📄 আল্লাহর ভয়ে সদা ক্রন্দন করে যারা
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
اَلَمْ يَاْنِ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا اَنْ تَخْشَعَ قُلُوْبُهُمْ لِذِكْرِ اللّٰهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَّكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْاَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوْبُهُمْ وَكَثِيْرٌ مِّنْهُمْ فٰسِقُوْنَ
'যারা মুমিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং (তাঁর কাছ থেকে) যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মতো যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।'২৭০
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। তাঁর কাছেই আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অন্তরের মন্দ ভাব ও খারাপ কর্ম থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যাকে তিনি হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার মতো আর কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার মতো আর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَلَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَاَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যেমনভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।'২৭১
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُم رَقِيباً
'হে মানব-সমাজ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, অতঃপর সেই দুজন থেকে বিস্তার করেছেন বহু নর-নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট (অধিকার) চেয়ে থাকো এবং সতর্ক থাকো আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।' ২৭২
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً- يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহাসাফল্য অর্জন করল।' ২৭৩
'নিশ্চয় সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কথা। সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদ ﷺ-এর হিদায়াত। নিকৃষ্ট বিষয় হলো নব আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ। আর সকল নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত। আর সকল বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং সকল ভ্রষ্টতার শেষ পরিণাম জাহান্নাম।'
আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের গুণ বর্ণনা করে বলেন: إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّداً وَبُكِياً 'এদের সামনে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত।'২৭৪
وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعاً 'আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।' ২৭৫
রাসুল বলেছেন:
لَا يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ تَعَالَى حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ، وَلَا يَجْتَمِعُ غُبَارُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ نَارِ جَهَنَّمَ 'আল্লাহর ভয়ে কান্না করেছে এমন ব্যক্তির জাহান্নামে প্রবেশ করা এমনই অসম্ভব, যেমন (দোহনকৃত) দুধ ওলানে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। এবং আল্লাহর রাস্তার ধুলোবালি ও জাহান্নামের আগুন কখনো একত্রিত হবে না।'২৭৬
আবুল জিলদ জাইলান বিন ফাওরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি দাউদ -এর মাসআলার মধ্যে পড়েছি যে, তিনি বলেছেন, “হে আমার প্রতিপালক, আপনার ভয়ে যে ব্যক্তির চোখের অশ্রু তার গণ্ডদেশে গড়িয়ে পড়েছে, তার প্রতিদান কী?" তিনি বলেন, "তার প্রতিদান হলো, তার চেহারাকে আগুনের ওপর হারাম করে দেবো এবং মহা আতঙ্কের দিন তাকে নিরাপদ রাখব।"'
সুতরাং বোঝা গেলো, আল্লাহর দরবারে কান্নার যেমন শরয়ি মূল্যায়ন আছে, তেমনই এটি একটি ইবাদতও বটে। আর আল্লাহর ভয়ে কান্না করা তাঁর রহমতের চাবিতুল্য।
আলোচনা শুরু করার পূর্বে আমি আপনাদের এ কথা বলছি না যে, আপনারা ক্রন্দন করবেন না। না, বরং অবশ্যই অবশ্যই ক্রন্দন করবেন। তবে প্রশ্ন হলো কীজন্য ক্রন্দন করবেন? হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর দরবারে আমাদের বিপদাপদ ও কষ্টের কারণে কান্না করব। কেউ কান্না করে বাবা-মা'র জন্য, কেউ ভাই-বোনের জন্য, আবার কেউ সঙ্গী, সাথি, নিকটস্থ প্রতিবেশী বা বন্ধুবান্ধবের জন্য, কেউ ক্ষতিতে পতিত হওয়ার কারণে কান্না করে; বরং সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো অনেকে তো এমনও আছে, যারা টেলিভিশনে বা ডিশে কোনো নাটক-সিরিয়াল ও মুভি দেখেও কান্না করে থাকে। আবার অনেকে টুর্নামেন্ট বা খেলা দেখেও কান্না করে। হায়, এরা যে কত ক্ষতিগ্রস্ত! আল্লাহর কসম, তাদের ও আমাদের অশ্রুর মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। রাসুল -এর ইনতিকালের পর একদিন উম্মে আইমান -এর কাছে আবু বকর ও উমর উপস্থিত হলেন। তাঁরা তার খোঁজখবর নিতে এসেছেন। তখন তিনি কাঁদছিলেন। তাই তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, “হে উম্মে আইমান, আপনি কেন কাঁদছেন? আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা তাঁর রাসুলের জন্য উত্তম?” তিনি উত্তরে বলেন, “হ্যাঁ, আমি জানি, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা তাঁর রাসুলের জন্য অনেক উত্তম। কিন্তু আমি কাঁদছি ওহি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে।"
রাসুল ইনতিকাল করায় তিনি উম্মতের জন্য ভয়, দুঃখ ও কষ্টের কারণে কান্না করেছেন। তাহলে তাঁদের ব্যাপারে আমি আর কীই বা বলব! তাঁদের মাঝে এমনও অনেকে ছিলেন, যাঁদের অশ্রুতে জমিন সিক্ত হয়েছে। তাঁদের কারও সামনে জাহান্নামের আলোচনা করা হলে প্রায় অচেতন হয়ে মাথা নত করে ফেলতেন। আজানের আওয়াজ কানে আসলে ভয়ে প্রকম্পিত হতেন। যখন তাঁদের কেউ নামাজের জন্য অজু করতেন, তখন তাঁর চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করত এবং চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ত।
প্রিয় ভাই ও বোন,
