📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 আয় কান্না ঝেঁপে...

📄 আয় কান্না ঝেঁপে...


সব বাতি নিভে গেছে দশ তালা বিল্ডিংয়ের। চিলেকোঠার ঘরে একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে কেবল। ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া তরুণের হাতের জ্বলন্ত সিগারেট পুড়ছে ধীরে ধীরে। সিগারেটের সাথে তাল মিলিয়ে পুড়ছে তরুণও। এতো বছরের সম্পর্কটা ভেঙে গেল গত পরশু। তরুণের গাল বেয়ে নামছে সরু একটা কান্নার স্রোত। সাউন্ড সিস্টেমে বাজছে পিউর ছ্যাঁকা খাওয়া একটা গান।
সেই একই রাত। পাশের বিল্ডিং। ষোড়শী এক বালিকার চোখে নেমেছে কান্নার বৃষ্টি। উহু, তরুণের প্রেমিকা নয় সে। তার দুঃখ অন্য একজনের জন্য। কোরিয়ান এক সিরিজ দেখে শেষ করলো সে এই রাতদুপুরে। নায়কের কষ্টে কাঁদছে সে। হাপুস নয়নে!
কবিদের মতো দুঃখবিলাসী অনেক মানুষ দেখা যায় আশেপাশে। দুঃখ নিয়ে বিলাস করে। দুঃখ পেতে, কষ্ট পেতে ভালোবাসে। ভালোবাসে কাঁদতে। হুমায়ূন বা বিশ্বযুদ্ধের কোনো উপন্যাস পড়ে এরা কাঁদে, খেলায় প্রিয় দল হেরে গেলে কাঁদে, গান শুনে কাঁদে, কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ করে। খুঁজে খুঁজে, খুঁড়ে খুঁড়ে, কষ্ট বের করে করে কাঁদে।
অথচ এই চোখের পানি, এই দুঃখবিলাস-মহাকালের কাছে আদৌ কি এর কোনো মূল্য আছে? চোখের পানি কি এতোটাই সস্তা? আমরা আসলে জানি না চোখের পানির মূল্য কতোটুকু। এ কারণেই অকারণে অপাত্রে চোখের জল ফেলি।
জাহান্নামের আগুন পৃথিবীর আগুনের সত্তর গুণেরও বেশি তীব্র। পুড়তে পুড়তে জাহান্নামের আগুন কুচকুচে কালো হয়ে গেছে! দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষটা যদি এক মুহূর্ত জাহান্নামের আগুনে কাটায়, তাহলে সে ভুলে যাবে জীবনে কখনো সুখের স্পর্শ পেয়েছিল কি না। এই ভীষণ, ভয়ঙ্কর আগুনও নিভে যেতে পারে [২০০] মাত্র এক ফোঁটা চোখের জলে![২০৪]
আল্লাহর ভয়ে মুসলিমের চোখ থেকে নির্গত অশ্রু নিভিয়ে দিতে পারে জাহান্নামের এই ভয়ঙ্কর আগুনও। তুমি হয়তো অনেক পাপ করেছো, অনেক বার যিনা করেছো, আরো অনেক জঘন্য জঘন্য পাপ করেছো কিন্তু আল্লাহর রহমতের কাছে এসব কিছুই না। তুমি পাপ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও আল্লাহ বারবার ক্ষমা করতে করতে ক্লান্ত হন না। তিনিই জঘন্য জঘন্য সব পাপীকে, তাওবাহ করলে ক্ষমা করে দেন।[২৩৫] আল্লাহর জন্য তোমার চোখ থেকে নির্গত অশ্রুর এক ফোঁটা ধুয়ে মুছে পবিত্র করে ফেলতে পারে সকল পাপের পঙ্কিলতাকে।
এক মায়ের ছেলে হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুজির পরও ছেলেকে পাওয়া গেল না। মায়ের পাগল হতে বাকি। এমন সময় হারানো ছেলেকে পাওয়া গেল। মা পরম মমতায় জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে। ভালোবাসার অশ্রু নামছে তার দু'গাল বেয়ে, অঝোরে। এই মায়ের পক্ষে কি এই অবস্থায় সাত রাজার ধন এই ছেলেকে আগুনে ফেলে দেওয়া সম্ভব হবে? আল্লাহ আমাদেরকে এই মায়ের চেয়েও অনেক অনেক গুণ বেশি ভালোবাসেন। ভালোবাসার ১০০ ভাগের মধ্যে ৯৯ ভাগ আল্লাহ নিজের কাজে রেখে দিয়েছেন। বাকি ১ ভাগ সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন।[২৩৬]
বাবা-মা'র অবাধ্য হলে, তাদের কথা না শুনলে, তাদের মনে কষ্ট দিলে সন্তানদের প্রতি তাদের ভালোবাসায় ভাটা পড়ে যায় কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়ে না। তুমি যখন আল্লাহকে স্মরণ করো, আল্লাহও তোমাকে স্মরণ করেন।[২৩৭] যখন তাঁকে ভুলে যাও, তাঁর অবাধ্যতা করো তখনো তিনি তোমার জন্য ক্ষুধার খাদ্য পাঠিয়ে দেন, তৃষ্ণার পানি পাঠিয়ে দেন, বুক ভরে শ্বাস নিতে দেন মুক্ত বাতাসে। গুনাহর পর একবার 'ইয়া রব' বলে ডাক দিলেই তিনি সাড়া দেন- 'ইয়া আবদী! হে আমার বান্দা বলো, বলো তোমার কি চাই?' [২৩৮] বিশ্বাস করো, আল্লাহর মতো আর কেউ তোমাকে ভালোবাসে না।
