📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 মুখোশ

📄 মুখোশ


২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি রাত দুইটার সময় চট্টগ্রামের ওলি আহমেদ কলোনিতে রহস্যময় নড়াচড়া দেখা গেল। আলো আঁধারিতে নিঃশব্দ সতর্কতায় সারি বেঁধে হেঁটে যেতে দেখা গেল একদল মানুষকে। রাত আড়াইটায় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে গেল উর্দি পরা লোকগুলো। আগে থেকেই ব্রিফ করা ছিল কার কী দায়িত্ব, সংক্ষিপ্ত সময়ে মিশন শেষ করে ফেললো তারা। ওপক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রতিরোধই এলো না। জব্দের তালিকায় উঠলো দেশে তৈরি একটা শর্ট রাইফেল, গুলি, লোহার চেইন, চাকু, ৪টি মোবাইল সেট এবং নগদ ৫ হাজার টাকা। সেই সাথে হাতকড়া পড়লো ৬ জন মানুষের হাতে, যাদের মধ্যে ৫ জনই নারী। বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে যারা গড়ে তুলেছিল অনলাইন মধুচক্র। অনলাইন চ্যাটিং অ্যাপস ও সামাজিক মাধ্যমে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়তো তারা। পরে বাসায় ডেকে এনে নগ্ন ছবি তুলতো। বিশাল অঙ্কের টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতো।

প্রেমে পড়ার বড় একটা মাধ্যম হলো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো। স্কুল কলেজের কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে চল্লিশোর্ধ মধ্যবয়সীরাও আজ প্রেম খুঁজছে এবং খুঁজে পাচ্ছে ডিজিটাল জগতে। সেই সাথে মুখোমুখি হচ্ছে নানা হয়রানির, জড়িয়ে পড়ছে কেলেঙ্কারিতে।
ফেসবুকে প্রেম তারপর...
বাসায় ডেকে প্রেমিককে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ। দুই সন্তানের মায়ের সঙ্গে স্কুলছাত্রীর বিয়ে! চলন্ত ট্রেনে তরুণী ধর্ষণ। অপহরণ, মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা। দলবদ্ধ ধর্ষণ। সর্বনাশা পরিণতি।

এরকম অসংখ্য সংবাদ রোজকার পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যায়। অনলাইনে প্রেমে জড়িয়ে কতো মানুষকে যে চরম মাশুল গুণতে হয়, তার ইয়ত্তা নেই। টাকাপয়সা, ধনসম্পদ, মানসম্মানের পাশাপাশি অনেকে জীবনটাও হারায়। বাস্তব জীবনে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণের পাশাপাশি ব্যাপক আকারে অনলাইন যৌন নির্যাতনের শিকার হয় অনেকেই।

এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ জগৎটাই আসলে ফেইক। মিথ্যা, প্রতারণা আর ছলনায় ভরা। কেউ কাউকে সামনাসামনি দেখতে পারে না, খুব সহজেই অন্যজনের ছবি আর ভুয়া তথ্য দিয়ে ছদ্মবেশ ধরা যায়। ছেলে সাজা যায়, মেয়ে সেজে মেয়ের সাথে প্রেম করা যায়। ক্রমাগত ভাব মারা, রঙঢঙ এর ছবি দিয়ে খুব সহজেই একটা ফেইক পারসোনালিটি ধারণ করা যায়। ইসলামিক পোস্ট শেয়ার করে দ্বীনি ভাই, দ্বীনি বোন সাজা যায়, বাস্তব জীবনে জায়েদ খান হয়ে সালমান খানের ভাব ধরা যায়, টিনা-মিনা- রিনারাও বিশ্ব সুন্দরী সেজে থাকতে পারে—কেউ বুঝতেও পারে না। এই জগতে করা সম্পর্কে প্রতারণা হবে না, ব্ল‍্যাকমেইল হবে না, তো কোথায় হবে বলো?

আর এই অন্ধকারে গিলে খাবার জগৎটাতেই তোমার আনাগোনা... কালচাড়াল এলিট, মিডিয়াসাহা আর নব্য মিশনারীদের ক্রমাগত প্রোপাগ্যান্ডার ফলে জীবনের অর্থ খুঁজতে তুমি হাজির হও প্রেমের খোঁজে। নানান জাতের, নানান রঙের, নানান বয়সের, গর্জিয়াস কিংবা সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস মানুষের সাথে অতি সহজেই অনলাইনে যোগাযোগ করা যায়। বাস্তব জীবনে যার সামনে দাঁড়িয়ে একটা কথা বলতে হবে—এমনটা ভাবলেই হাঁটু কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়, তার সাথেও এখানে হিরোগিরি করা যায়। নিজের পরিচয় গোপন করে সেক্স চ্যাট, ন্যুডস আদান প্রদান করে যৌনসুখ পাওয়া যায়। তাই প্রতারিত হবার চান্স আছে জেনেও, ঐপাশের আইডিটা ফেইক হতে পারে জেনেও, তোমার খোঁজ, দ্যা সার্চ মিশন চলতেই থাকে।

পুরো প্রক্রিয়াটা একবার চিন্তা করো—একের পর এক প্রোফাইল ঘেঁটে যাচ্ছো তুমি। যাকে একটু ভালো লাগছে, যার কাছ থেকে রিপ্লাই পাবার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে তাকেই নক করছো। প্রত্যেকটা ছবিতে লাভ রিয়‍্যাক্ট দিচ্ছো। 'এই মেয়ে তুমি এতো সুন্দর কেন, এতো সুন্দর হয়ে আমাকে কষ্ট দিয়ে তুমি যে পাপ করছো সেই পাপে জাহান্নামে চলে যেতে পারো জানো?'—এই টাইপের কমেন্ট করছো। মেসেজ দেওয়ার পর সেই মেসেজের রিপ্লাই আসলো কি না, তা ভেবে একটু পর পর ইনবক্স চেক করছো। মেসেজের রিপ্লাই আসলে আরো ব্যাপক উৎসাহে কথাবার্তা চালিয়ে নিচ্ছো, তাকে ইম্প্রেস করার জন্য মাথা খাটিয়ে মিথ্যার ডালি সাজাচ্ছ...

চিন্তা করো কী বিপুল পরিমাণ সময় নষ্ট, কী লজ্জাজনক, আত্মমর্যাদাহীন আচরণ! কারো আত্মসম্মান থাকলে সে যার তার ইনবক্সে এভাবে হামলে পড়তে পারে না, না বলার পরেও ছ্যাঁচড়ার মতো বারবার বিরক্ত করতে পারে না। এমন কাজ করার মাধ্যমে তুমি প্রথমেই তোমার আত্মসম্মান নষ্ট করে ফেলছো। অন্যের কাছে নিজেকে ছোট করছো।

অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে সময় কাটানো আর প্রচুর মেয়ে/ছেলের টাইমলাইনে ঘোরাঘুরি করার কারণে তোমার মধ্যে সবসময় একটা অস্থিরতা, একটা অশান্তি কাজ করবে। তুমি হীনম্মন্যতায় ভুগবে। অনলাইনে সবাই জীবনের একটা সিলেক্টিভ অংশ রঙচঙ লাগিয়ে উপস্থাপন করে। জীবন যেমন সেভাবে সেটাকে মানুষ অনলাইনে তুলে ধরে না। সে অনলাইনে ঐ জীবনকে তুলে ধরার চেষ্টা করে যেমন জীবন সে চায়। অনলাইনে মানুষ এক ধরনের ফ্যান্টাসি তৈরি করে। সবাই প্রত্যেকদিন দামী রেস্তোরায় খেতে যায় না, গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ট্যুর দেয় না—কিন্তু অনলাইনে ছবি, আপডেট ভিডিও দিয়ে এমন ভাব মারে মনে হয় যে সে রোজ রোজ ট্যুর দিচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে ময়লা নিয়ে, লুঙ্গি-স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে এলোচুলের ছবি মানুষ আপলোড করে না। মানুষ সেজেগুজে মেকআপ করে, মাঞ্জা মেরে, ছবি তুলে সেটাকে নানা ফিল্টারে এডিট করে তারপর ছবি আপলোড করে।

আর সেই ছবি দেখে তুমি ভাবো ওরা আসলেই কতো সুন্দর, কতো স্মার্ট, হ্যান্ডসাম আর আমি একটা ক্ষ্যাত! ওদের জীবনটা কতো অসাধারণ, আমার জীবনটা কতো বোরিং। এভাবে শুরু হয় হীনমন্যতা, হতাশা, নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে তুচ্ছ ভাবা, মানসিক অশান্তি, অস্থিরতা। হৃদয়ে জমে বিষকাঁটা। ছোট ছোট সুখগুলোও তখন চলে যায় দিগন্ত পেরিয়ে।