আপনার কানে জানাজার আজানের আওয়াজ আসার পূর্বে অন্তরের কান দিয়ে শ্রবণ করুন। এক মহিলা ইমাম আওজায়ি -এর স্ত্রীর কাছে গেলেন। অতঃপর সেই মহিলা ইমাম আওজায়িরের নামাজের স্থানটি পরিদর্শনকালে দেখলেন যে, সেখানে পানি লেগে আছে। তাই মহিলাটি ইমাম আওজায়িরের স্ত্রীকে এসে বললেন, 'তোমার মা সন্তানহারা হোক! তুমি বাচ্চাদের ব্যাপারে উদাসীন হওয়ার কারণে তারা আওজায়িরের নামাজের জায়গায় প্রশ্রাব করে দিয়েছে।' এ কথা শুনে ইমাম আওজায়িরের স্ত্রী বললেন, 'না, এগুলো প্রশ্রাব নয়; বরং এগুলো হলো আওজায়িরের চোখের পানি।'
কতই না মূল্যবান সেই অশ্রুগুলো! এগুলোর দাম কতই না বেশি! সালিহিনের ঘটনা শুনলে অন্তর জীবিত থাকে। তাদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে সৌভাগ্য অর্জিত হয়।
আল্লাহর বান্দারা, এই ধারণা থেকে আপনাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে যে, কেবল দুর্বল ব্যক্তিদের সাথেই কান্নার সম্পর্ক রয়েছে। বীরদের জন্য কান্না করা সাজে না। হ্যাঁ, শত্রুদের মুখোমুখি হওয়ার সময়ে কান্না করাটা বীরদের জন্য সাজে না। ঘোড়ার হেষাধ্বনি, অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনলে এবং দেহের অঙ্গগুলো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলে কান্না করা শোভা পায় না। বরং তখন কান্না করা ভীতু লোকদের কাজ। আর আমরা যেই কান্নার কথা বলছি, তা হলো, আল্লাহর ভয়, শাস্তির আতঙ্ক, অবনত অবস্থায়, নিচু হয়ে এবং তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে কান্না করা। নিশ্চয় এই কান্না হলো মহা প্রতাপশালী ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য নত হয়ে কান্না করা। সেই মহান সত্তার ভয়ে কান্না করা, যিনি চিরঞ্জীব—কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।
আব্দুল্লাহ বিন শিখখির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ يُصَلَّى وَلِجَوْفِهِ أَزيزُ كَأزيز الْمِرْجَلِ يَعْنِي: يَبْكِي
'আমি নবিজি -এর নিকট এসেছি। তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। আর তাঁর হৃদয় থেকে উত্তপ্ত পাতিলের ন্যায় টগটগ আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল অর্থাৎ তিনি কাঁদছিলেন।'২৭৭
যিনি বীরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর এবং সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ ঘোড়সওয়ার, তিনিই কান্না করছেন।
রাসুল -এর অসুস্থতার সময় যখন তিনি আবু বকর -কে নামাজের ইমামতির জন্য খবর পাঠিয়েছেন, তখন আয়িশা বলেন, 'নিশ্চয় আবু বকর একজন নরম (কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও দ্রুত ক্রন্দনকারী) দিলের পুরুষ। যদি তিনি আপনার স্থানে দণ্ডায়মান হন, তাহলে তিনি কান্নাই করবেন— তিলাওয়াত করতে পারবেন না।' অন্য বর্ণনায় আছে, 'আবু বকর যখন আপনার স্থলাভিষিক্ত হবেন, মানুষ কান্নার কারণে কিছুই শুনতে পারবে না।'২৭৮
কিন্তু আপনারা লক্ষ করুন আবু বকর -এর বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা, শক্তিমত্তা ও রিদ্দার যুদ্ধের সময় তাঁর দৃঢ়তার প্রতি। যেদিন তিনি মুরতাদদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এমন মহান ব্যক্তির আজ বড়ই প্রয়োজন। তখন আবু বকর প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। আর আল্লাহ তাআলাও তাঁর মাধ্যমে বিরুদ্ধবাদীদের আধিক্য সত্ত্বেও দ্বীনের অনেক খিদমত আনজাম দিয়েছেন।
আর উমর ফারুক তো কঠিন স্বভাবের হিসেবেই পরিচিত সকলের কাছে। তাঁর মাঝে এত কঠোরতা, রাগ-ক্রোধ থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রভুর দরবারে প্রার্থনা করে কাঁদতেন এবং অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি।
ইমাম বুখারি আব্দুল্লাহ বিন শাদ্দাদ -এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'আমি শেষ কাতারে ছিলাম। তখন আমি উমরকে ঘড় ঘড় শব্দে কাঁদিতে অবস্থায় (أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ) "আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি।" (-সুরা ইউসুফ: ৮৬) এই আয়াত পড়তে শুনেছি।'২৭৯
হে ভাই, সত্য করে বলুন তো, কুরআনের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে কখনো কি আপনার অশ্রু ঝরেছে? যেই আয়াতগুলো প্রতিনিয়ত আপনাকে জান্নাতের বিভিন্ন নিয়ামতরাজি ও জাহান্নামের বিভিন্ন খবরাখবর দিয়ে যাচ্ছে! আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব ও সালিহিনের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে ইরশাদ করেন:
اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُّتَشَابِها مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَن يُضْلِلْ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
'আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী তথা কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার অংশসমূহ পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়। যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, এ বাণীতে তাদের চামড়া কেঁপে ওঠে। তারপর তাদের শরীর ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটা আল্লাহর পথনির্দেশ। এর দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা পথ নির্দেশ করেন। আর আল্লাহ যাকে বিপথে নেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। '২৮০
ইবনে মাসউদ বলেন, 'আমি রাসুল-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেন, "আমার সামনে কুরআন তিলাওয়াত করো।” আমি বললাম, "আমি আপনার সামনে কুরআন তিলাওয়াত করব?! অথচ আপনার ওপর কুরআন নাজিল করা হয়েছে।” রাসুল বললেন, "আমার কাছে অন্যের মুখ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করতে ভালো লাগে।" ইবনে মাসউদ বলেন, 'অতঃপর আমি সুরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন আমি (فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاء شَهِيداً) তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের ওপর সাক্ষীরূপে।”২৮১ এই আয়াত পাঠ করলাম (এই আয়াত দ্বারা রাসুল-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।), তখন তিনি বললেন, “আপাতত যথেষ্ট হয়েছে।” তারপর আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখি, তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। '২৮২
