📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 কলুষতার কারিগর

📄 কলুষতার কারিগর


প্রেমের এতো ভয়াবহ দিক থাকার পরেও, ফ্রি সেক্স কালচার, অশ্লীলতা এতো ধ্বংসাত্মক হবার পরেও, কোটি কোটি মানুষের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবার পরেও কেন এগুলোকে প্রমোট করা হয়? বিশ্বব্যাপী এগুলোকে মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মহান হিসেবে কেন উপস্থাপন করা হয়? এই মৌলিক প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। কিন্তু বইয়ের কলেবর ছোট রাখার উদ্দেশ্যে আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে বাধ্য হলাম।
সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক। মানুষ অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে, প্রেম-ভালোবাসার নামে অবাধ যৌনতায় মেতে উঠলে কার লাভ? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দা'ঈ এবং অ্যাক্টিভিস্ট ড্যানিয়েল হাকিকাতযু 'আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা কেন যৌনতা ফেরি করে'-শিরোনামের প্রবন্ধে বলেন:
'অশ্লীলতা আর অবাধ যৌনতা ছড়িয়ে পড়লে সমাজে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে। এর মধ্যে এক নাম্বার হলো ভোগবাদ। কেউ যখন নিজের সব শারীরিক কামনাবাসনা, সব ফ্যান্টাসি চরিতার্থ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার মধ্যে কোনো ধরনের আত্মনিয়ন্ত্রণ আর কাজ করে না। এ ধরনের মানুষ খুব ভালো ভোক্তা আর ক্রেতা হয়। পকেটে যতোক্ষণ টাকা থাকে ততোক্ষণ যা ইচ্ছে তা-ই সে কেনে। যা ইচ্ছে তা-ই সে করে। কাজেই অশ্লীলতা এবং অবাধ যৌনতার প্রভাবে ভোগবাদ বাড়ে। ভোগবাদ বাড়লে লাভ বিভিন্ন করপোরেশান আর সরকারগুলোর, যারা এই নিরন্তর ভোগ থেকে মুনাফা অর্জন করে। কোনো শহরের অধিবাসীদের মধ্যে মদের আসক্তি বাড়লে যেমন মদবিক্রেতার লাভ, তেমনি মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে কামনাবাসনা পূরণে অভ্যস্ত করে তুলতে পারায় করপোরেশানগুলোর লাভ।
এভাবে আত্মকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে ওঠে। বিচ্ছিন্ন, একাকী মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। সংঘবদ্ধ সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
সমাজে অশ্লীলতা এবং অবাধ যৌনতার প্রসার ঘটানোর আরেকটা উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভালোমন্দ নির্ধারণের ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া। মানুষের যখন তাকওয়া থাকে না, তখন সত্যমিথ্যা আর ভালোমন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ নিয়ে রাজাদের তখন আর মাথা ঘামাতে হয় না। মানুষ যদি মন্দকে চিনতেই না পারে তাহলে মন্দকে প্রতিরোধ করবে কীভাবে? তাছাড়া মানুষ যখন ইচ্ছেমতো কামনাবাসনা চরিতার্থ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন অন্যায়কে চিনতে পারলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে কথা বলতে চায় না। অন্যায়ের প্রতিরোধ করার মতো ইচ্ছাশক্তি আর সাহস তার মধ্যে থাকে না। তার মধ্যে এক ধরনের অভ্যস্ত আলস্য কাজ করে। আল্লাহর আদেশ অমান্য করে, তাঁর বেঁধে দেওয়া সীমানা লঙ্ঘন করে ক্রমাগত নফসকে সন্তুষ্ট করার কারণে, তার মধ্যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মতো আত্মিক শক্তি আর থাকে না... [১৯১]
সহজ ভাষায়, যৌনতা, অশ্লীলতা আর সহজলভ্য প্রেম হল মানুষকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। জনগণকে প্রেমের মাদকে, শরীরী নেশার মায়াজালে আর অশ্লীল বিনোদনে ডুবিয়ে রাখতে পারলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।[১৯২] মনমতো আইনকানুন, জীবনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায়। শোষণ করা যায়। বিশ্বব্যবস্থার রাজারা তাই প্রজাদের জন্য অসীম প্রেম, বিনোদন, শরীরী নেশার স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে—তোমার মন যা চায় তুমি তাই করো—বিনিময়ে তারা প্রজাদের পায়ে পরিয়ে দেয় পরাধীনতার এক অদৃশ্য শেকল। বানিয়ে ফেলে হাতের পুতুল!
এসো, আমাদেরকে বন্দীত্বের শেকল পরানো কলুষতার এই সব কারিগর আর তাদের নানা কারিগরি চিনে নেওয়া যাক।
শয়তান: কলুষতার প্রথম কারিগর ইবলিস। মানুষের আদি এবং চির শত্রু। দুনিয়াতে পাঠানোর আগে আল্লাহ আদম (আ.), হাওয়া (আ.) এবং শয়তানকে বলেছিলেন— তোমরা নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু।[১৯৩]
সেই থেকে ইবলিস আমাদের সাথে শত্রুতা করে যাচ্ছে। ইবলিস ঔদ্ধত্যভরে মহান আল্লাহকে বলেছিল, মানবজাতিকে সে পথভ্রষ্ট করবে। সেই প্রতিশ্রুতি সে আজও নিষ্ঠা ভরে পালন করে যাচ্ছে। আর মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য শয়তানের মোক্ষম হাতিয়ার হলো যিনা। যৌনতার প্রতি মানুষের ফিতরাতি আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে যুগে যুগে শয়তান মানুষকে অনবরত কুমন্ত্রণা দিয়ে গেছে। পাশাপাশি মানুষের ভেতর তার দোসরদের সে পরামর্শ দিয়ে গেছে অশ্লীলতার প্রচার ও প্রসারের জন্য। আল্লাহ আমাদের বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন – হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছে-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়।[১৯৪] 'আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো পণ্ডিত না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো এ নির্দেশই তোমাদেরকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাকো।' [১৯৫]
'শয়তান তোমাদেরকে অভাবের ভয় দেখায় আর তোমাদেরকে অশ্লীল কাজ করতে তাগাদা দেয়। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং প্রাচুর্যের নিশ্চয়তা দেন। আল্লাহ তো সবকিছু ঘিরে আছেন, তিনি সব জানেন।‘[১৯৬] কিন্তু এতো সতর্কবাণীর পরও মানবজাতি বারবার শয়তানের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। স্থান-কাল-পাত্রের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে একই ভুলের।
পশ্চিমা বিশ্ব: অবাধ যৌনতা তথা যৌনবিপ্লবের আদর্শ প্রচারকে পশ্চিমা বিশ্ব তাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। যেসব যৌন বিকৃতি ও অবক্ষয় পশ্চিমে আজ স্বাভাবিক হয়ে গেছে, সেগুলো তারা ছড়িয়ে দিতে চায় বাকি পৃথিবীতেও। [১৯৭] এ উদ্দেশ্যে নিষ্ঠার সাথে এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন অ্যামেরিকাসহ সারা বিশ্বে তাদের কাজ চলছে। এর জন্য তারা ব্যবহার করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও, থিঙ্কট্যাঙ্ক, বিভিন্ন সেলিব্রেটি এবং নারীবাদী আন্দোলনকে। [১৯৮] অবাধ যৌনতার আদর্শকে উপস্থাপন করছে মানবাধিকার এবং উন্নয়নের মোড়কে। [১৯৯] সর্বোপরি, সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে যৌনশিক্ষার নামে শিশু-কিশোরদের যৌনবিপ্লবের আদর্শ শেখানো হচ্ছে [২০০] একইসাথে তাদের মাথা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে যৌনতার ব্যাপারে ধর্মীয় নৈতিকতা ও বিধিবিধান। বিভিন্ন দেশকে সমকামিতাসহ অন্যান্য যৌন বিকৃতির আইনী বৈধতা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। না মানলে ভয় দেখানো হচ্ছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার। [২০১]
এনজিও, লিবারেল মিশনারী: উপনিবেশবাদের সময় কোনো জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে গেলে পশ্চিমারা সাথে করে খ্রিষ্টান মিশনারীদের নিয়ে যেতো। খাদ্য, চিকিৎসা ইত্যাদি সাহায্য দেওয়ার নাম করে মিশনারীরা খ্রিষ্টধর্মের প্রচার করতো। তারা মনে করতো, স্থানীয় লোকেরা মিশনারীদের দাওয়াহ গ্রহণ করতে শুরু করলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
এই পশ্চিমা আগ্রাসন আর মিশনারীদের এই পার্টনারশিপ আজও আছে। শুধু খ্রিস্টান মিশনারীর বদলে এসেছে লিবারেল মিশনারী। আজকের পশ্চিমা বিশ্ব খ্রিষ্টধর্ম প্রচার করে না, প্রচার করে লিবারেল-সেক্যুলারিসম। যৌনবিপ্লবের আদর্শ রপ্তানি করে। বাপ-দাদাদের মতো আজকের পশ্চিমারাও লক্ষ্য করেছে, কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে লিবারেল-সেক্যুলার ধারার চিন্তা প্রচলিত হয়ে গেলে সেই জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। আজকের উপনিবেশবাদ তাই এনজিও, অ্যাকটিভিস্ট, কালচারাল আইকন, ইয়ুথ আইকন ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল লিবারেল মিশনারী বাহিনী গড়ে তুলেছে। এদের কাজ হলো বিভিন্ন সাহায্য দেওয়ার নাম করে যৌনবিপ্লবের মতো নানা পশ্চিমা দর্শনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা। দাসত্বকে স্বাধীনতা হিসেবে দেখানো। লিবারেল- সেক্যুলারিসমের দাওয়াহ করা।
সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা: সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা একদিকে নারী পুরুষকে কাছাকাছি এনেছে, সহজাত লজ্জা ভেঙে দিয়েছে। পাশাপাশি আসমানী শিক্ষা ও নৈতিকতা থেকে শিশুদের দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দিয়েছে। শিখিয়েছে- বস্তুগত লাভক্ষতির মাপকাঠিতে সব কিছু মাপতে, শিখিয়েছে You only live once – জীবন তো একটাই। যেকোনো মূল্যে ভোগ করাই হলো জীবনের সফলতা। সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ব্রেইনওয়াশ করেছে পশ্চিমের চাপিয়ে দেওয়া সেক্যুলার ব্যবস্থা ও দর্শনের অন্ধ অনুসরণের জন্য।
পপ কালচার: মানুষকে ব্রেইনওয়াশ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো মিডিয়া। অসংখ্য গবেষক, গবেষণা, বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন-মিডিয়া মানুষকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে খুবই প্রভাবিত করে। মিডিয়া কিশোর-তরুণদের সামনে নতুন নতুন ট্রেন্ড নিয়ে আসে, অনুসরণীয় ‘আইডল’ তৈরি করে। তুলে ধরে ভোগবাদী লাইফস্টাইলের রঙিন ছবি। প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে এর প্রভাবটা আরো ব্যাপক। প্রেমের নিয়মকানুন, প্রেমের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি অধিকাংশই আসে এই মিডিয়া থেকে। মানুষ পর্দায় যা দেখে বাস্তবেও তাই করতে চায়।[২০২]