কিন্তু নিজের এতো ক্ষতি করার পর রিলেশন করতে পারলেও এই অনলাইন রিলেশন বেশিদিন টেকে না। খাওয়াদাওয়ার পর্ব শেষে অনেকেই সপ্তাহে সপ্তাহে গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড পাল্টায়। সকালে একজনকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না বলে মেসেজ দেয়, তো বিকেলে তাকে ব্লক করে আরেকজনকে মেসেজে বলে, তাকে না পেলে সে মরেই যাবে! রাতে আবার অন্য একজনের সাথে তাদের প্রথম বাবুর নাম কী হবে তা নিয়ে খুনসুটি করে। গবেষণাও সেইম কথা বলে।

রিলেশন টিকে গিয়ে কোনোমতে বিয়ে পর্যন্ত গড়ালেও বিচ্ছেদ হতে সময় লাগে না। যুক্তরাজ্যের ম্যারেজ ফাউন্ডেশন দু'হাজার দম্পতিকে নিয়ে গবেষণার পর বললো, অনলাইনে প্রেমের পর বিয়ে করা দম্পতিদের মধ্যে বিয়ের ৩ বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের হার ছয় গুণ বেশি! এমনকি বিয়ে যদি ৭ বছর পর্যন্ত টিকেও যায় তারপরও অনলাইন দম্পতিদের মধ্যে ডিভোর্সের হার অফলাইন দম্পতিদের তুলনায় দেড়গুণের চেয়েও বেশি!

যে সম্পর্ক একেবারেই ভঙ্গুর, যে সম্পর্কের ভিত্তি হলো মিথ্যে আর ফ্যান্টাসি, যেখানে বিয়ে হবার চান্স খুবই কম, বিয়ে হলেও বিচ্ছেদের সম্ভাবনাই অনেক বেশি—সেই সম্পর্ক গড়ার জন্য তোমার কেন এতো আগ্রহ? জীবন যৌবন সময় সব ব্যয় করে, নিজের আত্মসম্মান নষ্ট করে কেন যাকে তাকে মেসেজ দিয়ে বেড়াও? ক্ষণিকের যৌনসুখ, 'মজা নেওয়া' ছাড়া এই প্রশ্নগুলোর আর কোনো উত্তর কী আসলে আছে?

এই সস্তা সুখের পেছনে ছুটতে গিয়ে তুমি আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছো, জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছো, নিজেকে অপমানিত এবং কলুষিত করছো—এটা কেন বুঝতে পারছো না?

এভাবে মরীচিকার পেছনে ছুটে কী লাভ হলো তোমার? ঠাণ্ডা মাথায় একবার পেছন ফিরে দেখো—কতোবার তোমার শান্ত, নিরুপদ্রব জীবন ছারখার হয়ে গিয়েছে! দীর্ঘ নির্ঘুম রাত, একলা শুকতারা, নিকোটিনের ধোঁয়া, পুরোনো ইনবক্স, গভীর দীর্ঘশ্বাস, ঝাঁকড়া চুল, শূন্য মানিব্যাগ, শূন্য পরীক্ষার খাতা, চিড় ধরা ভ্রাতৃত্বের মতো বন্ধুত্ব, মায়ের চোখের জল, বাবার ভীষণ আক্ষেপ। টেনশান, অস্থিরতা আর উদ্বিগ্নতায় কাটানো কত দিন, কত রাত। নিজের সঙ্গে একটু সৎ হও। সত্যি করে বলো তো আসলেই কী সুখ পেয়েছো? জীবনের এই লেনদেনে তুমি কি জিততে পেরেছো?

টিকাঃ
[৯৪] অনলাইনে প্রেমের ফাঁদ, ৫ নারীর মধুচক্র ইপিজেডে, চট্টগ্রাম প্রতিদিন, জানুয়ারী ২২, ২০২০- tinyurl.com/4fs2u9x8
[৯৫] ফেসবুকে প্রেম, বাসায় ডেকে প্রেমিককে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, আরটিভি নিউজ, আগস্ট ২১, ২০২২-tinyurl.com/548vjjvx
[৯৬] ফেসবুকে প্রেম, দুই সন্তানের মায়ের সঙ্গে স্কুলছাত্রের বিয়ে! dhakapost.com, জুলাই ২৪, ২০২২- tinyurl.com/mrx8m5ub
[৯৭] ফেসবুকে প্রেমের পরিণতি, চলন্ত ট্রেনে তরুণী ধর্ষণ, প্রতিদিনের সংবাদ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২০- tinyurl.com/5dbvfjfr
[৯৮] অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা, প্রবাসীর দিগন্ত, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২- tinyurl.com/4cuhnbyp
[৯৯] অনলাইনে প্রেম, অতঃপর দলবদ্ধ ধর্ষণ, starsangbad.com, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২- tinyurl.com/cbpjjs6b
[১০০] ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম, অতঃপর সর্বনাশা পরিণতি, Prothom Alo ইউটিউব ভিডিও, Dec ৫, ২০১৮- tinyurl.com/2w6ksxrv
[১০১] বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অনলাইন প্রেমে যৌন হেনস্থা হবার হার অনেক অনেক বেশী, The Darkest Side Of Online Dating, BBC News-tinyurl.com/mrxm9x73
[১০২] এগুলোর স্ক্রিনশট ফাঁস হয়ে গেলে তোমার অবস্থা কী হবে একবার ভাবো তো। এগুলোর কারণে অনেকেই ব্ল‍্যাকমেইলের শিকার হয়। হ্যাকাররাও সুযোগ কাজে লাগাতে দ্বিধাবোধ করে না।
[১০৩] Instagram Is Ruining Your Self Esteem and You May Not Even Be Aware, saseye.com, June 8, 2020-tinyurl.com/2funb67u
[১০৪] Online Dating and Its Effects on Mental Health, thriveglobal.com- tinyurl. com/y26pzx3a
Facebook has known for a year and a half that Instagram is bad for teens despite claiming otherwise - theconversation.com, September 16, 2021- tinyurl.com/z9ntjz6j
[১০৫] Kee, A. W. A., & Yazdanifard, R. (2015). The review of the ugly truth and negative aspects of online dating. Global Journal of Management and Business Research.
[১০৬] Couples who meet online are 'six times more likely to get divorced, metro. co.uk, Nov 1, 2021- tinyurl.com/ya588v2p

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 শরীরে বৃষ্টির মত মোহ

📄 শরীরে বৃষ্টির মত মোহ


এক.
আমরা এমন একটা অদ্ভূত সময়ে বসবাস করছি যখন মিডিয়া ও কালচার সম্পূর্ণভাবে যৌনায়িত। যৌনতা আজ সব জায়গায়। ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা হলো এটা শুধুমাত্র যিনাকেন্দ্রিকতায় সীমাবদ্ধ না। বরং মিডিয়া এবং তথাকথিত সাংস্কৃতিক অঙ্গন ক্রমাগতভাবে যিনা এবং অবাধ যৌনতার স্বাভাবিকীকরণে ব্যস্ত।

জাতীয় পত্রিকার পাতায় কিশোর-কিশোরীদের আজ শেখানো হচ্ছে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই, এটিই প্রকৃতির নিয়ম। পত্রিকাগুলোর ফিচারে ধাপে ধাপে শেখানো হচ্ছে কীভাবে নতুন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের কাছে সাবেকের কথা বলা যায়। শেখানো হচ্ছে কীভাবে 'মধ্যযুগীয়' রক্ষণশীলতা থেকে বের হয়ে আধুনিক হওয়া যায়। কীভাবে নতুন ব্র্যান্ডের সেলফোনের মতো, বারবার নিজের শরীর আর মনের জন্য নতুন নতুন প্রেম খুঁজে নেওয়া যায়। শেখানো হচ্ছে সমকামিতাকে অধিকার হিসেবে দেখতে, পাশ্চাত্য থেকে আমদানি করা রূপান্তরকামিতাকে (transgenderism) মানবাধিকারের নামে মেনে নিতে।

এটাই এখন নরমাল। এটাই রীতি। নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন—এই উদার ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বব্যবস্থা প্রতিনিয়ত যৌনতার উস্কানি দিয়ে চলেছে। যেন দুনিয়ার সব সুখ, সব আনন্দ কেবল যৌনতায়। এই বিকৃত, মিথ্যা অভিনয়, অতিরঞ্জিত, কল্পিত চিত্র দেখে তোমাদের মগজধোলাই হয়ে গেছে। তুমি ভাবো তোমার যেসব বন্ধুরা সেক্স করছে তারা চুটিয়ে জীবনটাকে উপভোগ করছে। সেই লেভেলের মজা করছে। তোমার যেহেতু গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড নেই, তাই তুমি কিছুই করতে পারছো না। লাইফকে উপভোগ করতে পারছো না। তাই তোমার প্রেম করতেই হবে। মাস্ট!