মহান রবের ভয় এবং উম্মতের জন্য দরদ ও মায়া-মমতার কারণেই তাঁর এই অবস্থা হলো। আমি আপনাদের সামনে সেই আয়াতে কারিমা তিলাওয়াত করছি, যাতে সেই মহান দিবসের কঠিন অবস্থা আপনারা বুঝতে পারেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاء شَهِيداً - يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثاً
'সুতরাং তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের ওপর সাক্ষীরূপে। যারা কুফরি করেছে এবং রাসুলের অবাধ্য হয়েছে, তারা সেদিন কামনা করবে, যদি তাদেরসহ মাটি সমান করে দেওয়া হতো (মাটির সাথে তাদের মিশিয়ে দেওয়া হতো)! তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথাই গোপন করতে পারবে না।'২৮৩
হে আল্লাহ, আমি আপনার প্রতি আগ্রহের কারণে কান্না করেছি। আমাকে জান্নাতে আপনার কাছে আশ্রয় দিন। আমি জাহান্নামের ভয়ে কান্না করেছি। আপনার দর্শন যদি না মিলে! সেই আশঙ্কায় কান্না করেছি। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামিদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন:
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ - كَلَّا إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّمَحْجُوبُونَ - ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُوا الْجَحِيمِ - ثُمَّ يُقَالُ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تُكَذِّبُونَ
কখনো না (তাদের কথা ঠিক নয়); বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। কখনো না; সেদিন তারা তাদের প্রভু থেকে অবশ্যই আড়ালে থাকবে। অতঃপর অবশ্যই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তারপর বলা হবে, এটা তো তা-ই, যা তোমরা অবিশ্বাস করতে।২৮৪
আল্লাহর কসম, জান্নাতের মধ্যে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে দেখার চেয়ে আর কোনো নিয়ামতই এত সুখের ও মজার নয়। আর আল্লাহ তাআলাকে দেখতে না পারার কষ্টের চেয়ে জাহান্নামের কোনো আজাবই এত কষ্টদায়ক নয়।
ইবনে উসাইমিন বলেন, 'আল্লাহর কসম, যদি অন্তরগুলো আহত হতো, তাহলে ব্যথায় খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যেত এবং দুঃখে বিদীর্ণ হয়ে যেত। আর সে বলত : وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُم مُّلَاقُوهُ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ “আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর মুমিনদের সুসংবাদ দিন।”২৮৫ আল্লাহ তাআলাকে দেখার সুসংবাদের চেয়ে আর কোন সুসংবাদ বড় হতে পারে!? প্রত্যেক আশিক তার মাশুককে দেখার আগ্রহে থাকে।
সালিহ আল-মুররি বলেন, 'কাব আল-আহবার থেকে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি গুনাহের ভয়ে কান্না করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, আর যে আল্লাহর প্রতি আসক্ত হয়ে কান্না করে, তার জন্য আল্লাহকে দেখা বৈধ হয়ে যায়। সে যখন ইচ্ছা, তখনই আল্লাহকে দেখতে পাবে।"
ঈসা মুআল্লিম জাদান আবু উমর থেকে বর্ণনা করে বলেন, 'আমাদের কাছে এই খবর এসেছে যে, "যে ব্যক্তি জাহান্নামের ভয়ে কান্না করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। আর যে ব্যক্তি জান্নাতের আশায় কান্না করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
হে আল্লাহ, আপনার অনুগ্রহ থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না।
হাদিস শরিফে এসেছে। রাসুল বলেন:
وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا، وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشَاتِ، وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ، تَجْأَرُونَ إِلَى الله
'আল্লাহর কসম, আমি যা জানি, যদি তোমরা তা জানতে, তাহলে তোমরা অল্পই হাসতে আর বেশি ক্রন্দন করতে, বিছানায় স্ত্রী সম্ভোগ করতে না এবং চিৎকার করে আল্লাহর কাছে দুআ করতে করতে পথে-প্রান্তরে বেরিয়ে পড়তে।'২৮৬
আবু জার যখন এই হাদিসটি শুনেছেন, তখন বলেছেন, 'আমার ইচ্ছে হয় যদি আমি এমন কোনো গাছ হতাম, যা উপকারে আসে!'
আল্লাহর কসম, যদি আমাদের হৃদয়গুলো আহত হতো, তাহলে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার ব্যথায় খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের হৃদয়গুলো দুনিয়ার ভালোবাসায় মাতাল হয়ে আছে। কিছু কাল পরেই তার জ্ঞান ফিরে আসবে।
ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'মানুষ দুনিয়ায় যা কিছু ছেড়ে এসেছে, পরিতাপ ও ভয়ের সাথে যদি সেগুলোর জন্য তার অন্তর ব্যথিত না হয়, তাহলে সে আখিরাতে যখন বাস্তবতার সম্মুখীন হবে, তখন সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে যাবে।' সুতরাং অবশ্যই অন্তর ব্যথিত হবে। হয়তো সেটা দুনিয়াতে অথবা আখিরাতে। তাই আপনাদের ইচ্ছা এবার। দুনিয়ায় ব্যথিত হবেন নাকি আখিরাতে গিয়ে ব্যথিত হবেন। আমাদের ও তাদের মাঝে পার্থক্য হলো, স্বল্প বিস্তৃত কথাগুলো তাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং কাঁদায়। আর আমরা বারবার বাধা-প্রতিবন্ধকতার কথা শুনি। কিন্তু আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তনই হয় না।
একবার উমর বিন আব্দুল আজিজ তার এক গোলামকে একটি ভুলের কারণে প্রহার করতে উদ্যত হলেন। তখন গোলাম তাকে বলল, 'হে উমর, আল্লাহকে ভয় করো। হে উমর, আল্লাহকে ভয় করো। আর সেই রাতের কথা স্মরণ করো, যে রাত পেরুলেই কিয়ামত শুরু হয়ে যাবে।' অতঃপর উমর বিন আব্দুল আজিজ কাঁদতে লাগলেন। তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত কান্না বন্ধ করেননি, যতক্ষণ না শুনেছেন যে, কেউ তাকে ডাকছে। তার মৃত্যুর সময় যখন উপস্থিত হয়েছে, তখন তার কাছে এই আয়াত তিলাওয়াত করা হচ্ছিল, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
'এই পরকালের আবাস আমি তাদের জন্যই নির্ধারিত করি, যারা পৃথিবীতে ঔদ্বত্য দেখাতে কিংবা ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণام আল্লাহভীরুদের জন্য। '২৮৭