করপোরেট ব্যবসা: কথিত প্রেম ভালোবাসা, ফ্রি সেক্স কালচার, সমকামিতা, অশ্লীলতার সাথে জড়িত রয়েছে বাঘা বাঘা করপোরেশন আর ইন্ডাস্ট্রির ভাগ্য। বার্ষিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সিনেমা, ওয়েবসিরিজ, টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি, ৫৩ বিলিয়ন ডলারের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি, ১৮৬ বিলিয়ন ডলারের সেক্স ইন্ডাস্ট্রি, ৯৭ বিলিয়ন ডলারের পর্ন ইন্ডাস্ট্রি, ৫০৭ বিলিয়ন ডলারের কসমেটিকস ও বিউটি ইন্ডাস্ট্রি, ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি, প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ড্রাগ ইন্ডাস্ট্রি, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ডিপ্রেশনের চিকিৎসা সেক্টর, ৪৭ বিলিয়ন ডলারের যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসা মার্কেট, টেস্টিং কিটের ৯৫ বিলিয়ন মার্কেট... অধিকাংশই কোনো না কোনো মাত্রায় টিকে আছে এই প্রেম ভালোবাসা আর ফ্রি সেক্স কালচারের উপর ভর করে। [২০৩]
প্রেম, অশ্লীলতা, যিনা-ব্যভিচারকে লাল কার্ড দেখালে এগুলোর কী হবে? বিশ্ব পরিচালনার নিয়মনীতি, বিশ্ব রাজনীতির হিসেব-নিকেশ, সবক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী খেলোয়াড়। তাই বিদ্যমান বিশ্বকাঠামো ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ব্যবস্থা, সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলেও কথিত প্রেম ভালোবাসা, ফ্রি সেক্স কালচার, সমকামিতা, অশ্লীলতাকে প্রগতিশীলতা, উন্নতি, আধুনিকতা, স্মার্টনেস ইত্যাদির প্যাকেটে মুড়িয়ে প্রমোট করে যাচ্ছে এবং যাবে। এটা কখনোই বন্ধ হবে না। সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে এই বিশ্বব্যবস্থার কেউই খুন করবে না।
এটা ছিল বৈশ্বিক ছবি। এবার এসো বাংলাদেশের দিকে তাকানো যাক। দেখা যাক, প্রেম ও যৌনতার মহামারির ফলে বাংলাদেশের সমাজ আজ যে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে, তার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে।
১। বলিউড, আকাশ সংস্কৃতি: ৯০ দশকের সিনেমা, নাটক, গানগুলো ছিল ভীষণ রোমান্টিক। প্রেম সম্পর্কে সমাজের রক্ষণশীল ধারণাগুলো দূর করে দেয় শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান আর এদেশের সালমান শাহ, রিয়াজ, মাহফুজ আহমেদ, জাহিদ হাসানেরা। মানুষ দেখলো, পর্দার প্রেমিক পুরুষরা অনেক স্মার্ট, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, মারপিট করে, কঠিন ভাব নিয়ে চলে, আবার প্রেমও করে, নাচগান করে। অন্যদিকে গুন্ডা, ভিলেন, বাপ-বড় ভাইদের দেখানো হলো প্রেমের বিরোধিতাকারী হিসেবে। নায়করা পবিত্র প্রেমের পক্ষে, ভিলেনরা অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ আর রক্ষণশীলতার পক্ষে। স্বভাবতই দর্শকদের মস্তিস্ক দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিল-যারা হিরো, তারাই প্রেম করে। প্রেম মহান। প্রেমে বাধা দেওয়াটা ভিলেনের কাজ, শয়তানের কাজ। অভিনেতারা হয়তো নিছক টাকা আর খ্যাতির জন্যেই এমন করেছে, হয়তো পরিচালকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল টিকেট বেচে টাকা কামানো। কিন্তু ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায়, পুরো উপমহাদেশের সমাজকে তারা অপরিবর্তনীয়ভাবেই বদলে দিলো।
২। নাটক, সিরিজ, গান, কবিতা, সাহিত্য: সুদীর্ঘকাল ধরেই এগুলো সমাজের মনস্তত্ত্বের ওপর ভূমিকা রেখে এসেছে। তবে হুমায়ূন আহমেদের জাদুকরী লেখার স্পর্শে প্রেম আমাদের জাতীয় দুঃখবিলাসে পরিণত হলো। তরুণ, তরুণীরা প্রেম ছাড়া জীবনকে অর্থহীন মনে করা শুরু করলো। এছাড়া বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখকদের কিশোর উপন্যাস কিশোর-তরুণদের সামনে প্রেম, ফ্রি-মিক্সিং আর সেক্যুলার চিন্তাধারাকে সুকৌশলে উপস্থাপন করলো আকর্ষণীয়ভাবে। তারপর বড় একটা পরিবর্তন আনে মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি আর তার ভাইবেরাদররা। নতুন সহস্রাব্দে টেলিফিল্ম, আইটেম সং[২০৪], আর ওয়েবসিরিযের ফেরিওয়ালারা নব্বই দশকের রোমান্টিক মিষ্টি প্রেমের মধ্যে উদারভাবে যৌনতার মশলা মিশিয়ে সেগুলো সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করে। লিভ টুগেদার, পরকীয়া, লিটনের ফ্ল্যাট, গার্লফ্রেন্ডকে লঞ্চের কেবিনে নিয়ে যাওয়া, ছেলে মেয়ে একসাথে ট্যুর দেওয়া, মারামারি, সহিংসতা, জাস্ট ফ্রেন্ড বা যার তার সাথে শুয়ে পড়া, মাদক-সবকিছু তারা স্বাভাবিক এবং আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপন করে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সাথে আগের প্রজন্মের বন্ধনকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। তরুণদের বোঝায়-বাবা, মা, পরিবারের চাইতেও বন্ধু বান্ধবেরাই বেশি আপন।
২। লিবারেল মিশনারী: বাংলাদেশে অবাধ যৌনতা ও সেক্যুলার আদর্শ প্রচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এনজিওসহ বিভিন্ন লিবারেল মিশনারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। এর উদাহরণ অনেক, সংক্ষেপে শুধু একটার দিকে তাকানো যাক।
বেশ কয়েক বছর যাবত রবি টেন মিনিট স্কুল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উপকারি অনলাইন কোর্স পরিচালনা করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। এ ধরনের কাজ অবশ্যই সাধুবাদ পাবার যোগ্য। তবে প্রশংসনীয় এসব কাজের পাশাপাশি এই ধরনের উদ্যোগের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের এমন কিছু কথা ও কাজ আছে, যা বেশ বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দেয়।
রবি টেন মিনিট স্কুলের চিফ ইন্সট্রাক্টর জনপ্রিয় শিক্ষক সাকিব বিন রশীদকে যেমন এক ভিডিওতে দেখা যায় বাচ্চাদের উপদেশ দিচ্ছে- তুমি যদি ফ্রেন্ডদের সাথে রাতে স্লিপ ওভার করতে চাও তোমার এটা করতে পারা উচিত! অন্য এক ভিডিওতে সে বলছে- ভ্যালেন্টাইনে তুমি তোমার জাস্ট ফ্রেন্ড, বয় ফ্রেন্ড, অনলি ফ্রেন্ডকে নিয়ে ঘুরতে যাও, মজা করো।
অভিভাবকরা কেন ছেলেদের সাথে ঘুরলে মেয়ে সন্তানদের বকাবকি করে, কেন দূরে একা একা ছাড়তে দিতে চায় না, ট্যুরে যেতে দিতে রাজি না এটা নিয়ে অভিভাবকদের চার্জ করতে দেখা যাচ্ছে আরেক ভিডিওতে। অন্য একটা ভিডিওতে তাকে দেখা যাচ্ছে সেক্স এডুকেশনের নামে কিশোর তরুণদের সামনে পর্নোগ্রাফি নিয়ে মজা করছে। আরেক সেলিব্রেটি মিথিলার সাথে মিলে এক ভিডিওতে সে শেখাচ্ছে- নারী পুরুষের মধ্যে সম্মতি থাকলেই যৌন মিলন করা যায়। এটাই একমাত্র শর্ত। পারস্পরিক সম্মতি থাকলে যিনা করো। সমস্যা নেই।
সে যে সমাজের মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার পরিবর্তন করতে চায় এমন কথা সাকিব বিন রশিদ নিজের মুখেই স্বীকার করেছে। টেন মিনিট স্কুলের আরেক শিক্ষক, তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় মুনজেরিন শহীদের সঙ্গে এক অনলাইন আলোচনায় সে যা বলে তার সারমর্ম হলো-
'আমি কমেডির মাধ্যমে কিছু জিনিস সমাজে প্রচলন করতে চাই, আমার গোপন এজেন্ডা আছে, এমনি স্বাভাবিকভাবে বললে পাবলিক আমাকে মাইর দিবে।' সাকিব বিন রশীরা সমাজে কীসের প্রচলন চায়, কোন মূল্যবোধ আমদানি করতে চায়, তা স্পষ্ট।
টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা, সাবেক শিক্ষক শামির মোন্তাজিদ সমকামিতাকে সমর্থন করে পোস্ট দেয়। সেই পোস্টে আবার লাইক দিয়ে সমর্থন জানায় সাকিব বিন রশীদ। শামির বিভিন্ন সময় তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আকারে ইঙ্গিতে ইসলাম এবং ইসলামের শিক্ষাকে তাচ্ছিল্য করে। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পিরিয়ড নিয়ে ট্যাবু ভাঙ্গার নাম করে নিয়মিত নির্লজ্জতা ছড়িয়ে বেড়ায়। রবি টেন মিনিট স্কুল, সাকিব বিন রশীদ, আয়মান সাদিক... সবারই লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে, যারা সবাই বয়সে কিশোর বা তরুণ। যারা তাদেরকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে।
এতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরেও সাকিব বিন রশীদকে টেন মিনিট স্কুল থেকে বহিষ্কার না করা, টেন মিনিট স্কুল সমকামিতার সমর্থন করে-এমন শক্ত অভিযোগের সুস্পষ্ট জবাবে 'আমরা সমকামিতার সমর্থন করি না' এমনটা না বলে কথা ঘোরানো ইত্যাদি কারণে আয়মান সাদিক এবং টেন মিনিট স্কুল নব্য মিশনারীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে কিনা এমন শক্ত অভিযোগ উঠেছে বেশ কিছুদিন যাবত! [২০৫] এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, এ ধরনের সেলিব্রেটিরা যৌনবিপ্লবের আদর্শগুলোকে সূক্ষ্ম কৌশলে প্রচার করছে।
আরো বেশ কিছু অনলাইন সেলিব্রেটি, ইউটিউবার, ট্রল পেইজ প্রকাশ্যে অশ্লীলতার প্রচার প্রসার এবং স্বাভাবিকীকরণের কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের একনিষ্ঠ বাহিনী এনজিওগুলো তো আছেই।
৩। সংবাদ মাধ্যম: প্রগতিশীলতার নামে অবাধ যৌনতা ও প্রেমের সবক দেওয়ার ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর রকমের কার্যকরী আরেকটি মাধ্যম হলো নিউস মিডিয়া। পত্রিকাগুলোর বিনোদন পাতা, দেশীবিদেশী সেলিব্রেটিদের ছবি, ব্যক্তিগত জীবনের নানা গসিপ, যিনা আর প্রেমের গল্পকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ উপস্থাপন করে গেছে আকর্ষণীয়ভাবে।
ভারতীয় এক বিশেষ পর্ন অভিনেত্রীকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভাইরাল করার দায়িত্ব খুব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছে। প্রথম আলোর ফিচার পাতা নকশা আর অধুনা নারীদের উগ্র, অশালীন পোশাক-আশাক পরার তালিম দিয়েছে, বিয়ে বহির্ভূত যৌনতাকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরেছে, পরকীয়ার সবক দিয়েছে, ইসলামী শিক্ষা ও বিধি-বিধানকে সেকেলে হিসেবে উপস্থাপন করেছে বিভিন্ন প্রবন্ধ, ফিচার আর লেখায়।[২০৬] অন্যান্য পত্রিকাগুলোও হেঁটেছে একই পথে। প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন কিশোর আলো (কিআ) বাচ্চাদের শিখিয়েছে-প্রেমের প্রপোজ করে তুমি খুব সাহসী কাজ করেছো। আরো শিখিয়েছে জিন্স-টপস পরে ছেলেদের সাথে বৃষ্টিতে ভেজাই হলো ভালো থাকার নমুনা। বন্ধুসভা, কিশোর আলোর বিভিন্ন প্রোগ্রামে ছেলেমেয়েদের শেখানো ফ্রি-মিক্সিং, জুটি বেঁধে নাচ গান, মডেলিং করা![২০৭] এ ধরনের কার্যক্রম শুধু প্রথম আলো না, অন্যান্য অধিকাংশ মিডিয়াই করছে। পিছিয়ে নেই বিদেশী সংবাদমাধ্যমগুলোও।
লিভ টুগেদার: বিয়ে না করেও একসাথে থাকছেন বাংলাদেশের যে নারী-পুরুষেরা। ব্রিটেনে এশীয় মুসলিম পরিবারে সমকামী এক নারীর অভিজ্ঞতা: 'মুসলিম হলেও সমকামী হওয়া যায়'।
সমকাম বিদ্বেষ কী কোনো রোগ? চিকিৎসা করিয়ে কি একে সারিয়ে তোলা যায়? 'ভুল দেহে' জন্ম নিয়ে লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়ের বিড়ম্বনায় নিশাত... কেমন আছেন বাংলাদেশের সমকামীরা
