📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 ক্রীতদাস

📄 ক্রীতদাস


প্রেমের একটি ভয়ঙ্কর ফাঁদ হলো ফ্রেন্ডযোন। একটা মানুষের আত্মসম্মান ধ্বংস করে তাকে অন্যের চাকর বানিয়ে ফেলে এটা। ছেলে, মেয়ে দুইদলের মধ্যেই এই সমস্যাটা দেখা দিলেও সাধারণত ছেলেরাই এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়।[৩৯৩]

ফ্রেন্ডযোন জিনিসটা আসলে কী?

ফ্রেন্ডযোন মানে ঠিক প্রেম করা না। এটা হচ্ছে প্রেমের প্রলোভনে চাকর বানানোর মতো। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মতো অনেকটা। ধরো, তুমি একজনকে পছন্দ করো। কিন্তু নানা কারণে তুমি তাকে প্রপোষ করতে পারো না; তাকে বলার মতো যথেষ্ট সাহস জোগাড় করতে পারো না; সে যদি প্রত্যাখ্যান করে, সে যদি রেগে যায়। তাই তুমি তাকে গিয়ে বললে, আমি তোমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে চাই। ও হয়তো এরই মধ্যে বুঝে ফেলেছে তুমি তার জন্য প্রেমে দিওয়ানা। কিন্তু না বোঝার ভান করে সে তোমার সাথে বন্ধুত্ব চালিয়ে যায়। বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে তুমি তাকে সরাসরি প্রপোষ করতেও ভয় পাও। তুমি আটকে গেলে ফ্রেন্ডযোনে। ফ্রেন্ডযোনে ফেঁসে গিয়ে প্রতিনিয়ত খুন হওয়া শুরু হলো তোমার।

আবার ধরো তুমি তাকে প্রপোজ করেছো। কিন্তু সে বললো, 'আরে, এসব তুমি কী বলছো! আমি তো তোমাকে খুবই ভালো একজন বন্ধু হিসেবে দেখি। আমি তো অন্য একজনের সাথে প্রেম করি।' তখন তুমি তার সাথে সম্পর্ক একেবারেই শেষ না করে বললে, 'আচ্ছা ঠিকাছে, আমাকে তোমার ভালোবাসতে হবে না, আমরা স্রেফ বন্ধু হয়েই থাকি।'

ঘরের খেয়ে বিনা পয়সায় অন্যের জন্য কামলা খাটার সংগ্রামী, মেহনতি এই জীবনে তোমাকে সুস্বাগতম! ফ্রেন্ডযোনে ফেঁসে গিয়ে তুমি যে অন্য একজনের চাকর হয়ে গেছো তার কিছু লক্ষণ:

১। অধীর আগ্রহে তুমি তার ফোন-মেসেজের জন্য অপেক্ষা করো। একটু পর পর চেক করো সে অনলাইনে আছে কি না। তোমার পাঁচটা মেসেজের বদলে সে একটা রিপ্লাই দিলে দ্বিগুণ উৎসাহে আরো দশটা মেসেজ দিয়ে দাও। তার সব ছবিতে তুমি লাভ রিয়‍্যাক্ট দাও, উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করো তার রূপের।

২। সবসময় তোমার মাথাতে শুধু সে ঘোরাফেরা করে।

৩। তার সাথে ডেট করার স্বপ্ন দেখো তুমি। তার সাথে তোমার বিয়ে হবে, বিয়ের অনুষ্ঠান কোথায় করবে, হানিমুনে কোথায় যাবে, বাচ্চার নাম কী রাখবে-নানা হাবিজাবি জিনিস ভাবতে থাকো।

৪। সে ডাকলেই তুমি ছুটে আসো। তার জন্য সবসময় তুমি অ্যাভেইলেবল। রাত যতোই গভীর হোক, ঝড়, বন্যা, বৃষ্টি কিংবা অগ্ন্যুৎপাত হোক, কারফিউ জারি হোক, বিশ্বযুদ্ধ লাগুক-সে ডাকলেই তুমি ছুটে যাও।

৫। তুমি কখনো তাকে না বলতে পারো না। তোমার যতোই কষ্ট হোক না কেন, যতোই বাবা-মা'র অবাধ্য হওয়া লাগুক না কেন কিংবা আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে যতো ছোট হতেই হোক না কেন, এমনকি কাজটা করতে তোমার মন তীব্রভাবে বাধা দিলেও সব কষ্ট, সব অনিচ্ছা জয় করে তুমি সেই কাজটা শুধু সে বলেছে বলে করে দাও।

৬। সে যা-ই বলুক বা করুক না কেন, তাতে তুমি প্রবলবেগে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাও। সারা দুনিয়ার মানুষ ভুল বললেও তুমি তা ঠিক বলো। তুমি তাকে অবিরাম সাপোর্ট দিয়ে যাও।

৭। সবসময় তুমি তার জন্য কিছু করার, তাকে ইম্প্রেস করার পরিকল্পনা করো। সে যে খাবার পছন্দ করে তুমি সেই খাবার রান্না করার চেষ্টা করো। ফুচকা খেতে পছন্দ করলে দু'দিন পরপরই তাকে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যাও। তার পছন্দগুলো অনুকরণের চেষ্টা করো। সে যে সেলিব্রেটিকে পছন্দ করে তার মতো হেয়ারকাট, জামা কাপড় পরার চেষ্টা করো। সে বিটিএসের পাগলা ফ্যান হলে তুমিও বিটিএসের পাগলা ফ্যান হয়ে যাও।

৮। তুমি তার জীবনের সব সমস্যার সমাধানকারী, তুমি একাধারে তার পার্সোনাল অ্যাসিসট্যান্ট এবং বডিগার্ড। তুমি তার অ্যাসাইনমেন্ট করে দাও, তার ল্যাব রিপোর্ট লিখে দাও। কেউ তাকে টিয করলে, তার ছবিতে উল্টাপাল্টা কমেন্ট করলে তুমি তাকে মেরে আসো। তুমি তার ড্রাইভার, তুমি তার ক্যাশিয়ার, ফুচকার বিল সবসময় তুমিই দাও। তুমি তার ক্যারিয়ার কাউন্সেলর, তুমি তার ডাক্তার, তুমিই তার নার্স। তুমি তার মনোবিদ, তার মন ভালো করে দেবার দায়িত্ব তোমারই। বয়ফ্রেন্ডের সাথে তার ঝগড়া বা ব্রেকআপ হলেও ইমোশনাল সাপোর্ট দেওয়ার দায়িত্ব তোমার। [৩৯৪]

স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন চলে আসে, একজন মানুষ কেন এসব করে? কেন স্বেচ্ছায় অন্য একজন মানুষের দাসে পরিণত হয়? প্রথম ও প্রধান কারণ, ঘুরেফিরে সেই একই-মোহ, হরমোনের খেলা, প্রেমকে জীবনের সবকিছু মনে করা, তাওহীদ না বোঝা, পৃথিবীতে আল্লাহ তাকে কেন পাঠিয়েছেন সেই কারণ সম্পর্কে বেখেয়াল থাকা।

পাশাপাশি প্রেমের অন্যান্য ব্যাপারগুলোর মতো এখানেও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে নাটক, সিনেমা, গান, কবিতা, উপন্যাস। প্রগতিশীল মিডিয়ার ব্রেইনওয়াশের কারণে প্রেমাতাল মানুষেরা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে, এভাবে শত দুঃখ, বেদনা, অপমান সহ্য করে। আমি যদি কামলা খেটে যাই, তবে সহজেই সবকিছু উল্টে যাবে এবং ভালোবাসার স্বপ্ন পটে যাবেই। কিন্তু এভাবে প্রতিনিয়ত খুন হয়ে, ব্যাপক সময় নষ্ট করে, প্রচুর শ্রম দিয়ে আল্লাহর অবাধ্য হয়ে, বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে, ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে, টাকাপয়সা নষ্ট করে, নিজের সম্মানকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আসলেই কি লাভ হয়?

আমার এক বন্ধু ছিল। ধরি তার নাম সবুজ। যে মেয়েটার হয়ে সে কামলা দিতো সেই মেয়েটার নাম ধরি চম্পা। [৩৯৫] ভার্সিটির চারটা বছর একনিষ্ঠভাবে কামলা খেটে গেছে সবুজ। এমনকি সকালে বুয়া নাস্তা বানাতে দেরি হলে সে খালি পেটে, এমনকি কখনো শুধু তেল দিয়ে ভাত মেখে খেয়ে ভার্সিটিতে দৌড় দিতো চম্পার খেদমতের উদ্দেশ্যে। চম্পা বুঝতো সবুজের মনের কথা। সবুজও মুখ ফুটে বলতে পারতো না। হঠাৎ একদিন সবুজের মেসেঞ্জারে একটা আংটির ছবি পাঠায় চম্পা। তারপর চম্পা আর অন্য এক ছেলের কাপল ছবি। এই ছেলের সাথেই অ্যাঙ্গেইজমেন্ট হয়েছে তার। ছেলে ইটালি থাকে। সবুজ বেকার। সবুজ আমার পাশেই বসে ছিল। আমি ল্যাপটপে লিখছি, আর সে একটু পর পর আমাকে পচাচ্ছে। [৩৯৬] মেসেজ আসার পর একেবারে চুপ হয়ে গেল সে। এই থম মেরে থাকাটা থেমে থেমে চালু থাকলো পরের কয়েকটা মাস। চরম ডিপ্রেশনে চলে গেল সে।

সবুজ পরে চম্পাকে মেসেজ দিয়েছিল, 'তুমি তো জানতে আমি তোমাকে ভালোবাসি... তারপরও কেন এমন করলে? আমাকে অন্তত একবার তো জানাতে পারতে!' সবুজের মেসেজ পেয়ে আকাশ থেকে যেন পড়েছিল চম্পা- 'ওমা! সেকি! আমরা তো কেবল খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। কখনোই তোমাকে নিয়ে আমি এমন কিছু ভাবিনি! কী বলছো তুমি এসব! ছি!'

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এভাবে কামলা খেটে, চাকর সেজে ফলাফল আসে না। এগুলো সিনেমার পর্দায় হয়। উপন্যাসের পাতায় হয়। বাস্তবে হয় না। সিনেমায় নায়ক থাকে একজন, কিন্তু তার বাস্তবতায় তো তুমি একাই নায়ক না, তার হাতে তো আরো অনেক অপশান আছে। কেন তোমার কাছেই সে থাকবে? একটা আত্মবিশ্বাসহীন, আত্মসম্মানহীন, ব্যক্তিত্বহীন, নিজের দায়িত্ব কর্তব্য পালনের ব্যাপারে উদাসীন ছেলের কাছে কেন সে থাকবে? না থাকাটাই তো স্বাভাবিক। এভাবে কামলা খেটে আল্লাহর অসন্তুষ্টি, নিজের মর্যাদা নষ্ট করা আর একতরফা ব্রেকআপের ভয়ঙ্কর কষ্ট ছাড়া আর কী তুমি পেলে?

ভাই, তোমার একটা দাম আছে, সম্মান আছে। তুমি মানুষ, তুমি মুসলিম। তুমি সেই মানুষগুলোর একজন যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার। মানুষকে তন্ত্রমন্ত্রের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে ফিরিয়ে আনার জন্য পৃথিবীতে তোমার আগমন। সেই তুমিই এভাবে অন্য একজনের দাস হয়ে গেলে?