হে ভাই ও বোন, আপনাদের আমি জিজ্ঞেস করছি, আপনাদের পাপগুলো কি আপনাদের কাঁদায় কখনো? অদৃশ্যের খবর সম্পর্কে জ্ঞাত আল্লাহ তাআলার ওপর দুঃসাহসের কারণে কি কান্না আসে না?
হে পাপীরা, তোমরা ভালো করে শোনো (আমরা প্রত্যেকেই তো পাপী), উকবা বিন আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, মুক্তি কীসে?” তিনি বললেন : أَمْسِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ “তোমার জবানকে নিয়ন্ত্রণ করো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য প্রশস্ত হয় এবং তোমার ভুলগুলোর জন্য কান্না করো।”২৮৮
হ্যাঁ, কান্না করুন সকলে। আপনাদের জানাজার নামাজ পড়ানোর আগেই আল্লাহর দরবারে কান্না করুন। সেই মহা সমাবেশস্থলে দণ্ডায়মান হওয়ার আগেই কান্না করুন। কেননা, সেখানে ফেরেশতারা আপনাদের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেবে। ওহে আল্লাহর বান্দা, আপনার পাপের কারণে আপনাকে স্থির করে দেবে ফেরেশতারা এবং বলবে, 'তোমার কি অমুক গুনাহের কথা স্মরণ পড়ে? সেই পাপের কথা কি তোমার মনে আছে?' তখন ফেরেশতাদের প্রশ্ন থেকে পালানোর কোনো জায়গা থাকবে না আপনার। অতএব, আপনার প্রভুর কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার আগেই কাঁদুন। তিনি প্রশ্ন করবেন, যখন তুমি পাপ করতে, তখন কি ধারণা করতে না যে, আমি তোমাকে দেখছি? যখন মানুষের চোখ থেকে লুকিয়ে পাপকর্মে লিপ্ত হতে, তখন আমার কথা ভেবে একটুও লজ্জাবোধ করোনি? হে মানুষ, আল্লাহর দরবারে কান্না করুন। কেননা, গোলাম যখন তার মনিবের সামনে ক্রন্দন করে, তখন তার মনিব তাকে দয়া করে। শিশু যখন কান্না করে, তখন বাবা-মা তার চাহিদা পূরণ করে; তাই ছোট হয়ে, নীচু হয়ে আল্লাহর দরবারে কান্না করুন। আর আমাদের প্রভু তো বাবা-মা'র চেয়েও আমাদের প্রতি বেশি দয়াবান। এমনকি আমাদের নিজেদের চেয়েও তিনি আমাদের প্রতি অতি দয়ালু। তাই তাঁর কাছে প্রার্থনা করলে তিনি ফিরিয়ে দেবেন না।
একদিন মালিক বিন দিনার নসিহত করছিলেন। তখন হাওসাব কেঁদে দিলেন। তিনি সকলের কাছেই একজন আবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দুনিয়াবিমুখ আল্লাহর অলি। মালিক বিন দিনার তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, 'হে আবু বিশর, (এটি তার উপাধি) কাঁদো। হে আবু বিশর, কাঁদো। কেননা, আমার কাছে সংবাদ এসেছে যে, বান্দা যখন কাঁদতেই থাকে, তখন তার মনিব তাকে দয়া করেন, এমনকি জাহান্নাম থেকেও মুক্তি দিয়ে দেন। আর এ কথা মনে রেখো যে, হৃদয়ের ব্যথার কম-বেশির ভিত্তিতেই কান্নার কম-বেশি হয়। পরকালের ব্যাপারে যথোপযুক্ত সামান্য আলোচনাই জীবিত অন্তরে অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করে। আর অন্তরের জীবন হলো গুনাহ ছেড়ে দেওয়া।
মাকহুল আস-সামি বলেন, 'যেই অন্তরের গুনাহ কম, সেই অন্তর বেশি জীবিত। যারা গুনাহমুক্ত ও জাগ্রত হৃদয়ের অধিকারী, কেবল একটি আয়াত তিলাওয়াত করলেও তাদের অন্তর আলোকিত হয়ে যায়। প্রতাপশালী আল্লাহ তাআলার আলোচনা করলে তাদের চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হয়। আখিরাতের আলোচনা করলে তাদের দেহগুলো প্রকম্পিত ও অস্থির হয়ে যায়।'
হে ভাই, একটু চিন্তা করুন আখিরাতের বিষয়গুলো। সহিহ বুখারিতে আবু সাইদ থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, “হে আদম!” আদম বলবেন, “লাব্বাইক হে প্রভু!” অতঃপর তাকে উচ্চস্বরে ডেকে বলা হবে, "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাকে তোমার সন্তানদের থেকে জাহান্নামের অধিবাসীদের বের করতে নির্দেশ দিচ্ছেন।" তিনি বলবেন, "হে প্রভু, জাহান্নামি কারা?" তিনি বলবেন, "প্রত্যেক এক হাজার থেকে—বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলবেন—নয়শ নিরানব্বইজন (জাহান্নামে যাবে)।” রাসুল বলেন, 'তখনই শিশু বার্ধক্যে উপনীত হবে, প্রত্যেক গর্ভধারিণী গর্ভপাত করবে, মানুষকে তুমি দেখবে মাতালের মতো—আসলে তারা মাতাল নয়; বরং আল্লাহর শাস্তি খুবই ভয়াবহ হবে।'২৮৯
হে মুসলিম ভাই ও বোন, আল্লাহর কাছে কাঁদুন। যেদিন কান্না কোনো কাজে আসবে না, সেদিন আসার আগেই নিজের পাপের কথা চিন্তা করে আল্লাহর দরবারে অশ্রু ঢালুন। কান্না হলো তাওবার চাবিকাঠি। কাঁদলে অন্তর নরম ও অনুতপ্ত হয়।
রাসুল বলেন: عَيْنَانِ لَا تَمَسُّهُمَا النَّارُ: عَيْنُ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ، وَعَيْنُ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ اللهِ 'দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। এক. ওই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে। দুই. ওই চোখ, যা আল্লাহর রাস্তায় প্রহরার কাজে রাত জেগেছে।'২৯০
যদি আপনারা অশ্রুর মূল্য ও প্রভাব বুঝতে চান, তাহলে তাওবাকারীদের জিজ্ঞেস করুন। যখন তারা ভগ্ন হৃদয় নিয়ে, ভীত-সন্ত্রস্ত ও হীন হয়ে আল্লাহর দিকে অভিমুখী হয়, তখন অনুতাপ ও তাওবার প্রমাণ হিসেবে তপ্ত অশ্রুগুলো তাদের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে। সুসংবাদ তাদের জন্য। কারণ, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের।'২৯১
হামজা আল-আ'মা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার মা হাসানের নিকট গিয়েছিলেন, অতঃপর বলেছেন, “হে আবু সাইদ, আমি চাই যে, আমার এই ছেলে তোমার সাথে থাকবে। হয়তো বা আল্লাহ তাআলা তোমার মাধ্যমে তার কোনো উপকার করবে।" আমি তার সাথে একমত ছিলাম না। একদিন তিনি আমাকে বলেন, “হে বৎস, তুমি সর্বদা আখিরাতের ব্যাপারে চিন্তা করবে। তাহলে হয়তো এই চিন্তা তোমাকে আল্লাহর কাছে পৌঁছে দেবে। আর একাকিত্বের সময় বেশি বেশি কান্না করবে, তাহলে তোমার প্রভু এই অবস্থা দেখে হয়তো তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর তখন তুমি হয়ে যাবে সফল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।” তিনি বলেন, 'আমি তার ঘরে প্রবেশ করেই দেখতাম, তিনি কান্না করছেন এবং তার কাছে মানুষেরা আসলেও দেখতাম, তিনি কান্না করছেন। আবার কখনো দেখতাম, তিনি নামাজ পড়ছেন। তখনও তার ক্রন্দন ও বিলাপ শোনা যেত। তাই একদিন তাকে বললাম, “হে আবু সাইদ, আপনি তো অনেক বেশি কান্না করেন।" এ কথা বলার পর তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, “হে বৎস, মুমিন যদি কান্নাই না করে, তাহলে করবে কী?"
