📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 ইবনে জারির রহ. এর সময় বাঁচানো ও ত্রিশ হাজার পাতায় তাফসির লেখার ইচ্ছা পোষণ

📄 ইবনে জারির রহ. এর সময় বাঁচানো ও ত্রিশ হাজার পাতায় তাফসির লেখার ইচ্ছা পোষণ


ইমাম ইবনে জারির তাবারি-যিনি মুফাসসিরিন, মুহাদ্দিসিন ও ঐতিহাসিকদের শিরোমণি, স্ব-যুগের ইমাম ও মস্ত বড়ো মুজতাহিদ ছিলেন, সময়কে ফলপ্রসূকরণে এবং সদা দরস ও তাদরিস, লেখালিখি ও রচনায় নিমগ্ন থাকার দিক থেকে যুগের অলৌকিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন; নতুনত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও পাকাপোক্ততায় তার রচনাবলির আধিক্য অবাক করার মতো-নিম্নে তার আলোচনা উপস্থাপিত হলো, যা খতিব বাগদাদির 'তারিখে বাগদাদ' ও আল্লামা ইয়াকুত হামাভির 'মুজামুল উবাদা' থেকে গৃহীত।

কাজি আবু উমর ও আবুল কাসেম ওয়াররাক বর্ণনা করেন, ইমাম তাবারি রহ. একদিন নিজ ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোরআনের তাফসির লেখার জন্য প্রস্তুত আছ? ছাত্ররা বলল, কত বড়ো হবে? তিনি বললেন, ত্রিশ হাজার পাতা। এ কথা শোনে ছাত্ররা অবাক হয়ে বলল, তাফসির শেষ করার আগেই তো আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে! তাই তিনি সংক্ষেপ করে তিন হাজার পাতায় তাফসির পূর্ণ করলেন। যা ২৮৩ হি. থেকে ২৯০ হি. পর্যন্ত সাত বছরে শেষ হয়।

📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 ইবনে জারির রহ.-এর ত্রিশ হাজার পাতায় ইতিহাস গ্রন্থ লেখার ইচ্ছা

📄 ইবনে জারির রহ.-এর ত্রিশ হাজার পাতায় ইতিহাস গ্রন্থ লেখার ইচ্ছা


এরপর ছাত্রদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি হজরত আদম আ. থেকে আজ পর্যন্ত পুরো বিশ্বের ইতিহাস লেখার জন্য প্রস্তুত আছ? ছাত্ররা বলল, কত মোটা হবে? তিনি পূর্বের ন্যায় বললেন, ত্রিশ হাজার পাতায়। ছাত্ররা হতভম্ব হয়ে আবার সেই কথার পুনরাবৃত্তি করল। ছাত্রদের হতাশাব্যঞ্জক জবাব শোনে ইমাম তাবারি রহ. বললেন, আফসোস! মনোবল শেষ হয়ে গেছে। এরপর সংক্ষেপ করে তাফসিরের কলেবর সমান ইতিহাস লিপিবদ্ধ করান। ২৭ রবিউস সানি ৩০৩ হি. তারিখ রোজ বুধবার এই মহান কিতাব লিখে শেষ করেন।

📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 ইবনে জারির রহ. দৈনিক চল্লিশ পাতা লিখতেন

📄 ইবনে জারির রহ. দৈনিক চল্লিশ পাতা লিখতেন


খতিব বাগদাদি রহ. বলেন, আব্দুল্লাহ সিমসিমি বলেন, ইবনে জারির চল্লিশ বছর পর্যন্ত নিয়মিত দৈনিক ৪০ পাতা লিখতেন। তার শিষ্য আবু মুহাম্মদ ফারগানি রহ. বলেন, ইমাম ইবনে জারিরের ছাত্ররা তার সাবালক হওয়ার সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের হিসাব করে তার রচনাগুলোকে ভাগ করেছে। তাতে দেখা গেল গড়ে প্রতিদিন ১৪ পাতা হয়। এটা এমন এক বিষয় যা আল্লাহর বিশেষ তাওফিক ছাড়া কারও পক্ষে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। আল্লাহর কী কারিশমা! অনেকের মনোবল কত উন্নত হয়!

📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 ইবনে জারির রহ. সর্বমোট ৩৫৮ হাজার পাতা লিখে গেছেন

📄 ইবনে জারির রহ. সর্বমোট ৩৫৮ হাজার পাতা লিখে গেছেন


ইমাম ইবনে জারির রহ. ২২৪ হি. সনে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ৩১০ হি. সনে ইন্তেকাল করেন। এ হিসেবে তার মোট বয়স ৮৬ বছর হয়। যদি আমরা তার সাবালক হওয়ার সময়ের আগের বয়সটা বাদ দিই-যা সাধারণ অনুমান মতে ১৪ বছর হয়-তাহলে যেন তিনি ৭২ বছর যাবৎ দৈনিক ১৪ পাতা লিখেছেন। এখন যদি ৭২ বছরের দিনগুলো গণনা করে দৈনিক ১৪ পাতার হিসাব করা হয়, তাহলে তার লেখা পাতার মোট সংখ্যা হবে ৩৫৮ হাজার।
ইতিহাস ও তাফসির প্রত্যেকটার পাতা প্রায় তিন হাজার। ইতিহাসটি এগারো খণ্ডে ছেপে প্রকাশিত হয়েছে। আর তাফসিরটি বড়ো সাইজের ত্রিশ খণ্ডে ছেপেছে, যার প্রতিটি অংশ এক ভলিউমের সমান। এখন তার অন্যান্য রচনাগুলোর পাতাগুলো হিসাব করে দেখুন, সেগুলোর সংখ্যা ৩৫১ হাজার হয়। তাহলে অনুমান করতে পারবেন এই মহান ইমামের সর্বমোট রচনা কী পরিমাণ হবে? যেগুলোর অবস্থান বিদ্যার দিক থেকে একটি 'বহুমুখী একাডেমি' আর আধিক্যের দিক থেকে একটি বৃহৎ প্রকাশনালয়ের চেয়ে কম ছিল না। তিনি একা একজন ব্যক্তি ছিলেন। নিজেই লিখতেন বা লেখাতেন এবং মানুষের সামনে নিজ ইলম ও চিন্তার সারনির্যাস পেশ করতেন। চিন্তা করুন! এই বিশাল কৃতিত্ব কী করে সম্ভব হতো, যদি তিনি তার সময়ের হেফাজত না করতেন। এবং সদা নিজেকে রচনা ও গ্রন্থনার কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য সুপ্রচেষ্টা না করতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00