যা একসময় ছিল অগ্রহণযোগ্য, সমাজ ও মিডিয়ার ক্রমপরিবর্তনশীল আপেক্ষিক নৈতিকতা অনুযায়ী তা-ই আজ নিয়মে পরিণত হয়েছে। যেই যিনা-ব্যভিচার ছিল অপমানের, লজ্জার, লুকিয়ে রাখার, তা এখন গর্ব, মর্যাদার ও ঘোষণা করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই আসমান ও যমীনের মালিকের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে আজ মানুষ জোর গলায় বলে—প্রেমই তো করছি, কোনো অপরাধ তো করছি না! অথবা কেউ হয়তো বলে বসে—'আমরা সত্যি সত্যি একে অপরকে ভালোবাসি'—আর সত্যি ভালোবাসার ক্ষেত্রে আল্লাহর দেওয়া বিধান বদলে যায় কি না, এর জন্য আলাদা কোনো হিসেব আছে নাকি, সেটা নিয়ে চিন্তায় ফেলে দেয়। কিংবা টেনে আনা হয় সেক্যুলার সমাজের সবচেয়ে প্রিয় যুক্তি, স্বাধীনতাকে। মাই লাইফ মাই রুলস—মন যা চায় তাই করবো, বাধা দেওয়ার তুমি কে?

বারবার শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে, তোমরাও হয়তো এই যুক্তিগুলো মেনে নিয়েছো। হয়তো চেষ্টা করেছো এই যুক্তির মধ্য দিয়ে নিজের কাজগুলোর অজুহাত দাঁড় করাতে। বন্ধুদের আড্ডায়, অনলাইনের কোনো তর্কে, নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে কনভিন্স করতে, কিংবা নির্ঘুম রাতে নিজের বিবেকের খচখচানিকে চাপা দেওয়ার জন্যে—কোনো না কোনো প্রেক্ষাপটে তুমিও হয়তো চেষ্টা করেছো এই যুক্তিগুলো টেনে নিজের ভুলগুলোর সঠিক সমীকরণ বানাতে।

কিন্তু মিডিয়া আর সমাজের তৈরি করা আপেক্ষিক নৈতিকতার বুলিগুলো আওড়ানোর সময় তুমি কি চিরন্তন, শ্বাশ্বত নৈতিকতার কথা চিন্তা করো? যে নৈতিকতা ঠিক করে দিয়েছেন তোমার মালিক? তুমি কি সেই পবিত্র সত্ত্বার কথা চিন্তা করো যাঁর কাছে অণু-পরমাণু পরিমাণ কাজেরও হিসেব দিতে হবে? যার কাছে, 'সবাই করছিলো তাই আমিও করেছি'—এই যুক্তি দিয়ে পার পাওয়া যাবে না? যার কাছে মিথ্যা বলা যাবে না? যার সামনে যুক্তির পসরা সাজিয়ে বসা যাবে না?

হরমোনের জোয়ারে, শরীরী সুখের উন্মত্ততায় হয়তো সেই পরম করুণাময়ের কথা তুমি ভুলে বসেছো। হয়তো তাঁর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়েছো নিজের বিবেকের জ্বালা অবশ করতে। হয়তো নষ্ট সভ্যতা তোমাকে সেই মালিকের কথা আর তাঁর দেওয়া শিক্ষাকে ভুলিয়ে দিয়েছে, যে শিক্ষাকে তুমি তোমার হৃদয়ের ভেতর সত্য হিসেবে জানো। তাই তোমাদের মনে করিয়ে দেই।

দুই.
ইসলামের ভিত্তি হলো তাওহীদ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। কথাটা আমরা সবাই বলি। কিন্তু এর তাৎপর্য আমরা বুঝি না। আল্লাহকে একমাত্র সত্য ইলাহ হিসেবে গ্রহণের অর্থ হলো তাঁকে নিজের এবং সবকিছুর মালিক হিসেবে মেনে নেওয়া। তাঁর প্রেরিত রাসূল (ﷺ) এবং তাঁর নির্ধারিত দ্বীনকে গ্রহণ করে নেওয়া। মালিকের সামনে নিজেকে সমর্পণ করা, নিজের ইবাদাত, আনুগত্য, তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করা। লা ইলাহা ইলাল্লাহ শুধু মুখে আওড়ানোর বুলি না। এই কালেমার অর্থ আরশের অধিপতি, মালিকুল মুলক আল্লাহর গোলাম হিসেবে নিজের পরিচয়কে চিনতে পারা।

'আমার দেহ, আমার সিদ্ধান্ত' বা, 'মাই লাইফ মাই রুলস'—এ ধরনের কোনো চিন্তার স্থান ইসলামে নেই। ইসলাম আমাদের শেখায় এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে; যা কিছু দৃশ্যমান এবং যা কিছু অদৃশ্য, সব কিছুর মালিক আল্লাহ। তিনি মালিকুল মুলক। আসমান ও যমীনসমূহের একচ্ছত্র অধিপতি। বনী আদম তথা মানুষ, মহান আল্লাহর দাস এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি।

আল্লাহ মানুষকে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন। দিয়েছেন সম্পদের মালিকানার অধিকারও। তবে মালিকানার এই অধিকারে মানুষ সার্বভৌম না। সবকিছুর মতো মানুষের সম্পদের প্রকৃত মালিকও আল্লাহ। পার্থিব এই জীবনে সীমিত সময়ের জন্য তিনি আমাদের এগুলো ব্যবহার করতে দিয়েছেন। এই সম্পদ অনেকটা আমানতের মতো। মানুষ নিজের চাহিদা অনুযায়ী এই সম্পদ খরচ করতে পারবে। তবে সম্পদের প্রকৃত মালিকের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনে।

একই কথা শরীরের ক্ষেত্রেও। আমাদের শরীর, সুস্থতা, আয়ু, জীবন—সবকিছুই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। তিনিই জন্ম, মৃত্যু এবং রিযিকের মালিক। তাই শরীরের উপরও আমাদের মালিকানা সার্বভৌম না। তোমার শরীরের মালিক তুমি না, এর মালিক আল্লাহ। সম্পদের ব্যবহারের যেমন নিয়ম আছে, তেমনি নিয়ম আছে খাবার, পোশাক এবং যৌনতার ক্ষেত্রেও। মহান আল্লাহর বেঁধে দেওয়া হালাল ও হারামের সীমানা মানুষকে মেনে চলতে হয়।

তাই চাইলেই আমরা হারামের জন্য টাকা খরচ করতে পারি না। চাইলেই শূকরের মাংস কিংবা মদ খেতে পারি না, চাইলেই আমি এই শরীরকে ইচ্ছেমতো বদলাতে পারি না। চাইলেই যেকোনো ভাবে, যে কারো সাথে, যেকোনো সময় ভাগাভাগি করতে পারি না শরীরের উষ্ণতা। এটাই আমার মালিকের বিধান। তাঁর বিধান অমান্য করলে, দুনিয়াতে অবাধ্য হলে আখিরাতে আমাদের জন্য থাকবে শাস্তি। ক্ষেত্রবিশেষে দুনিয়াতেও থাকবে শান্তির বিধান।

খাবার, পানির মতোই নারী পুরুষের ভালোবাসা এবং দৈহিক চাহিদা মানুষের সহজাত, স্বাভাবিক ব্যাপার। এই চাহিদা পূরণের সঠিক পদ্ধতি আমাদের সৃষ্টিকর্তা বলে দিয়েছেন আর তা হচ্ছে বিয়ে। বিয়ের ভেতরে যৌন সম্পর্ক বৈধ, বিয়ের বাইরে তা অবৈধ। একটা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানোর পর মানুষ যখন নিজের ভেতরে যৌন চাহিদা অনুভব করবে, তখন সে বিয়ে করবে। এভাবে সে হালাল ভাবে নিজের চাহিদা পূরণ করতে পারবে, একই সাথে এর সাথে যুক্ত হবে ভালোবাসা, বিশ্বাস, মমতা। নারীপুরুষের চিরন্তন আকর্ষণের শক্তি কাজে লাগে পরিবার গড়তে। আর সেই পরিবার থেকে জন্ম হয় পরবর্তী প্রজন্মের।

কিন্তু তুমি বিয়ের কথা ভেবে আফসোস করছো না। বিয়ের কথা ভাবছো না। বিয়ে করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছো না। তুমি আফসোস করছো গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ডের জন্য। তুমি সময়-শ্রম ব্যয় করে যাচ্ছো কয়েক মিনিটের শরীরী সুখের জন্য।

তিন.
তোমার মাথায় সেক্স নিয়ে যা ঘুরছে, যে ফ্যান্টাসি তুমি করছো, তার অধিকাংশের সাথেই বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সেক্স মজার জিনিস, সেক্সে আনন্দ আছে, তৃপ্তি আছে... এগুলো সব সত্য। কিন্তু এই ভোগবাদী বিশ্বব্যবস্থা যেভাবে সেক্সকে উপস্থাপন করে, বাস্তবতা তা থেকে বহুদূর।