হে বৎস, কান্না রহমত ডেকে আনে। যদি তুমি জীবনকে এমনভাবে গড়তে পারো যে, তুমি সর্বদা কান্না করো, তাহলে তা-ই করো। কেননা, হয়তো বা আল্লাহ তাআলা তোমাকে কান্নারত অবস্থায় দেখে তোমার প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তিনি তোমার প্রতি রহম করেন, তাহলে তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে গেলে এবং জান্নাত পেয়ে সফল হলে। বাচ্চা যখন কান্না করে, তার মা কি তখন তার ওপর দয়া করে না? অবশ্যই করে। তুমি কি মনে করো যে, একজন মা তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করবে? উত্তর তোমার কাছেই থাক।
আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল বলেছেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ابْكُوا، فَإِنْ لَمْ تَبْكُوا فَتَبَاكَوْا؛ فَإِنَّ أَهْلَ النَّارِ يَبْكُونَ حَتَّى تَسِيلَ دُمُوعُهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ كَأَنَّهَا جَدَاوِلُ حَتَّى تَنْقَطِعَ الدُّمُوعُ فَتَسِيلَ الدِّمَاءُ، فَتَقْرَحَ الْعُيُونَ، فَلَوْ أَنَّ سُفُنًا أُجْرِيَتْ فِيهِ لَجَرَتْ
'হে মানুষ, তোমরা কান্না করো। যদি কান্না করতে না পারো, তাহলে কান্নার ভান করো। কেননা, জাহান্নামের অধিবাসীদের এত অশ্রু প্রবাহিত হবে যে, যেন তা পানির নহর। এমনকি একসময় তাদের চোখের অশ্রু শেষ হয়ে রক্ত প্রবাহিত হবে। এবং চক্ষুদ্বয় রক্তকূপে পরিণত হবে। যদি তাতে জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা চলতে পারবে। ২৯২
আহ, আহ, আফসোস! কঠিন হৃদয়গুলোর জন্য।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক ব্যক্তি রাসুল -এর কাছে এসে অন্তরের কাঠিন্যের অভিযোগ করল। তখন রাসুল বললেন:
إِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ يَلِينَ قَلْبُكَ فَامْسَحْ رَأْسَ الْيَتِيمِ، وَأَطْعِمِ الْمِسْكِينَ "যদি চাও যে তোমার অন্তর নরম হোক, তাহলে ইয়াতিমের মাথা মুছে দাও এবং মিসকিনকে খানা খাওয়াও। ২৯৩
আল্লাহর বান্দারা, আর কত দিন আমাদের হৃদয়গুলো শক্ত হয়ে থাকবে? আত্মাগুলো উদাসীন হয়ে রবে?! আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় কি এখনো হয়নি? তিনি তো ঘোষণা দিয়েছেন:
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ 'যারা মুমিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং (তাঁর কাছ থেকে) যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি?'২৯৪
ইবনে মাসউদ বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমাদের ইসলাম গ্রহণ ও এই আয়াতগুলো অবতীর্ণের সময়ের মাঝে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধান ছিল। অথচ এই কয়েক বছরেই আল্লাহ তাআলা আমাদের ভর্ৎসনা করেছেন। জীবন্ত হৃদয়ের মানুষ যখন এই আয়াত শ্রবণ করত, তখন তারা কান্না করে দিত আর বলত, “হে প্রভু অবশ্যই সময় হয়েছে।"
النَّاسُ فِي غَفْلَةٍ والمَوْتُ يُوْقِظُهمْ *** وَمَا يُفِيقُوْنَ حَتَّى يَنْفَدَ العُمُرُ يُشَيِّعُوْنَ أَهَالِيْهِمْ بِجَمْعِهِمْ *** وَيَنْظُرُونَ إِلَى مَا فِيْهِ قَدْ قُبِرُوا وَيَرْجِعُوْنَ إِلَى أَحْلَامِ غَفْلَتِهِمْ *** كَأَنَّهُم مَا رَأَوْا شَيْئاً وَلَا نَظَرُوا
'মানুষেরা উদাসীন, তাদের জাগিয়ে তুলে মৃত্যু। জীবন ফুরিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের হুঁশ ফেরে না। সবাই মিলে বিদায় জানায় পরিবারের সদস্যদেরকে। তাদের গোরস্তানের দিকে সবাই স্বচক্ষে তাকিয়ে দেখে। কিন্তু ফিরে এসে তারা আবার ডুবে যায় উদাসীনতায়। যেন তারা কিছুই দেখেনি, কিছুই তাদের চোখে পড়েনি।'
এটা অধিকাংশ মানুষের অবস্থা। অধিকাংশ মানুষ এমনই। তাই আমরা আল্লাহর কাছে অন্তরের কাঠিন্য থেকে আশ্রয় চাই। কেননা, এটি অনেক নিকৃষ্ট অবস্থা।
ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'কিয়ামতের দিন মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রহার করা হবে অন্তরের কাঠিন্য, আল্লাহর থেকে দূরে থাকার কারণে। কঠিন হৃদয়গুলোকে নরম করার জন্যই মূলত আগুনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর কঠিন হৃদয়গুলোই আল্লাহর থেকে বেশি দূরে থাকে। আর অন্তর কঠিন হয়ে গেলে চক্ষুও অশ্রুহীন হয়ে যায়।'
ইয়াজিদ আর-রাক্কাশি বলেন, 'যদি তুমি তোমার পাপের জন্য কান্না না করো, তাহলে তুমি ছাড়া আর কে আছে যে তোমার পাপের জন্য আল্লাহর কাছে কান্না করবে?'
আল্লাহ তাআলা আমাকে ও আপনাদের কুরআনে কারিমের আয়াত ও উপদেশগুলোর মাধ্যমে উপকৃত করুন। আপনারা যা শুনছেন, আমি তা-ই বলেছি। আমি আল্লাহর কাছে সকল গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমার ও আপনাদের জন্য। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াময়।
দ্বিতীয় খুতবা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য তাঁর অনুগ্রহের কারণে এবং কৃতজ্ঞতা তাঁরই জন্য তাঁর তাওফিকদান ও কৃপার কারণে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি সুমহান, এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসুল, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে আহ্বানকারী। হে আল্লাহ, আপনি রহমত, শান্তি ও বরকত নাজিল করুন মুহাম্মাদ -এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কিরাম ও তাঁর অনুসারীদের ওপর।
উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোন,
আমি আপনাদের এবং আমার নিজেকে তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকেই ভয় করুন। তিনি বলেন:
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ
'আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।' ২৯৫
বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত আছে যে, জনৈক তাবিয়ি রাসুল -এর ভালোবাসায়, তাঁর প্রতি আসক্তির কারণে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ কান্না করেছেন। অবশেষে তিনি স্বপ্নে রাসুল -কে দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছেন।
কিন্তু আমার আর আপনাদের অবস্থা কী? বাস্তবিকভাবে আমরা কি কখনো তাঁকে হারানোর বেদনায় কোনো দিন কেঁদেছি? রাসুল-কে হারানোর বেদনা তো এমনই এক জ্বালা, যা চোখ দিয়ে অশ্রুর ঝরনা প্রবাহিত করে, মস্তিষ্ককে বিবেকহীন করে দেয়। কখনো রাসুল -কে স্বপ্নে দেখার আশা করেছেন? তাঁকে দেখার আশায় ক্রন্দন করেছেন? আপনার মন কি কখনো তাঁর হাতে হাওজে কাওসারের পানি পান করার আশা পোষণ করেছে?