তুমি যখন মেয়েদের পেছন পেছন ঘুরো, ফ্লার্ট করার চেষ্টা করো, বেহায়ার মতো সব ছবিতে লাভ রিঅ্যাক্ট দাও... বিশ্বাস করো সেই মেয়ের চোখে তোমার দাম থাকে না, সম্মান থাকে না। তুমি ছোট হয়ে যাও তার কাছে। মেয়েরা সাধারণত আত্মসম্মানহীন, ব্যক্তিত্বহীন ছেলেকে পছন্দ করে না। সে ভেবে নেয় এই ছেলেটা আমার জন্য পাগল। একে দিয়ে আমি যা খুশি করিয়ে নিতে পারি। তোমার দুর্বলতা, দুর্বলতার গল্পের ডালপালা সাজিয়ে বন বানিয়ে সে তার ফ্রেন্ডদের সাথে হাসি তামাশা করে। দিনশেষে তুমি তার কাছে টিস্যু হয়েই থাকো। যে টিস্যু দিয়ে নাক ঝেড়ে উপেক্ষার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায় যখন তখন। তোমাকে সে আসলে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে চায় না। পছন্দ করে না। কিন্তু সে চায় তুমি তার সাথে থাকো। যেন তোমাকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায়। মাঝে মাঝে তোমার সাথে এমন আচরণ করে যাতে মনে হয় সে তোমাকে ভালোবাসে। বোঝাতে চায়-তুমি তার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবই আসলে অভিনয়। ক্ষণিকের লোক দেখানো আবেগ।

মেয়েদের গালি দিও না। সে কি তোমার কাছে ওয়াদা করেছে বা তোমাকে লিখিত দিয়েছে যে এভাবে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান করে দিলে সে তোমার হয়ে যাবে? তোমার জীবনের সব সমস্যার কি সমাধান হয়ে গেছে যে তুমি অন্যের জীবনের সমস্যার সমাধান করতে ব্যস্ত হয়ে যাও? সেবাই মানুষের ধর্ম, মানুষকে সাহায্য করা মহান কাজ, আল্লাহ এতে খুশি হন-এইসব আবোলতাবোল ভূগোল বোঝানোর চেষ্টা করো না প্লিজ!

বাবাকে বাজার করতে সাহায্য করো? মাকে বাসার কাজে সাহায্য করো? তোমার ক্লাসের বন্ধুদের সাহায্য করো, তাকে যেভাবে সাহায্য করো সেভাবে? ছেলে বন্ধু কোনো একটা ল্যাব রিপোর্ট লিখে দিলে কিংবা বা অ্যাসাইনমেন্টের ছবি এঁকে দিলে ক্যান্টিনে গিয়ে সিঙ্গাড়া-সামুচা, কোল্ড ড্রিংকস আদায় করে নাও। আর ওর অ্যাসাইনমেন্ট বা ল্যাব রিপোর্টও তুমি নিজে থেকেই লিখে দাও! এটাই তোমার মানুষকে সাহায্য করার নমুনা?

বলতে কষ্ট লাগছে ভাই, তবু বলতে হচ্ছে, তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বোকা। কেউ সমস্যার সমাধান করে দিলেই মেয়েরা তার প্রেমে পড়ে যায় না। তাই যদি হতো তাহলে রিকশাওয়ালা, ফুচকাওয়ালা, মুচি-সবার প্রেমেই তো পড়ে যেতো মেয়েরা। ভাই, নিজেকে আর কতো ছোট করবে? তোমার কি কোনো সম্মান নেই? সে তো পৃথিবীতে একমাত্র মানুষ না। দুনিয়াতে অসংখ্য মানুষ আছে। তুমি কেন তার পেছনে এভাবে নির্লজ্জের মতো ঘুরো, ভাই?

ভালোবাসা হতে হলে দুইপাশে একটা সম্মানের সম্পর্ক থাকতে হয়। একপাশে চাকর আর একপাশে মনিব-এভাবে ভালোবাসা হয় না। খেদমত বা বিশ্বস্ততার জন্য মনিবের মনে দয়া, ভালোবাসা থাকতে পারে...তবে সেটা এক মানবের জন্য এক মানবীর মনে যে ভালোবাসা জন্মায় সেই ভালোবাসা না। তোমাকে এমন কাজ করতে দেখলে খুব কষ্ট হয় ভাইয়া। খারাপ লাগে। এভাবে নিজেকে ছোট করো না, মনুষ্যত্বের অপমান করো না। চাকর হয়ো না, প্রকৃত অর্থে পুরুষ হও।

টিকাঃ
[৩৯৩] এটা আসলে মেয়েদের ইগোর গোড়ায় পানি ঢালে। তার পেছনে একটা ছেলে পাগলের মতো ঘুরছে, তাকে সে যেভাবে খুশি সেভাবে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে পারে, ইচ্ছেমতো তার সব কাজ করিয়ে নিতে পারে- এই বিষয়গুলো ভেবে তারা আত্মতৃপ্তি লাভ করে।
[৩৯৪] তোমার মনে তখন চলতে থাকে আমি এভাবে ইমশোনাল সাপোর্ট করলে সে আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়বে। ভুলে যাবে তার বয়ফ্রেন্ডকে। ব্রেকআপ করে আমার কাছে চলে আসবে। আল্লাহর কাছে ধুমসে দু'আও শুরু করে দাও। আর তার বয়ফ্রেন্ড কতো খারাপ আর তুমি কতো কেয়ারিং- এসব প্রমাণের চেষ্টা করতে থাকো। দেখো ভাই, এভাবে যে মেয়ে অন্য একজনের সাথে বিচ্ছেদ করে তোমার কাছে আসবে, নিশ্চিত থাকো তোমার সাথে বিচ্ছেদ করে সে অন্য একজনের কাছে চলে যাবে। তোমার মতোই অন্য একজন তার ব্রেইনওয়াশ করবে একদিন।
[৩৯৫] বর্তমানে সবাই বিবাহিত। পরিচয় প্রকাশিত হলে সংসারে অশান্তি হতে পারে তাই ছদ্মনামের আশ্রয় নেওয়া।
[৩৯৬] যতদূর মনে পড়ে মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ের কাজ চলছিল তখন।

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 আসল পুরুষ! আসল নারী!

📄 আসল পুরুষ! আসল নারী!


কনডমের বিলবোর্ডটা এমন একটা জায়গায়, আগে থেকে সতর্ক না থাকলে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। বিশাল বিলবোর্ড। একজন পুরুষ ও একজন নারী। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। লোকটি শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে। মহিলা অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। হাতে ধরা একটা মেডেল। বিলবোর্ডের ডান কোণায় লেখা... 'আসল পুরুষ'।

কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, ভ্রু-প্লাক করা, টাইট জিন্স আর টি-শার্ট পরা, একে অপরের গায়ের উপর হেলান দিয়ে বসে থাকা কিছু ছেলের ছবি। সবচেয়ে সুন্দর ছেলেকে বাছাই করার জন্যে কোনো এক টিভি চ্যানেলের সুন্দরী প্রতিযোগিতার 'পুরুষ' সংস্করণ। একেবারে ফ্রন্ট পেইজ অ্যাডভারটাইজমেন্ট। এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার স্লোগান হলো, 'প্রমাণ করো তুমিই হিরো'।

এই হলো আমাদের কাছে পুরুষত্বের সংজ্ঞা। আজ পুরুষের সফলতার মাপকাঠি হলো তার শয্যাসঙ্গীর সংখ্যা অথবা নারীর মতো যত্নে নিজেকে 'গ্রুম' করতে পারা। আর কোন নারীকে কতোজন পুরুষ শয্যাসঙ্গী হিসেবে পেতে চায় তা হলো নারীত্বের সফলতার মাপকাঠি। নারী আর পুরুষ পরিচয়ের মধ্যে তেমন একটা পার্থক্যও এখন আর নেই। সেই একই শরীরী হিসেব-নিকেশের পাল্লায় তুলে বিচার করা হয় দুজনকেই। কেউ দাতা, কেউ গ্রহীতা, কেউ ক্রেতা, কেউ বিক্রেতা, কেউ ব্যবহারকারী, কেউ ব্যবহৃতা, কেউ কামুক, কেউ কামের লক্ষ্য-পার্থক্য এইটুকুই। আমরা পুরুষ ও নারীর জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সার্থকতাকে আজ এই গণ্ডির মাঝে আবদ্ধ করেছি।

খেলোয়াড়, অভিনেতা, গায়ক। আমাদের কাছে পুরুষত্বের রোলমডেল হলো ড্রাগ অ্যাডিক্ট, দায়িত্বজ্ঞানহীন, উড়নচণ্ডী, বহুগামী, নানা ধরনের, নানা আঙ্গিকের এসব মনোরঞ্জনকারীরা। আমাদের কাছে নারীত্বের রোল মডেল হলো শরীর দেখিয়ে টাকা কামানো চামড়া ব্যবসায়ী, নর্তকী আর বাইজিরা। নিজ সন্তানের জন্মদাত্রীকে স্বীকৃতি না দেওয়া মেসি-রোনালদো, ব্যভিচারী টাইগার উডস, কিশোরসুলভ অঙ্গভঙ্গি আর আচরণের পঞ্চাশোর্ধ ব্র্যাড পিট- সালমান খান, মাঠে বল হাতে কিংবা পায়ে ছোটাছুটি করা কিছু লোক, সমকামিতার সমর্থক বিটিএস অথবা লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে নেংটি পরে মারামারি করা WWE কিংবা MMA অ্যাথলেটরা আমাদের কাছে পুরুষত্বের রোল মডেল! আসল পুরুষ! আসল নারী!

শারীরিক ভাবে পুরুষ হওয়া আর সত্যিকার অর্থে, চিন্তা-চেতনায়, আচরণে একজন পুরুষ হবার মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। নিছক Male হওয়া মানেই Man হওয়া নয়। নিজের ছোট ভাইয়ের টি-শার্ট গায়ে দিয়ে, উচ্চস্বরে হাঁকডাক করে, উদ্ভট অঙ্গভঙ্গি কিংবা নাচানাচি করে টিকটক বানিয়ে, মঞ্চে ক্যাটওয়াক করে, ভ্রু-প্লাক করে পত্রিকার ফটোশুট করে, আমাদের সমাজ-সভ্যতার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী 'হিরো' কিংবা 'আসল পুরুষ' হওয়া গেলেও সত্যিকার অর্থে পুরুষত্ব অর্জন করা যায় না, Man হওয়া যায় না। ঠিক একইভাবে শরীরের ভাঁজ ও খাঁজ দেখিয়ে, টিকটক-ইন্সটাতে লাখ লাখ ফ্যান ফলোয়ার কামানো, প্রথা ভাঙা, সাহসিকতা, স্বাধীনতার নামে শাশ্বত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে কাপড় খোলা, নারীর কমনীয় সকল বৈশিষ্ট্য ঝেড়ে ফেলে, নারীত্বের অপমান করে প্রতিনিয়ত পুরুষের মতো হতে চাওয়া প্রকৃত নারীর, সাহসী নারীর বৈশিষ্ট্য না।

তাহলে আসল পুরুষ কারা? সাহসী নারীই বা কারা? কী তাদের বৈশিষ্ট্য? কোথায় পাওয়া যাবে তাদের?

এ সমাজ-সভ্যতার তৈরি করা রোলমডেলদের মাঝে সত্যিকারের পুরুষ আর নারীদের খুঁজলে শুধু ব্যর্থই হতে হবে। যদি আসল বীরত্ব, আসল পুরুষত্বের প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে আমরা জানতে চাই তাহলে আমাদের তাকাতে হবে মুস'আব, উমার, আবু দুজানা, ইক্করামা, খালিদ, সা'দদের জীবনীর দিকে। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন। সত্যিকারের পুরুষত্বের উদাহরণ খুঁজতে তাকাতে হবে মুহাম্মাদ বিন কাসিম, সালাহউদ্দীন, তারিক বিন যিয়াদ, উমার মুখতার, আল-খাত্তাবি, ইমাম শামিল, তিতুমীর, শরীয়াতুল্লাহ আর তৃতীয় উমারের দিকে, রাহিমাহুমুল্লাহ। নারীত্বের প্রকৃত অর্থ বোঝার জন্য আমাদের তাকাতে হবে খাদিজা, ফাতিমা, আসিয়া, মারইয়াম, আইশা, উম্মে আইমান, সুমাইয়্যা, সাফিয়্যাহ, খাওলা-দের দিকে। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন।

দুই.