কোভিড: ব্রিটেনের লকডাউনে তরুণরা কীভাবে তাদের যৌন অভ্যাস বদলাচ্ছে এ ধরনের বিভিন্ন সংবাদ বিবিসি বাংলা ও জার্মানি ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচেভেল তাদের ফেইসবুক পেইজ থেকে টাকা খরচ করে স্পনসরড পোস্ট দিয়ে প্রচার করছে।[২০৮] উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট। যিনা, লিভ টুগেদারের মতো কাজগুলো সমাজে স্বাভাবিক করে তোলা। সমকামিতার মতো বিকৃতির প্রতি সহানুভূতি তৈরি করা। মানুষ পুরুষের শরীরে জন্মগ্রহণ করলেও সে যে নারী হতে পারে বা নারীর শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করেও পুরুষ হতে পারে-এমন বিকৃত, মিথ্যা, অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনাকে প্রমোট করা। সর্বোপরি যৌনবিপ্লবের তত্ত্ব আর আকীদাহ উন্নতি আর প্রগতি হিসেবে তরুণদের গেলানো।
৪। বিজ্ঞাপন: বিজ্ঞাপন বিশেষ করে, কমসেকম গত পনেরো বছর ধরে মোবাইল সিম কোম্পানিগুলোর [২০৯] বিজ্ঞাপনের মূল কথাই হলো- ছেলেমেয়ের কোনো ভেদাভেদ নেই; জড়াজড়ি, হাতাহাতি করো কোনো সমস্যা নেই। বাঁধ ভাঙো, সীমানা ছাড়াও, বন্ধু-আড্ডা-গানে হারিয়ে যাও। এদের বিজ্ঞাপনের ধরাবাঁধা ফরম্যাটই হলো ক্যাচি গান আর ট্রেন্ডি নাচের সাথে তরুণ-তরুণীদের 'মজা করার' নানা দৃশ্য জুড়ে দেওয়া। মোবাইল সিম কোম্পানীগুলো ছাড়াও অন্যান্য আরো বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভালোবাসার বাতিক উস্কে নিজেদের পকেট ভারী করার এই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে।
প্রতিবছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষ্যে জাতীয়ভাবে যিনার মহা উৎসব হয়। ২০১০-১২ সালের দিকেও অবস্থা এতোটা ভয়াবহ ছিল শাস্ত্র। ভ্যালেন্টাইন্স ডে-কে জনপ্রিয় করা হয়েছে ব্যবসায়িক স্বার্থে। এদিন কেবল ফুলই বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকার। কনডম, রেস্টুরেন্ট, হোটেল ব্যবসা সহ অন্যান্যগুলো তো বাদই থাকলো। ভ্যালেন্টাইন্স ডে, একটা নিখুঁত করপোরেট হলিডে। পুঁজি ও প্রফিটের স্বার্থে বোকা জনগণের যৌনতাকে উস্কে দেওয়ার উজ্জ্বল উদাহরণ।
বহুজাতিক করপোরেশনের প্রফিটের হিসেব আর আন্তর্জাতিক এজেন্ডার মিশেলে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-কে জাতীয় ক্রেজে পরিণত করার ব্যাপারটা কীভাবে ঘটে গেল, তার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ সম্ভবত বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষ্যে ইউনিলিভার ২০১১-১২ সাল থেকে নাটক বানানোর ব্যাপক জনপ্রিয় এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেরা 'কাছে আসার গল্প' নিয়ে প্রথম সারির অভিনেতা অভিনেত্রীদের দিয়ে নির্মাণ করে নাটক।[২১০] যেমনটা আমরা ইতিমধ্যে বলেছি যিনা-ব্যভিচারের ব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই নাটকগুলোর ভূমিকা ব্যাপক!
প্রথমদিকে কাছে আসার গল্পের নামে যিনা প্রমোট করলেও ২০২২ সালে এসে এই স্লোগান বদলে যায়। এবার বলা হয় দ্বিধাহীনভাবে কাছে আসার গল্প। বোরখা পরা এক মেয়ের সাথে ক্রুশ পরা এক ছেলের কাছে আসার গল্প বলে ওরা। মজার ব্যাপার হলো ইউনিলিভার এই ক্যাম্পেইনটা শুধু বাংলাদেশে না, আরো অনেক দেশে করে। সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় আপাতত বাংলাদেশে শুধু যিনা আর 'ধর্ম ভুলে ভালোবাসা'র গল্প শোনালেও, একই ধরনের স্লোগান দিয়ে অন্যান্য দেশে ইউনিলিভার সমকামিতা আর ট্যান্সজেন্ডারিসমের পক্ষেও প্রচারণা চালায়। দেশে দেশে এই ক্যাম্পেইনগুলো চলে #FREETOLOVE - হ্যাশট্যাগ দিয়ে। আর এই ক্যাম্পেইনগুলোর উদ্দেশ্য হলো ষাটের দশকের যৌনবিপ্লবের আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করা। যার স্বীকৃতি তারা তাদের ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন পাবলিকেশনে দিয়ে রেখেছে।[২১১]
৫। যৌন শিক্ষা: যৌন শিক্ষা সব মানুষেরই দরকার। তবে যৌন শিক্ষার নামে অবাধ যৌনতার দীক্ষা না। যৌন শিক্ষার নামে আজ যা চলছে তা মূলত যৌনবিপ্লবের আদর্শ শেখানোর মাধ্যম। যেখানে 'সেইফ সেক্স' আর 'কনসেন্ট'ই শেষ কথা, সেই যৌন শিক্ষার মূল বক্তব্য হলো-যা খুশি, যেমন খুশি করো, শুধু যৌনতা 'নিরাপদ' এবং পরস্পরের সম্মতিতে হতে হবে। বাংলাদেশে পশ্চিমাদের অর্থায়নে এই শিক্ষাই দেওয়া হচ্ছে স্কুলে। ছেলেমেয়েদেরকে পাশাপাশি বসিয়ে কনডম আর মাসিক-এর ব্যাপারে জানানো হচ্ছে। মেয়েরা জানাচ্ছে, আগে তারা ছেলেদের সাথে মিশতে লজ্জা পেতো, যৌন শিক্ষা ক্লাসের পর এখন আর মিশতে লজ্জা পায় না। প্রেমের সবক দেবার পাশাপাশি শেখানো হচ্ছে দুজনের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দোষের কিছু না।[২১২]
৬। ইসলামবিদ্বেষ: বাংলাদেশের সমাজে অবাধ যৌনতা প্রচার ও প্রসারের আরেকটি বাহন হলো ইসলামবিদ্বেষ। পশ্চিমারা এবং তাদের দেশীয় গোলামরা জানে অশ্লীলতা এবং অবক্ষয়ের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসলাম। তাই তারা ইসলামের শিক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। সরাসরি করলে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়বে, তাই কাজটা তারা করে একটু ঘুরিয়ে।
প্রথমে ইসলামের বিভিন্ন দিককে 'উগ্রবাদ' বা 'চরমপন্থা' নাম দেয়। তারপর উগ্রবাদ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে, ইসলামী চরমপন্থার দাওয়াই হিসেবে পেশ করে অবাধ যৌনতার আদর্শকে। কিছু উদাহরণ দেই, দেখো হিসেবটা মেলাতে পারো কি না।
২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক ঘোষণা দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উগ্রবাদের প্রভাব প্রকট। কারণ এই গবেষকরা দেখেছেন ছাত্রছাত্রীরা সম্ভাষণ, বিদায়সহ দৈনন্দিন নানা বিষয়ে কিছু আরবি শব্দের ব্যবহার করছেন। যেমন, আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, ইত্যাদি। তাদের মধ্যে হিজাব, নিকাব কিংবা গোড়ালির ওপর প্যান্ট পরার প্রবণতা বাড়ছে। সেই সাথে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করার ব্যাপারে আগ্রহের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীরা ইসলামের কিছু বিষয় মানার চেষ্টা করছে। আর তা থেকেই প্রমাণ হয়ে গেছে যে উগ্রবাদের প্রভাব বাড়ছে।[২১৩]
২০১৯ সালে সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন দেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দেয়। সেই বিজ্ঞাপনে বলা হয়- দাড়ি টুপি রাখা, টাখনুর উপর প্যান্ট পরা, ইসলামের অনুশাসন মেনে চলা, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয় এমন অনুষ্ঠানে না যাওয়া নাকি জঙ্গিবাদের লক্ষণ![২১৪]
পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর বলে বসে, শুদ্ধভাবে সালাম দেওয়া – আসসালামু আলাইকুম বলা নাকি জামাত শিবির, জঙ্গিবাদের লক্ষণ![২১৫]
এমনকি এমন বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে যে, পাশের বাসার ভাবির দিকে না তাকানো, মেয়েদের সাথে ঢলাঢলি না করে জন্মদিন পালন না করা, প্রেম না করা, লুতুপুতু না করা, গুনাহর জীবন ছেড়ে ইসলামের পথে ফিরে আসা এগুলোও জঙ্গিবাদের লক্ষণ! হিসেবটা কি মেলাতে পারলে?
ইসলাম পালন = উগ্রবাদ
আর উগ্রবাদ থেকে বাঁচার উপায় হলো প্রগতিশীল, মুক্তমনা হয়ে অবাধ যৌনতার দর্শনে ঈমান আনা।
৭। ক্যারিয়ার ক্লাব, সোসাইটি: ডিবেট সার্কিট, করপোরেট ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি শেখানো স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির বিভিন্ন সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাবের মতো উদ্যোগগুলোর বিভিন্ন ইতিবাচক দিক আছে। নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশার মতো হারাম উপাদানগুলো থেকে মুক্ত হলে শর্তসাপেক্ষে এগুলো জায়েজও হতে পারে। কিন্তু এখন এগুলো পুরোপুরিভাবে তরুণ প্রজন্মকে সেক্যুলার-লিবারেল আদর্শে দীক্ষিত করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ব্রেইনওয়াশ করা হচ্ছে। ফ্রি- মিক্সিং শেখানো হচ্ছে। সূক্ষ্মভাবে বদলে দেওয়া হচ্ছে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা। এজন্যই এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো 'হুকআপ' করার এবং অশ্লীলতার উপলক্ষ হয়ে গেছে। মডেল জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে মেয়ে ছেলের কোলে বসে নাচছে।[২১৬] আশেপাশের সবাই উৎসাহ দিচ্ছে। ডিবেট সার্কিটে অশ্লীলতা, সমকামিতা, অবাধ যৌনতাসহ বিভিন্ন সেক্যুলার ধ্যানধারণা প্রমোট করা হচ্ছে।[২১৭]
এভাবে লিবারেলিসমের ঝান্ডাবাহী মিডিয়া, নব্য মিশনারী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, শাহবাগী সাংস্কৃতিক জমিদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে আমাদের এই সোনার বাংলাদেশটা অশ্লীলতা, যিনা-ব্যভিচার, খুন, ধর্ষণ, সমকামিতা, যৌন বিকৃতিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, প্রেম, যিনা-ব্যভিচার, নারীবাদ, সমকামিতাকে আমাদের দেশের সেক্যুলার গোষ্ঠী উন্নতির পূর্বশর্ত মনে করে। ইউরোপ-অ্যামেরিকা উন্নত কারণ তারা পর্দা করে না, ফ্রি-মিক্সিং, ফ্রি সেক্সকে বৈধতা দিয়ে রেখেছে। ওদের মতো উন্নত হতে হলে আমাদেরও তেমন হতে হবে- এই হলো তাদের যুক্তি。
কিন্তু ঘোড়ার আগে গাড়িকে জুড়ে দিলে কি গাড়ি চলে? এনলাইটেনমেন্ট, শিল্পবিপ্লব, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি, জীবনযাত্রার উন্নতমান, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ফ্রি সেক্স...এগুলো ফলাফল, কারণ না। পশ্চিমের উত্থানের মূল কারণ ভারতবর্ষ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ অ্যামেরিকা, অ্যামেরিকার প্রকৃত মালিক রেড ইন্ডিয়ানদের উপর চালানো তাদের ঔপনিবেশিক লুটপাট, সামরিক শক্তি আর কূটনীতি। ধর্ম নিরপেক্ষতা না। কাব্য, সাহিত্য, শিল্প প্রতিভা কিংবা আর্মচেয়ারের কল্পনাবিলাস না। নারীবাদ, সমকামিতা, ফ্রি সেক্স কালচার ইত্যাদির ব্যাপারে সহনশীলতা না। বরং এগুলো পতনের চিহ্ন। পতোনোন্মুখ জাতির বৈশিষ্ট্যই এগুলো-পাশ্চাত্যেরও পতন ঘটছে এই কারণগুলোর জন্য। যার প্রমাণ আমরা দিয়ে এসেছি।
কলুষতার কারিগরেরা আজ নিপুণভাবে মানবজাতির নফসকে উস্কে দিচ্ছে। তৈরি হচ্ছে চরম মাপের আত্মকেন্দ্রিক, বস্তুবাদী আর ভোগবাদী সমাজ। মানুষকে শেখানো হচ্ছে-ভোগ করো, নিজেকে তৃপ্ত করো। নিজেকে সন্তুষ্ট করো- নাফসী নাফসী নাফসী। এভাবেই ধ্বংস হচ্ছে সভ্যতা। আর সভ্যতার এই অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের দেশেও। আক্রান্ত করেছে আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
আল আকসাকে মুক্ত করা মহান বীর সুলতান সালাহউদ্দীন আইউবী (রহ.) বলেছিলেন-
'কোন জাতিকে যদি যুদ্ধ ছাড়া ধ্বংস করে দিতে চাও তাহলে তাদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দাও'।
চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায় আমরা সেই ধ্বংসের দিকেই আগাচ্ছি...