তুমি যখন আল্লাহর দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাও আল্লাহ তোমার দিকে দশ ধাপ এগিয়ে আসেন, তুমি আল্লাহর দিকে হেঁটে গেলে তিনি দৌড়ে আসেন।[২৩৯] আল্লাহ সুযোগ খোঁজেন তোমাকে ক্ষমা করে দেবার। অজুর পানির মাধ্যমে তিনি তোমার পাপগুলো ঝরিয়ে দেন, দুই সালাতের মাধ্যমে মাঝের সময়গুলোতে করা পাপগুলো ক্ষমা করে দেন। তিনি রাতে ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন দিনের পাপীদের জন্য আর দিনে ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন রাতের পাপীদের জন্য।[২৪০]
তিনি ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন কেউ যদি আকাশ সমান উঁচু পাপ নিয়েও তার সঙ্গে দেখা করে, কিন্তু শিরক না করে, তাহলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন।[২৪১] তারপর তিনি প্রবেশ করাবেন এমন এক জান্নাতে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোন অন্তর চিন্তাও করেনি। এতোটা ভালোবাসেন তোমাকে যে আল্লাহ, বলো তো সেই আল্লাহর জন্য শেষ কবে কেঁদেছো?
আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন নবী আলাইহিমুস সালাম-গণের পর এই যমীনের বুকে হেঁটে বেড়ানো সবচেয়ে পুণ্যবান মানুষ। আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে বেশ কয়েকবার জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও সালাতে আল্লাহর ভয়ে তিনি কাঁদতেন। উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মতো জাঁদরেল মানুষও সালাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কাঁদতেন। উসমান ইবনে আফফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কাঁদতে কাঁদতে নিজের দাড়ি ভিজিয়ে ফেলতেন। অথচ তাঁরা দুনিয়াতে থাকতেই পেয়েছিলেন জান্নাতের সুসংবাদ। আমরা কিন্তু তাদের মতো এমন সুসংবাদ পেয়ে যাইনি। তারপরও তোমার আমার চোখগুলো শুকনো। আমাদের মনগুলো পাথর। অভিশপ্ত আমাদের দু'চোখ। অভিশপ্ত আমাদের হৃদয়।
তোমার কোনকিছুরই প্রয়োজন নেই তাঁর। তিনি আল-জাব্বার, আল-কাহহার, আল-মুতাকাব্বির, রাব্বুল আরশীল আযীম। রাজাদের রাজা তিনি, বাদশাহদের বাদশাহ। তাঁর বড়ত্ব এমন যা কল্পনা করা, অনুধাবন করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তারপরও আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, তোমার জন্য জান্নাতে এতো এতো নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন। আর কতোকাল এই আল্লাহকে ভুলে থাকবে? আর কতোকাল নিজের নফসের কাছে পরাজিত হবে? আল্লাহর স্মরণে অন্তর বিগলিত হবার সময় কি এখনো আসেনি?
উঠো, ওযু করে আসো। দাঁড়াও তোমার রবের সামনে নতমুখে। সব জানেন তিনি, সব। গোপনে রাতের আঁধারে একা একা তুমি যা করেছিলে সব জানেন তিনি। তোমার সব ব্যথা, সব কষ্ট, যে কথাগুলো তুমি নিজের কাছেও স্বীকার করো না, সব তিনি জানেন। তুমি অনেকবার তাওবাহ করেছো, আবার পাপ করেছো, আবার তাওবাহ করেছো, আবার পাপ করেছো... তাওবাহ আর পাপ করতে করতে তুমি নিজের ব্যাপারে সন্দেহে পড়ে গেছো, আল্লাহ কি আমাকে আর মাফ করবেন? নিজের উপরই বিরক্ত হয়ে গিয়েছো, লজ্জিত হয়েছো... কিন্তু তারপরও তিনি অপেক্ষা করে আছেন তোমার জন্য। হ্যাঁ, আর-রাহমান ক্ষমা করবেন, আল-গাফফার তোমাকে মাফ করে দেবেন। তোমাকে ক্ষমা করে তিনি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।[২৪২] তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেক আদম সন্তান ত্রুটিশীল ও অপরাধী আর অপরাধীদের মধ্যে উত্তম লোক হলো যারা তাওবাহ করে।' [২৪৩]
'হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবাহ করো! যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো।' [২৪৪]
উঠে দাঁড়াও। দুই রাকাত সালাত আদায় করো। আরো একবার তোমার রবকে কথা দাও-তুমি ভালো হয়ে যাবে। শিশুর মতো অঝোরে কাঁদো, এই চোখের পানি তোমার রবের কাছে সব চাইতে প্রিয়।
“হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়। [২৪৫]
'যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করে তখন আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কে পাপ ক্ষমা করতে পারে? এবং তারা যা (অপরাধ) করে ফেলে, তাতে জেনেশুনে অটল থাকে না। সেসব লোকের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা এবং জান্নাত; যার নিচে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং (সৎ) কর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম।[২৪৬]