আমাদের এই বয়সেই বাপদাদারা দু-তিনটা করে বিয়ে করেছেন, সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, ছোট ভাইবোনদের পড়ার খরচ জুগিয়েছেন, ভাতিজা, ভাগ্নে এমন আত্মীয়দেরও লালন পালন করেছেন। আমাদের নানীদাদীরা ছয়-সাতটা করে কিংবা আরো বেশি বাচ্চাকাচ্চা মানুষ করেছেন। ভালোভাবেই করেছেন। হাজার হাজার বছর ধরে এভাবেই মানবসমাজ চলেছে। কিন্তু আজ আমরা ছেলেরা ত্রিশ বছর বয়সে এসেও নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারি না। অন্য একটা মেয়ের দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে করা তো দূরে থাক। বাবা-মার কাছ থেকে হাত খরচ নিতে হয়, সংসারের খরচ চালানোর কথা তো আষাঢ়ে গল্পের মতো। অনেকের তো চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছেও বালকত্ব কাটে না। মেয়েরা স্বামীর সংসার করতে, রান্না-বান্না করতে, বাচ্চাকাচ্চা নিতে ভয় পায়। রান্নাবান্না করতে পারি না, কীভাবে 'বাসা'কে 'বাড়ি' বানাতে হয় জানি না, গৃহস্থালির টুকিটাকি কাজ করতে পারি না। জানি না কীভাবে বাচ্চাকাচ্চাদের মানুষ করতে হয়।

আমরা দায়িত্ব নিতে ভয় পাই। সংসারের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া তো দূরের কথা, বাজার পর্যন্ত করতে পারি না ঠিকঠাক। তরমুজওয়ালা, মাছওয়ালাদের সাথে দামাদামি করে কেনার মতো মানসিক শক্তি, ব্যক্তিত্ব পর্যন্ত আমাদের নেই। আমরা অফলাইনে মানুষজনের সাথে মিশতে পারি না। বন্ধুত্ব করতে পারি না। আমরা হতাশ প্রজন্ম। ভীতু প্রজন্ম। চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের মাঝে ভয় কাজ করে। পান থেকে চুন খসলেই আমরা আত্মহত্যা করে ফেলি। আমরা স্বার্থপর প্রজন্ম। অহংকারী প্রজন্ম। আমাদের নিজেদের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কেন আমাদের এই ভয়াবহ অবস্থা? কেন নিদারুণ দুঃসময়ে আমাদের এই যৌবন?

কারণ আমরা সত্যিকার অর্থে সাবালক হবার অর্থ বুঝিনি। একজন পরিপক্ক মানুষের যে দায়িত্ব নিতে হয় তার উপযুক্ত আমরা হয়ে উঠতে পারিনি। প্রকৃত অর্থে পুরুষত্ব আর নারীত্বের সংজ্ঞাই আমরা চিনিনি। কুরআন, হাদীস ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে প্রকৃত আসল পুরুষ ও তথাকথিত আসল পুরুষদের মধ্যে পার্থক্য হলো [৩৯৭]_

প্রকৃত আসল পুরুষ
তথাকথিত আসল পুরুষ
আত্মমর্যাদাশীল, নিজে কাউকে অপমান করে না, অন্য কাউকে অপমান করতে দেয় না। বাবা-মা ভাইবোন, পরিবার-পরিজনকে দরকার হলে জীবন দিয়েও আগলে রাখে।
আত্মমর্যাদা নেই।
দায়িত্বশীল, কর্তব্যবোধ সম্পন্ন, নীতিবান। নিজ কাজের দায়িত্ব নেয়। সে বুঝে সমাজ ও পরিবারে তার ভূমিকা নেতৃত্ব দেওয়ার। নিজে স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রয়োজনে সাধ্যমতো এগিয়ে আসে।
দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ বলে কিছু নেই। প্রেম করে লিটনের ফ্ল্যাটে নিতে চায়, কিন্তু বিয়ে করতে চায় না। স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা, সাহস, সক্ষমতা কোনোটাই নেই। বাবা-মা'র টাকা নষ্ট করে। বাপের, শ্বশুরের টাকায় বউয়ের খরচ চালাতে চায়। অর্থ উপার্জনের, স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করে না।
পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু। হালাল জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করে। কিছু অর্জন করতে হলে কষ্ট করতে হয়, এ বাস্তবতা জানে।
অলস, জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করে না, কলম পিষে বড়লোক হওয়া কিংবা সহজে সব কিছু পাবার স্বপ্নে মশগুল। সবকিছুই হাতের কাছে রেডিমেইড চায়।
সমস্যার মুখোমুখি হলে সমাধানের চেষ্টা করে। নিজেকে প্রশ্ন করে, এখন আমার করণীয় কী?
সমস্যার মুখোমুখি হলে হা-হুতাশ আর হাহাকার করে। ঝিম মেরে বসে থাকে। নিজেকে প্রশ্ন করে, আমার এখন কেমন লাগছে?
নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। নিজের শরীরকে বাধ্য করে ইচ্ছেশক্তির আনুগত্য করতে।
নফসের গোলাম। সব সময় আরাম খোঁজে। ডোপামিন অ্যাডিক্ট।
আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে। গভীরভাবে অনুভব করলেও আবেগ দ্বারা চালিত হয় না।
আবেগ, আবেগ প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে কিশোরীর সাথে মিল বেশি।
মেয়ে দেখলে চোখ নামিয়ে ফেলে, যথাযথ সম্মান করে।
চোখ দিয়ে গিলে খাবার চেষ্টা করে, পিছ নেয়, আজেবাজে মন্তব্য করে, অথবা বাসায় গিয়ে ফ্যান্টাসাইয করে।
ভবিষ্যৎ স্ত্রীর জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে, নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করে।
প্রেম করা ছাড়া থাকতে পারে না। যার তার সাথে শুতে চায়, একেই নিজের অর্জন মনে করে। শোয়ার কাউকে না পেলে পতিতার খোঁজ করে।
নিজ স্ত্রীকে সম্মান করে। তার অধিকার পরিপূর্ণভাবে আদায়ের চেষ্টা করে। স্ত্রীসহ নিজের পরিবারের নারীদের সম্মান ও মর্যাদা কঠোরভাবে রক্ষা করে।
বুঝে না বুঝে স্ত্রীকে মানুষের সামনে দর্শনীয় বস্তুর মতো উপস্থাপন করে। আরেকজনকে সম্মান দূরের কথা, নিজের সম্মানই রক্ষা করতে পারে না।
পর্ন, মাস্টারবেশনে আসক্ত নয়, দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে সুখী রাখতে পারে।
পর্ন মাস্টারবেশনে যন্ত্রপাতি নষ্ট করে ফেলে।
সাহসী, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে।
ভীতুর ডিম, প্রতিবাদ দূরে থাক, ব্যক্তিগত লাভের জন্য অন্যায়কারীর পা চাটে।
সহানুভূতিশীল, দয়ালু, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করে।
স্বার্থপর, সবসময় নিজের চিন্তা করে।
আল্লাহকে ভালোমতো চেনে, মানে। দ্বীন ইসলাম ও রাসূল (ﷺ)-এর সম্মানের সাথে আপস করে না。
আল্লাহকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। সস্তা সুখ আর নানা তুচ্ছ জিনিস নিয়ে ব্যস্ত। স্রোতের সাথে চলে। মিডিয়া আর সমাজ যা গেলায়, তাই গিলে।
ভদ্র, উত্তম আখলাকের অধিকারী, শো অফ করে না, মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না, তবে আচরণে মিনমিনে মেয়েলি ভাব থাকে না।
সেলিব্রেটি রোলমডেল এবং মিডিয়ার ট্রেন্ডের অনুকরণে উদ্ধত, অহংকারী- নিজেকে জাহির করায় ব্যস্ত। অথবা মিনমিনে মেয়েলি।
নবী (ﷺ) -এর সুন্নাহ পালন করে। শরীরের যত্ন নেয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। সুগন্ধি ব্যবহার করে।
ফরজ গোসলও ঠিকমতো করে না। নোংরা, অগোছালো। গায়ের দুর্গন্ধে টেকা যায় না, আউলা ঝাউলা ভাব ধরে। অথবা, মিডিয়ার ট্রেন্ডের অনুসরণ আর সেলিব্রেটিদের মতো পোশাক-আশাক পরাকে আর হেয়ারস্টাইল মেইনটেইন করাকেই স্মার্টনেস ভাবে।
ব্যক্তিত্ববান, সৎ, বিশ্বস্ত। কথা দিয়ে কথা রাখে।
অলস, অকর্মণ্য, মেয়েদের পেছনে ঘুরে, কথা দিয়ে কথা রাখে না, বিশ্বাস করা যায় না।
জানে, জীবনের অর্থ শুধু ভোগ না। নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন। প্রয়োজনে আত্মত্যাগে প্রস্তুত।
কোনো বিশ্বাস কিংবা আদর্শ নেই। ভোগে আসক্ত হবার কারণে আপসহীন হবার অর্থই হয়তো বোঝে না। আত্মত্যাগের প্রশ্নই আসে না। তার সব মনোযোগ তার নফসকে নিয়ে।
ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে সামনে আগায়, বিপদে ভেঙে পড়ে না, দৃঢ় অবিচল থাকে, আত্মহত্যা করে না, দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে অভিযোগ অনুযোগ না করে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কান্না করে।
ব্যর্থতাকে ভয় পায়, পান থেকে চুন খসলেই শিশুর মতো কান্নাকাটি শুরু করে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, আত্মহত্যা করে মানুষের কাছে অভিযোগ ফেলে।
পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য রহমতস্বরূপ।
স্রেফ বোঝা।

চুপিচুপি একটা কথা বলি। মেয়েরা এই আসল পুরুষদেরই পছন্দ করে।[৩৯৮] এভাবেই তাদের বানিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা। পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতির কারণে তাদের অনেকেই আসল পুরুষ চিনতে পারে না, বোহেমিয়ান পুরুষদের সাথে দু'দিন প্রেম করতে পারে, ভুল করে ঘর বাঁধতে পারে কিন্তু মনেপ্রাণে তারা এই আসল পুরুষদেরই খুঁজে বেড়ায়।

এবারে চলো দেখা যাক কুরআন, হাদীস এবং এক্সপার্টদের মতামত অনুসারে আবহমান প্রকৃত নারী ও তথাকথিত আধুনিক নারীর মধ্যে পার্থক্য কী কী।[৩৯৯]

আবহমান প্রকৃত নারী
তথাকথিত আধুনিক নারী
লাজুক, নারীসুলভ কমনীয়, নম্র, ভদ্র, বাসার বাইরে হৈচৈ করে না, নিজের নারীত্ব নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে না।
নারীর চিরায়ত বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে। মনেপ্রাণে পুরুষের মতো হতে চায়। পুরুষ যা করে তা করতে পারাকেই নারীর ক্ষমতায়ন মনে করে।
পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর কথা মেনে চলে।
সমাজ, মিডিয়া, সংস্কৃতি, পাশ্চাত্যকে অনুসরণ করে শরীর দেখানো, আর নিজেকে উন্মুক্ত করাকে সাহসিকতা মনে করে, জাতে ওঠার মাধ্যম মনে করে।
ছেলেদের সাথে মেশে না, ছেলেরাও তার ব্যক্তিত্বের কারণে তার সাথে মেশার সাহস করে না, প্রেম করে না।
জাস্টফ্রেন্ড, অনলি ফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ডের অভাব হয় না, ছেলেদের সাথে হৈ-হুল্লোড় করে বেড়ায়, প্রেম না করে থাকতে পারে না, ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানো, নাচানোকে স্মার্টনেস মনে করে।
ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর জন্য নিজেকে হিফাযত করে, বিশ্বস্ত থাকে।
যার তার সাথে শুয়ে পড়ে, লিটনের ফ্ল্যাট, লং ট্যুর, লঞ্চের কেবিন, এক সাথে কয়েকটা প্রেম, পরকীয়া, গর্ভপাত সবখানেই বিচরণ থাকে, এগুলোকে স্মার্টনেসের অংশ ভাবে।
ছবি আপলোড করে না, স্বামী চাইলেও ব্যক্তিগত ছবি তুলতে দেয় না।
সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ছবি আর ভিডিও আপলোড করে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মনোযোগ উপভোগ করে। ফ্যান-ফলোয়ারস, মনোযোগ, প্রশংসা চায়। জাস্টফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড যে-ই চাক, ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে দেয়।
রান্নাবান্না, শিশু লালনপালন, ঘরের কাজকে জীবনের অপচয় মনে করে না। সমাজ ও পরিবারে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন।
ঘরের কাজ করাকে জীবনের অপচয় মনে করে, দাসত্ব মনে করে। বিশ্বব্যবস্থা, মিডিয়া আর সমাজের তৈরি সাফল্যের সংজ্ঞা মেনে নিয়ে তার পেছনে অন্ধের মতো ছোটে।
পুরুষদের প্রতিযোগী মনে করে না, সহযোগী মনে করে।
প্রতিযোগী মনে করে, ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষবিদ্বেষী হয়।
সন্তান লালনপালন করাকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেয়।
ক্যারিয়ারকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দেয়। সন্তানকে বুয়ার হাতে ছেড়ে দিতে দ্বিধাবোধ করে না।
স্বামীর সাথে সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার সম্পর্ক থাকে। সব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে না, দাম্পত্য হক আদায়ের উপর তেমন গুরুত্ব দেয় না। পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে, স্বামীর হক আদায়ের যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
স্বামীকে অসম্মান করে, ছোট করে, প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে, দৌড়ের উপর রাখে। ঝাড়ি মারে, জাহাজের একজন ক্যাপ্টেন থাকে, স্বামীর পরিবারে স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নেয়। সব সময় দৌড়ের উপর রাখে।
স্বামীর টাকাকে নিজের টাকা মনে করে, লজ্জা করে না, হীনম্মন্যতায় ভোগে না।
নিজে কামাই করতে না পারলে জীবন ব্যর্থ জাতীয় কিছু একটা মনে করে।
শুধুমাত্র স্বামীর জন্য সুন্দর করে সাজে, নিজের সকল সৌন্দর্য অন্য সবার কাছ থেকে রক্ষা করে স্বামীর জন্য রেখে দেয়।
বাইরের সকল পুরুষের জন্য সাজগোজ করলেও ঘরে স্বামীর সামনে এলোমেলো অবিন্যস্ত থাকতে পছন্দ করে।