টিকাঃ
[১৯১] সংশয়বাদী, ড্যানিয়েল হাকিকাতযু। ইলমহাউস পাবলিকেশন, ২০২১।
[১৯২] ইসরাঈল ফিলিস্তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা সামরিক আগ্রাসন চালানোর সময় ফিলিস্তিনের শহর দখল করে টিভিতে পর্নমুভি ছেড়ে দেয়। মুসলিমদের দেখতে বাধ্য করে। আমেরিকার কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর সাথে হলিউডের মাখামাখি সম্পর্ক তো ওপেন সিক্রেট। বলিউডকেও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের প্রোপ্যাগান্ডার জন্য ব্যবহার করে এমন অভিযোগ বহু পুরোনো।
Pornography as Israel's Weapon of Choice, muslimskeptic.com, January 10, 2019- tinyurl.com/2urp9j69
How CIA Spies Infiltrated Movies, Music, Art and More, spyscape.com- tinyurl. com/286cue3h
[১৯৩] সূরা আল আ'রাফ, ৭:২৪
[১৯৪] সূরা আল-আরাফ, ৭:২৭
[১৯৫] সুরা আল-বাকারাহ, ২: ১৬৮-১৬৯
[১৯৬] সূরা আল-বাকারাহ, ২:২৬৮
[১৯৭] US State Department advances LGBT equality globally with first Special Envoy for LGBT Persons, GLAAD, Febr 27, 2015 - tinyurl.com/2p9y65u9
US Department of State, LGBT Rights - https://www.state.gov/subjects/lgbt-rights/
[১৯৮] Eliminating Discrimination Against Children And Parents Based On Sexual Orientation And/ Or Gender Identity, Unicef Current Issues, No 9, November 14- tinyurl.com/2p8aabmh
International Groups Seeking to Impose Sexual Revolution on Africa, The Ruth Institute, Dec 11, 2020 - tinyurl.com/3bddeuk5
The New Colonialism of the Sexual Revolution, Dr. Jennifer Roback Morse, tinyurl.com/2s3njwj9
[১৯৯] জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা Sustainable Development Goals (এসডিজি) এর ভেতরে অবাধ যৌনতা, সমকামিতা, ট্র্যান্সজেন্ডার অধিকারসহ নানা বিষয় ঢোকানো হয়েছে। এসডিজির মধ্যে ১৭টি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ নম্বর হল "অসমতার হ্রাস”। আপাতভাবে নিরীহ মনে হলেও, মূলত এর মাধ্যমে সারা বিশ্বজুড়ে অবাধ ও বিকৃত যৌনতার স্বাভাবিকীকরণের ক্যাম্পেইন চলছে।
LGBTI and the Sustainable Development Goals: Fostering Economic Well-Being, Brieanna Scolaro, June 24, 2020 - tinyurl.com/ve6s7fjh
LGBT Inclusion and the Sustainable Development Goals, Stonewall.org, January 2016 - tinyurl.com/bd48dn3k
Ban calls for efforts to secure equal rights for LGBT community, UN.org, Sep 21, 2016 - tinyurl.com/mvvua678
[২০০] The War on Children. The Comprehensive Sexuality Education Agenda, carlistas tv ইউটিউব ভিডিও, Apr 19, 2017- tinyurl.com/3fub6sbu
[২০১] US imposes sanctions on Uganda for anti-gay law, BBC, June 19, 2014- tinyurl.com/mryv4t9m
Hungary threatened with EU sanction over anti-LGBT law, Euronews, Oct 4, 2021 - tinyurl.com/yc5d2cn9
[২০২] Nandini Jagadeesan, Jemmy Suthandiradas, “Exposure Time to Romance Depicted in Media and its Influence on Beliefs about Romantic Relationships among Adults", The International Journal of Indian Psychology, Volume 6, Issue 4, october-December, 2018- tinyurl.com/3h2n39dn
Banjo, O.O., "The effects of media consumption on the perception of romantic relationships", Penn State McNair Journal, 9, 9-33,2002- tinyurl.com/542795t4
Myrien Eulah Kezia G. Banaag, "The Influence of Media on Young People's Attitudestowards their Love and Beliefs on Romantic andRealistic Relationships", International Journal of Academic Research in PsychologyJuly 2014, Vol. 1, No. 2- tinyurl.com/37fwbzuc
Why Bollywood movies ruined my idea of love and marriage! Times of India, January 11,2019- tinyurl.com/2p89wvxr
[২০৩] The Film Industry Made A Record-Breaking $100 Billion Last Year, forbes. com, 12 March, 2020- tinyurl.com/y55rkdjd
১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি, ১ ট্রিলিয়ন = ১ লাখ কোটি, ২৩ জুলাই ২০২২ তারিখে সরকারি তথ্যমতে বাংলাদেশের মোট রিজারভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। প্রেম, যিনা-ব্যভিচারের উপর নির্ভর করে যে বাজারগুলো দাঁড়িয়ে আছে তাদের বার্ষিক বাজারমূল্যের উপর আর একবার চোখ বুলাও। বুঝতে পারছো- সংখ্যাটা কতো বড়?
Music industry revenue worldwide from 2012 to 2023, statista.com, August 10, 2021- tinyurl.com/45u8xkn4
Depression Treatment Market Outlook (2022-2032), futuremarketinsights.com, May 2022- tinyurl.com/2ctr7pa8
Spending on illegal drugs this year, worldometers.info, September, 20, 2022- tinyurl.com/3kcfrrbp
Things Are Looking Up in America's Porn Industry, nbcnews.com, January 20, 2015- tinyurl.com/22esh2kk
Prostitution Revenue By Country, havocscope.com- tinyurl.com/hxddzunp
Sexually Transmitted Diseases (STDs) Drug - Global Market Trajectory & Analytics, researchandmarkets.com, April 2021- tinyurl.com/4twyykxf
Family Planning & Abortion Clinics in the US - Market Size 2003–2028, ibisworld. com, June 24, 2022- tinyurl.com/2ayd2ywv
Fashion Industry Statistics: The 4th Biggest Sector Is Way More Than Just About Clothing, fashinnovation.nyc- tinyurl.com/3sz4bmun
STD Testing Market Size Was Valued at USD 95 Billion in 2021 and Will Achieve USD 141 Billion by 2030 growing at 4.7% CAGR due to the Increasing Rates of STDs Globally- Exclusive Report by Acumen Research and Consulting, July 28, 2022- tinyurl.com/4mu2z5jw
[২০৪] মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইয়ে পাবে বিস্তারিত-tinyurl.com/4rarahs2
[২০৫] কিশোরী আনুশকা হত্যার জন্য দায়ী অসভ্য সংস্কৃতি, বিচার হোক সংশ্লিষ্টদের - শায়খ আহমাদুল্লাহ, As-Sunnah Foundation আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ইউটিউব ভিডিও, জানুয়ারি ৯, ২০২১- tinyurl.com/4tu7cru2
Sakib Bin Rashid | Sex education in BD | standup comedy | 10 minute school, Md. Mohiminul Islam Himo ইউটিউব ভিডিও, এপ্রিল ৪,২০১৭- tinyurl.com/yc42pf4s
Requests to all parents | Rafiath Rashid Mithila & Sakib Bin Rashid, ALL VIDEO 2018/12 ইউটিউব ভিডিও, ডিসেম্বর ৮, ২০১৮ – tinyurl.com/2sm3r4vc
Consent Sakib Bin Rashid & Rafiath Rashid Mithila, Rimon Hassan Raihan ইউটিউব ভিডিও, মার্চ ২৫,২০১৯- tinyurl.com/yrepphzu
আপনি কি একটি বিষাক্ত প্রেমে আটকে আছেন? Sakib Bin Rashid ফেইসবুক পোস্ট, ফেব্রুয়ারি ২৫,২০২০ - tinyurl.com/msse32jw
Honestly Speaking with SBR Episode ০১: Social Media Content Making| Guest: Munzereen Shahid, MSF Company ইউটিউব ভিডিও, জুন ১২,২০২০-tinyurl. com/ycx2bbk4
দুনিয়াটা তোমার প্লে-গ্রাউন্ড... প্লে উইথ কনফিডেন্স, Sakib Bin Rashid ফেইসবুক পোস্ট, মার্চ ২০,২০২২- tinyurl.com/4e7cnnej
বি.দ্র.- প্রতিবাদের মুখে দুই একটি ভিডিও টেন মিনিট স্কুল তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তাই অন্য চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিও লিংক দেওয়া হলো。
[২০৬] কীভাবে বুঝবেন আপনি প্রেমে পড়েছেন? প্রথম আলো, জুন ১৩, ২০১৭- tinyurl.com/2p8b6wnh
টিন টিন প্রেম, প্রথম আলো, মার্চ ২০,২০১৮- tinyurl.com/yxx9hutz
[২০৭] প্রপোজ করে তুমি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছ, কিশোর আলো, মে ২৫, ২০২২- tinyurl.com/ffybtcah
কিশোর আলোঃ ফ্রি-মিক্সিং প্রপাগাণ্ডা, Lost Modesty ফেইসবুক পোস্ট, আগস্ট ১৩, ২০১৭-tinyurl.com/yyn6adss
[২০৮] বাংলাদেশে সমকামিতার প্রচারকদের কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অবশ্যই পড়ো- সমকামী এজেন্ডাঃ ব্ল-প্রিন্ট, lostmodesty.com, আগস্ট ৩০, ২০১৮ tinyurl. com/3dzxbuaw
[২০৯] বিশেষ করে ভারতীয় কোম্পানি এয়ারটেল, রবি, বাংলালিংক
[২১০] 'ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প'-এর আরও একটি বছর, প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১- tinyurl.com/yb5755bt
[২১১] বিস্তারিত দেখ- ক্লোজআপের দ্বিধাহীন ভালোবাসার গল্প আয়োজনে উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া, The Global Affairs, জানুয়ারি ২৭,২০২২- tinyurl.com/mr455by8
Dr. Holly Parker (Ph.D). "Closeup Freedom to Love Campaign White Paper", 2018- tinyurl.com/4px4bcjf
Closeup Philippines @CloseupPH টুইটার পোস্ট, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮- tinyurl.com/393tduh5
#freetolove presents 3 JOURNEYS OF LOVE, close-up.com -tinyurl.com/mretcaxa
[২১২] পশ্চিমা বিশ্বের সেক্স এডুকেশনের মতোই 'জেনারেশন ব্রেকথ্রু' প্রকল্পটি, বিবিসি বাংলা, মার্চ ২৫, ২০১৯- tinyurl.com/bdzf7bte
পাঠ্যবইয়ে কী শিখছে শিশুরা >> দুইজনের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দোষের নয়! বিডিটুডে. নেট, জুলাই ২৫, ২০১৪- tinyurl.com/yd7r6v6n
[২১৩] বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উগ্রবাদের প্রভাব প্রকট। প্রথম আলো, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭ - tinyurl.com/yu2au5jc
[২১৪] 'সম্প্রীতি বাংলাদেশ' দেননি, তাহলে বিজ্ঞাপনটা দিলো কে? আওয়ার নিউজ ডেস্ক | মে ১৬, ২০১৯- tinyurl.com/ym5j6nw2
[২১৫] শুদ্ধ করে সালাম দেওয়া, কথা শেষে আল্লাহ হাফেজ বলা জঙ্গিবাদের লক্ষণ – ঢাবি প্রফেসর জিয়া রহমান, SI MEDIA, October 20, 2020- tinyurl.com/2mwmt4fe
[২১৬] #VIRAL Model United Nations Turning into Lap-Dancing session at IMUN 2019| TNEC, The North-Eastern Chronicle, March 4, 2019- tinyurl.com/rv2uhcne
নীল নকশা (চতুর্থ কিস্তি), lostmodesty.com, মার্চ ৬, ২০১৯- tinyurl.com/5n8k9wy6
[২১৭] ডিবেটিং সোসাইটিস: বাংলাদেশে সমকামিতা প্রচারের কেন্দ্র, Lost Modest ফেইসবুক পেইজ, June ৫,২০২১ ও June ২, ২০২১ tinyurl.com/5n8ednnr, tinyurl.com/mr3b7b59