যৌনজীবন শুরুর পর প্রথম প্রথম কয়েকদিন খুব ভালো লাগবে। অনেক বার সেক্স হবে। কিন্তু এরপর দেখবে একে খুব বিশেষ কিছু একটা মনে হচ্ছে না। এটা শুধু তোমার জন্য প্রযোজ্য না। পৃথিবীর সব মানুষের জন্যই সত্য। ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা করে দেখো। ক্ষুধার্ত মানুষ প্রতিনিয়ত শুধু খাবারের কথা ভাবে, কিন্তু যার বাসায় খাবার আছে সে ক্রমাগত খায় না। খাবারকে কেন্দ্র করে তার পুরো জীবনযৌবন, অস্তিত্ব কিন্তু আবর্তিত হয় না।

শুধু শরীরের আকর্ষণ আর ক্ষুধাকে পুঁজি করে সম্পর্ক গড়া যায় না। পরিবার গড়া যায় না। গড়া যায় না সভ্যতা। আজ যৌনতাকে বিয়ে থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ফলে যৌনতাই লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ যৌনতৃপ্তির মধ্যে ভালোবাসা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
যৌন আনন্দ তীব্র, কিন্তু ক্ষণস্থায়ী। এই সাময়িক উত্তেজনা দিয়ে মানুষের সব চাহিদা পূরণ হয় না। একজন মানুষকে নিজের করে পাওয়ার, চোখ বন্ধ করে তার উপর নির্ভর করার, বিশ্বাস করার, নিজের সুখদুঃখ তাঁর সাথে ভাগাভাগি করার, দুজনের ভালোবাসায় একটা শিশুকে বড় করার যে স্বাভাবিক তাড়না মানুষের রক্তের ভেতরে খেলা করে, স্রেফ সেক্স দিয়ে সেটাকে মেটানো যায় না। কিন্তু মানুষ আজ তাই করার চেষ্টা করছে। নিষ্ফলভাবে ছোটাছুটি করছে দেহ থেকে দেহে, বিছানা থেকে বিছানায়। নিজের শরীরকে সস্তায় তুলে দিচ্ছে অন্যের হাতে। কিন্তু তৃপ্ত হতে পারছে না।

কোনো গাড়ি কীভাবে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেবে সেটা সেই গাড়ি যারা তৈরি করেছে তারাই সবচেয়ে ভালো জানে। মহান আল্লাহর জ্ঞান পরিপূর্ণ। আমাদের কী প্রয়োজন, আমাদের চেয়ে তিনি ভালো জানেন। তাই তিনি আমাদের জন্য এমন পথ ঠিক করে দিয়েছেন যা আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা আজ তাঁর কথা ভুলে বসেছি। তাঁর নির্দেশনাগুলো উপেক্ষা করছি।

মা-বাবা সন্তানের কোনো ক্ষতি চান না। সন্তানকে ক্ষতিকর কোনো কিছু করতে দেখলে তারা ক্রুব্ধ হন। ব্যথিত হন। আল্লাহ সুব'হানাহু ওয়া তা'আলা আমাদেরকে মা-বাবার চাইতেও বহুগুণে বেশি ভালোবাসেন। তিনি কখনোই চান না যে আমরা অশ্লীলতায় ডুবে নিজেদের ধ্বংস করে ফেলি। মানুষকে যিনা-ব্যভিচার করতে দেখলে তিনি ক্রুদ্ধ হন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
'হে মুহাম্মাদের উম্মতবৃন্দ, আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কেউ নেই, তিনি তাঁর কোনো বান্দার ব্যভিচার করা দেখতে পছন্দ করেন না।'
তিনি বলেছেন,
'যে বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করছি সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো—তোমাদের উদর ও লজ্জাস্থানের বিপথগামী কামনাবাসনা এবং রিপু অনুসরণের পথভ্রষ্টতা।'

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) যে কাজগুলোকে সবচেয়ে নিকৃষ্টের অন্যতম বলে চিহ্নিত করেছেন, যা কিছুর ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করেছেন, আজ আধুনিক পৃথিবী সেগুলোকেই বলছে প্রগতি, স্বাধীনতা আর আধুনিকতা।

***
বছরে দুইবার কুকুরীর শরীর গরম হয়। যৌন তাড়নায় সে তখন পাগলের মতো হয়ে যায়। অস্থির হয়ে ছুটে বেড়ায়। পুরুষ কুকুররা তাকে ঘিরে ভিড় করে। চলে যেখানে সেখানে রতিক্রিয়া।
আধুনিক মানুষের যৌনতার সাথে কুকুরের এই আচরণের তফাৎ কোথায়? পশুর জন্য যা স্বাভাবিক, আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের জন্য তা অপমানজনক। অবাধ যৌনতা মানুষকে পশুর পর্যায়ে নামিয়ে আনে। যৌনতাকে বিয়ে থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো মহান আল্লাহর তৈরি নিয়মকে উল্টে দেওয়া।

আর তুমি...
তুমি স্বেচ্ছায় অন্ধকারের এই অবগাহনে অংশ নিচ্ছো। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছো আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মকে উল্টে দেওয়ার শয়তানী প্রকল্পে। পশুর পর্যায়ে টেনে নামাচ্ছো নিজেকে। নিজের অন্তরকে ডুবাচ্ছো ক্লেদাক্ত, কলুষিত অন্ধকারে। তিলে তিলে ধ্বংস করছো তোমার আত্মাকে।

টিকাঃ
[১০৭] বিস্তারিত জানার জন্য পড়ো, ইলমহাউস পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত আমাদের মুক্ত বাতাসের খোঁজে বইটি।
[১০৮] তবে ইসলামসম্মত দাসীর সাথে যৌনতা হতে পারে। এই দাসী আমাদের বাসা বাড়িতে কাজ করে এমন দাসী নয়। বিস্তারিত জানার জন্য পড়তে পারো মাকতাবাতুল আযহার থেকে প্রকাশিত ইসলামে দাস-দাসী ব্যবস্থা বইটি। লেখক- শামসুল আরেফিন শক্তি।
[১০৯] তুমি বলতেই পারো, চাইলেই কি বিয়ে করা যায়? ৩০ বছর পার হলেও বাবা-মা বিয়ে দিতে চায় না আর আপনি আসছেন বিয়ে নিয়ে। যান যান, ভাগেন। চাইলেই বিয়ে করা যায় না- এটা একদম মিথ্যে কথা। তুমি যদি আন্তরিকভাবে চাও তাহলে ইন শা আল্লাহ অবশ্যই বিয়ে করতে পারবে। বইয়ের পরবর্তী অংশে আলোচনা আছে। বিস্তারিত জানার জন্য Lostmodesty.com থেকে পড়ো 'তুমি এক দূরতরো দ্বীপ' ও 'হয়নি যাবার বেলা' লেখা দুটি-tinyurl.com/durtorodip , tinyurl.com/hoinijabarbela
[১১০] সহীহ বুখারী ৫২২১, ১০৪৪
[১১১] মুসনাদ আহমাদ ১৯৭৭২, মাজমাউয যাওয়াইদ হা. ৮৯১, সহীহ আত-তারগীব ৫২, ২১৪৩। হাইসামী রাহি, হাদিসটির বর্ণনাকারীদেরকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আলবানী রাহি, হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 আলেয়া

📄 আলেয়া


মহান আল্লাহর নির্দেশনা, নিজেদের স্বাভাবিক আত্মমর্যাদা এবং লজ্জাশীলতা ভুলে যে সাময়িক যৌনতৃপ্তির পেছনে এই সভ্যতা আমাদের ছুটে যেতে শেখাচ্ছে, সেই যৌনতার বাস্তবতাটা আসলে কেমন?