এই তথাকথিত আধুনিক নারীদের পেছনে ছেলেরা লাইন দিলেও এদেরকে শেষ পর্যন্ত তারা বিয়ে করতে চায় না, যার প্রমাণ আমরা আগেই দিয়েছি। এদের সাথে বিছানায় রাত কাটানো যায়, কিন্তু বাচ্চার মা বানানো যায় না, সারাদিন পর ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে খেতে বসে যে মানুষটা একরাশ মমতা নিয়ে ভাত বেড়ে দেবে, সেই মানুষের জায়গায় এদের কল্পনা করা যায় না। যতো চরিত্রহীন ছেলেই হোক না কেন, বিয়ের জন্য আবহমান প্রকৃত নারীই থাকে তাদের প্রথম পছন্দ।

এই আসল পুরুষেরাই, প্রকৃত নারীরাই যুগে যুগে, দেশে দেশে পৃথিবীর গতিপথ চেইঞ্জ করে দেয়। মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসে পরিণত করে। সমস্ত বিশ্বকে সত্য, সুন্দর, কল্যাণ ইনসাফের পথে পরিচালিত করে। এটাই আল্লাহ'র সুন্নাহ। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়, এক সভ্যতার পতন ঘটে গিয়ে অন্য সভ্যতার উত্থান ঘটে, নদী তার গতিপথ বদলে ফেলে, তবু আল্লাহর এই সুন্নাহর কোনো পরিবর্তন হয় না।

***

তরুণ প্রজন্ম হলো জাতির প্রাণ। জাতির মেরুদণ্ড। সেই তরুণরাই যদি এভাবে মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়ে তাহলে এই জাতি, সমাজ আর বিশ্বের কী হবে? মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে কে আল্লাহর দাসত্বের দিকে নিয়ে আসবে? আমাদের এই দুরবস্থার জন্য শুধু আমরাই দায়ী নই। বাবা-মা, সমাজব্যবস্থা, বিশ্ব কাঠামো সবকিছু দায়ী। কিন্তু শুধু তাদের দিকে আঙুল তুলে, ফেইসবুকে তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করলেই সব হয়ে যাবে না। সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত। তবে সেখানেই থেমে থাকলে সমস্যার সমাধান হয় না। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হয়। বদলে ফেলতে হয় নিজেদের।

১। এসো আমরা নিজেরা দায়িত্ব নিতে শিখি। ছোট থেকেই বাসার কাজে সাহায্য সহযোগিতা করি। মেয়েরা রান্নাবান্না করা, ঘরের কাজ শেখা, সংসার গুছিয়ে রাখা শিখে নেই। ছেলেরা কাঁচাবাজারে যাওয়া শুরু করি। শুধু আঁতেলের মতো মাথাগুঁজে পড়াশোনা না করে, পড়াশোনা ঠিক রেখে বাইরের দুনিয়াটাকে দেখার চেষ্টা করি। সংসার কীভাবে চলে, সংসারের খরচ কীভাবে আসে এগুলো বাবা-মা'র কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজের কাজগুলো নিজেই করি। ক্লাস ৮-৯ এ ওঠার পর থেকেই নিজের খরচ নিজে চালানোর চেষ্টা করা উচিত। টিউশনি, অনলাইনে ছোটখাটো ব্যবসা, বড় ভাই বা পরিচিতদের ব্যবসায়, কাজে পার্টটাইম কাজ করা, ফ্রিল্যান্সিংসহ অনেক অপশান খোলা আছে।

এই বয়সে অর্থ উপার্জনকে আমাদের সমাজে খুবই নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। আবার এই সমাজই অর্থ ছাড়া দামও দেয় না। সমাজ ভণ্ডামি করে যাবেই। সমাজের কথায় কান দেবে না। অর্থ উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাও। দেখবে দ্রুত বিয়ে করে সংসার চালানোর মতো টাকা তুমি ম্যানেজ করে ফেলেছো বা অন্য একজন মানুষের দায়িত্ব নেবার জন্য যে ব্যক্তিত্ব দরকার, যে ম্যাচুরিটি দরকার তা তোমার মাঝে চলে এসেছে। আর কিছু যদি না-ও হয় এই অভিজ্ঞতা তোমার কাজে লাগবে। মেয়ের বাপ বা তোমার বাপ তোমাকে বিয়ে করাতে ভয় করবে না। পাশাপাশি ঘরের কাজ শিখে ফেলা, গোছালো হবার ফলে আপু তোমাকে নিয়েও তোমার বাবা-মা চিন্তা করবে না যে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কী করবে।

বিয়ে করার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার আসলে এই দায়িত্ব নিতে শেখা আর ম্যাচুরিটি আসার ব্যাপারটা। টাকাপয়সার চাইতেও এ দুটো জিনিস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তোমরা এই বিষয় নিয়ে একদমই মাথা ঘামাও না। শুধু মেয়ের কিংবা নিজের বাপ-মাকে কষে গালি দাও। একটা ইমম্যাচিউর, দায়িত্ব কর্তব্যবোধহীন ছেলের হাতে কেন কোনো অভিভাবক তাদের মেয়েকে তুলে দেবেন? নিজের স্ত্রীর হাতখরচ, শ্যাম্পু-সাবানের টাকা পর্যন্ত বাবা-শ্বশুরের কাছ থেকে নিয়ে বিয়ে করবো-এমন চিন্তা করতে তোমার লজ্জা লাগা উচিত। সাহাবীদের উদাহরণ টানবে না। সাহাবীরা গরীব ছিলেন, অভাবী ছিলেন, কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিলেন না, কল্পনাবিলাসী ছিলেন না। তাদের একেকজন একেকটা জনপদের দায়িত্ব নেওয়ার উপযুক্ত পুরুষ ছিলেন। তাঁরা ফ্যান্টাসির জগতে বসবাস করতেন না। তারা গ্রহ, নক্ষত্রের হিসেবে মিলিয়ে, বউয়ের মধ্যে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার লম্বা লিস্ট নিয়ে, ঈদের জামা কেনার মতো করে পাত্রী চয় করতেন না। তারা অনেক ক্ষেত্রেই বিধবা, বয়স্ক, দেখতে সাদামাটা নারীদেরও বিয়ে করেছেন। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম।

২। বাচ্চাদের মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকো। সব সময় হাসিঠাট্টা, মজা করা, প্র্যাংক করা, গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘোরা, বাবা বা শ্বশুরের দেওয়া লাখ লাখ টাকার বাইক দাবড়ানো, মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকা, হিজড়াদের মতো নাচগান করা একজন দায়িত্বশীল পুরুষ বা নারীর বৈশিষ্ট্য না। এগুলো ব্যক্তিত্বহীন মানুষের কাজ। পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্য, নিজের মধ্যে আনতে শেখো। নারীসুলভ চিরায়ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের চেষ্টা করো। মোবাইলটা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে বাস্তব দুনিয়ার বাস্তব মানুষের সাথে মেলামেশা করো। রাতে ঘুমাও, শরীরচর্চা করো, গোছালো জীবনযাপন করো।

৩। বিসিএস আর সরকারি চাকরি ছাড়াও যে টাকা উপার্জন করা যায়, সম্মান পাওয়া যায়, বিয়ে করা যায়- এই বিষয়টা বিশ্বাস করো। সমাজের মানুষের কথায় কান না দিয়ে থাকা খুবই কষ্টের। কিন্তু তারপরও এই কষ্টটুকু করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা ভালো না, এই বলে শিক্ষাব্যবস্থাকে গালি দিয়ে বসে থাকবে না। নিজে স্কিল অর্জনের চেষ্টা করো। ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে, অনলাইনে অনেক কোর্স আছে, একাডেমি আছে-সেগুলোর সাহায্য নাও। পরিবারের বোঝা হয়ে থেকো না, রাতের পর রাত গেইম খেলে, প্রেম করে সিনেমা-সিরিয়াল-সিরিয দেখে কাটিও না। দরকার হলে রাস্তায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করবো তবুও আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না-এমন দৃঢ় হতে হবে পুরুষের সংকল্প।

৪। ভোগবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসো। পরিশ্রম করো। কষ্ট করো। চ্যালেঞ্জ নাও। অলসতাকে ইসলামের লেবাস পরিয়ো না। আমি যুহুদ অবলম্বন করছি, তাওয়াক্কুল করছি-এসব মিথ্যা বলো না। ইসলামে অলসতা, কাপুরুষতার কোনো স্থান নেই। পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য স্যাক্রিফাইস করতে শেখো। সমাজের মানুষদের নিয়ে ভাবো। প্রেম-ভালোবাসা, মাদক, পর্ন, মাস্টারবেশন, সিনেমা, মিউযিক, ওয়েবসিরিয, টিকটক, বিটিএস বা অশ্লীলতার মধ্যে যতো ডুবে থাকবে ততো তুমি দাসত্বের জীবনে বন্দী হয়ে যাবে। তত বেশি নষ্ট হবে তোমার প্রাণশক্তি, আত্মবিশ্বাস।

৫। মিডিয়া, সমাজ, এই বিশ্বব্যবস্থাকে প্রশ্ন করতে শেখো। অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিও না। কেন তারা যা বলে সেটাই পরম সত্য হবে? তারা যদি সঠিক হয়, তাহলে তাদের বাতলে দেওয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে পাশ্চাত্যের সমাজের কেন এতো ভয়াবহ অবস্থা? কেন তাদের এতো হতাশা? আত্মহত্যা? কেন আজ পৃথিবীর এ অবস্থা? বইপত্র পড়ো। জ্ঞান চর্চা করো। ভেড়া হয়ে থেকো না। কাউকে তোমার ব্রেইনওয়াশ করতে দিও না। স্রোতের বিপরীতে যেতে শেখো।

৬। ইসলামে ফিরে এসো। ইসলামই মানবতার একমাত্র মুক্তির পথ।
'আর যদি গ্রামবাসীরা ঈমান আনতো ও তাকওয়া অবলম্বন করতো তাহলে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।'[৪০০]

বিয়ে করতে না পারার, হতাশার, সমস্যাগুলোর কারণ চিহ্নিত করে দেওয়া হলো। সমস্যার সমাধানও তোমার সামনেই আছে। এখন তুমি কি পরিবর্তনের পথে হাঁটবে নাকি হতাশায় ডুবে থাকবে? ফেইসবুকে কিংবা বন্ধুদের সাথে কথোপকথনে বাবা-মা আর সমাজকে গালিগালাজ করবে নাকি বাস্তবতাকে বদলানোর চেষ্টা করবে? নাকি মাথা কুটে মরবে অনিঃশেষ অভিযোগের আঙুল তোলার গোলকধাঁধায়?