একজন আশিকে রাসুলের ভাষায়:
تَسَلَّى النَّاسُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّا *** لَعُمْرُ اللَّهُ بَعْدَكَ مَا سَلِيْنَا إِنْ كَانَ عَرْ فِي الدُّنْيَا اللقاء فَفِي * مَوَاقِفِ الحَشْرِ نَلْقَاكُمْ وَيَكْفِيْنَا
'লোকেরা দুনিয়া পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে গেছে। আল্লাহর শপথ, আপনার পরে আমরা আর প্রশান্ত হইনি। পৃথিবীতে যদি সাক্ষাৎ কষ্টকর হয়, হাশরের ময়দানে আমরা আপনার দেখা পাব, এটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট।'
এই অবস্থাটি আপনার কাছেও আমি পেশ করলাম। যা সত্যিকারের নবিপ্রেমিকদের অন্তরকে নাড়া দিয়ে যায়। তা তো এমনই এক ভয়ানক অবস্থা, যাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
যখন হুনাইনের যুদ্ধ থেকে মুসলিমরা বিজয়ী হয়ে গনিমত নিয়ে ফিরে আসেন, নবিজি মুসলিমদের মাঝে গনিমত বণ্টন করে দেন। বিশেষ করে তখন তিনি নব মুসলিমদের হৃদয়কে ইসলামের ওপর আরও মজবুত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। মুমিন সাহাবিদেরকেও ইমান ও ইসলামের প্রতি অনেক গুরুত্বারোপ করেন। তখন আনসাররা জিজ্ঞেস করলেন যে, 'রাসুল কেন আমাদেরকে গনিমত ও ফাইয়ের অংশ দেননি?' তারা এ বিষয়ে পরস্পর ফিসফিস করতে লাগল। সাদ বিন উবাদা আনসারদের এই বিষয়টি শুনে ফেলেন। সাথে সাথেই তিনি নবিজি-এর দরবারে গিয়ে উপস্থিত হন এবং তাঁকে বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আনসারদের এই গোত্র আপনার ফাই বণ্টন নিয়ে আপনার ব্যাপারে বিরূপ ধারণা পোষণ করছে। আপনি আপনার সম্প্রদায়ের মাঝে তা বণ্টন করেছেন এবং আরব গোত্রগুলোর মাঝে অনেক কিছু দিয়েছেন। আর আনসারদের এই গোত্রের ভাগ্যে কিছুই মিলেনি।' অতঃপর নবিজি তাকে বললেন, “তোমার এবং তাদের মাঝে আর পার্থক্য রইলো কোথায় হে সাদ?' তখন সাদ স্পষ্ট ভাষায় বললেন, 'আমার গোত্রের মধ্যে আমি তো একজন মাত্র।' অতঃপর নবিজি তাকে বললেন, 'তাহলে তোমার সম্প্রদায়কে এখনই একত্রিত করো।' এরপর সাদ আনসারি কবিলাকে একত্রিত করলেন এবং রাসুল নির্দেশ দিলেন যে, তাদের কাছে যেন অন্য কেউ না যায়। তখন রাসুল তাদের নিকট আসলেন—তাঁর ওপর আমার মা-বাবা উৎসর্গিত হোক—অতঃপর তিনি সবার চেহারার দিকে তাকিয়ে একটি উজ্জ্বল মৃদু হাসি দিলেন। তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তিনি অবগত যে সেটাই বুঝিয়েছেন।
অতঃপর বললেন, 'হে আনসারিরা, তোমাদের ব্যাপারে আমার কাছে একটি সংবাদ এসেছে। তোমরা আমার ব্যাপারে একটি ধারণা লালন করেছ। আমি কি তোমাদের কাছে তোমাদের ভ্রষ্টতার সময়ে আসিনি? অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের আমার মাধ্যমে হিদায়াত দিয়েছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, অতঃপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ধনাঢ্যতা দিয়েছেন। তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রুভাবাপন্ন, অতঃপর আমার মাধ্যমে তিনি তোমাদের মাঝে সুসম্পর্ক তৈরি করে দিয়েছেন।' তাঁরা বলল, 'অবশ্যই আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই অধিক শ্রেষ্ঠ এবং দয়াকারী।'
তারপর রাসুল বললেন, 'হে আনসার গোষ্ঠী, তোমরা কি আমার ডাকে সাড়া দেবে না?।' তাঁরা বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমরা কীভাবে আপনার ডাকে সাড়া দেবো? আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্যই সকল অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব।' তখন রাসুল বললেন, 'যদি তোমরা চাইতে তাহলে বলতে এবং যদি তোমরা সত্যায়ন করতে, তাহলে তোমাদেরকেও সত্যায়ন করা হতো: আপনি আমাদের মাঝে এসেছেন এমন অবস্থায় যখন আপনাকে অন্যরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, আমরা আপনাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি। আপনি এসেছেন সাহায্যহীন অবস্থায়, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আপনি এসেছেন নিঃস্ব অবস্থায়, আমরা আপনার ওপর সহানুভূতিশীল হয়েছি। আপনি এসেছেন বিতাড়িত অবস্থায়, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি।
হে আনসারগণ! দুনিয়ার সামান্য বিষয়ের জন্য তোমরা অসন্তুষ্ট হয়ে আছ, যার বিনিময়ে আমি কিছু লোকের মন রক্ষা করেছি, যেন তারা ইসলামের প্রতি ধাবিত হয়। আর তোমাদের ইসলামের প্রতি ন্যস্ত করেছি। হে আনসারগণ, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নয় যে, যখন মানুষ বকরি ও উট নিয়ে যাবে, তখন তোমাদের ভাগে আল্লাহর রাসুল-কে নিয়ে যাবে? কসম সেই সত্তার—যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন, যদি হিজরত না থাকত, তাহলে আমিও একজন আনসার হতাম। যদি মানুষ কোনো একটি জাতিকে গ্রহণ করত, তাহলে আমি আনসারদের গ্রহণ করতাম। হে আল্লাহ, আপনি আনসারদের প্রতি দয়ার্দ্র হোন, তাদের সন্তানদের ও সন্তানের সন্তানদের দয়া করুন।' অতঃপর আনসারিরা ক্রন্দন করলেন। এমনকি তাঁদের দাড়ি ভিজে গেল। তাঁদের প্রেমাস্পদের আর তাঁদের অশ্রু একাকার হয়ে গেল। সকলেই চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। তাঁদের সাথে সাদ ও ছিলেন। তাঁরা বলছিল, 'আমরা আমাদের ভাগে রাসুল-কে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। ২৯৬
কতই না সুন্দর ছিল সেই দৃশ্য! কতই না চমৎকার ছিল সেই দৃশ্য, যখন সত্যবাদীরা তাদের প্রেমাস্পদের প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি চোখের অশ্রুর মাধ্যমে প্রকাশ করেছে!
আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَقَدْ جَاءكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
'তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল এসেছে। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল ও দয়ালু।'২৯৭
আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করছি, আপনারা কি কখনো তাঁকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন? কখনো কি তাঁর বিচ্ছেদের শোকে কেঁদেছেন? যদি আপনি সত্যিই তাঁকে ভালোবেসে থাকেন, তবে এটাই তাঁকে ভালোবাসার নিয়ম। এটি আপনার জন্য একটি হাদিয়াস্বরূপ। সুতরাং শক্ত করে তা আঁকড়ে ধরুন। তবে অমনোযোগীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। এটা ভাববেন না যে, সবার অশ্রুই সত্য। বরং কিছু মিথ্যা অশ্রুও আছে। যেমন: ইউসুফ-এর ভাইয়েরা তাঁকে কূপে নিক্ষেপ করার পর রাতের বেলায় তাদের বাবার কাছে কাঁদতে কাঁদতে এসেছে। আর দোষ দিল বাঘের। অথচ এখানে বাঘের কোনো সম্পর্কই ছিল না। হে মুসলিম ভাই, আজ আপনাদের মাঝে এমনও অনেক মানুষ আছে, যারা কখনো ফজরের নামাজ মুসল্লিদের সাথে জামাআতে পড়েনি। বরং ঘুমিয়েই বেলা পার করে দেয়। আর যখনই আপনি ঘুম থেকে উঠেছেন, তখনও কি ফজরের নামাজ জামাআতের সাথে পড়তে পেরেছেন? না; বরং আপনার জামাআত ছুটেই গেল। কিন্তু এ নিয়ে আপনি একটুও অস্থির হননি!