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 হাতের মুঠোয় মরীচিকা

📄 হাতের মুঠোয় মরীচিকা


এক.
প্রেম বলতে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও সমাজে যে ব্যাপারটাকে বোঝানো হয়, সেটার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে এতো এতো তথ্য আর আলোচনার পরও কেউ একটা আপত্তি হয়তো তুলতে পারে। কেউ হয়তো বলতে পারে –
আমি তো এমন অনেককে দেখেছি যারা চুটিয়ে প্রেম করেছে। শরীরের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে দেদারসে। কিন্তু তাদের তো তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। কেউ আত্মহত্যা করেনি, মাদকাসক্ত হয়নি, পরীক্ষায় ফেল করেনি, ডিপ্রেশনে ভোগেনি। বরং এদের সফল ক্যারিয়ার আছে, অনেকের রিলেশনশিপ বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই বিয়ে দিব্যি ঠিকঠাক চলছে। অনেকে বিয়েই করেনি, এখনো দিব্যি এইসব করে বেড়াচ্ছে। মজায় আছে। প্রেম-ভালোবাসার যে ছবিটা আপনি আঁকলেন, তার সাথে এই বাস্তবতা তো মেলে না। এ ধরনের উদাহরণগুলো আপনার কথাকে নাকচ করে দেয়।
হ্যাঁ, প্রেমের সম্পর্ক অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাত্রায় ভোগান্তি নিয়ে আসলেও, 'সফল' প্রেমের গল্পও পাওয়া যায়। কিন্তু এ থেকে আসলে আমাদের বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয় ভগ্ন।
আবারো মনে করিয়ে দেই, আমাদের মূল বক্তব্য আসলে কী। আমরা বলছি, প্রেমের সম্পর্ক অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে আসে। সেই নেতিবাচক পরিণতির মাঝে আছে প্রতারণা, প্রেমিক-প্রেমিকাকে ব্যবহার করা, ব্ল্যাকমেইলিং, ডিপ্রেশন, পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারে প্রভাব, মাদকাসক্তি, অবাধ যৌনাচার, ধর্ষণ, পরিবারের ভাঙন, অপরাধ ইত্যাদি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা গেলে সেটা অধিকাংশ ফলাফলকে নাকচ করে না।
ধরো, সাত তলা থেকে লাফ দিলে সবাই মারা যায় না। শতকরা ১০% মানুষ হয়তো এর পরও বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু তার মানে কিন্তু এই না যে, যেহেতু ১০০% মানুষ মারা যাচ্ছে না, যেহেতু সাত তলা থেকে 'সফল লাফানো'র উদাহরণ আছে, তাই সবাই সাত তলা থেকে এখন লাফানো শুরু করবে। অথবা সবাইকে সাত তলা থেকে লাফাতে উৎসাহিত করা হবে। কাজটাকে খুব চমৎকার, সুখের কিছু একটা হিসেবে তুলে ধরা হবে!
একইসাথে এটাও মনে রাখা দরকার যে প্রেম, যিনা এবং যৌনতার ব্যাপারে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না। এর আছে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও সভ্যতাগত নেতিবাচক প্রভাব। আমরা এরই মধ্যে আলোচনা করেছি, কীভাবে এ বিষয়গুলো ব্যক্তি, সমাজ, পরিবার ও সভ্যতাকে ধ্বংস করছে তিলে তিলে। কাজেই, অনেকে 'মজায় আছে', এই উদাহরণ ব্যক্তিপর্যায়ে টানা গেলেও, সামষ্টিক যে নেতিবাচক প্রভাব সমাজ ও সভ্যতার ওপর পড়েছে, সেই বাস্তবতা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রেম নেতিবাচক ফলাফল আনে, অতএব প্রেম থেকে দূরে থাকো-এটি আমাদের দাবি না। প্রেমের ব্যাপারে আমাদের মৌলিক আপত্তি হলো, প্রেম মহান আল্লাহর অবাধ্যতা, যা মানুষকে বিভিন্ন গুনাহর দিকে নিয়ে যায়। প্রেম সম্পর্কে আমরা যেভাবে ভাবতে অভ্যস্ত তা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, এ কথা স্পষ্ট। বিয়ের বাইরে মহান আল্লাহ যৌনতার স্বাধীনতা দেননি। এটি কবীরা গুনাহ। আর কোনো রিলেশনশিপে যদি যৌনতা না-ও থাকে, তবুও সেখানে গাইর-মাহরামের সাথে কথা বলা, দেখা করা, একাকী সময় কাটানো, 'সম্পর্ক গড়ে তোলা'-র মতো অনেক বিষয় থাকে যা পরিষ্কার হারাম। মহান আল্লাহর অসংখ্য বিধানের স্পষ্ট অবাধ্যতা। দুনিয়াতে যদি কেউ এই গুনাহগুলোর ফলাফলের মুখোমুখি হওয়া থেকে বেঁচেও যায়, আখিরাতে তাকে অবশ্যই মহান আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে। কাজেই কেউ যদি দুনিয়াতে বস্তুবাদী অর্থে প্রেম করে 'সফল'ও হয়, তবু বিচারের দিনে তাকে এক মহাবিপর্যের সম্মুখীন হতে হবে। প্রেম এমন এক পথ যা মানুষকে ক্রমেই আরো বড় বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যায়। হয়তো শুরুটা হয় চোখের দেখা থেকে। কিন্তু ধীরে ধীরে এক গুনাহ অসংখ্য গুনাহর পথ খুলে দেয়।
আর ব্যাপারটা শুধু জেনেশুনে আল্লাহর অবাধ্যতা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেই অবাধ্যতাকে মানুষ উদযাপন করছে, এ নিয়ে গর্ব করছে, সবার সামনে নিজের গুনাহ প্রকাশ করছে এবং এই অবাধ্যতাগুলোকে সমাজে একরকম নিয়ম বানিয়ে ফেলা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এগুলো চরম বিপর্যয়। আর সেই বিপর্যগুলোর কিছু কিছু আমরা ব্যক্তি, সমাজ ও সভ্যতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের পুরো আলোচনা গড়ে উঠেছে এই অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে।
দুই.
বস্তুবাদী, সেক্যুলার চিন্তায় অভ্যস্ত হয়ে যাবার কারণে গুনাহর ব্যাপারে আমাদের অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে। ভালোমন্দ বা হারাম-হালালের ব্যাপারে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত জানাটাই যে যথেষ্ট, এখানে যে আর বাড়তি তথ্যউপাত্ত, যুক্তিতর্কের দরকার নেই, এই উপলব্ধি আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের অন্তরগুলো মরে গেছে। তাই আমরা শুধু অজুহাতের খোঁজ করি অথবা নানা যুক্তিতর্ক হাতড়ে বেড়াই। সহজ বিষয়গুলো তখন আর সহজে বোঝা যায় না。
একটা তথাকথিত সফল প্রেমের ক্ষেত্রে কী ক্ষতিগুলো হয়, এসো সংক্ষেপে একটু দেখা যাক। প্রেম হলো মানুষের প্রাকৃতিক চাহিদা মেটানোর অবৈধ পথ। এই অবৈধ পথের অনেক ক্ষতি আছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো, এই পথ বান্দাকে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায়। আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল তুলে দেয়।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) এর একটা বই আছে, 'ইথাসাহ আল-লাহফান মিন মাসায়িদিশ-শাইত্বান'। বইটাতে তিনি সুন্দর একটা ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আমাদের কোনো একজন সালাফকে (নেককার পূর্বসুরী) জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ভালোবাসার ব্যাপারে। উত্তরে তিনি খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেন,
'ভালোবাসা দিলের একটি রোগ। যেসব মানুষের দিল (বা মন) আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন থাকে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ কোনো মাখলুকের গোলাম বা বান্দা বানিয়ে দেন।'
ইবনুল জাওযী (রহ.)-ও এমনটা বলেছেন,
'প্রেমিকদের মন-মগজ প্রথম পর্যায়েই স্রষ্টার চিন্তা থেকে উদাসীন হয়ে যায়। আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহর ভয় তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চিন্তা তার অন্তরে থাকে না। এরপর যতো হারাম কাজ করে, ততো বেশি আখিরাতের ক্ষতিতে জড়িয়ে পড়ে। আপন সৃষ্টিকর্তার কঠোর শাস্তির হকদার সাব্যস্ত হয়। এভাবে সে যতোই তার কামনা ও প্রেমাসক্তির নিকটবর্তী হয়, ততোই তার প্রতিপালকের থেকে দূরবর্তী হয়ে যায়।' [২১৮]
তিনি আরো বলেন,
'নারী আসক্তি ও গুনাহের কারণে অন্তর মরে যায়, ফলে সে আল্লাহর কাছে মুনাজাতের স্বাদ পায় না, পবিত্র কুরআন তার অন্তরে অবস্থান করে না। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাসহ অন্যান্য ইবাদত তার কাছে অর্থহীন মনে হয়। আরো অনেক অবক্ষয় রয়েছে, যা তাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে নেয়, যা সে অনুধাবনও করতে পারে না। তার অন্তরের দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত হয় গুনাহের অন্ধকার, নষ্ট হয়ে যায় তার অন্তর দৃষ্টি'।[২১৯]
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন,
'জেনে রাখো, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ব্যতিত কোন কিছুকে ভালোবাসবে, অবশ্যই তার ভালোবাসার বস্তুটি তার ক্ষতি করবো।...
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ব্যতিত যে ব্যক্তি কোন কিছুকে ভালোবাসবে, পাওয়া যাক বা না পাওয়া যাক, তার কারণে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি না পাওয়া যায়, তাহলে সে না পাওয়ার শাস্তি ও কষ্ট ভোগ করবে। আর যদি পাওয়া যায় তাহলে সে তা যতটুকু উপভোগ করতে পারবে তার চেয়ে বেশি কষ্ট পাবে।' [২২০]
ব্যাপারটা একবার চিন্তা করো, তুমি নিজের হাতে মহান আল্লাহর সাথে তোমার সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল তুলে দিচ্ছো। যে আল্লাহ তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, শত নাফরমানি সত্ত্বেও যে আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিতে প্রস্তুত, যে আর-রাহমান প্রতিনিয়ত তোমাকে রিযক দিয়ে যাচ্ছেন, যাঁর দরজা তোমার জন্য সবসময় খোলা, তুমি নিজে তাঁর কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছো! কেন? একটা তুচ্ছ মানুষের জন্য? কিছু সস্তা সুখের জন্য? শরীরের আরামের জন্যে? এ কেমন অভিশপ্ত লেনদেন?
প্রেম অনেক সময় হারামের গণ্ডি পেরিয়ে আরো ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন,
'প্রেম কখনো এমনও হয় যে তা কুফরের পর্যায়ে পৌঁছে যায়... ওই ব্যক্তির মত যে তার প্রেমাস্পদকে আল্লাহর প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলে, আল্লাহকে যেভাবে ভালোবাসে, তাকে সেভাবেই ভালোবাসে।'
অতিরঞ্জন মনে হচ্ছে? মুঝে তুঝমে রাব দিখতা হ্যায়...বান গ্যায়ে হো তুম মেরে খুদা...এ ধরনের গান কিন্তু একেবারে কম না!
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এ ধরনের প্রেমের কিছু লক্ষণ বলে দিয়েছেন। সেগুলো দেখলে বিষয় টা আরো পরিষ্কার হবে। তার মতে, এ ধরনের প্রেমের লক্ষণ হলো:
'প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের সন্তুষ্টিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উপর প্রাধান্য দেবে। যদি কখনো আল্লাহর হক আর প্রেমাস্পদের হকের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন আল্লাহর হকের ওপর প্রেমাস্পদের হককে প্রাধান্য দেবে।' [২২১]
একটু ভালো করে ভেবে বলো তো, প্রেমের সম্পর্কে এমন ব্যাপার ঘটে কি না? উত্তরটা কাউকে বলতে হবে না, শুধু নিজের কাছে স্বীকার করলেই হবে। তোমাদের মনে করিয়ে দেই, ইসলামের খুব বেসিক একটা কনসেপ্ট হলো- আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ভালোবাসতে হবে দুনিয়ার সবার চাইতে, সবকিছুর চাইতে বেশি। তাঁরা হবেন আমাদের জীবনের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। তাঁরা আসবেন সবার প্রথমে। স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) প্রকৃত বিশ্বাসী হবার এই শর্ত আমাদের জানিয়েছেন।
আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা বলছেন, 'কিন্তু যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহকে অন্য যে কোনো কিছুর চাইতে বেশি ভালোবাসে'। [২২২]
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তি ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতামাতা, সন্তানাদি ও দুনিয়ার সকল মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হবো।।[২২৩]
কাজেই যেটাকে তুমি সফল প্রেম মনে করছো, সেটা আসলে চরম ব্যর্থতা। ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। একজন মানুষ স্বেচ্ছায় নিজেকে মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। হৃদয়ে ঈমানের স্বাদকে নষ্ট করে ফেলছে নিজের হাতেই। একের পর এক গুনাহে জড়াচ্ছে, পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে অবাধ্য গভীর থেকে আরো গভীরে। কেন? একজন মানুষের জন্য। একজন নশ্বর মানুষের জন্য। যার জন্ম হয়েছিল এক ফোঁটা বীর্য থেকে আর মৃত্যুর পর যার ঠাঁই হবে সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে। একজন মানুষ, যে তার শরীরের ভেতরে আবর্জনা বয়ে বেড়ায়। দিন দিন যার বয়স বাড়ে, যার চোখের আলো স্তিমিত হয়ে আসে, চামড়া ঝুলে পড়ে, সৌন্দর্য মলিন হয়ে যায়। একজন মানুষ, মৃত্যুর পর যার শরীর পচে যায়। মাটির সাথে মিশে যায়।
এর জন্য জান্নাতকে পায়ে ঠেলা? আল্লাহর অবাধ্য হওয়া? জাহান্নামের দিকে নিজেকে ছুঁড়ে দেওয়া?
আর সবচেয়ে দুঃখের বিষয়টা কি জানো? মহান আল্লাহ তোমাকে একা থাকতে বলছেন না। তিনি তোমাকে বলছেন না, সব মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, শুধু কষ্টে কষ্টে জীবনটা পার করে দিতে। তুমি পৃথিবীতে ভালোবাসতে পারবে, আনন্দিত হতে পারবে, সুখী হতে পারবে, যৌনতার স্বাদ নিতে পারবে। কোনো কিছুতেই আল্লাহ তোমাকে বাধা দিচ্ছেন না। তোমাকে শুধু কাজগুলো করতে হবে মহান আল্লাহর ঠিক করে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, ব্যস! আর তাহলে তুমি আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচবে, দুনিয়ার জীবনে বারাকাহ পাবে এবং সমাজ, পরিবার ও সভ্যতা সমৃদ্ধ হবে।
তারপরও মানুষ অবাধ্য হচ্ছে। অসীমকে উপেক্ষা করে সীমিতর পেছনে এ কেমন ছুটে চলা? একে উন্মাদনা ছাড়া আর কিছু কি বলা যায়?