অনেকেই মনে করে প্রেমিকের সাথে শুয়ে পড়া মানে হলো ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়া। একটা প্রেমের সম্পর্ক পরিপূর্ণ হয় সেক্স করার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে এমন এক বন্ধন তৈরি হয় যার ফলে তারা চিরদিনের জন্য একে অপরের হয়ে যায়। বিচ্ছেদ হবার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা আসলে উল্টো।
নাইজেরিয়ার কয়েকজন পিএইচডি গবেষক বলছেন,
'বিয়ের আগে সেক্স করা কাপলরা একে অপরের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। বাতাসে কুটিল সন্দেহ ভেসে বেড়ায়। সন্দেহ, অবিশ্বাস, হিংসা, নজরদারি বিয়ের পরে সম্পর্কটাকে বিষিয়ে তোলে—সে তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বিয়ের আগেই তো সে আমার সাথে শুয়ে পড়েছিল, এখন অন্য ছেলে বা অন্য মেয়ের সাথেও তো শুয়ে পড়তে পারে...এমন চিন্তাভাবনা চলতে থাকে দুজনেরই মাথায়। এভাবে একটা সুস্থ সম্পর্ক চলতে পারে না।

যেদিন থেকে প্রেমিক-প্রেমিকা শরীরের স্বাদ পেয়ে যায় সেদিন থেকে কমতে থাকে তাদের মধ্যকার আকর্ষণ। কমতে থাকে একে অপরের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাসও। প্রেমের ক্ষেত্রে, সেক্সের আগে একে অপরের শরীরের প্রতি একটা কৌতূহল থাকে, রহস্য থাকে। সেক্স হয়ে গেলে সব রহস্য, সব কৌতূহল মিটে যায়। নিজেরা একসাথে থাকার রসদ হারিয়ে ফেলে। বিয়ের আগের সেক্সে নিছক শরীরের সুখ আর সাময়িক মোহ ছাড়া আর কিছু থাকে না। এটি স্রেফ কামনা, একে অপরকে ভোগ করা। বিশ্বাস, নির্ভরতা, মমতা, সম্মান, দায়িত্ব, পরিবারের বন্ধন—কিছুই এতে থাকে না।

তাই যিনা করা ছেলেরাও বিয়ের জন্য সতী নারী খোঁজে। ভারতের মতো অশ্লীল সভ্যতার ধারক দেশেরও শতকরা ৬৩ ভাগ তরুণ বলছে—যদিও তারা যিনা করাটাকে স্বাভাবিক মনে করে কিন্তু বিয়ের জন্য ভার্জিন পাত্রী পছন্দ করে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের প্রতি ৩ জন পুরুষের ১ জন বিয়ের জন্য ভার্জিন মেয়েকে বেশি পছন্দ করে।

নিকোলাস উলফিঙ্গার হলেন ইউনিভার্সিটি অফ উটাহ'র একজন সমাজবিদ। তিনি গবেষণা করে দেখেন—যেসব অ্যামেরিকান শুধু তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ হয়, তারা বিবাহিত জীবনে বেশি সুখী হয়।
এখন তুমিই চিন্তা করে দেখো, তুমি কী চাও। ৫ মিনিটের সস্তা সুখ নাকি হাতে হাত রেখে বাকি জীবনটা একসাথে কাটিয়ে দেবার রসদ?

অনেকে ক্ষেত্রেই যিনার পরিণতি হলো পড়াশোনা, ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়া, তীব্র হতাশা, আত্মগ্লানি, মাদক ব্যবহার। এ নিয়ে এরই মধ্যে আমরা আলোচনা করেছি।
ড. মুসা আব্দুল্লাহি এবং আব্দুল্লাহ উমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখেন—অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪৩ জন বলছে সেক্স করার কারণে তারা তীব্র আত্মগ্লানি ও আফসোসে ভোগে। ৩২ জন বলছেন বিয়ের পূর্বের যৌনতা মাদকের দিকে নিয়ে যায়। অনেকে বিছানায় পারফরম্যান্স ভালো করার জন্য ড্রাগ নেয়। আবার অনেকেই সেক্স করার কারণে জন্ম নেওয়া গ্লানি, আফসোস, অবসাদ ভোলার জন্য বা ব্রেকআপের পর কষ্ট ভোলার জন্য ড্রাগ নেয়। শতকরা ৫৭ জন বিশ্বাস করে এটা আত্মসম্মান নষ্ট করে দেয়।

অসংখ্য গবেষণায় এটা উঠে এসেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ের আগে সেক্সের ফলাফল হলো—হতাশা, আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, নিজের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলা, মাদক ব্যবহার, অস্থিরতা, আত্মহত্যা, রেসাল্ট খারাপ, প্রেগন্যান্সি। দৈহিক ইনজুরি, জীবন ধ্বংসকারী বিভিন্ন যৌনবাহিত রোগ, সহিংসতা, যৌনতা সম্পর্কে অস্বাভাবিক ধ্যানধারণা, অস্বাভাবিক যৌন আচরণ, নেগেটিভ বডি ইমেজ, বাবা-মা'র সমর্থন হারিয়ে করুণ অবস্থায় দিন কাটানো।

সাময়িক সুখের নেশায় এতো এতো ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া কি কোনো স্মার্ট, বুদ্ধিমান মানুষের কাজ?

যিনা করার প্রক্রিয়াটার সাথেও জড়িয়ে থাকে অনেক ঝামেলা এবং অনেক ক্ষেত্রে বিপদ। যিনা করার জায়গা কোথায় পাবো, যেখানে যাবো সেটা কি সেইফ, এতো টাকা কীভাবে ম্যানেজ করবো, বাসায় কী গল্প সাজাবো? কেউ জেনে ফেলবে না তো? কেউ দেখে ফেলবে না তো? জানলে কী হবে? প্রেগন্যান্ট হয়ে যাবে না তো? প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলে কী হবে...সবসময় একটা অস্থিরতাবোধ, একটা টেনশন কাজ করতে থাকে।
পাশাপাশি পার্কের চিপায়, ঝোপে-ঝাড়ে, বনে জঙ্গলে, পাটক্ষেতে কিংবা আবাসিক হোটেলে ধরা পড়ে অন্য মানুষের লালসায় পরিণত হওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। বয়ফ্রেন্ডকে বেঁধে রেখে বা তাড়িয়ে দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে রেইপ করার সংবাদ পত্রিকা খুললেই পাওয়া যায়। এমন অনেক ঘটনার আলোচনা আমরা আগেই করেছি। তাছাড়া, অনেক সময়ই হোটেল রুমের সিসিটিভি ক্যামেরায় যিনার ফুটেজ থেকে যায়। বয়ফ্রেন্ডের বন্ধুরা যিনার দৃশ্য ধারণ করে বন্ধুর গার্লফ্রেন্ডকে ভোগ করে।

ব্ল্যাকমেইল যে শুধু অন্য মানুষ করে এমন না। তথাকথিত ভালোবাসার মানুষরাই অনেক সময় যৌনতার ভিডিও করে রাখে। কখনো গোপনে, কখনো প্রকাশ্যেই। এই ভিডিও বা ইনবক্সে ভালোবাসার প্রমাণ দেখানোর জন্য দেওয়া নগ্ন, অর্ধনগ্ন ছবি দেখিয়ে যৌন দাস/দাসীতে পরিণত করে। যখন যেখানে ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা ডাকলেই শরীর ব্যবহার করতে দিতে হয়। টাকাপয়সাও হাতিয়ে নেয় এভাবে অনেকেই।
অন্য কারো সাথে বিয়ে হলে এই ছবি ভাইরাল করে প্রতিশোধ নেয়। বিয়ের পরেও স্বামী বা স্ত্রীকে ধোঁকা দিয়ে তার সাথে শুতে বাধ্য করে, ব্ল্যাকমেইল করে। কথা মতো কাজ না করলে এইসব ফুটেজ ভাইরাল হয়ে যায় অনলাইনে। আপলোড হয় পর্ন সাইটে। নিজের, সাথে পরিবারেরও মানসম্মান ধুলোয় মিশে যায়। মুখ দেখানোর উপায় থাকে না। মেয়েদের ক্ষেত্রে বিয়ে হয় না। আত্মহত্যাও করে বসে অনেকে। কী অসম্মান এবং অপমানকর এক জীবন! এর সাথে তুলনা করো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্কের।

আবার এসব কিছুর সাথে যুক্ত হয় পর্নোগ্রাফি নামের কুৎসিত, আধুনিক প্লেগের প্রভাব। পর্ন মুভি থেকে যৌনতা সম্পর্কে মিথ্যা, অতিরঞ্জিত, অতিকল্পিত ধারণা নিয়ে বড় হওয়া প্রজন্ম যৌনতায় আগ্রাসন প্রদর্শন, খিস্তি খেউড় করা, সঙ্গীকে মারধর করা, অ্যানাল সেক্স, ওরাল সেক্সের মতো বিকৃত আচরণগুলোকেও স্বাভাবিক মনে করে। ব্রেইনওয়াশড প্রজন্ম এই বিকৃত আচরণগুলো বাস্তবায়ন করে নিজের সঙ্গী/সঙ্গিনীর উপর। এই বিকৃত যৌনাচারের কারণে ঘটে দিহান-আনুশকার মতো ঘটনা।

গবেষকদের মতে, ছেলেদের উপর প্রভাব পড়লেও নারীদের উপর এ ধরনের আচরণের প্রভাব হয় ভয়াবহ। সঙ্গীর এমন আচরণে তাদের হৃদয় ভেঙে যায়। শিকার হয় ট্রমার। সঙ্গীর বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে অন্য মানুষের যৌনদাসী হয়ে যাওয়ার ফলে নিজেকে আর মানুষ মনে হয় না। মনে হয় ভোগের একদলা মাংসপিণ্ড। আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান বলে কিছু থাকে না। অনেকের মনে ক্ষত হয়ে যায় সারাজীবনের মতো। বিকৃত যৌনতার মুখোমুখি হয়ে যৌনতা সম্পর্কে তাদের তীব্র নেতিবাচক ধারণা চলে আসে। পরবর্তীতে বিয়ে হলে স্বামীর সাথেও অন্তরঙ্গ হওয়াটাকে তাদের অনেকের কাছে বিভীষিকার মতো মনে হয়। সুস্থ অন্তরঙ্গতার অভাবে স্বামীর ভালোবাসায় ভাটা পড়ে। সংসারে অশান্তি নেমে আসে। সারাজীবন এর ঘানি টানতে হয়। নষ্ট জ্যোৎস্নায় ঘরে ঘরে আগুন জ্বলে।