টিকাঃ
[২০০] এখানে আগুন নিভে যাওয়া বলতে জাহান্নামের আগুনের স্পর্শ থেকে বেঁচে যাওয়া বোঝানো হয়েছে।
[২০৪] তিরমিযী: ১৬৩৯, আত-তারগিব: ১৯১৮, মিশকাত: ৩৮২৯, সহীহ আল-জামে': ৪১১১। ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। বিস্তারিত পড়ো- আল্লাহভীতি, hadithbd.com - tinyurl.com/8kz6vz9s
[২৩৫] ১০০ খুন করা পাপীকেও আল্লাহ ক্ষমা করেছেন! (বুখারি: ৩৪৭০, মুসলিম: ২৭৬৬ (ই.ফা ৬৭৫২)) পুরো হাদীস পড়তে পারো hadithbd.com এর এই লিংক থেকে-tinyurl.com/ bd9pn2mz
[২৩৬] বুখারী: ৬০০০, মুসলিম: ২৭৫২-২৭৫৪ (ইফা, ৬৭১৯-৬৭২৫)
[২৩৭] বুখারী : ৭৪০৫, মুসলিম: ২৬৭৫ (ইফা. ৬৫৬১)
[২৩৮] আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “যে (আমাকে) ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই যখনই সে আমাকে ডাকে” আল-বাকারাহ ২:১৮৬
[২৩৯] বুখারী : ৭৪০৫, মুসলিম : ২৬৭৫ (ইফা. ৬৫৬১)
[২৪০] মুসলিম: ৯৮৬ (ইফা. ৬৭৩৪)
[২৪১] তিরমিযী: ৩৫৪০। ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
[২৪২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন কোনো বান্দা কোনোরূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে ওযু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামায পড়ে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। (তিরমিযী: ৪০৬, আবু দাউদ: ১৫২১, ইবনু মাজাহ: ১৩৯৫, মুসনাদ আহমাদ: ০২, ইবনু হিব্বান: ৬৩২, ইবনু খুজাইমাহ, বায়হাকী) ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আল-জামে': ৫৭৩৮)
[২৪৩] তিরমিযী: ২৪৯৯, সহীহ আল-জামে': ৪৫১৫। ইবনু হাজার হাদিসটির সনদকে শক্তিশালী বলেছেন (বুলুগুল মারাম: ১৪৯১) এবং আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
[২৪৪] সূরা আন-নূর, ২৪:৩১
[২৪৫] সূরা আয-যুমার, ৩৯: ৫৩
[২৪৬] সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৩৫-১৩৬