কিছু মানুষ সারা জীবন হা-হুতাশ করে যায়। অভিযোগ আর অনুযোগেই তাদের জীবন কাটে। আর কিছু মানুষ পরিবর্তন আনে। তুমি কোন ধরনের মানুষ হবে?

সিদ্ধান্ত তোমার!

টিকাঃ
[৩৯৭] True Men, Manhood, And Masculinity in Islam, siasat.com, July 8, 2019-tinyurl.com/54n9h8jn
10 Qualities That Define A Man & 7 That Don't, mensxp.com, Jul 24, 2015 -tinyurl.com/2aawvy4e
10 Qualities of a Gentleman, leadership-matters.biz, Jul 4, 2013 -tinyurl.com/ mr3hj4u6
Top 10 Qualities of Highly Successful People, inc.com- tinyurl.com/489yfmwn Top 10 Traits of a Real Man (Muslim Style), muslimmatters.org, August 28, 2012-tinyurl.com/mpr9v7bt
True men, manhood, and masculinity in Islam, abuaminaelias.com, March 28, 2018- tinyurl.com/5fcsffdw
[৩৯৮] 9 Qualities Every Woman Looks For In A Husband, lifehack.org- tinyurl. com/5n8ctnvv The qualities that women look for in a man, thegentlemansjournal.com- tinyurl. com/bdxe2hyb
5 Secrets to a Successful Long-Term Relationship or Marriage, Medically reviewed by John M. Grohol, Psy.D, psychcentral.com, May 17, 2016-tinyurl.com/ yd25um97
[৩৯৯] 15 Qualities of A Good Wife, Medically reviewed by Dr. Lourdes Mantecón- Garza, MD, September 14, 2022- tinyurl.com/ywry52bk Ideal character of Muslim women, arabnews.com, January 01, 2016- tinyurl. com/52vc2du7 10 Qualities of a Lady, leadership-matters.biz, Jun 14, 2013- tinyurl.com/yext3dvu
[৪০০] সূরা আল-আ'রাফ, ৭: ৯৬

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 উত্তরের অপেক্ষায়

📄 উত্তরের অপেক্ষায়


এক.

দু'আ নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ ভুল ধারণা আছে।

আল্লাহ বলেছেন, আমাকে ডাকো, আমি বান্দার ডাকে সাড়া দেই, আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করি।

মানুষের কাছে চাইলে মানুষ বিরক্ত হয়, আল্লাহর কাছে না চাইলে তিনি রাগ করেন। তাহাজ্জুদের দু'আ এমন এক তীর যা কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না...

কুরআনের আয়াত ও হাদীসের এমন বক্তব্যগুলো শুনে আমরা যা ভাবি তা হলো: আল্লাহর কাছে চাইবার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ আমাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু দিয়ে দেবেন। কোনো দেরি হবে না। হোক সেটা হালাল চাওয়া বা হারাম চাওয়া।

আল্লাহ ওয়াদার খেলাফ করেন না। তবে আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলার সাড়া দেবার ধরণ একটু অন্যরকম। কাঙ্ক্ষিত বস্তু না দেওয়াটাও তার দু'আ কবুল করা বা সাড়া দেবার অংশ। ধরো, তোমার ছোটভাইয়ের অসুখ হয়েছে। ডাক্তার বলেছে রোজ রাতে ঘুমানোর আগে দুই চামচ করে ওষুধ খেতে হবে এক মাস। প্রথম রাতে ওষুধ খাবার সময় তোমার ছোটভাই আবিষ্কার করলো, ওষুধ বেশ মিষ্টি। খুব টেস্ট! সে জেদ ধরলো, একমাসের ওষুধ সে তখনই ঢকঢক করে গিলে খাবে! তুমি কি তাকে এমনটা করতে দেবে? সে তোমার কাছে খুব কান্নাকাটি করছে। কাকুতি মিনতি করছে। তোমার মন গলাতে না পেরে শেষমেষ ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে—তোমার মনে কি কোনো দয়া-মায়া নাই? তুমি কি আসলেই আমার ভাই? আমাকে না দিয়ে নিজে খেতে চাও, তাই না?

এমন অবস্থায় তুমি কী করবে? এখানে ওষুধ না দেওয়াই ভালোবাসার প্রমাণ। তাই না?

ছ্যাঁকা খাবার পরে দেখি অনেকেই সদ্য প্রাক্তন হয়ে যাওয়া মানুষটাকে ফিরিয়ে দেবার জন্য মনপ্রাণ ঢেলে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে থাকে। দু'আ কবুল না হলে আবারো সেই একই কাহিনী—আল্লাহর প্রতি অভিমান, অনুযোগ, বিরূপ ধারণা করা।

একটু ভেবে দেখো। তুমি হারাম কাজের জন্য, একটা হারাম সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতির জন্য দু'আ করছো, আল্লাহ কি তোমার এই হারাম কাজের দু'আ কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?

দুই. দু'আ নিয়ে আল্লাহর উপর মন্দ ধারণা করার আরেকটা কমন বিষয় হলো বিয়ে। সাধারণত এক্ষেত্রে দুই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রথমত, যাকে বিয়ে করতে চায় মানুষ তার নাম ধরে দু'আ করে। 'হে আল্লাহ অমুকরে আমার বউ বানাইয়া দাও, অনুকরে আমার জামাই বানাইয়া দাও...।' দু'আ চলতেই থাকে। কিন্তু অমুকের যদি অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায় তাহলেই শুরু হয়ে যায় আল্লাহর প্রতি অভিযোগ। 'আল্লাহ, ক্যান আমার সাথে এমন করলেন'?

আচ্ছা তুমি যাকে চাচ্ছো, তার সাথে বিয়ে যে তোমার দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হবে, এটা কি তুমি নিশ্চিত জানো? হয়তো বিয়ের পর দেখা গেল সে পরকীয়া করছে, দু'হাতে টাকা অপচয় করছে, তোমার সাথে ঝগড়া করছে, তোমার বাবা-মাকে কষ্ট দিচ্ছে, অন্য মেয়েকে নিয়ে ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে, তোমার গায়ে হাত তুলছে। অথবা দেখা গেল বউয়ের কারণে তুমি ঘুষ খাচ্ছো, হারাম ইনকামের দিকে ঝুঁকছো। হতে পারে স্বামী তোমাকে পর্দা করতে দিচ্ছে না... এমন অনেক কিছুই তো হতে পারে, তাই না? তুমি যেটাকে শাস্তি মনে করে অভিযোগ করছো, হয়তো সেটা আসলে তোমার জন্য নিয়ামত। কিন্তু তুমি সেটা এখনো বুঝতে পারছো না। অধৈর্য হয়ে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছো! তাছাড়া এভাবে সরাসরি নাম ধরে বিয়ের জন্য দু'আ করা ঠিক না। সালাফরা আমভাবে কল্যাণের জন্য দু'আ করতেন। এভাবে দু'আ করতে পারো যে,

'হে আল্লাহ, যদি সে আমার দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য ভালো হয় তাহলে তার সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন, আর যদি ভালো না হয় তাহলে তাকে ভুলে যাবার তাওফিক দিন, তার উপর থেকে আমার মন উঠিয়ে নিন।'

সবচেয়ে ভালো হয় আল্লাহর শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতিতে দু'আ করলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতল করে। এবং আমাদেরকে মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দিন।[৪০১]

এর চেয়ে সুন্দর দু'আ তুমি করতে পারবে? এর চেয়ে সুন্দর দু'আ করা সম্ভব? তবে শুধু দু'আ করে গেলেই হবে না, বিয়ে করার জন্য দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, দায়িত্ব নেওয়া শিখতে হবে যেগুলো আমরা আগেই আলোচনা করেছি।

বিয়ে নিয়ে দু'আ এবং দু'আ নিয়ে অভিযোগের দ্বিতীয় একটা ধরন আছে। যারা মোটামুটি দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করে এটা তাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। ধরো, তুমি ইসলাম পালনের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা থেকে বাঁচার জন্য বিয়ে করতে চাও। রবের কাছে করুণ মিনতি জানাচ্ছো বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না। স্বপ্নের সেই অদেখা মানুষটা স্বপ্নেই থেকে যাচ্ছে, ছুঁতে পারছো না। বাসায় রাজি হচ্ছে না বা পছন্দমতো পাত্র-পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পছন্দ হচ্ছে তারা আবার রিজেক্ট করে দিচ্ছে। অনবরত দু'আ করে যাচ্ছো তুমি। কিন্তু বিয়ের ফুল ডুমুরের ফুল হয়েই আছে। তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করছে আল্লাহ কবে আমার দু'আ কবুল করবেন? কবে আসবে আল্লাহর সাহায্য? আল্লাহ দু'আকারীর দু'আ কবুল করেন- কই, আমার দু'আ তো কবুল হচ্ছে না!

অসাধারণ একজন দাঈ তারেক মেহেন্না। তাঁর একটি লেখা পড়েছিলাম বেশ আগে। আলোচনার এই পর্যায়ে সেই লেখাটা নিয়ে আসা জরুরি। তিনি লিখেছেন,

...আমরা দু'আকে বিপদের সময়, কঠিন মূহুর্তে প্যানিক বাটনের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করি। আপনি কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ বারবার কুরআনে বলেছেন দরকারের সময় যে তাঁকে ডাকবে তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দেবেন। সুতরাং, আপনি মনে করলেন যদি ঠিকঠাক মতো দু'আ করতে পারেন (রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, মনোযোগের সাথে ইত্যাদি), তাহলে ঠিক পরদিন সকালেই আপনি আপনার দু'আর 'জবাব' পেয়ে যাবেন। আর যদি না পান, তাহলেই আপনি ভেতরে ভেতরে আল্লাহর অঙ্গীকার নিয়ে সন্দেহ করা শুরু করবেন!

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একটি হাদীসে এই বিষয়ে বলেছেন। যদিও বুখারী ও মুসলিম-দুই জায়গাতেই এই হাদীসটি আছে, তবে আমাদের আলোচনার জন্য মুসলিমের বর্ণনাটি অধিকতর উপযুক্ত। হাদীসে এসেছে:

'একজন ব্যক্তির দু'আর জবাব দেওয়া হতে থাকে-যদি সে অন্যায় অথবা হারাম কিছুর জন্য দু'আ না করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন না করে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাড়াহুড়ো না করে এবং অধৈর্য না হয়।'

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'কীসের দ্বারা ব্যক্তি অধৈর্য হয়ে যাবে?' রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জবাব দিলেন, 'সে বলবে, আমি দু'আ করছি এবং করেই যাচ্ছি, কিন্তু আমি দেখছি আমার দু'আর কোনো জবাব দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে সে আশা হারিয়ে ফেলবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করা ছেড়ে দেবে।'[৪০২]

গভীরভাবে হাদীসটি বোঝার চেষ্টা করলে, কীভাবে দু'আ কাজ করে এবং কীভাবে কাজ করে না-সে বিষয়ে আমরা অনেক কিছুই জানতে পারবো। একটু খেয়াল করুন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী ধরনের শব্দ এখানে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন- '...তাঁর দু'আর জবাব দেওয়া হতে থাকবে।'

এবার অধৈর্য ব্যক্তির অভিযোগের সাথে তুলনা করুন- 'আমি দেখছি আমার দু'আর কোনো জবাব দেওয়া হচ্ছে না।'

আপাতদৃষ্টিতে দু'টো পরস্পর সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে। এটা কীভাবে সম্ভব যে একজন ব্যক্তির দু'আর জবাব দেওয়া হতে থাকছে কিন্তু তাঁর কাছে মনে হচ্ছে সে কোনো ফল পাচ্ছে না? দু'আর উত্তর কোথায়?