যে যৌনতার জন্য এতো কিছু সেই যৌনতাতেও কি আসলে তৃপ্তি পাওয়া যায়? নিশ্চয়তা পাওয়া যায়? একজন গার্লফ্রেন্ড যতোটা অনিশ্চয়তা নিয়ে ভাবে, 'ও কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে? নাকি শুধু আমার শরীরকে ভালোবাসে,' একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর হাত ধরতে পারে ততোটাই আস্থা আর বিশ্বাসের সাথে। একজন গার্লফ্রেন্ড যতোটা অনিশ্চয়তা, প্রতারণার ভয় আর আত্মসম্মানের হুমকি নিয়ে একজন বয়ফ্রেন্ডের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের দিকে যায়, একজন স্ত্রী ঠিক ততোটাই আস্থা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভাবতে পারে তার স্বামী তার পবিত্রতার সঙ্গী, তার অনাগত সন্তানের বাবা।

বিয়ের আগে সেক্স করে ফেললে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিচ্ছেদের হার বহুগুণে বেড়ে যায়। অ্যামেরিকার শিকাগো ইউনিভার্সিটিতে বেশ মানসম্মত ও বড় আকারের গবেষণা চালান একদল গবেষক। গবেষণা শেষে তারা বলেন, 'ছেলে বা মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি বিয়ের পূর্বে সেক্স করেনি এমন ছেলে ও মেয়েদের বিয়ে নাটকীয়ভাবে স্থায়ী। এদের বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার খুবই কম'।
এরকম অসংখ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে বিয়ের আগে সেক্স না করলে যেমন বিয়ের পর চমৎকার একটা দাম্পত্য জীবন পাওয়া যায়, সম্পর্কে বিশ্বস্ততা থাকে, যৌন সন্তুষ্টি থাকে, তেমনি বিয়ের আগে সেক্স করলে দাম্পত্য সম্পর্ক বিষিয়ে যায়, ডিভোর্সের হার বেড়ে যায়।

সমস্যা এখানেই শেষ না। হৈমন্তী গল্পে রবীন্দ্রনাথ বলেছিল — 'আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে তাহার মনে আর কোনো উদবেগ থাকে না। নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়, স্ত্রীর সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া উঠে। অবস্থা যেমনি ও বয়স যতোই হউক, স্ত্রীর অভাব ঘটিবামাত্র তাহা পূরণ করিয়া লইতে তাহার কোনো দ্বিধা থাকে না।'

কথা অতিশয় সত্য। যৌনতার স্বাদ পাবার আগে নিজেকে সামলানো যতোটা সহজ, যৌনতার স্বাদ পাবার পরে নিজেকে সামলানো ততোটাই কঠিন। আখিরাত ও জীবন ধ্বংসকারী একটা রিলেশন থেকে যে করেই হোক মুক্তি পেলেও তুমি সিংগেল থাকতে পারবে না। শরীরের লোভে আবারো রিলেশনে জড়াবে। এবং মিথ্যা বলে হোক, জোর করে হোক, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে হোক, কিংবা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে হোক—তার সাথে যিনা করবেই। আত্মনিয়ন্ত্রণ, সততা, চারিত্রিক শুদ্ধতা, অপরকে সম্মান করা, কেয়ার করার মতো উন্নত মহান চারিত্রিক গুণাবলি তোমাকে বিদায় জানাবে।

এক রিলেশন ভাঙলে অন্য রিলেশনে যাবে। আবার যিনা করবে। এভাবে যিনা করে যাবে। যিনা করতে না পারলে পাগলের মতো হয়ে যাবে। কারো কারো ক্ষেত্রে এমন হয় যে যিনা করার জন্য গার্লফ্রেন্ড না পেলে পতিতালয়ে যায়।
ইবনুল জাওযী (রহ.) যেমনটা বলেছেন, 'প্রেমিকরা সাধারণত যৌন কামনা থেকে নিজেদের মন-মগজকে সংযত করতে না পারার ক্ষেত্রে জানোয়ারদের সীমাও ছাড়িয়ে যায়। তাদের যৌন উত্তেজনা কখনও প্রশমিত হয় না, পরিতৃপ্তির বদলে সর্বদা অতৃপ্তিই থেকে যায়, ফলে তা আরো বৃদ্ধি পায়। তারা কুকর্মের লাঞ্ছনায় জড়িয়ে পড়ে আরো ঘৃণিত হয়ে যায়।
যিনাকে মহিমান্বিত করা এই তথাকথিত প্রগতিশীল বিশ্বব্যবস্থা কখনোই তোমাকে যিনার এসব দিক দেখায় না। আল্লাহর দেওয়া মাথাটা একটু কাজে লাগাও! কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা একটু যাচাই বাছাই করে নাও। মুখোশ দেখে প্রতারিত হয়ো না।

টিকাঃ
[১১২] Adama, T., & Ejih, S. (2021). The Effects of Premarital Sex Among Adolescents in Igala Land. Sapientia Glob J Arts, Humanit Dev Stud, 4(3).
[১১৩] কামনার আলোচনায় এগুলো আমরা দেখে এসেছি
[১১৪] Abdullahi, M., & Umar, A. (2013). Consequences of pre-marital sex among the youth a study of University of Maiduguri. IOSR Journal of Humanities and Social Science, 10(1), 10-17. Adama & Ejih (2021).
[১১৫] Third of men still want virgins, The Sunday Morning Herald, June 1, 2008- tinyurl.com/yckv25km
63% want to marry virgins, but majority approve of premarital sex, hindustantimes. com,Sep 03, 2015- tinyurl.com/a64a4b33
[১১৬] Fewer Sex Partners Means a Happier Marriage, theatlantic.com, October 22, 2018- tinyurl.com/4ee8takz
[১১৭] Graves, K. L., & Leigh, B. C. (1995). The relationship of substance use to sexual activity among young adults in the United States. Family Planning Perspectives, 18-33.
[১১৮] Abdullahi & Umar (2013)
[১১৯] প্রেগন্যান্ট হওয়া থেকে বাঁচার জন্য জন্ম নিরোধক পিল ব্যবহার করা হয়। আর এর ফলে হতাশা, মাসল পেইন, যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
The pill: From sexual revolution to cancer and depression links, independent. co.uk, November 02, 2016- tinyurl.com/2p8uukww
[১২০] The Negative Effects of Teenage Dating, studymoose.com- tinyurl.com/5yx8ytsh
[১২১] Abdullahi & Umars (2013) Teen Dating, courses, lumenlearning.com- tinyurl.com/322s7x4y
Shrestha, R. B. (2019). Premarital sexual behaviour and its impact on health among adolescents. Journal of Health Promotion, 7, 43-52.
[১২২] অনেক সময় প্রেমিকই বন্ধুদের ভোগ করার জন্য প্রেমিকাকে তার হাতে তুলে দেয়- tinyurl.com/5bw9yz95
[১২৩] নগ্ন ছবি দেখিয়ে প্রেমিকার ব্ল্যাকমেইল, প্রেমিকের আত্মহত্যা!, কালের কণ্ঠ অনলাইন, জুলাই ২৫, ২০১৮- tinyurl.com/28yc6rhs
প্রথমে প্রেমের অভিনয়, পরে অশ্লীল ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল চট্টগ্রামে দর্জি গ্রেফতার, ইত্তেফাক, মে ১৯ ২০২২- tinyurl.com/muk3dcdv প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে প্রেমিক, ভিডিও করে বন্ধুরা, দৈনিক যুগান্তর, মে ০৩, ২০২১- tinyurl.com/mryj7hzy
[১২৪] 'প্রেমিকা'র নগ্ন ছবি ও ভিডিও স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপ প্রেমিকের, ব্ল্যাকমেইল! zeenews. india.com, ডিসেম্বর ৩,২০২০- tinyurl.com/ydvkj53u অশ্লীল ছবি তুলে ব্যাংক কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেফতার ৩, হাজারিকা প্রতিদিন, নভেম্বর ১৪,২০১৯- tinyurl.com/4wnsbc3a
[১২৫] Ryu, E. (2005). Spousal use of pornography and its clinical significance for Asian-American women: Korean women as an illustration. Journal of Feminist Family Therapy, 16(4), 75-89. Shope, J. H. (2004). When words are not enough: The search for the effect of pornography on abused women. Violence Against Women, 10(1), 56-72. Teenage girls pressured into 'painful and coercive' anal sex because of porn, metro. co.uk, Jul 18, 2017 - https://goo.gl/Uitete
[১২৬] Pornography has changed the landscape of adolescence beyond all recognition, telegraph.co.uk, April 22,2015 - https://goo.gl/4hccVw বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হওয়াটাই হতাশা, ঝগড়া, বিচ্ছেদ, সম্মান কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। বিস্তারিত গবেষণার জন্য দেখো, মুক্ত বাতাসের খোঁজে -tinyurl.com/eyxxndzs
[১২৭] Abdullahi & Umar (2013)
[১২৮] Laumann, Gagnon, Michael, & Michaels, S. (2000). The social organization of sexuality: Sexual practices in the United States. p. 503
[১২৯] Premarital Sex and Greater Risk of Divorce, focusonthefamily.com, August 16, 2011-tinyurl.com/yfca7hts
Kahn, J. R., & London, K. A. (1991). Premarital sex and the risk of divorce. Journal of Marriage and the Family, 845-855.
Does Sexual History Affect Marital Happiness? Institute for Family Studies, October 22, 2018-tinyurl.com/5e2ks4ax
Olamijuwon, E., & Odimegwu, C. (2022). Saving sex for marriage: An analysis of lay attitudes towards virginity and its perceived benefit for marriage. Sexuality & Culture, 26(2), 568-594.
[১৩০] Abdullahi & Umar (2013)
[১৩১] অনেকে সমকামিতাতেও জড়ায়। পর্ন হস্তমৈথুনের কথা তো বলাই বাহুল্য। ধর্ষণ বা শিশুদের যৌন নির্যাতন করার ঘটনাও ঘটায়।
[১৩২] ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম ভালোবাসা, ইবনুল জাওযী (র.), দারুস সালাম বাংলাদেশ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২৬

