু দিয়ে গলায় ধারণ করবে এবং তাবিজটা এই এই রোগের জন্য ব্যবহার করবে। শায়খ হাফেজ আল হাকামী বলেন: এই বিশ্বাস বা আকীদাহর সাথে আপনি কি মনে করেন যে, এ কাজটি শিরকে আছগর? না, আদৌ তা নয়। বরং সে তাবীযের মাধ্যমে আল্লাহকে বাদ দিয়ে গাইরুল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হল, অন্যের উপর ভরসা করল, অন্যের কাছে আশ্রয় চাইল এবং সৃষ্টির কাজের প্রতি ঝুঁকে পড়ল। আর এভাবে তাবীজকারী তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে সরিয়ে দিল। শয়তান কি কখনো তার ভাই, মানব শয়তানের মাধ্যম ছাড়া এরূপ করার ক্ষমতা রাখে? আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: قُلْ مَنْ يَكْلَؤُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَنِ بَلْ هُمْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِمْ مُعْرِضُونَ الأنبياء ٤٢ অর্থাৎ বলুন: রহমান থেকে কে তোমাদেরকে হিফাযত করবে রাতে ও দিনে। বরং তারা তাদের পালন কর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। (সূরা আম্বিয়া ৪২ আয়াত) অতঃপর সে (মানুষরূপী শয়তান) তাবীযের মধ্যে শয়তানের তেলেসমাতির সাথে কিছু কুরআনের আয়াত লিখে দেয় এবং অপবিত্র অবস্থায় তাবীজটি লটকিয়ে দেয়। আর এ অবস্থায় সে পেশাব-পায়খানা করে, কামনা বাসনা করে। এক কথায়, সর্বাবস্থায় তার সাথে এ তাবীজ ঝোলানো থাকে। যত অপবিত্র অবস্থায়ই হোক না কেন, সে তার বিন্দু মাত্র পরওয়া কিংবা সম্মানও করে না। আল্লাহর শপথ! কুরআনের চরম শত্রুরাও তার এত অমর্যাদা ও বেইযযতি করেনি, যা এই মুসলিম দাবীদার শয়তানরা করেছে এবং করছে। আল্লাহর শপথ! কুরআন পাক অবতীর্ণ হয়েছে একমাত্র এই লক্ষে যে, মানুষ তা তিলাওয়াত করবে, তার মর্ম অনুযায়ী আমল করবে, তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে, তার বাণী মনে প্রাণে বিশ্বাস করবে, তার নির্ধারিত সীমার মধ্যে অটুট থাকবে, তার ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং এই বিশ্বাস করবে যে, কুরআনের সব কিছুই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে। অথচ ওরা (তাবীজপন্থিরা) এসব লক্ষ্য ত্যাগ করেছে এবং এগুলোকে তারা পিছনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, একমাত্র তা কাগজে লেখা ছাড়া আর কিছুই বাকি রাখেনি। এভাবে তারা কুরআনকে তারা রুজির মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে, আর এ পন্থায় আয়ের যত হারাম ব্যবস্থা আছে তার সব টুকুই গ্রহণ করে নিয়েছে। যদি কোন শাসক তার অধীনস্থ কাউকে এ বলে চিঠি পাঠায় যে, এটা কর- ওটা ছেড়ে দাও, তোমার পক্ষ থেকে এভাবে নির্দেশ দাও, আর এভাবে নিষেধ কর ইত্যাদি। আর ঐ ব্যক্তি উক্ত চিঠিটা না পড়ে, তার আদেশ নিষেধ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা না করে, যাদের কাছে শাসক তা প্রচার করতে বলেছে, তাদের কাছে না পৌঁছিয়ে, তাকে তাবীজ বানিয়ে হাতে ও গলায় ব্যবহার করে এবং তাত যা লেখা আছে তার প্রতি মোটেও দৃষ্টিপাত না করে, তবে তাকে নিশ্চয়ই উক্ত শাসক কঠিন শাস্তি দেবেন। অতএব, দুনিয়ার শাসকের নির্দেশ অমান্য করলে যদি এ পরিণতি হয়, তা হলে নভঃমন্ডল ও ভূমণ্ডলের সর্বশক্তিমান অধিপতি, রাজাধিরাজ আল্লাহ প্রদত্ত কুরআনের নির্দেশ অমান্য করলে কি ভয়াবহ পরিণতি হবে তা সহজেই অনুমেয়। কারণ, তিনি এমন এক সত্তা যাঁর জন্যই সর্বাবস্থায় সকল প্রশংসা এবং যার নিকট সকল কিছুই প্রত্যাবর্তিত হবে। অতএব, তাঁরই ইবাদত কর এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল কর। তিনিই সবার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করলাম। আর তিনিই আরশে আযীমের অধিপতি। (মা 'রেফুল কুরআন ১/৩৮২) ৫। অনেক সময় কুরআনের তাবীজ ধারণ করায় তার অবমাননা করা হয়। যেমন, তাবীজসহ পায়খানা প্রস্রাবখানায় প্রবেশ করা ইত্যাদি। ৬। যারা কুরআনের অর্থ বুঝে না, অথবা তার সম্মান করতে জানে না, তারা যদি কুরআনের তাবীজ সাথে ধারণ করে, তবে তাদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত আয়াত প্রযোজ্য হয়: كَمَثَلِ الحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا (الجمعة ৫) অর্থাৎ তারা যেন পুস্তক বহনকারী গর্দভ। (সুরা জুমুআ' ৫ আয়াত) কারণ, তারা তার মর্ম বুঝে না, তার সম্মান সম্পর্কে অজ্ঞ, এমনকি অনেক সময় তার উপর নাপাক লাগিয়ে দেয় যখন সে পাগল বা ভাল মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা রাখে না। ৭। কুরআনের তাবীজ ধারণ করলে সাধারণত: মোআওয়াজাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়ার সুন্নত প্রথা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। কারণ, যারা সম্পূর্ণ কুরআন গলায় ঝুলায় তারা মনে করে- সূরা ফালাক, নাস ও আয়াতুল কুরসী ইত্যাদি পাঠ করে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ, পূর্ণ কুরআনই তো তারা ধারণ করে আছে। ৮। কুরআনের তাবীজ ঝোলানোর ব্যাপারটা, দলীলের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা থাকার কারণে জায়েয কি হারাম সেটা বলা দুষ্কর। আর যে মাসলাহর অবস্থা এরূপ হয়, ফিতনা ফাসাদ থেকে বাঁচার জন্য সেসব কার্য পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00