টিকাঃ
[২১৮] ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম ভালোবাসা, ইবনুল জাওযী রহিমাহুল্লাহ, দারুস সালাম বাংলাদেশ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২৮
[২১৯] যাম্মুল হাওয়া, ইবনুল জাওযী (র.), পৃষ্ঠা ২১৯
[২২০] মাজমু'উল ফাতাওয়া ১/২৮-২৯
[২২১] আদ-দা' ওয়াদ-দাওয়া', ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহ.), দারু ইবন হাযম প্রকাশনী, ২০১৯ ঈ. পৃ: ৪৮৮
[২২২] সূরা বাকারাহ, ২:১৬৫
[২২৩] বুখারি: ১৫, মুসলিম: ১৬ (ইফা.)

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 এ কেমন বোকামি?

📄 এ কেমন বোকামি?


মানুষ একা বাঁচতে পারে না। মানুষের সঙ্গীর দরকার। কিন্তু ফ্যান্টাসি দরকার না। সত্যি কথা বলতে তুমি আসলে কষ্ট করতে চাচ্ছো না, বিয়ের মাধ্যমে সঙ্গী পাবার জন্য যে কষ্ট করতে হয়, যে সংগ্রাম করতে হয়, যে যোগ্যতাগুলো অর্জন করার চেষ্টা করতে হয়, তুমি সেটা করার কথা ভাবছো না। এই জিনিসটাকে এড়িয়ে তুমি প্রেমের শর্টকাট খুঁজছো। বাস্তবতার মুখোমুখি হবার সাহস তোমার নেই। তুমি পালিয়ে বেড়াতে চাচ্ছো।
তুমি ফল চাচ্ছো, কিন্তু সে ফল পাবার জন্য যে কষ্ট করতে হয়, তা করতে চাচ্ছো না। সেগুলোকে তোমার কাছে বোরিং মনে হয়, ফালতু মনে হয়। তুমি সঙ্গী চাচ্ছো, কিন্তু একটা সম্পর্কে জড়ালে তোমার দায়িত্ব কর্তব্য কী হবে, সেগুলো তুমি জানো না, জানার কোনো আগ্রহও নেই। তাহলে কীভাবে হবে বলো?
দিনশেষে বারবার তুমি এটাই প্রমাণ করছো যে তুমি ইমম্যাচিউর। একূলও হারাচ্ছো, ওকূলও হারাচ্ছো। তুমি একটার পর একটা রিলেশনে জড়িয়ে এখন যেমন দুঃস্থ সময় পার করছো। তেমনি ভবিষ্যৎ জীবনটাকেও বিষিয়ে দিচ্ছো। সবচেয়ে ভয়ংকর এবং গুরুতর ব্যাপার হলো তুমি ক্রমাগত মহান আল্লাহর অবাধ্য হচ্ছো। গুনাহ করছো। নিজের আখিরাত নষ্ট করছো নিজ হাতে। এসব করার কোনো মানে হয়?
দেখো, এই বয়সে জীবন তোমার জন্য যতো উপহারের পসরা সাজিয়ে বসেছে, বয়স যখন ২৫/২৬ হয়ে যাবে বা ৩০ পার করবে, তখন তা থাকবে না। জীবন কৃপণ হয়ে যাবে। সুযোগের কথা বাদ দাও, ত্রিশ বছর বয়সে তোমার কাঁধে এমন অনেক দায়িত্ব কর্তব্য চলে আসবে যা এখন নেই। বিগত বছরগুলোতে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আসা ক্লান্ত বাবা তোমার ঘাড়ে দায়িত্ব তুলে দিয়ে অবসরে যেতে চাইবেন। তুমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারবে না। দুনিয়া সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। এখন তোমার হাতে অনেক সময়, অনেক অবসর, জীবন তোমার প্রতি উদার। গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের পেছনে না ছুটে, সেক্সের জন্য ভাদ্র মাসের কুকুরের মতো সব জায়গায় কড়া না নেড়ে বরং সুযোগগুলোকে কাজে লাগাও। বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। একটু ধৈর্য ধরো। ধৈর্যের ফল মিষ্টি। সিঙ্গেল থাকলে মানুষ মারা যায় না।
এখন তোমার হাতে অফুরন্ত সময় আছে। এ সময় নষ্ট করো না। অন্য কোনো মানুষের দাসে পরিণত হয়ো না। ডিম পাড়া রাজ হাঁসকে অতি লোভে নষ্ট করে দিও না। ধৈর্য ধরে তার সেবা যত্ন করতে থাকো। সোনার ডিম পেতেই থাকবে তুমি। ইন শা আল্লাহ্ একসময় তোমারও সঙ্গী হবে। তোমারও সন্তান হবে। এখন যে জিনিসগুলো নিয়ে তুমি আফসোস করছো, তখন এগুলোর কথা মনে হলে তোমার হাসি পাবে!
প্রিয় ভাইয়া, প্রিয় আপু! তথাকথিত এই প্রেমের পাশেই শুয়ে আছে দুরারোগ্য অসুখ। প্রেমের অসুখে ভুগে আর কতো কোটি ঠোকর খাবে? বিষে বিষে নীল হবে? আর কতো ভুল করবে? সিদ্ধান্ত নেবার সময় কি এখনো আসেনি?
তাওহীদের আলোতে বিদায় করে দাও সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থার চাপিয়ে দেওয়া পুরোনো সব অন্ধকার বিশ্বাস। রঙিন চশমাটা খুলে ফেলো চোখ থেকে। তাওবাহর ঝুম বৃষ্টিতে ধুয়ে ফেলো তোমার ক্লান্ত, বিধ্বস্ত কিন্তু স্নিগ্ধ মুখটা।