📘 আকাশের ওপারে আকাশ লস্ট মডেস্টি 📄 কাছে আসার আরেক গল্প

📄 কাছে আসার আরেক গল্প


১৫ সেপ্টেম্বর। ২০১৫। পড়ন্ত দুপুর।

কাফরুলের পুরনো বিমানবন্দরের মাঠের ঝোপে সিমেন্টের খালি বস্তায় মোড়ানো আবর্জনার স্তুপের পাশে পড়েছিল সে। জন্মের পর মায়ের বুকের ওম পাওয়া হয়নি। আমাদের সমাজে পোয়াতি ঘরের নতুন অতিথির মুখে মধু দিয়ে বরণ করা হলেও নবজাতকটির ভাগ্যে মধু দূরে থাক, এক ফোঁটা পানিও জোটেনি। একদল কুকুর সেই বস্তা ভেদ করে টেনেহিঁচড়ে ওকে নিজেদের খাবারে পরিণত করেছিল। খাবলে খেয়েছিল ওর আঙুল, নাক ও ঠোঁটের অংশ। কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দে এগিয়ে যায় অনুসন্ধিৎসু কিশোরের দল। ঢিল ছুড়ে তাড়ায় ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোকে। কিশোর দলের চোখ আটকে যায় একদিন বয়সী ছোট্ট একটি শিশুর রক্তাক্ত দেহের উপর। চিৎকার দেয় ওরা। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহানারা নামে স্থানীয় এক নারী এগিয়ে যান আবর্জনার মতো করে ছুড়ে ফেলা শিশুটাকে বাঁচাতে। পবিত্র প্রেমের বলি হওয়া থেকে বেঁচে যায় নিষ্পাপ শিশুটি। [১৩৩]

বিয়ে বহির্ভূত পবিত্র প্রেম-ভালোবাসার এ এক অনিবার্য পরিণতি! ডাস্টবিনে কুকুরের মুখে খুবলে খুবলে খাওয়া নবজাতকের নিষ্পাপ দেহ, টয়লেটের কমোডে কিংবা হলের ট্রাংকে নবজাতকের লাশ। [১৩৪] জাস্ট কয়েক মিনিটের সাময়িক আনন্দের জন্য নিষ্পাপ শিশুর রক্তে হাত রাঙায় তারই জন্মদাতা আর জন্মদাত্রীরা! মানবসভ্যতার কী করুণ এক পরিণতি! এই বিশ্বকাঠামো রঙচঙ মেখে কাছে আসার গল্প শেখায়। কিন্তু কাছে আসার গল্পের পরের দৃশ্য আর দেখায় না।

ডাস্টবিনে রাস্তায় নবজাতককে ছুড়ে ফেলার ঘটনাগুলো চোখে লাগে। সংবাদ শিরোনাম হয়। তবে এর চাইতেও আরো নিষ্ঠুরভাবে, আরো সিস্টেমেটিকভাবে 'পবিত্র প্রেমের' ফসল কোটি কোটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে। নীরবে, নিভৃতে। যা নিয়ে কোনো সংবাদ হয় না। উল্টো মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো সুশীল প্রগতিশীলরা নিষ্পাপ শিশুর মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রক্তের আদিম নেশায় হাততালি দেয়। আইনওয়ালারা চোখ বুজে ঘাড় ঘুরিয়ে থাকে। কেউ কেউ 'গর্ভ যার, সিদ্ধান্ত তার' এই যুক্তিতে বৈধতাও দিয়ে দেয় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য গণহত্যাগুলোর একটি-গর্ভপাতকে।

অন্ধকার যুগে মেয়ে নবজাতক হলে জীবন্তই পুঁতে ফেলা হতো। আর এখন এই অতি আধুনিক যুগে শুধু মেয়ে শিশু না, ছেলে শিশুকেও খুন করার জন্য ছুড়ে ফেলা হয় রাস্তার পাশের ডাস্টবিনে। আইয়ামে জাহিলিয়াতের চাইতেও নির্দয় আকারে ফিরে এসেছে মানবশিশু খুনের মহাউৎসব!

অপরাধ বিজ্ঞানী ফারজানা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ড. আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই বিয়েবহির্ভূত অনেক ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে নারী-পুরুষ। ফলে এমন বেওয়ারিশ নবজাতকদের জন্ম যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়ে গেছে জীবন্ত নবজাতককে ফেলে দিয়ে সব দায় থেকে নিষ্কৃতি চাওয়ার মতো ঘটনাগুলোও! [১৩৫]

গর্ভপাতের প্রক্রিয়াটা খুবই নির্দয়, নিষ্ঠুর। সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, ছুরি, কাঁচি ইত্যাদি দিয়ে গর্ভের শিশুকে টুকরো টুকরো করা হয়। শকুন বা কুকুর যেমন খুবলে খুবলে খায় মানুষের মৃতদেহ, ঠিক তেমন করেই খুবলে খুবলে মায়ের নিরাপদ গর্ভ থেকে বের করে নেওয়া হয় শিশুর শরীরের টুকরো-পা, পেট, পাঁজর, হাত, থেঁতলে ফেলা মাথা! [১৩৬]

অ্যামেরিকায় হাইস্কুল শেষ করার আগেই শতকরা ৪০ জন সেক্স করে ফেলে। মোটামুটি ১৭ বছরের মাথাতেই সবাই ভার্জিনিটি হারিয়ে ফেলে। আর ২০ বছরের মাথাতেই প্রতি ৩ জন কিশোরীর ১ জন প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়। শতকরা ৮২ জনই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রেগন্যান্ট হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরা গর্ভপাত করে ঝামেলা খালাস করে ফেলে। CDC এর ডাটা বলছে ২০২০ সালে অ্যামেরিকাতে ৯ লাখ ৩০ হাজার ১৬০ টি গর্ভপাত হয়েছে। যার ৯% করেছে ১৩-১৯ বছর বয়সীরাই। অর্থাৎ প্রায় ৮৪ হাজারের মতো শিশু খুন করেছে তারা। চিন্তা করো ৮৪ হাজার মানবশিশু শুধু অ্যামেরিকাতেই, শুধু এক বছরেই! ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান বলছে গর্ভপাত করা নারীদের শতকরা ৮৫ ভাগই অবিবাহিত। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশু খুনের মহাউৎসবের কারণ হলো বিবাহ বহির্ভূত 'পবিত্র (!) প্রেম'।

১৯৭৩ সালে গর্ভপাতকে বৈধতা দেবার পর গত ৪৭ বছরে কেবলমাত্র অ্যামেরিকাতেই ৬ কোটি ২০ লাখেরও বেশি শিশুকে গর্ভপাতের মাধ্যমে খুন করা হয়েছে। বলা হয়, হিটলার ৬০ লাখ ইহুদীকে খুন করেছিল। গর্ভপাতের মাধ্যমে অনাগত সন্তানদের হত্যা করার এই পরিমাণ হিটলারের ইহুদি নিধনের চাইতেও প্রায় ১০ গুণ বেশি! দশকের পর দশক জুড়ে পুরো পৃথিবী জুড়ে হিসেব করলে এই সংখ্যাটা কতো বড় হতে পারে.... চিন্তা করতে পারো? [১৩৭]