আপনি কি কান্না করেছেন? আপনি কি অনুতপ্ত হয়েছেন? পরিবর্তনের জন্য কি প্রতিজ্ঞা করেছেন? আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে পার্থক্য হলো তাদের অশ্রুগুলো ছিল তপ্ত আর আমাদের অশ্রুগুলো ঠান্ডা। তপ্ত অশ্রুর প্রভাব রাতে এবং দিনে উভয় সময়েই থাকে। তা জীবনের গতি পাল্টে দেয়। আল্লাহর কোনো বিধান ছুটে গেলে তারা কান্না করতেন। আর ঠান্ডা অশ্রু হলো, যা বের হওয়ার খানিক পরেই তার প্রভাব চলে যায়। তাই পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই মহান সত্তার—যিনি তপ্ত অশ্রু প্রবাহিতকারীদের পবিত্র করেছেন এবং তাদের সততা বর্ণনা করেছেন।
আওফি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, 'নবিজি মানুষকে তাঁর সাথে যুদ্ধের জন্য বের হতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে আদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তাঁর কাছে সাহাবিদের একটি জামাআত আসলো। তাদের যুদ্ধের কোনো বাহন ছিল না। তারা বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাদেরকে আপনার সাথে নিয়ে যান।" রাসুল বলেন, "আল্লাহর কসম, আমার কাছে এমন কিছু নেই, যাতে আমি তোমাদের আরোহণ করাব।”২৯৮ তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেল। আবার জিহাদ না করে বসে থাকাও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য মনে হচ্ছিল। অথচ তাদের না আছে কোনো খরচাদি না আছে বাহন! আল্লাহ তাআলা তাদের মনের মাঝে তাঁর প্রতি ও রাসুলের প্রতি ভালোবাসা দেখে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ওহি নাজিল করেন এবং তাদের অন্তরের সত্যতা প্রমাণ করে দেন। তিনি ইরশাদ করেন:
لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ - إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ وَهُمْ أَغْنِيَاء رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
'(জিহাদে অংশগ্রহণ না করায়) দুর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোনো অভিযোগ নেই, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আন্তরিক থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। তাদের বিরুদ্ধে (কোনো অভিযোগ) নেই, যারা আপনার কাছে বাহনের জন্য এলে আপনি বলেছিলেন, "আমার কাছে তো তোমাদের দেওয়ার মতো কোনো বাহন নেই।” যখন তারা ব্যয় করার মতো কিছু না পাওয়ার কষ্টে অশ্রুপূর্ণ নয়নে ফিরে গিয়েছিল। আসলে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে, যারা ধনী হওয়া সত্ত্বেও আপনার কাছে অনুমতি চায়। তারা পেছনে থেকে যাওয়া লোকদের (মহিলাদের) সাথে থাকতে পছন্দ করেছে। আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর এঁটে দিয়েছেন। তাই তারা জানে না। '২৯৯
তারা জিহাদে যাওয়ার সক্ষমতা না থাকায় কেঁদেছেন। শাহাদাতের পথে অগ্রসর হওয়ার বাহন না থাকায় তারা ক্রন্দনরত ছিলেন। আর আমি ও আপনারা কীসের জন্য কাঁদি? ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, হিন্দুস্থান, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মুসলিমদের দুর্দশা কি আপনাদের কাঁদায় কখনো?
আল্লাহ তাআলা কি বলেননি? وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً “আর তোমাদের এই যে জাতি, এটা তো একই জাতি। "৩০০
রাসুল কি ইরশাদ করেননি?
مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ، وَتَرَاحُمِهِمْ، وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌّ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى
"পরস্পর ভালোবাসা, দয়া ও অনুগ্রহে মুমিনদের দৃষ্টান্ত হলো একই দেহের মতো। যখন তার কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন তার বাকি সব অঙ্গ বিনিদ্রা ও জ্বরের শিকার হয়।"৩০১
হে ভাই, বিধবা নারীদের আর্তচিৎকার কি তোমাকে কাঁদায় না? এতিম শিশু আর বৃদ্ধদের করুণ আওয়াজ কি তোমার কর্ণকুহরে আঘাত করে না? তুমি কি ইরাকের বোন ফাতিমার সেই হৃদয়বিদারক আহ্বান শুনোনি? ক্রুসের পূজারিরা যার ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে! যদি তাদের আহ্বানে তুমি সাড়া না দাও, তবে কে আর সাড়া দেবে?! কে তাদের আর্তচিৎকার শুনবে?! ফিলিস্তিন, শিশান, আফগানিস্তানের ফাতিমাদের আহ্বানে আর কে সাড়া দেবে? সারা পৃথিবীর মুসলিম নারীদের ডাক শুনবে কে?