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 জানিলাম এ জীবন স্বপ্ন নয়

📄 জানিলাম এ জীবন স্বপ্ন নয়


এক.
ঢেউখেলানো এক মাথা চুল ছিল আমার বাবার। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। সুঠাম। ঋজু ভঙ্গিতে হাঁটতেন। সুদর্শন। পুরোনো ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় একসময় আমার পাড়াতো অনেক 'ফুপিদের' মনে ঝড় তুলতেন বাবা। ব্যডমিন্টনের তুখোড় খেলোয়াড়। ভলিবল টিমের ক্যাপ্টেন। মাটিতে শুয়ে পড়ে বল ক্লিয়ার করার দুর্দান্ত দৃশ্য আমি বহু দেখেছি আমার প্রথম তারুণ্যেও। এখন বাবা কুঁজো হয়ে হাঁটেন। সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়। কোঁকড়া কালো চুল এক ইতিহাস!
আমার মা-ও কম ছিলেন না। দুধে আলতা গায়ের রং, কাটা কাটা কালো চোখ। অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে ছোটাছুটি করতেন সারা ঘরময়। মা এখন বামহাত নাড়াতে পারেন না ঠিকমতো। চোখে কম দেখেন। মুখে বলিরেখা পড়ে গিয়েছে।
এইতো সেদিনের কথা। কতো উদ্যম, কতো প্রাণশক্তি নিয়ে তাঁরা ছুটে বেড়াতেন, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়ে যেতেন! আজ সেই দিনগুলো অতীত।
বাবা-মাকে বুড়ো হতে দেখা, তাদের বর্তমান অসহায়ত্ব দেখার চাইতে কষ্টকর কিছু কি আছে? একসময় যে বাবার আঙুল ধরে তুমি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে, সেই বাবা আজ খুব ধীরে ধীরে কষ্ট করে হাঁটেন, এটা কীভাবে সহ্য করা যায়? অসুস্থ হলে যেই মা সারারাত তোমার সেবা করে কাটিয়ে দিতেন, সেই মা বিছানায় শুয়ে আছেন অসুস্থ হয়ে, তুমি তাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছো—এর চেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য আর কি হতে পারে?
যেই বাবার ঘাড়ে চড়ে তুমি স্কুলে যেতে, মেলায় যেতে সেই বাবার লাশের খাটিয়া তোমার ঘাড়ে, এর চেয়ে কষ্টের কিছু কি আছে এই দুনিয়ায়? জীবন বড় অদ্ভূত! বড় নিষ্ঠুর!
আমাদের শৈশব কৈশোরকে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন যেসব মানুষেরা, শিশু মনে, জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিখাদ বিস্ময় আর নির্ভেজাল মুগ্ধতা, তারাই আজ ইতিহাস!
বুড়ি হয়ে গেছেন এলাকার জাতীয় ক্রাশ সুমি আপা। মাথায় টাক পড়ে গেছে এলাকার টিনা-মিনা-পিংকিদের হার্টথ্রব সজীব ভাইয়েরা। সেদিন অনেকদিন পর সামিউল ভাইয়ের সাথে দেখা। সাঁতার কাটা শিখেছিলাম উনার হাত ধরে। ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন। ভাইয়া আমাকে ধরে ধরে ক্রিকেট শিখিয়েছিলেন। ফিল্ডিং মিস করার অপরাধে কতোবার মাথায় গাট্টি মেরেছেন! সেই চঞ্চল সামিউল ভাই কতো বদলে গেছেন। খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি। মাথার চুলও পেকে গেছে। ধীর, স্থির, শান্ত এখন। ঘাড়ে হাত রেখে জিজ্ঞাসা করলেন, 'কেমন চলছে তোর দিনকাল? ভালো আছিস তো'?
জীবন বড় অদ্ভূত। বড় নিষ্ঠুর। বড় প্রতারক!
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম সবাই আজ কবরে। আমাকে কী আদরটাই না করতেন উনারা! মসজিদের উঠোনে আম গাছ ছিল অনেক। সবার জন্য নিষিদ্ধ হলেও আমার জন্য ছিল উন্মুক্ত। আর ছিল ফ্রি বৈকালিক নাস্তা-চায়ের কাপে ডুবিয়ে পাউরুটি খাওয়া。
কবরে শুয়ে আছেন লজেন্স খাবার পয়সা দেওয়া তালুকদার বড়াব্বু, পঙ্গু হয়ে গেছেন মজার মজার গল্প বলা কবির চাচা। একটা দ্রুতগতির বাস পিষে দিয়েছে ফারুক কাকুকে-আমার ছোটবড় সব আবদার যিনি মেটাতেন। পিচঢালা রাজপথের এখানে সেখানে লেপ্টে ছিল ফারুক কাকুর মগজ। বড় বীভৎস সেই দৃশ্য!
জীবন বড় অদ্ভূত। বড় নিষ্ঠুর!
কয়দিন আগের কথা! এইতো সেদিন! সেদিন বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে গেলাম। গতকালের কথা মনে হয়। কিন্তু ঠিকঠাক হিসেব কষলে দেখা যায় বিশ বছরও পেরিয়ে গেছে অনেক আগে। বিশ বছর! চোখের পলকে বিশ বছর পার হয়ে গেল! একদম টের পেলাম না!
জীবন কতো অভিনয় জানে! কতো মুখোশ পরে থাকে এই জীবন! চোখের পলকেই এভাবে পার হয়ে যায় মাটির পৃথিবীর এই এক জীবন। কতো মায়া, কতো স্মৃতি, কত স্বপ্ন, কতো ভালোবাসা, কতো পিছুটান সব একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়। মালাকুল মাউতের সাথে সাক্ষাৎ হবার প্রথম মুহূর্তেই মানুষ বুঝে ফেলে এ জগৎ ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই না। জেনে যায় আখিরাতের সেই অনন্ত জীবনের কথা কোনো স্বপ্ন নয়, কল্পনা নয়, অবাস্তব কিছু নয়। অনাবিল সুখ আর নির্মম শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া সেই আল-কুরআন মিথ্যে নয়। মিথ্যা বলেন না আল্লাহর রাসূল (ﷺ), মিথ্যে বলেননি আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা।
সবাই বোঝে, আমিও বুঝবো, তুমিও বুঝবে। কষ্টের দিন আসুক আর সুখের দিন আসুক, দিন একসময় চলে যাবেই। পৃথিবীর যতো সুখ আর ভালোবাসা আছে সব তুমি বেসে ফেললে, ধরো প্রতি দিন গার্লফ্রেন্ড বদলালে, ধরো দুনিয়ার সবচেয়ে রূপবতীরা তোমার গার্লফ্রেন্ড, ধরো তুমি প্রত্যেকদিন একজন একজন করে পৃথিবীর সবচেয়ে হট, লাস্যময়ী নারীদের সাথে বিছানায় গেলে, ধরো এই পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়ানো যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হলে। তুমি এভাবেই জীবন কাটিয়ে দিলে। কিন্তু তারপর? তারপর কী হবে?
সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে যাবে, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। একদিন বয়স ঘড়িটা জানান দিবে-তোমার সময় শেষ। তুমি টেরও পাবে না।
একদিন মরতে হবে তোমাকে। হ্যাঁ, তোমাকেই মরতে হবে। একা একা অন্ধকার কবরে যেতে হবে। কেউ থাকবে না সেখানে। তোমার গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড, জাস্ট ফ্রেন্ড, অনলি ফ্রেন্ড, তোমার গ্যাং, তোমার বাডিস, তোমার বাবা-মা-কেউই না। এমন এক জীবন শুরু করতে হবে যার শুরু আছে কিন্তু কোনো শেষ নেই। সেখানে তুমি কখনোই মৃত্যুবরণ করবে না। ১০০ বছর? ৫০০ বছর? ১০ লাখ বছর? ১০ কোটি বছর? ১০০০,০০,০০,০০০ কোটি বছর?
কখনোই না। সেই জীবনের শুরু আছে। কিন্তু শেষ নেই।
দুই.
তোমাকে ছোট্ট একটা পরীক্ষা করতে বলি। মোমবাতি জ্বালাও বা আগুনের শিখার উপর কিছুক্ষণ আঙুল ধরে রাখো। কেমন লাগছে? এই সামান্য আগুনের শিখার উত্তাপ তুমি সহ্য করতে পারছো? হাতে কখনো পিন ঢুকেছে তোমার, বা সূঁচ?
দীর্ঘ একটা স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আর নবীদের স্বপ্ন সত্য। নবীদের স্বপ্ন ওয়াহীর অংশ। স্বপ্নের ব্যাপারে তিনি (ﷺ) বলেন, 'একপর্যায়ে আমরা (বড়) একটা চুল্লির মত বস্তুর কাছে এসে পৌঁছলাম। সে চুল্লির উপরিভাগ সংকীর্ণ ও নিম্নভাগ প্রশস্ত। ভেতরে বিরাট চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। আমরা চুল্লিটার ভেতরে দেখতে পেলাম উলঙ্গ নারী ও পুরুষদেরকে। তাদের নিচ থেকে কিছুক্ষণ পর পর এক একটা আগুনের হলকা আসছিল, আর তার সাথে সাথে আগুনের তীব্র দহনে তারা প্রচণ্ডভাবে চিৎকার করছিল। আমি বললাম, 'হে জিবরীল, এরা কারা?' তিনি বলেন, এরা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ।'[২২৪] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন, 'নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ওই নারীকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভালো, যে নারী তার জন্য হালাল নয়।'[২২৫]
পৃথিবীর এই ছোট ছোট ব্যথা তুমি সহ্য করতে পারছো না। তাহলে মৃত্যুর ওপারের ভয়ংকর ব্যথা কীভাবে সহ্য করবে তুমি? যেখানে জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা হবে দুনিয়ার আগুনের ৭০ গুণ বেশি?
নাকি তুমি মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা মনে করো? নবীজি (ﷺ)-কে অস্বীকার করো? নাকি তুমি মনে করো পরকাল বলে কিছু নেই, আর এসব কোনো কিছুর কোনো শাস্তি হবে না?
নিজেকে প্রশ্ন করো, কেন তুমি এমন করছো?
তুমি নিজেকে বিশ্বাসী বলে দাবি করো। একবার ভেবে দেখো তো আসলেই তুমি বিশ্বাস করো কি না আল্লাহর বাণীকে? তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর কথাকে? কোথাও ঠাণ্ডা হয়ে বসে নিজের মনের ভেতর একটু ঘুরে এসো তো। তুমি কি আসলেই পরকাল বিশ্বাস করো? নাকি ওগুলো তোমার কাছে একটা রহস্যময় অবাস্তবতা মনে হয়? মনে হয় বহু আলোক বর্ষ দূরের কিছু। হয়তো ঘটবে, হয়তো ঘটবে না! এসব পরে ভেবে দেখা যাবে। এই যৌবন প্রেমহীন গেলে মানবজন্মের নামে কলংক হবে। তাই চুটিয়ে প্রেম করি...
আমি অনেককেই বলতে দেখি, সে তার প্রেমিকা-প্রেমিককে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। কেউ কি ভালোবাসার মানুষকে ধাক্কা মেরে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আচ্ছা, এটা কেমন ভালোবাসা যেই ভালোবাসা প্রিয় মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়? যাকে তুমি এতটাই ভালোবাসো কি করে তাকে দিয়ে দিনের পর দিন গুনাহ করিয়ে নিচ্ছো? এটা কেমন ভালোবাসা! নিজেকে প্রশ্ন করো, এই ভালোবাসার পরিণাম কী হবে? প্লিজ উত্তরটা তুমি দিয়ে যেও..
নাকি ভাবছো, এখন মজা লুটে নেই, পরে তাওবাহ করে নেবো! বোকা ভাই আমার, বোকা বোন আমার, তোমার বয়সী এমন অসংখ্য মানুষ আজ কবরে শুয়ে আছে যারা তোমার মতোই ভেবেছিল পরে তাওবাহ করে নেবো। কিন্তু তাওবাহ করার সুযোগ পায়নি। হয়তো যিনারত অবস্থাতেই তাদের সামনে খুলে গিয়েছে মৃত্যুর পর্দা। আর তুমি কি মনে করো তুমি এভাবে প্ল্যান করে পাপ করে তারপর তাওবাহ করার বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহকে ধোঁকা দিতে পারবে? সেই আল্লাহকে যিনি সবকিছু জানেন? যাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ? তোমার মনের ঘরের সবচেয়ে গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা কথাও যাঁর অজানা নেই? যাঁর ইলমের বাইরে কোনো কিছুই নেই? আসলেই কি তুমি মনে করো, আসমান ও যমীনের মালিককে তুমি এভাবে ধোঁকা দিতে পারবে? নাকি এসব বলে নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছো তুমি?
তোমাকে যদি প্রশ্ন করি, নিজের রব আল্লাহকে ভালোবাসো? যদি বলি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভালোবাসো? চোখ বন্ধ করেই তুমি 'হ্যাঁ' বলে দেবে, কোনো কিছু চিন্তা করার আগেই... অথচ তুমি রবের হুকুম আর হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করেই হারাম রিলেশন করে যাচ্ছো! আল্লাহ বলেছেন, 'যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না।[২২৬] তিনি বলেছেন দৃষ্টির হিফাযত করতে।[২২৭]
রাসূলুল্লাহ (*) বলেছেন, 'দুই চোখের যিনা হচ্ছে- দেখা, দুই কানের যিনা হচ্ছে- শোনা, জিহ্বার যিনা হচ্ছে- কথা, হাতের যিনা হচ্ছে- ধরা, পায়ের যিনা হচ্ছে- হাঁটা, অন্তর কামনাবাসনা করে; আর লজ্জাস্থান সেটাকে বাস্তবায়ন করে অথবা করে না।' [২২৮]
তাহলে তুমি কীভাবে হারাম রিলেশন করে যাচ্ছো? দিনের পর দিন রবের নাফরমানি করে যাচ্ছো... দিনশেষে আবার বলছো, আমি আল্লাহ তা'আলাকে ভালোবাসি, আমি নবিজী (ﷺ)-কে ভালোবাসি! একটুও কি অনুশোচনা হয় না? ফেইসবুক আর ইন্সটাতে কাপল পিক দিতে তোমার একটুও লজ্জা লাগে না? দুঃখ হয় না, নিজের গুনাহর জন্য?
যেই বাবা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কতো কষ্ট করে টাকা দেন, সেই টাকা গার্লফ্রেন্ডের পেছনে ঢালতে তোমার খারাপ লাগে না? যেই মা তোমাকে দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করেছেন, নিজে না খেয়ে তোমার মুখে খাবার তুলে দিয়ছেন, বয়ফ্রেন্ডের সাথে লিটনের ফ্ল্যাটে যাবার জন্য সেই মায়ের চোখে তাকিয়ে-এক্সট্রা ক্লাস আছে, আজকে আসতে দেরি হবে-এতো বড় মিথ্যা কথা বলতে তোমার কি একবারও বুক কাঁপে না? বাবা-মা'র প্রতি তোমার এ কেমন ভালোবাসা?
ভাই জেনে রাখো, নিশ্চিত জেনে রাখো, তোমার এই যৌবন, তোমার এই লঞ্চের কেবিনে যাওয়ার সাময়িক সুখ, ট্যুর আর রিকশায় হাতাহাতি করার মজা সব শেষ হয়ে যাবে। খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাপের বোঝা থেকে যাবে। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত তুমি করবে বছরের পর বছর আগুনে পুড়ে। অনেকে ভাবে... থাকলাম না হয় জাহান্নামে কিছুদিন। সমস্যা কি! একটু কষ্ট সহ্য করলাম। এরপর তো জান্নাতে যাবোই একদিন। আমি তো মুসলিম... একদিন না একদিন জান্নাতে যাবোই!
শোনো, জাহান্নামে কবরের প্রথম রাতেই তুমি ভুলে যাবে প্রিয়তমার সব উষ্ণ আলিঙ্গন! তোমার মৃত্যুর পরের দিন সূর্য ওঠার আগেই এই জীবনের সব সুখকে তুমি চিনতে পারবে তুচ্ছ কিছু অভিজ্ঞতা হিসেবে। বিচারের দিন বিচার শুরুর অপেক্ষা করতে করতে পুরো দুনিয়ার জীবনকে তোমার কাছে মনে হবে অর্থহীন, স্রেফ অর্থহীন! আর জাহান্নাম?
জাহান্নামের প্রথম স্পর্শ ঝলসে দেবে পৃথিবীর সকল সুখের প্রহর! [২২৯] জাহান্নাম, জাহান্নামের আগুন এতোটাই ভয়াবহ হবে যে, জাহান্নাম দেখা মাত্রই মানুষ আল্লাহর কাছে ভিক্ষা করতে শুরু করবে- ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার ভাই/বোন, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি সবাইকে জাহান্নামের মধ্যে ফেলে দাও, কিন্তু আমাকে ফেলো না[২৩০]। জাহান্নামের নিঃশ্বাস পাওয়া মাত্র মানুষ আর এক সেকেন্ডের জন্যেও জাহান্নামে যেতে রাজি হবে না। এটা জাহান্নাম-কোনো ছেলেখেলা নয়。
কোন মুখে তুমি আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে? একটু চিন্তা করো। তোমার যিনা করার দৃশ্য যদি কেউ ভিডিও করে ভাইরাল করে দেয়, তুমি মুখ দেখাতে পারবে? তোমার মা-বাবার চোখের দিকে তাকাতে পারবে? হাশরের ময়দানে পৃথিবীর আদি থেকে শুরু করে অন্ত পর্যন্ত সব মানুষ থাকবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ), থাকবেন সকল নবী রাসূল। আলাইহিমুস সালাম। থাকবেন আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা স্বয়ং। সেখানে সকলের সামনে যদি তোমার লীলাখেলা দেখানো হয় তখন তুমি কি লজ্জায় মিশে যেতে চাইবে না?
এটা কি পাগলামি না? এমন কাজ করা যার জন্য সেই জীবনে চিরকাল আগুনে পুড়তে হয়, বিষাক্ত সাপের দংশনে দংশিত হতে হয়, ফেরেশতার মুগুরের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে! হাজার হাজার বছর ধরে যেখানে তুমি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুকে ডাকবে। কিন্তু কখনোই তোমার মৃত্যু হবে না!
এসব শাস্তির কথা, ভয়ের কথা বলতে ইচ্ছা করছে না ভাইয়া, আপু। জানি তোমার মন খারাপ হচ্ছে। হয়তো আমার উপর অনেক রাগ হচ্ছে। তুমি এখন বড় হয়েছো, বুঝতে শিখেছো। নিজের মতোই চলতে পারো। ভাবছো, আমি তোমাকে খুব জ্ঞান দিচ্ছি, মোল্লাগিরি করছি। অপমান করছি। দেখো, আমার এরকম কোনো কিছু করার ইচ্ছা নেই। আসলে তোমাকে জাহান্নামীদের মতো কাজ করতে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। বিশ্বাস করো! ঐ পথে সুখ নেই, শান্তি নেই, প্রেম নেই, প্রীতি নেই। নেই মহৎ কোনো সত্য। আছে শুধু যন্ত্রণা। চরাচরে ভেসে যাওয়া যন্ত্রণা। তোমার এই বয়সে হয়তো তুমি বুঝতে পারছো না। তোমার চোখে এখন রঙিন চশমা। কিন্তু একটা বয়স পর তুমিও বুঝে যাবে। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকবে না।
বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বভাবজাত। তোমাকে তো একেবারে এটা অবদমন করে রাখতে বলা হচ্ছে না। এটা একেবারে দমিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত কোনো কথা নয়। কিন্তু ভালোবাসার ফানুস ভুল আকাশে উড়ানো যাবে না। আল্লাহ আমাদের জন্য বিয়ের ব্যবস্থা দিয়েছেন। বিয়ের চেষ্টা করতে হবে। আর সবর করতে হবে। মহান আল্লাহর উপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধরতে হবে। তুমি এই ভেবে ভয় পাবে না বা এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগবে না যে-আমি সবর করতে পারবো না। তুমি যদি একটু সাহস করে সবরের চেষ্টা করো, তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য সহজ করে দেবেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এমন ওয়াদাই করেছেন।
‘আর যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি তাঁর অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’[২৩১]
‘যে ব্যক্তি ধৈর্য অবলম্বনের চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলতা দান করবেন।’[২৩২]
একটু কষ্ট করো ভাইয়া, আপু। সময় খুব দ্রুত যায়। একাকীত্ব, হাহাকার আর কিছু ক্ষোভ বুকে নিয়েই হোক, একটু অপেক্ষা করো। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করেন, তাদেরকে তিনি ঠকান না। ইনশাআল্লাহ, এই মাটির পৃথিবীতেই অবাক চাঁদের আলোয় একদিন ধরা দেবে তোমার চোখের দুঃখগুলো শান্ত করার মতো একজন মানুষ। তারপর শুরু হবে পৃথিবীর পথে নতুন এক পথচলা। যে পথের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে দুষ্টুমি, খুনসুটি, মান-অভিমান, মায়া, মমতা আর সত্যিকারের পবিত্র ভালোবাসা।
একটু কষ্ট সহ্য করো। অন্তরে গেঁথে নাও একটি কথা - জান্নাতের প্রথম মুহূর্তেই তুমি ভুলে যাবে দুনিয়ার সব দুঃখকষ্ট!