ব্যাপারটা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই দু'আর জবাব একসাথে না এসে, ধাপে ধাপে আমাদের কাছে আসে। এমন কিছু হয়তো ঘটবে যার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু আপনার কাছে মনে হচ্ছে আপনার দু'আর জবাব আসছে না।

মনে করুন আপনি একটা ঘরে বন্দী। মুক্তির একমাত্র উপায় জানালা ভেঙে বের হওয়া, কিন্তু আপনার সম্বল শুধুমাত্র ছোট কিছু পাথরের টুকরো। আপনি জানালায় একটা ছোট পাথর ছুড়লেন। তাতে জানালা ভাঙলো না, কিন্তু খুব সুক্ষ্ম একটা ফাটল ধরলো। আপনি আরেকটা পাথর ছুড়লেন। আরেকটা ছোট ফাটল। আপনি আবার একটা পাথর ছুড়ে দিলেন, তারপর আরেকটি। যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরো জানালা অসংখ্য সুক্ষ্ম ফাটলে ভরে গেছে। শেষবারের মতো আপনি একটা পাথর ছুড়ে দিলেন এবং জানালার কাঁচ ভেঙে গেল। বন্দীত্ব থেকে আপনি মুক্তি পেলেন। দু'আও এভাবেই কাজ করে। আপনি প্রতিটি দু'আর মাধ্যমে আংশিক জবাব পেতে থাকেন এবং ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে একই দু'আ বারবার করার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে শেষ পর্যন্ত দু'আর পরিপূর্ণ জবাব পাবেন।

মনে রাখবেন প্রথম পাথরটি শুধু একটি ফাটলই ধরাবে। কিন্তু আপনি যদি পাথর ছুড়তে থাকেন তাহলে এক সময় জানালা ভেঙে যাবে এবং আপনি মুক্ত হবেন। এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। এই জন্যই হাদীসটিতে আমাদের বলা হচ্ছে- '... যতক্ষণ পর্যন্ত সে অধৈর্য না হচ্ছে।'

আপনি যখন কোনো চারাগাছে পানি দেন, তখন নিশ্চয় একসাথে ত্রিশ গ্যালন পানি ঢেলে দিয়ে, কেন মাটি থেকে বিশাল মহীরুহ বের হচ্ছে না, সেটা নিয়ে চিন্তা করতে বসেন না। বরং আপনি ধৈর্য সহকারে প্রতিদিন একটু একটু করে পানি দিতে থাকেন এটা জেনে যে, যত সময়ই লাগুক না কেন, শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফুলটি আপনি পাবেনই। একইভাবে আপনি জানেন, আল্লাহ আপনার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করবেন এবং আপনার দু'আর জবাব দেবেন- এটা সত্য। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে অলৌকিকভাবে দু'আর উত্তর পাওয়া নিয়মের ব্যতিক্রম, নিয়ম না। নিয়ম হলো আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাওয়া এবং তাঁর কাছ থেকে এর উত্তর পাওয়ার প্রক্রিয়া সময় ও ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল।

ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর 'সাইদুল খাতির' বইটিতে বলেছেন: 'কষ্ট-দুঃখ-দুর্দশা শেষ হবার একটি নির্ধারিত সময় আছে যা শুধু আল্লাহ জানেন। তাই যে ব্যক্তি দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। আল্লাহর নির্ধারিত সময় আসার আগে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা কোনো কাজে লাগবে না। ধৈর্য আবশ্যক কিন্তু দু'আ ছাড়া ধৈর্য অর্থহীন। যেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু'আ করছে, তাঁর কাছে সাহায্য চাইছে, তার উচিত না অধৈর্য হওয়া। বরং তার উচিত ধৈর্য, সালাত এবং দু'আর মাধ্যমে সর্বজ্ঞানী আল্লাহর ইবাদাতে নিয়োজিত হওয়া। অধৈর্য ব্যক্তি তাঁর ধৈর্য হারানোর মাধ্যমে আল্লাহর পরিকল্পনা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে। এটা আল্লাহর সামনে একজন গোলাম ও বান্দার উপযুক্ত আচরণ কিংবা অবস্থান নয়। আল্লাহর বান্দা হিসেবে আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ অবস্থান হলো, আল্লাহর কাছ থেকে আসা তাকদীরকে মেনে নেওয়া। এবং এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য। এর সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হলো সালাতের মাধ্যমে ক্রমাগত আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাওয়া। আল্লাহর কাছ থেকে আসা তাকদীরের বিরোধিতা করা হারাম এবং এটা আল্লাহর পরিকল্পনা লঙ্ঘনের চেষ্টার মধ্যে পড়ে। তাই এই বিষয়গুলো অনুধাবন করো এবং তোমার জন্য তোমার দুঃখ-কষ্ট-দুর্দশা সহ্য করা অনেক সহজ হবে।' [৪০৩]

ভাইয়া, আপু! হয়তো তুমি এখনো বিয়ের জন্য প্রস্তুত নও, আল্লাহ তোমাকে প্রস্তুত হবার সময় দিচ্ছেন। হয়তো তুমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নও, হয়তো এখন বিয়ে হলে তুমি তাকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যেতে। অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে না, যা আদতে তোমার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতো। [৪০৪] রিজেকশনের কারণে তুমি কষ্ট পাচ্ছো, অথচ আল্লাহ হয়তো তোমার জন্য আরো উত্তম কোনো জীবনসঙ্গীর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। যার জন্য তুমি কষ্ট পাচ্ছো তার সাথে বিয়ে হলে হয়তো তুমি সুখী হতে না, সংসারে অনেক অশান্তি হতো। তুমি দু'আ করতে থাকো, চেষ্টা করতে থাকো আর আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখো। আল্লাহ একদম উপযুক্ত সময়ে তোমার জন্য পারফেক্ট মানুষটাকে তোমার কাছে পাঠাবেন।[৪০৫]

শেষ বিচারের দিন আল্লাহর এক বান্দার সামনে পুরষ্কারের বিশাল এক পাহাড় নিয়ে আসা হবে। বান্দা বলবে, 'ইয়া আল্লাহ! এগুলো কার?' আল্লাহ বলবেন, 'এগুলো তোমার।'

বান্দা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইবে না এতোগুলো পুরস্কার তার, কারণ সে জানে দুনিয়াতে থাকতে এগুলো পাওয়ার মতো আমল সে করেনি।

আল্লাহ বান্দাকে বলবেন, 'তোমার মনে আছে তুমি আমার কাছে অনেক দু'আ করতে দুনিয়াতে। সেই দু'আগুলোর কিছু জবাব আমি দিয়েছিলাম, কিছু দেইনি। জবাব না দেওয়া দু'আগুলোর বদলে আমি তোমাকে এই পুরস্কার দিচ্ছি।'

বান্দা আফসোস করে বলবে, 'ইয়া আল্লাহ! কেন আপনি দুনিয়াতে আমার কিছু দু'আ কবুল করেছিলেন! আপনি যদি একটা দু'আও কবুল না করতেন তাহলে আমি আজ কতোগুলো পুরস্কার পেতাম!'[৪০৬]

মন খারাপ করো না, হতাশ হয়ো না, অস্থিরও হয়ো না। জীবনটা আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকো। ট্রেনে উঠে ট্রেন চালকের উপর ভরসা করে নিশ্চিন্তে ঘুম দেই আমরা... অ্যাক্সিডেন্টের ভয়ে জেগে থাকি না। অথচ আল্লাহ আমাদের রব! তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন-তাঁর উপরই আমরা ভরসা করতে পারি না! এটা তো লজ্জার কথা! কষ্টের কথা! দু'আ কবুলের একটি পূর্বশর্তই হলো আল্লাহর উপর ভরসা করা, সুধারণা রাখা।

'আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে আমি তেমন।' [৪০৭]

শুধু মুখে মুখে চাওয়া কিন্তু দু'আ নয়। তোমার মনের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য আল্লাহ যা যা করতে বলেছেন তা করো। দু'আ কবুলের শর্তগুলো জানো। [৪০৮] সেগুলো মেনে চলো। এগুলোও দু'আরই অংশ। এরপর তাঁর উপর ভরসা করো। যথাসময়ে জবাব আসবেই।

'... তোমার মালিক তোমাকে এমন কিছু দেবেন যাতে তুমি খুশি হয়ে যাবে।'[৪০৯]

টিকাঃ
[৪০১] সূরা আল-ফুরক্বান, ২৫:৭৪
[৪০২] সহীহ মুসলিম ২৭৩৫ (ইফা, ৬৬৮৫)
[৪০৩] কখনও ঝরে যেও না, তারেক মেহান্না, সীরাত পাবলিকেশন
[৪০৪] পরিচিতদের মধ্যে অনেক আছে। বিয়ের পরে অনেক বদলে গেছে। সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন ঠিক নেই। বউ এর সাথে জড়াজডি করা ছবি দেদারসে আপলোড করে অনলাইনে। দেখা অনেকে ইসলামের বেসিক কাজটা পর্যন্ত করে না। নামায-কালাম, রোযা, পর্দা কোনো কিছুর
[৪০৫] এক ভাইয়ের কথা জানি। ১০-১২ বছর আল্লাহর কাছে বিয়ের জন্য দু'আ করেছেন। ভাইয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সবাই হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিল। ভাইও ধৈর্য ধরতে ধরতে প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবুও দু'আ করা বন্ধ করেননি। আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখে দু'আ করেছিলেন। এরপর অবিশ্বাস্যভাবে ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বেশ সুখেই আছেন এখন তিনি।
[৪০৬] আল আদাব আল মুফরাদ লিল ইমামিল বুখারী- ৭১০, মুসনাদে ইমাম আহমাদ, ১১১৩৩। আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আত-তারগীব: ১৬৩৩)
[৪০৭] বুখারী: ৭৪০৫, মুসলিম: ২৬৭৫ (ইফা. ৬৫৬১)। আল্লাহর প্রতি সুধারণা বাড়ানোর জন্য পড়া যেতে পারে ড. ইয়াদ কুনাইবি হাফিযাহুল্লাহর জীবন বদলে দেওয়া বই- আল্লাহর প্রতি সুধারণা, প্রকাশনী: শব্দতরু। অবশ্যপাঠ্য একটি বই।
[৪০৮] দু'আ কবুল হওয়ার শর্তগুলো কী কী; যাতে দু'আটি আল্লাহর কাছে কবুল হয়, IslamQA - tinyurl.com/2p85phan
[৪০৯] সূরা আদ-দুহা, ৯৩: ৫

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 সবিনয়ে নিবেদন

📄 সবিনয়ে নিবেদন


সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থা যতই দাবি করুক প্রেম-যৌনতা নিছক মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার না। এর সাথে জড়িত পরিবার, সমাজ, জাতি ও সভ্যতার উত্থান পতনের সম্পর্ক। এটুকু নিশ্চয় এরই মাঝে বোঝা গেছে। তাই এই তথাকথিত প্রেম আর ফ্রি সেক্স কালচারকে সমাজ থেকে দূর করার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি অংশীদারকে।

'কিন্তু আমি তো অতি ক্ষুদ্র মানুষ, আমি কী করবো? আমার বন্ধু প্রেম করলে, যিনা করলে, আত্মহত্যা করতে চাইলে আমি কী করবো, কীভাবে করবো? আমার ছেলে/ মেয়ে প্রেম করলে কী করবো? আমি শিক্ষক, আমি মসজিদের ইমাম, আমি ছাপোষা মধ্যবিত্ত, আমি এলাকার কিংবা ক্যাম্পাসের বড় ভাই, আমি এলাকার নেতা, আমি কীভাবে সাহায্য করবো?'- এরকম প্রশ্ন অনেকের মনেই। সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো দেবার জন্যেই আমাদের এই লেখা।