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 ফিরে আয়

📄 ফিরে আয়


ফাগুনের ভরা জ্যোৎস্না ছিল সেই রাতে। তবু তোর একলা ঘর ভাসিয়ে নিলো ঘোর অন্ধকার। ঝিরিঝিরি হাওয়া তোর ঘরে ঢুকে পথ হারিয়ে ফেললো। ভেসে গেলি তুই। মাদক, অশ্লীলতায়... ভেসে গেলি সুখসাগরে। খানিকপরেই পুরোনো শত্রুরা সব ফিরে এলো-হতাশা, শূন্যতা, রিক্ততা, রাজ্যের সব বিষাদ নিয়ে। তোর চোখে নামলো শ্রাবণের ঢল। সবাই ঘুমিয়ে ছিল সে রাতে। ঘুমিয়ে গিয়েছে একটু আগে তুই যার সাথে অশ্লীল চ্যাট করছিলি, সে-ও। একটা নেড়ি কুকুর কেবল জেগে ছিল সে রাতে। সারারাত করুণ সুরে কেঁদেছিল তোর সঙ্গী হয়ে।
ফিরে আয়...
মায়ের বুকে ফিরে আয়। আর কতো ভুল করবি? মোবাইলের অপরপ্রান্তে যে থাকে, যে জানু, বেইবি, বাবুটা আমার, পাখি, ময়না বলে সে একটা মিথ্যুক। তোকে সে তোর মায়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসে না। আর কতো কাল মা'কে কষ্ট দিবি, পাগল ভাই আমার, পাগলি বোন আমার?
ফিরে আয়...
বাবা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শক্ত করে ধরে রাখ তোর বাবার হাতটা। নষ্ট মানুষের জঙ্গলে হারিয়ে যাবি না হলে!
ফিরে আয়...
আমরা অনেক ভুল করেছি। আমি, আমরা, আমাদের জেনারেশন। আমাদের কেউ পথ বাতলে দেয়নি, আলো জ্বেলে অন্ধকারে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। ভাই হয়ে কেউ ঘাড়ে হাত রাখেনি। আমরা চাই না তোরা সেই একই ভুল করিস। আমরা অনেক কেঁদেছি। আমরা আর দেখতে চাই না তোদের চোখের জল। হারাম রিলেশন, মাদক, অশ্লীলতার জগতে কোনো সুখ নেই। যতোই আকর্ষণীয় হোক না কেন, যতোই তোকে টানুক না কেন ভুলেও ঐ পথে পা বাড়াস না। এই পথের শেষে শুধু ধ্বংস, শুধু দুঃখ, শুধু হতাশা। আমরা হেঁটেছি সেই পথে। আমরা চিনেছি সেই পথের চোরাবালি। বিশ্বাস কর আমাদের কথা!
ফিরে আয়...
তোকে আমি কিনে দেব লাল ঘুড়ি। শনপাপড়ি। বরফ। সাইকেল। কাঁচের চুড়ি। বেলী ফুলের মালা।
ফিরে আয় বোন...
আমরা আবার চড়ুইভাতি করবো, জ্যোৎস্না রাতে লোডশেডিংময় উঠোনে গোল হয়ে আলাদিন আর জাদুর জিনের গল্পের আসর বসাবো।
ফিরে আয় ভাই...
আবার আমরা বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলবো, শর্টপিচ ক্রিকেট খেলবো যতোসব অদ্ভূত আইন বানিয়ে। মোড়ের দোকানের রং চা খাব, সোডিয়াম লাইটে মোড়ানো শহরে ঘাড়ে হাত রেখে সারারাত আমরা হেঁটে বেড়াবো। তারপর বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে কোপ দেবো।
ফিরে আয় বোন...
তোর মালিক, তোর রব কেবল একটা ডাকের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। তুই তাঁকে একবার মন থেকে ডেকে দেখ না, তিনি তোর জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। মুছে দেবেন তোর সব অপরাধ।
ফিরে আয় ভাই...
কতোকাল আর আল্লাহর সঙ্গে শত্রুতা করবি? তুই বদ্ধ ঘরে যখন নির্লজ্জতায় মেতে যাস, তাঁর অবাধ্য হোস, তখনো চাইলে তিনি তোর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেন না। এই আল্লাহর অবাধ্য হয়ে আর কতোকাল দস্যুতা করবি?
ফিরে আয় বোন...
আল্লাহ তোকে জান্নাতে ঠাঁই দেবেন। সেখানে তোর কোনো দুঃখ, কোনো কষ্ট থাকবে না। দুনিয়ার সব কষ্টগুলো দলবেঁধে গিয়ে বলবে- সরি, আমরা সবাই মিথ্যে ছিলাম!
ফিরে আয় ভাই...
ইনশাআল্লাহ, আমরা একসঙ্গে জান্নাতের বাগানে পাখি হয়ে উড়বো, দুই ভাই মিলে উমার আর খালিদের সঙ্গে কুস্তি লড়বো। সারারাত কাটিয়ে দেবো আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদের কুরআন তিলাওয়াত শুনে শুনে। আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন। দৌড়ে গিয়ে বলবো- আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ), আমরা দুই ভাই, আপনাকে কি একবার জড়িয়ে ধরতে পারি?' মা আইশার, মা খাদিজার কাছে গিয়ে বলবো- মা আমরা আপনাদের ছেলে, কেমন আছেন আপনারা? আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন。
ফিরে আয়...
পায়ে এতো ক্ষত তোর, তবুও মিটলো না ভুলপথে হাঁটবার সাধ? ফিরে আয়...
হতাশার অশ্রু মুছে ফেল, ঐ যে ফজরের আযান শোনা যায়... ওঠ, জীবনটাকে রিস্টার্ট মারবি। নতুন করে জীবন শুরু করবি চল।
একদম নতুন করে।
চোখ মেলে একবার দেখ, তোকে বরণ করে নেবার জন্য কী অপূর্ব এই আয়োজন!

ফন্ট সাইজ
15px
17px