ফিরআউন বনী ইসরাইলের পুত্র সন্তানদের হত্যা করতো। আমাদের কাছে ফিরআউন ঘৃণিত, নিকৃষ্ট। অথচ এই আধুনিক পৃথিবী কোটি কোটি নিষ্পাপ শিশুদের নিষ্ঠুরভাবে খুন করাকে আইন করে বৈধতা দিয়েও সভ্য। [১৩৮] খুন করাকে ঘাতক মায়ের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আর কোটি কোটি মানবশিশু খুন হবার পেছনে মূখ্য ভূমিকা রাখা প্রেম নামের যিনার জন্য গাওয়া হচ্ছে জয়গান। কী বিচিত্র ভণ্ডামি! গর্ভপাতের ফলে মেয়েরা শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়ে। জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলতে পারে! ভবিষ্যৎ দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য কেবল এই একটা জিনিসই যথেষ্ট। [১৩৯]

শুধুই কি খুন করা বা শারীরিক ক্ষতি? মনস্তাত্ত্বিক যে চাপ পড়ে তা অবর্ণনীয়। বিয়ে ছাড়া প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলে প্রেমিক-প্রেমিকা (বিশেষ করে প্রেমিকারা) এবং তাদের পরিবারগুলো যে কী ভয়ঙ্কর বিপদের মাঝে পড়ে, তা সেই অবস্থার মধ্যে না পড়লে বুঝতে পারবে না।

সাধারণত প্রেগন্যান্ট হবার খবর শোনামাত্রেই বয়ফ্রেন্ড ব্রেকআপ করে ফেলে। কোনো দায়দায়িত্ব নিতে চায় না। বিয়ের কথা বললে টালবাহানা শুরু করে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ছবি/ভিডিও ভাইরাল করে দেয়। অনেক সময় প্রেমিকাকে খুন পর্যন্ত করে ফেলে! [১৪০] সব দায়দায়িত্ব নিতে হয় প্রেমিকা আর তার পরিবারকে। আকাশ ভেঙে পড়ে তাদের মাথায়। জানাজানি হলে সমাজে কীভাবে মুখ দেখাবো, এই বাচ্চা নিয়ে কী করবো, গর্ভপাত করার ক্লিনিক কই পাবো...মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেবো?

গর্ভের সন্তানকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করা, সদ্যোজাত শিশুকে ডাস্টবিনে, কমোডে, রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে আসা... এই মহাপাপের গ্লানি আর স্মৃতি পুরোপুরি ভুলতে পারা যায় না, সারাজীবন তা তাড়া করে বেড়ায়। সে বেঁচে আছে না মরে গেছে, বেঁচে থাকলে কতো বড় হয়েছে, কেমন আছে, দেখতে কেমন হয়েছে... অসম্ভব একটা অপরাধবোধ কাজ করে। আর আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তি তো আছেই। [১৪১]

সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর জন্য বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছিল এই সমাজ, এই বিশ্বব্যবস্থা-গানে আর কবিতায়। কিন্তু সেই বিশ্বব্যবস্থা আজ জল্লাদের নাম ভূমিকায় অভিনয় করা শুরু করেছে। হয়ে গেছে শকুনের চেয়েও নির্দয়। বিয়ে বহির্ভূত প্রেমকে মহান পবিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে, যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে শুয়ে পড়াকে মৌলিক মানবাধিকার বানিয়ে এই বিশ্বব্যবস্থা পৃথিবীজুড়ে কোটি কোটি প্রাণকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে-এই অধিকার তাদের কে দিয়েছে? এই খুনের দায়ভার কেন নেবে না এই বিশ্বব্যবস্থা? এই কোটি কোটি নিষ্পাপ শিশুদের খুনের কারণে প্রেম ভালোবাসার ফেরিওয়ালাদের কাঠগড়ায় কেন দাঁড় করানো হবে না? কেন বিশ্বের সকল সংবাদমাধ্যমের প্রথম পাতা জুড়ে লাল কালিতে লেখা হবে না-'বিয়ে বহির্ভূত প্রেম নিষ্ঠুর এক খুনি!'

এই কি তবে প্রেম? এই সেই পবিত্র প্রেম? এই তোমার সস্তা সুখের দাম?

শীঘ্রই বিশাল এক মাঠে সমবেত হতে যাচ্ছি আমরা। আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষ সেখানে সমবেত হবে সারিবেঁধে। নতমুখে। আল্লাহর সামনে। একে একে আসবে ছুরি আর কাঁচিতে নিষ্ঠুরভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলা সকল শিশু; ডাস্টবিন আর কমোডে ছুড়ে ফেলা সকল নবজাতক; কুকুরের মুখ থেকে বেঁচে ফেরা সকল নিষ্পাপ মানবাত্মা। বিচার দিবসের মালিক মহান আল্লাহর সামনে তারা তাদের অভিযোগ জানাবে। মালিকুল মুলক আল্লাহ সেইদিন বিচার করবেন। [১৪২] প্রশ্ন করবেন...

সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হবার সামর্থ্য কি তোমার হবে?

টিকাঃ
[১৩৩] কুকুরের মুখে নবজাতক: দুরন্ত কিশোরের দল ও এক নারীর মহানুভবতা, bdnews24.com, Oct 12, 2015- tinyurl.com/2r7cpbvm
[১৩৪] ডাস্টবিনে ফেলে রাখায় কুকুরের আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত নবজাতক, Banglavision News ইউটিউব ভিডিও, Nov 29, 2021- tinyurl.com/yc6pjeja
[১৩৫] বাংলাদেশে নবজাতককে ফেলে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে, বিবিসি বাংলা, জানুয়ারি ১৪, ২০২১- tinyurl.com/2p8vnpw6 ডাস্টবিনে নবজাতকের কান্না, odhikar.news, জুন ০১, ২০১৮- tinyurl.com/bdfpptex বাড়ছে পরিচয়হীন নবজাতক, সমাধান কী, bd-journal.com, ২২ জানুয়ারি ২০২১- tinyurl.com/k565mx77 কুকুরের মুখে জীবিত নবজাতক! পাপ ঢাকতেই ফেলে যাচ্ছেন মায়েরা | My Search | EP ১৫ | Crime Show, mytv Bangladesh ইউটিউব ভিডিও, Dec ১২, ২০২০- tinyurl.com/yh7b6aja
[১৩৬] গর্ভপাতের একটা অ্যানিমেশন। দেখো কিভাবে খুন করা হয় গর্ভের শিশুদের- Lost Modesty ফেইসবুক পেইজ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২২- tinyurl.com/54yw8cyk
[১৩৭] This Is the Average Age Teens Are Losing Their Virginity, seventeen.com,- tinyurl.com/msa9nu6a The 10 Worst Impacts of the 1960s Sexual Revolution, movieguide.org- tinyurl.com/bdz5rs2s Abortion in numbers, thelifeinstitute.net- tinyurl.com/mus42brk
[১৩৮] গর্ভের সন্তান খুন করার মাঝেই এই বিশ্বব্যবস্থা এখন আর সীমিত নেই। জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও খুন করাকে বৈধতা দিতে শুরু করেছে এই সেক্যুলার বিশ্বব্যবস্থা। বিস্তারিত পড়ো এই লেখাগুলোতে- Lost Modesty ফেইসবুক পোস্ট, মে ৬, ২০২২- tinyurl.com/42wzecu4 Dutch government backs euthanasia for under-12s, theguardian.com, Oct 14, 2020-tinyurl.com/22z5mr8v Healthy NZ baby took two hours to die after late term abortion while hospital withheld medical assistance - tinyurl.com/mrxyupux The law of infanticide is supposed to provide merciful treatment for vulnerable mothers, theconversation.com-tinyurl.com/bdefuyk7 Abortion Legislation Bill - what are our politicians voting on? The proposed law in detail-tinyurl.com/3b4dx5hr Belgium passes law extending euthanasia to children of all ages, theguardian.com, Feb 13, 2014-tinyurl.com/5n8t5cs6
[১৩৯] Adama, T. (2013). "The moral implication of abortion in Nigeria: The Christian perspective", Nigerian Journal of Social Sciences Vol. 9 No. 1
[১৪০] কিশোরীকে ভুট্টাক্ষেতে শ্বাসরোধে হত্যা, প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড, channel24bd.tv, আগস্ট ৮, ২০২২- tinyurl.com/42za5vwz
[১৪১] Ruling on aborting a pregnancy in the early stages, IslamQA-tinyurl.com/mu9k4jky
[১৪২] তাফসীর সূরা আত-তাকউয়ির, আয়াত ৮, মা'আরিফুল কুরআন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px