অভিভাবক ও বন্ধুর দায়িত্ব
ব্রেকআপের পর...
১। ব্রেকআপের পর আপনার সন্তান বেশ কষ্টকর একটা সময় পার করবে। কেউ কেউ এসময় মদ-গাঁজাতে আসক্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই আত্মহত্যা করে। এ সময় তাকে মারধর বা বকাঝকা করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ দিকে মোড় নিবে। তাকে কাছে টেনে নিন। ঠাণ্ডা মাথায় কাছে বসিয়ে আমরা এ বইতে যেমন আলোচনা করলাম সেভাবে প্রেমের প্রকৃত বাস্তবতা তাকে বুঝান। আল্লাহ তাকে কী জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, সেটা মনে করিয়ে দিন। তার কথাগুলো শুনুন। সে একদিনে ফিরে আসতে পারবে না। একটু সময় নেবে। পড়াশোনায় একটু ছেদ পড়বে। এ ব্যাপারগুলো স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করে নিন।

নিজে সন্তানের সাথে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে লজ্জাবোধ করলে মামা, চাচা, বড় ভাইবোন, খালা, ফুপি যাদের সাথে সে ক্লোজ তাদের দিয়ে বুঝান। চাইলে মসজিদের ইমাম সাহেব, ভালো একজন আলিম বা দ্বীনদার কোনো মনোবিদের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। মনোবিদ মানেই পাগলের ডাক্তার নয়। এটা নিয়ে লজ্জা পাবেন না। প্রয়োজন মনে করলে আমাদের এই বইটাও তার হাতে তুলে দিতে পারেন। বইয়ে দেওয়া টিপসগুলো সে যেন অনুসরণ করে সেটা নিশ্চিত করুন।

রাতে তাকে একা ঘুমোতে দেবেন না। সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একসাথে ফজরের নামায পড়েন। হাঁটতে বের হন। কোথাও ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।

কোনো ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও আদানপ্রদান হয়েছে কি না, কৌশলে জেনে নিন। এগুলোর কারণে যে ব্ল্যাকমেইল, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে তা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। ছবি-ভিডিও আদানপ্রদান হয়ে থাকলে সে পক্ষের সাথে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে পৌঁছে যাওয়া কাম্য। প্রয়োজন মনে করলে প্রশাসনের সাহায্য নিন। যিনা করে ফেললে এবং গর্ভবতী হয়ে পড়লে কী করবেন, তা জানার জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আলিমের সাথে পরামর্শ করুন। আগেই অ্যাবরশন করে ফেলবেন না। যা কিছু হয়ে গেছে সবকিছু ভুলে গিয়ে আন্তরিকভাবে তাওবাহ করতে বলুন। আন্তরিকভাবে তাওবাহ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সম্ভব হলে, পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুমোদন দিলে ভালো পাত্র-পাত্রী দেখে বিয়ে দিয়ে দেবেন। তবে জোর করে মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া যাবে না। [৪১০]

২। ব্রেকআপের পর বা প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে আপনার সন্তান মাদকাসক্ত হতে পারে বা আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে। যারা আত্মহত্যা করে তাদের মধ্যে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়-
ক) সোশ্যাল মিডিয়াতে মৃত্যু আর আত্মহত্যা নিয়ে ইচ্ছার কথা প্রকাশ করা。
খ) আত্মহত্যা বা মৃত্যুবিষয়ক কবিতা, গান লিখতে, শুনতে বা পড়তে থাকা।
গ) নিজের ক্ষতি করা। প্রায়ই এরা নিজের হাত-পা কাটে, ঘুমের ওষুধ খায়।
ঘ) মনমরা হয়ে থাকা, সব কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা, নিজেকে দোষী ভাবা—এগুলো বিষণ্ণতার লক্ষণ; যা থেকে আত্মহত্যা ঘটে।
ঙ) মাদকাসক্তি বা ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি।
চ) সারা রাত জেগে থাকা, সারা দিন ঘুমানো। খাওয়াদাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
ছ) নিজেকে গুটিয়ে রাখা।
জ) পড়ালেখা, খেলাধুলা, শখের বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
ঝ) বেঁচে থাকার কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছে না, কেন জন্মগ্রহণ করলাম—এমনটা জানানো।
ঞ) হতাশ, বিষণ্ণ থাকা, এমন সমস্যায় আটকা পড়েছে যা থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই-এমন কথা বলা।
ট) নিজেকে অন্যের বোঝা মনে করে-এমনটা জানানো।
ঠ) নিজের মূল্যবান সামগ্রী অন্যদের দিয়ে দেওয়া, সে না থাকলে তার জিনিসপত্র কাকে কাকে দিতে হবে তা বলে দেওয়া।
ড) পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে এমনভাবে বিদায় নেওয়া, যেন এটা শেষ বিদায়।

যা করবেন:
ক) ঘুরেফিরে সেই একই কথা, আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী তা বোঝান। উপরের আলোচনায় যে টিপসগুলো দেওয়া হলো সেগুলো অনুসরণ করুন।
খ) তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন তুমি কি আত্মহত্যার কথা ভাবছো? বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এভাবে সরাসরি প্রশ্ন করলে আত্মহত্যা করার ঝুঁকি কমে আসে।[৪১১]
গ) একাকীত্বে ভুগতে দেবেন না। তাকে সময় দিন।
ঘ) মাদক এবং আত্মহত্যার সম্ভাব্য জিনিসপত্র তার কাছ থেকে সরিয়ে রাখবেন। তার হাতে টাকা না দিয়ে, যা কেনা দরকার কিনে দিন। কার সাথে মিশছে তা খেয়াল রাখুন।
ঙ) অবস্থা গুরুতর মনে হলে মনোবিদের কাছে নিয়ে যান।

বন্ধুর করণীয়: একজন প্রকৃত বন্ধু, তার বন্ধুকে প্রেম, যিনা-ব্যভিচার করতে সাহায্য করে না। বরং তাকে এই ধংসাত্মক পথ থেকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। বন্ধু প্রেম বা যিনা করলে তুমি এই বইয়ে আলোচনা করা বিষয়গুলো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করো। একদিনে হয়তো হবে না। সময় লাগবে। সময় নাও। তোমার মাধ্যমে সে যদি পাপের পথ থেকে ফিরে আসে তাহলে তুমি প্রচুর সওয়াব পাবে।

শত চেষ্টার পরেও সে বুঝতে চাচ্ছে না। যিনা করছে, মাদক, আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে বা ব্রেকআপের ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে-এমন অবস্থায় যা করবে-
১। সময় দেওয়া, মন ভালো করার চেষ্টা করা, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার ব্যবস্থা করা, তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা না করা।
২। একজন ভালো আলেম বা দ্বীনদার মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া।
৩। সিনিয়র কারো সঙ্গে আলোচনা করে দরকার হলে তার বাবা-মা, অভিভাবককে জানানো। এতে করে হয়তো তার সাথে তোমার বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু হাশরের ময়দানে সে ঠিকই বুঝবে তোমার বন্ধুত্বের মর্যাদা! [৪১২] তার প্রকৃত বন্ধু হিসেবে তোমার এই অস্বস্তিকর কাজটা করতেই হবে।

আপনি যখন জানলেন আপনার সন্তান প্রেম করে...
এই জানার ব্যাপারটা দুইভাবে হতে পারে।
১। আপনি নিজে আবিষ্কার করলেন বা আপনাকে কেউ জানালো।
২। আপনার সন্তান নিজে এসেই বললো।

প্রতিক্রিয়াও হয় দুই ধরনের।
১। ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া-
ক) এই বয়সে এমন এক আধটু করতে পারেই। এসব কিছু না। বয়সের দোষ। পরে ঠিক হয়ে যাবে। আর একদিক থেকে ভালোই হলো, আমাদের আর পাত্র/পাত্রী খুঁজতে হবে না।
খ) মাইর একটাও মাটিতে পড়ে না, স্কুল কলেজ, হাতখরচ দেওয়া সব বন্ধ। অপমান, তিরস্কার। কথা বন্ধ।

২। যা করা উচিত-
ক) প্রেম হারাম কাজ। এটার কারণে আপনার সন্তান কঠিন গুনাহ করছে। এখন প্রেমের সম্পর্কগুলো খুব দ্রুত যিনা-ব্যভিচারে রূপ নেয়। তার এই পাপগুলোর জন্য আল্লাহ আপনাকেও ধরবেন। ব্যক্তি, পরিবার সমাজ ও সভ্যতার উপর এগুলোর ভয়াবহতা আমরা পুরো বই জুড়ে আলোচনা করলাম। কাজেই আপনি এগুলো সিরিয়াসভাবে নিন।
খ) হালকা শাসন করতে পারেন, তবে হুলুস্থুল কিছু না। এই লেখায় দেওয়া টিপসগুলো অনুসরণ করে তাকে প্রেমের ও জীবনের বাস্তবতা বুঝান। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এলাকা বদলে ফেলুন।

বাসা থেকে পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকলে...
ধরুন, আপনাদের সন্তানেরা একে অপরকে পছন্দ করে এবং তাদের বিয়ে না দিলে পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অপর পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড, সামাজিক অবস্থান, বংশ-সব আপনাদের কাছাকাছি। ছেলে/মেয়েও চলনসই-এমন ক্ষেত্রে সন্তান প্রেম করলো কেন কেবল এই জেদ ধরে তাদের বিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত না। আমরা হারাম রিলেশনের বিয়েতে উৎসাহ দেই না (আগের লেখাগুলোতে এ নিয়ে আলোচনা এসেছে), কিন্তু তারপরও আমাদের সাজেশন থাকবে-এরকম পরিস্থিতিতে এদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বাসা থেকে পালিয়ে নিজেদের এবং আপনাদের সবার জীবনই নষ্ট করে ফেলতে পারে তারা। তবে সিদ্ধান্ত নেবার আগে ভালো একজন আলেমের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে ভুলবেন না।

আপনার সন্তান বাসা থেকে পালিয়ে গেলে....
এটা বেশ ভয়ংকর পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতিতে আসলে মাথা ঠিক রাখা বেশ কঠিন।ওর সাথে পালালাম লেখায় আমরা যেমন আলোচনা করলাম বাসা থেকে পালিয়ে গেলে ছেলে মেয়ে দুজনেরই ভয়ঙ্কর রকমের বিপদ হয় আজকাল। তাই অভিমান করে না থেকে দ্রুত তাদের খুঁজে বের করুন। ফিরিয়ে আনুন বা খোঁজখবর রাখুন। সে অবুঝের মতো পালিয়ে গেলেও দিনশেষে সে আপনারই সন্তান। আপনারই শরীরের অংশ। তার কিছু হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবেন আপনিই। সম্পর্ক মেনে নেবেন কি নেবেন না, সেটা পরের ব্যাপার। কিন্তু আগে ফিরিয়ে আনুন। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিন।

দেখুন, এই যে এতো সমস্যা, প্রেম, ব্রেকআপ, হতাশা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, যিনা-ব্যভিচার, ছবি ভাইরাল, মানসম্মান নষ্ট, আদরের সন্তান, ছোট ভাইবোন, ভাগ্নে-ভাগ্নী, ভাতিজা-ভাতিজির এই করুণ পরিণতি... এগুলো আমার আপনার হাতের কামাই। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে, পশ্চিমা বিশ্বের কথা শুনে শুনে ব্রেইনওয়াশড হয়ে গিয়েছি। হারামকে, গুনাহকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছি। প্রেমকে সহজ করেছি, বিয়েকে কঠিন করেছি। বিয়ে করতে চাওয়াকে মহা অপরাধ বানিয়েছি। অশ্লীলতার ফেরিওয়ালাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করিনি, বাচ্চাদেরকে জীবনের উদ্দেশ্য শিখিয়েছি ডিগ্রি কামানো, সরকারি চাকরি কিংবা বিদেশে সেটেল হওয়াকে, লেখাপড়া করে গাড়ি-ঘোড়ায় চড়াকে। ওদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিইনি, উল্টো দাড়ি রাখলে, ইসলামী বইপত্র পড়লে, ইসলাম পালন করলে, মাহরাম মেনে চলতে চাইলে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ফলাফল আমাদের চোখের সামনেই। প্রতিকার করার চাইতে প্রতিরোধ করা উত্তম। চলুন দেখা যাক প্রেম, যিনা, যৌন বিকৃতির এই মহামারি ঠেকাতে আমরা কি কি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি।