আল্লাহর কসম, যদি তুমি অনুভব করতে যে, তোমার চারপাশে কী ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত? তাহলে তোমার ক্রন্দনের জন্য বেশি কিছুর প্রয়োজন হতো না। নিজের অজান্তেই অল্পতে কেঁদে ফেলতে তুমি। কেননা, কালের স্তূপীকৃত দুঃখের চাপে পড়ে, অবৈধ দখলদারদের প্রভাবে এবং মুনাফিক ও দুশমনের বিদ্বেষের কারণে হৃদয়গুলো জমাট বেঁধে গেছে। আর যখন অনুভব করবে যে, তুমি আসলে কিছু করতে চাও, কিন্তু বাধা-প্রতিবন্ধকতার কারণে পারছ না, তাহলে অবশ্যই তোমার মন থেকে কান্না আসবে। তখন কান্না ও আল্লাহর জিকির ছাড়া কোনো কিছুতেই হৃদয়ের আগুন নিভবে না এবং কষ্ট হালকা হবে না। তখন সার্বক্ষণিক অন্তর আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকবে এবং মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব আর কাফিরদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে। দ্বীনদারদের কাফেলার সাথে মিলিত হওয়ার আগ্রহ সর্বদা তাড়া করবে তোমাকে।
হে আমাদের দায়িত্বশীলগণ, যেভাবে আপনারা আমাদের দুনিয়ার সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার জন্য সন্তোষজনকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, সেভাবে আমাদের দ্বীন ও আখিরাতের বিষয়গুলোর প্রতিও একটু গুরুত্ব দিন। যাতে দুনিয়ার সুখের সাথে আখিরাতের সুখও নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের আনন্দে পূর্ণতা আসে, যেন আমরা পরিপূর্ণরূপে খুশি হতে পারি। আমরা আপনাদের প্রতি আশাবাদী। আর দ্বীনের সাহায্যের মাধ্যমেই দুনিয়াতে সম্মান পাওয়া যায় এবং আখিরাতের সুখ নিশ্চিত হয়। দ্বীনের সাহায্যের মাধ্যমেই আল্লাহর সাহায্য আসে এবং জমিনে কর্তৃত্ব অর্জিত হয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ
'তারা এমন লোক যে, আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতা দিই, তাহলে তারা নামাজ কায়িম করবে, জাকাত দেবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজ করতে নিষেধ করবে। আল্লাহর হাতেই সবকিছুর পরিণতি।'৩০২
আল্লাহর কসম, আমাদের হৃদয় ততক্ষণ পর্যন্ত খুশি হবে না, যতক্ষণ না আমাদের প্রথম কিবলা মুক্ত হবে, মুসলিম বন্দীরা মুক্তি পাবে এবং যতক্ষণ না ইরাকসহ বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশ থেকে কুকুরগুলো বেরিয়ে যাবে।
হে আল্লাহ, আপনি আপনার দ্বীন ও কিতাবকে এবং আপনার প্রিয় হাবিবের সুন্নাহ ও একত্ববাদে বিশ্বাসীদের সাহায্য করুন। যারা দ্বীনকে সাহায্য করে, তাদের আপনি সাহায্য করুন। যারা তাওহিদবাদীদের অপদস্থ করে, তাদের আপনি অপদস্থ করুন। হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা, যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং এমন আমলের ভালোবাসা চাই, যা আমাদের আপনার ভালোবাসা অর্জনে সহায়তা করবে। হে প্রভু, আমরা আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি এমন হৃদয় থেকে, যা আপনার ভয়ে ভীত হয় না; এমন চক্ষু থেকে, যা আপনার দরবারে কাঁদে না; এমন কান থেকে, যা আপনার কথা শুনে না; এমন নফস থেকে, যা তৃপ্ত হয় না; এমন ইলম থেকে, যা উপকারে আসে না; এমন দুআ থেকে, যা কবুল হয় না। হে আল্লাহ, আমাদের কাছে ইমানকে প্রিয় করে দিন এবং অন্তরে তা সুসজ্জিত করে দিন। আর কুফুরি, ফুসুকি ও অবাধ্যতাকে আমাদের কাছে অপ্রিয় করে দিন। আমাদেরকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।
আমাদেরকে আমাদের নিজ ভূখণ্ডে নিরাপদ করে দিন, আমাদের নেতাদের সংশোধন করে দিন। আমাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব এমন কারও হাতে রাখুন, যে আপনাকে ভয় করে এবং আপনার সন্তুষ্টি মেনে চলে। হে আল্লাহ, আপনি পাপীদের পাপগুলো ক্ষমা করে দিন। তাওবাকারীদের তাওবা কবুল করে নিন। বিপদগ্রস্তদের বিপদ দূর করে দিন। দুশ্চিন্তাগ্রস্তদের দুশ্চিন্তা লাঘব করে দিন। ঋণীদের ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা করে দিন। পথহারাকে পথ দেখান। পথভ্রষ্টকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। জীবিত-মৃত সকলকে ক্ষমা করে দিন। আল্লাহর বান্দারা,
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ وَالبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعْلَكُمْ تَذَكَّرُونَ
'নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।'৩০৩
অতএব, তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো, তাহলে তিনিও তোমাদের স্মরণ করবেন। তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো। তাহলে তিনি নিয়ামত বাড়িয়ে দেবেন। আর আল্লাহর জিকিরই সর্বোত্তম। তিনি সবার কৃতকর্ম সম্পর্কে জানেন।
টিকাঃ
২৭০. সুরা আল-হাদিদ, ৫৭ : ১৬।
২৭১. সুরা আলি ইমরান, ৩ : ১০২।
২৭২. সুরা আন-নিসা, ৪: ১।
২৭৩. সুরা আল-আহজাব, ৩৩ : ৭০-৭১।
২৭৪. সুরা মারইয়াম, ১৯ : ৫৮। উল্লেখ্য, এটি সিজদার আয়াত। সুতরাং এটি তিলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব হবে।
২৭৫. সুরা আল-ইসরা, ১৭: ১০৯। উল্লেখ্য, এটি সিজদার আয়াত। সুতরাং এটি তিলাওয়াত করলে বা শুনলে সিজদা করা ওয়াজিব হবে।
২৭৬. সুনানুন নাসায়ি: ৩১০৮, সুনানুত তিরমিজি: ১৬৩৩।
২৭৭. সুনানুন নাসায়ি: ১২১৪।
২৭৮. দেখুন, সহিহুল বুখারি: ৬৬৪, সহিহু মুসলিম: ৪১৮।
২৭৯. সহিহুল বুখারি: ১/১৪৪।
২৮০. সুরা আজ-জুমার, ৩৯: ২৩।
২৮১. সুরা আন-নিসা, ৪:৪১।
২৮২. সহিহুল বুখারি: ৫০৫০, সহিহু মুসলিম: ৮০০।
২৮৩. সুরা আন-নিসা, ৪: ৪১-৪২।
২৮৪. সুরা আল-মুতাফফিফিন, ৮৩: ১৪-১৭।
২৮৫. সুরা আল-বাকারা, ২: ২২৩।
২৮৬. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪১৯০।
২৮৭. সুরা আল-কাসাস, ২৮ : ৮৩।
২৮৮. শুআবুল ইমান : ৭৮৪, তাবারানি কৃত আল-মুজামুল কাবির : ৭৪১।
২৮৯. সহিহুল বুখারি: ৪৭৪১।
২৯০. সুনানুত তিরমিজি: ১৬৩৯।
২৯১. সুরা আল-বাকারা, ২: ২২২।
২৯২. আজ-জুহদ ওয়ার রাকায়িক লি ইবনিল মুবারক : ২/৮৫।
২৯৩. আর-রিক্কাতু ওয়াল বুকায়ু লি ইবনি আবিদ দুনইয়া: ৪৭।
২৯৪. সুরা আল-হাদিদ, ৫৭: ১৬।
২৯৫. সুরা আল-বাকারা, ২: ২৮১।
২৯৬. মুসনাদু আহমাদ: ১৮/২৫৩।
২৯৭. সুরা আত-তাওবা, ৯: ১২৮।
২৯৮. সহিহুল বুখারি: ৬৭২১।
২৯৯. সুরা আত-তাওবা, ৯: ৯১-৯৩।
৩০০. সুরা আল-মুমিনুন, ২৩: ৫২।
৩০১. সহিহুল বুখারি : ৬০১১, সহিহু মুসলিম: ২৫৮৬। উল্লেখ্য, শাইখের লেকচারে হাদিসটির আংশিক বর্ণিত হয়েছে। এখানে আমরা পুরো হাদিসটি উল্লেখ করেছি। (অনুবাদক)
৩০২. সুরা আল-হাজ, ২২: ৪১।
৩০৩. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯০।