টিকাঃ
[২২৪] সহীহ বুখারী: ৭০৪৭, ১৩৮৬
[২২৫] আল-মু'জামুল কাবীর লিত-ত্বাবারানী: ৪৮৭, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭৭১৮, সহীহাহ: ২২৬। ইমাম হাইসামী বলেছেন, হাদিসটির বর্ণণাকারীগণ সহীহ (মুসলিম) গ্রন্থের বর্ণনাকারী (অর্থাৎ, নির্ভরযোগ্য)। আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
[২২৬] সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭ : ৩২
[২২৭] সূরা আন-নূর, ২৪: ৩০
[২২৮] সহীহ বুখারী : ৬২৪৩ ও সহীহ মুসলিম : ২৬৫৭ (ইফা. ৬৫১২, ৬৫১৩)
[২২৯] আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য থেকে দুনিয়ায় সর্বাধিক সুখের অধিকারী ব্যক্তিকে আনা হবে। তারপর তাকে (জাহান্নামের) আগুনে একবার ডুবিয়ে বলা হবে, 'হে আদম সন্তান, তুমি কোনদিন ভালো কিছু দেখেছ? কোনদিন তুমি সুখে ছিলে কি? সে বলবে, 'আল্লাহর কসম, হে আমার প্রতিপালক, না'। সহীহ মুসলিম: ২৮০৭ (ইফা. ৬৮২৯)
[২৩০] আল মা'আরিজ ৭০:১১-১৪
[২৩১] আত-তাগাবুন, ৬৪: ১১
[২৩২] বুখারি: ১৪৬৯, মুসলিম: ১০৫৩ (ইফা. ২২৯৫)

ফন্ট সাইজ
15px
17px