পারিবারিক পর্যায়ে আমার সন্তান কখনোই প্রেম-যিনা ব্যভিচার করতে পারে না-এই মিথ্যা আত্মবিশ্বাস রাখবেন না। বইয়ের শুরুতেই আমরা পরিসংখ্যান এনে দেখিয়েছি প্রেম-যিনার কী মহামারি অবস্থা। আপনার সন্তান হয়তো এগুলো করবে না, কিন্তু সে করবে এটা ধরেই কর্মপন্থা ঠিক করুন-

১। ছোট থেকেই তাকে ইসলামী অনুশাসনে বড় করে তুলুন। তার অন্তরে ঈমানের পরিচর্যা করুন। ইসলাম পালনের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের শিক্ষা দিন। সাহাবীদের সাথে, সালাহউদ্দীন আইউবী, মুহাম্মাদ বিন কাসিম, তারিক বিন যিয়াদ, তিতুমীর, শরীয়াতুল্লাহদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে আল্লাহর সন্তুষ্টি, সেটা বুঝান। দাড়ি, টুপি, পর্দা করার পরিবেশ তৈরি করে দিন। যদি এ ব্যাপারে নিজের মধ্যে ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটাও সংশোধন করে নিন। মানুষ দেখে দেখেই শেখে। শুধু জন্ম দিলেই প্রকৃত অর্থে বাবা-মা হওয়া যায় না। আপনি যদি সন্তানের হাতে ঈমানের কম্পাস ধরিয়ে না দেন, তাহলে এই সমাজ ও সভ্যতা তাকে অবক্ষয় ও অধঃপতনের দিকে নিশ্চিতভাবেই নিয়ে যাবে।

২। প্রেমের প্রকৃত বাস্তবতা বুঝান। বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে নেবে এই আশায় ফেলে রাখবেন না। বন্ধুদের কাছ থেকে কী জানবে, আশা করি বুঝতে পারছেন। একদিন কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান। গিয়ে সুন্দর করে তাকে এগুলোর বাস্তবতা বুঝান।

৩। তাঁর বন্ধু হবেন না। কিন্তু বন্ধুর মতো মিশুন। তাকে সময় দিন। সে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সাথে মিশছে, আসলেই এক্সট্রা ক্লাস বা প্রাইভেট আছে কি না, এগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবর রাখুন। বিশেষ করে সে যদি পরিবার থেকে দূরে, অন্য কোনো শহরে থাকে। অনেকেই বাসায় এমনভাবে থাকে যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানে না, কিন্তু শহরে এসে আকাশে বাতাসে সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ায়। শিক্ষকদের সাথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখুন। মিথ্যা বললে কড়া মারধর করবেন নাস, স্নেহের অভিমান করুন। দেখবেন কাজ হবে।

মাঝে মাঝে হালকা শাসন করতে পারেন। তবে এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবেন না, যাতে সে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। সবসময় সব ব্যাপারে খবরদারি না করে তাকে কিছুটা স্বাধীনতা দিন। তবে স্বাধীনতার সাথে যে দায়িত্ব জড়িত-এই বিষয়টিও ভালোভাবে বুঝান। সে প্রেম-যিনা করলে আপনি কতোটা কষ্ট পাবেন তা বুঝান। দেখবেন সে প্রতিকূল পরিবেশেও যিনা-ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

৪। ভার্সিটিতে যাবার আগ পর্যন্ত তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেবেন না। একান্ত দরকার হলে প্রয়োজনের জন্য শুধু ফোন করা যায় এমন বাটন ফোন কিনে দিন। না হলে সে প্রেম করবে, পর্ন দেখবে, গেইম খেলবে, টিকটকে অশ্লীল, সহিংসতামূলক কিংবা বিকৃত কন্টেন্ট বানাবে।[৪১৩] সে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে আপনি তার সাথে যুক্ত থাকুন। সে একাধিক আইডি, ফেইক আইডি ব্যবহার করতে পারে। এ ব্যাপারে একটু নজর রাখুন। স্মার্টফোন যদি দিতেই হয় অশ্লীল সাইট বন্ধের ফিল্টার ব্যবহার করুন।[৪১৪] ফোন দেবার পরিবর্তে কম্পিউটার কিনে দিতে পারেন। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ফটো এডিটিং, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি তার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই উপকারী। এগুলো শিখলে সে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারবে। নির্জনে, একা রুমে নয়, বরং সকলের চোখে পড়ে এমন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর ব্যবস্থা করুন।

৫। আইটেম সং, মিউযিক, সিনেমা থেকে তাকে দূরে রাখুন। আপনার সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এগুলোই তাকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। এগুলো থেকে শুধু তাকে দূরে রাখলে হবে না, আপনার নিজেরও দূরে থাকতে হবে।

৬। ফ্রি-মিক্সিং এর পরিবেশ দেবেন না। হোক সে কাযিন বা অন্য কোনো আত্মীয়। ইসলাম যা বলেছে তা করবেন-আলাদা আলাদা রাখবেন। বয়েস অনলি, গার্লস অনলি প্রতিষ্ঠানে পড়াবেন।

৭। বিয়ে দিয়ে দিন। এখন দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে কালেমা পড়িয়ে বিয়ে করিয়ে রাখলেন। আকদ হয়ে গেল, অনুষ্ঠান পরে করলেন। ছেলে ছেলের বাসায় থাকলো, মেয়ে মেয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করলো। মাঝে মাঝে বা ছুটির দিনগুলোতে এ ওর বাড়িতে বেড়াতে গেল।

এই পয়েন্ট পড়ার পর আমাদের ইমম্যাচিউর ভাবছেন বোধহয়। এতো ছোট ছেলে মেয়ে কীভাবে বিয়ে করবে? এরা তো নিজেরাই দায়িত্ব নিতে পারে না। বিয়ে করে খাওয়াবে কী? দেখুন, বিয়ে না দেওয়া হলে সে পাপ করবেই করবে। আমরা জাস্ট আপনাকে এবং আপনার সন্তানকে পাপ করা থেকে বাঁচাতে চাচ্ছি।

তাছাড়া আপনার ছেলেমেয়ে যে ম্যাচিউর হতে পারে না এর বেশিরভাগ দোষ আপনার। আপনিই তাকে ননীর পুতুল করে বড় করেছেন। যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছেন। তার জীবনে পড়াশোনা আর মোবাইল ছাড়া কিছুই রাখেননি। সে ম্যাচিউর হবে কীভাবে? সন্তানকে খেলাধুলার সুযোগ দিন, বাজার করতে দিন, সংসারের ছোটখাটো কাজ করতে দিন। ছোট থেকেই, টাকাপয়সা কীভাবে আসে, কীভাবে খরচ করতে হয় অর্থাৎ আর্থিক সাক্ষরতা শেখান। প্রকৃত পুরুষ ও নারীর বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করতে সাহায্য করুন। কলেজ লেভেল থেকেই টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদির মাধ্যমে টুকটাক উপার্জন করতে সাহায্য করুন। দেখবেন সে কেমন দায়িত্ববান হয়ে যায়। একবার দায়িত্ববান হলে দেখবেন মেয়ের বাবা আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে না。

গবেষণা বলে, বিয়ের পর সাধারণত মানুষ দায়িত্ববান হয়, গোছানো হয়, জীবনের প্রতি মনোযোগী হয়, উপার্জন বাড়ে। আল্লাহ তা'আলা আগেই আমাদের এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বিয়ে দিয়ে দিন। দেখবেন সে আজীবন আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। [৪১৫]

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে ক্যারিয়ারের বাস্তবতা বুঝুন। এখন শুধু বইয়ের পড়াশোনা, ডিগ্রি দিয়ে চাকরি হয় না। সামনে আরো হবে না। তাকে দায়িত্ববান করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে, পড়ার পাশাপাশি টুকটাক কাজ করতে শিখলে তার ক্যারিয়ারের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে ঘন। বরং চাকরি পাবার জন্য খুব জরুরি কিছু জিনিস যেমন, যোগাযোগের দক্ষতা, মানুষজনের সঙ্গে মেশার ক্ষমতা তার মধ্যে তৈরি হবে।

সামাজিক দায়িত্ব:
১। প্রেম-যিনার বাস্তবতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। জুমু'আর খুতবাহতে আলোচনা করা। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করা। সভা, সেমিনার, ক্যাম্পেইন ইত্যাদি করা। রাস্তাঘাটে, রেস্টুরেন্ট, পার্ক, শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-কোথাও প্রেমিক-প্রেমিকা দেখলে কল্যাণকামী হয়ে (পাওয়ার না দেখিয়ে) আন্তরিকভাবে, দরকার হলে মাথায় হাত বুলিয়ে তাদেরকে নাসীহাহ করা। প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের জানানো।

২। বিয়ের ব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা। বিয়েকে সহজ করা। বেশি বয়সে বিয়ে, ব্যাপক খরচাপাতির নেতিবাচক প্রবণতাগুলো থেকে সরে আসা। ইসলামে সাবালক হলেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া যায়। সাবালক হবার লক্ষণ হলো- ক) ছেলেদের স্বপ্নদোষ হওয়া, খ) মাসিক হওয়া, গ) প্রাইভেট এরিয়ায় চুল গজানো, ঘ) চন্দ্র বছর অনুসারে ১৫ বছর বয়স হওয়া। [৪১৬]

৩। যারা অশ্লীলতা ছড়ায় তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা। তাদের সাথে লেনদেন না করা। যেসব জায়গায় যিনা-ব্যভিচারের আসর বসে সেগুলোর ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। তবে রাগের বশে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করা যাবে না।

৪। ছবি-ভিডিও ভাইরাল হওয়া, আত্মহত্যা কিংবা বাসা থেকে পালানোর ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।

৫। তরুণদের দূরে ঠেলে না দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া। খেলাধুলা, একসাথে খাওয়া দাওয়া করা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, মসজিদকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা (যেমন, টানা ৪০ দিন জামা'আতে সালাত আদায়ের জন্য পুরস্কার দেওয়া), সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করা।

গাছ যদি পানির অভাবে মরে যেতে শুরু করে তাহলে গাছের কাণ্ডে, পাতায় পানি ঢেলে খুব একটা সুবিধা করা যায় না। পানি ঢালতে হয় গাছের গোড়ায় শিকড়ে। আমাদের সকল সমস্যার সমাধানের জন্য ফিরে যেতে হবে আমাদের শিকড়-ইসলামে।

ইসলামের মধ্যেই রয়েছে সকল সমস্যার সমাধান। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে সকল সমস্যার সমাধান অটোম্যাটিক হয়ে যাবে। যার প্রমাণ আমরা পাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলের ইতিহাস থেকে। চলুন, মূলে ফিরে যাই।

টিকাঃ
[৪১০] Parents forcing their daughter into a marriage, IslamQA - tinyurl.com/2m454x7j
[৪১১] Suicide Prevention, National Institute of Mental Health, August 2022-tinyurl. com/2s46bd5z
[৪১২] অধিকাংশ সময় প্রেমের মোহ কেটে গেলেই সে বুঝতে পারবে। হাশরের ময়দান পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে না。
[৪১৩] বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন- ইলমহাউস পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি।
[৪১৪] ফিল্টার সম্পর্কে জানতে পড়ুন- বিষে বিষক্ষয়, Lostmodesty.com- tinyurl. com/2cmr9w8p
[৪১৫] 'তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ দাও এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস-দাসীদেরও, তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন, আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।' [সূরা আন-নূর, ২৪: ৩২]
Married men earn more than everyone else (including married women and single men), Nov. 19, 2019- tinyurl.com/36nux
Marriage Tied to Longer Life Span, New Data Shows, webmd.com,Oct. 10, 2019 - tinyurl.com/5n6z7np9
[৪১৬] আল ইনায়া শারহুল হেদায়া ৮/২০১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৫৩; তাফসিরে কুরতুবি ১২/১৫১ বিস্তারিত- ছেলে-মেয়ে বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) কখন হয়? শায়েখ উমায়ের কোব্বাদী হাফিযাহুল্লাহ, quranerjyoti.com, ১ জুলাই, ২০১৭- tinyurl.com/yc47mc9m

ফন্ট সাইজ
15px
17px