📄 ফিরে আয়
ফাগুনের ভরা জ্যোৎস্না ছিল সেই রাতে। তবু তোর একলা ঘর ভাসিয়ে নিলো ঘোর অন্ধকার। ঝিরিঝিরি হাওয়া তোর ঘরে ঢুকে পথ হারিয়ে ফেললো। ভেসে গেলি তুই। মাদক, অশ্লীলতায়... ভেসে গেলি সুখসাগরে। খানিকপরেই পুরোনো শত্রুরা সব ফিরে এলো-হতাশা, শূন্যতা, রিক্ততা, রাজ্যের সব বিষাদ নিয়ে। তোর চোখে নামলো শ্রাবণের ঢল। সবাই ঘুমিয়ে ছিল সে রাতে। ঘুমিয়ে গিয়েছে একটু আগে তুই যার সাথে অশ্লীল চ্যাট করছিলি, সে-ও। একটা নেড়ি কুকুর কেবল জেগে ছিল সে রাতে। সারারাত করুণ সুরে কেঁদেছিল তোর সঙ্গী হয়ে।
ফিরে আয়...
মায়ের বুকে ফিরে আয়। আর কতো ভুল করবি? মোবাইলের অপরপ্রান্তে যে থাকে, যে জানু, বেইবি, বাবুটা আমার, পাখি, ময়না বলে সে একটা মিথ্যুক। তোকে সে তোর মায়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসে না। আর কতো কাল মা'কে কষ্ট দিবি, পাগল ভাই আমার, পাগলি বোন আমার?
ফিরে আয়...
বাবা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শক্ত করে ধরে রাখ তোর বাবার হাতটা। নষ্ট মানুষের জঙ্গলে হারিয়ে যাবি না হলে!
ফিরে আয়...
আমরা অনেক ভুল করেছি। আমি, আমরা, আমাদের জেনারেশন। আমাদের কেউ পথ বাতলে দেয়নি, আলো জ্বেলে অন্ধকারে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। ভাই হয়ে কেউ ঘাড়ে হাত রাখেনি। আমরা চাই না তোরা সেই একই ভুল করিস। আমরা অনেক কেঁদেছি। আমরা আর দেখতে চাই না তোদের চোখের জল। হারাম রিলেশন, মাদক, অশ্লীলতার জগতে কোনো সুখ নেই। যতোই আকর্ষণীয় হোক না কেন, যতোই তোকে টানুক না কেন ভুলেও ঐ পথে পা বাড়াস না। এই পথের শেষে শুধু ধ্বংস, শুধু দুঃখ, শুধু হতাশা। আমরা হেঁটেছি সেই পথে। আমরা চিনেছি সেই পথের চোরাবালি। বিশ্বাস কর আমাদের কথা!
ফিরে আয়...
তোকে আমি কিনে দেব লাল ঘুড়ি। শনপাপড়ি। বরফ। সাইকেল। কাঁচের চুড়ি। বেলী ফুলের মালা।
ফিরে আয় বোন...
আমরা আবার চড়ুইভাতি করবো, জ্যোৎস্না রাতে লোডশেডিংময় উঠোনে গোল হয়ে আলাদিন আর জাদুর জিনের গল্পের আসর বসাবো।
ফিরে আয় ভাই...
আবার আমরা বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলবো, শর্টপিচ ক্রিকেট খেলবো যতোসব অদ্ভূত আইন বানিয়ে। মোড়ের দোকানের রং চা খাব, সোডিয়াম লাইটে মোড়ানো শহরে ঘাড়ে হাত রেখে সারারাত আমরা হেঁটে বেড়াবো। তারপর বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে কোপ দেবো।
ফিরে আয় বোন...
তোর মালিক, তোর রব কেবল একটা ডাকের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। তুই তাঁকে একবার মন থেকে ডেকে দেখ না, তিনি তোর জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। মুছে দেবেন তোর সব অপরাধ।
ফিরে আয় ভাই...
কতোকাল আর আল্লাহর সঙ্গে শত্রুতা করবি? তুই বদ্ধ ঘরে যখন নির্লজ্জতায় মেতে যাস, তাঁর অবাধ্য হোস, তখনো চাইলে তিনি তোর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেন না। এই আল্লাহর অবাধ্য হয়ে আর কতোকাল দস্যুতা করবি?
ফিরে আয় বোন...
আল্লাহ তোকে জান্নাতে ঠাঁই দেবেন। সেখানে তোর কোনো দুঃখ, কোনো কষ্ট থাকবে না। দুনিয়ার সব কষ্টগুলো দলবেঁধে গিয়ে বলবে- সরি, আমরা সবাই মিথ্যে ছিলাম!
ফিরে আয় ভাই...
ইনশাআল্লাহ, আমরা একসঙ্গে জান্নাতের বাগানে পাখি হয়ে উড়বো, দুই ভাই মিলে উমার আর খালিদের সঙ্গে কুস্তি লড়বো। সারারাত কাটিয়ে দেবো আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদের কুরআন তিলাওয়াত শুনে শুনে। আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন। দৌড়ে গিয়ে বলবো- আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আমরা দুই ভাই, আপনাকে কি একবার জড়িয়ে ধরতে পারি?' মা আইশার, মা খাদিজার কাছে গিয়ে বলবো- মা আমরা আপনাদের ছেলে, কেমন আছেন আপনারা? আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন。
ফিরে আয়...
পায়ে এতো ক্ষত তোর, তবুও মিটলো না ভুলপথে হাঁটবার সাধ? ফিরে আয়...
হতাশার অশ্রু মুছে ফেল, ঐ যে ফজরের আযান শোনা যায়... ওঠ, জীবনটাকে রিস্টার্ট মারবি। নতুন করে জীবন শুরু করবি চল।
একদম নতুন করে।
চোখ মেলে একবার দেখ, তোকে বরণ করে নেবার জন্য কী অপূর্ব এই আয়োজন!