📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 ইমাম জাজ, ফাতাহ ইবনে খাকান ও কাজি ইসমাইল রহ.-এর ইলমস্পৃহা

📄 ইমাম জাজ, ফাতাহ ইবনে খাকান ও কাজি ইসমাইল রহ.-এর ইলমস্পৃহা


খতিব বাগদাদি রহ. 'তাকইদুল ইলম' নামক কিতাবে আবু আব্বাস মুবাররাদ রহ.-কে উদ্ধৃত করে বলেছেন, তিনি বলেন, আমি তিনজন ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশি ইলমের সৌখিন পেয়েছি—
১. সাহিত্যিককুল শিরোমণি আমর ইবনে বাহর; যিনি জাহেজ নামে বিখ্যাত। (জন্ম: ১৬৩ হি., মৃত্যু: ২৫৫ হি.)
২. স্ব-যুগের সাহিত্যিক ও কবি, অসাধারণ মেধাবী ও ধীমান ব্যক্তিত্ব, আব্বাসি খলিফা মুতাওয়াক্কিলের মন্ত্রী ও পালক ভাই এবং বিশাল গ্রন্থাগারের স্বত্বাধিকারী ফাতাহ ইবনে খাকান (মৃত্যু: ২৪৭ হি.)
৩. স্ব-যুগের ইমাম, ফিকহ ও কাজি ইসমাইল ইবনে ইসহাক মালেকি বাগদাদি (জন্ম: ২০০ হি., মৃত্যু: ২৮২ হি.)

জাহেজের অবস্থা এমন ছিল যে, যখনই কোনো কিতাব তার হস্তগত হতো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলতেন। সেটা যে বিষয়েরই হোক না কেন। এমনকি কিতাব ব্যবসায়ীদের দোকানগুলো ভাড়া নিয়ে নিতেন এবং সারা রাত জেগে সেখানে অধ্যয়ন করতেন।

ফাতাহ ইবনে খাকানের অধ্যয়নের আগ্রহ ছিল এমন যে, তিনি তার থলে বা জামার আস্তিনে কিতাব রাখতেন। যখন কোনো প্রয়োজন বা নামাজের জন্য মুতাওয়াক্কিলের মজলিস থেকে উঠতেন, তখন কিতাব বের করে হাঁটতে হাঁটতে অধ্যয়ন করতেন। যেখানে যাওয়ার প্রয়োজন সেখান পর্যন্ত এ অবস্থায়ই যেতেন। ফিরে আসার সময়ও নিজ আসনে পৌঁছা পর্যন্ত এ অবস্থা-ই বিরাজ করত। যখন খলিফা মুতাওয়াক্কিল কোনো প্রয়োজনে মজলিস থেকে উঠে যেতেন, তখন খলিফার ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি কিতাব অধ্যয়নে রত থাকতেন।

কাজি ইসমাইল ইবনে ইসহাকের অবস্থা ছিল এমন, যখনই আমি তার কাছে গিয়েছি, তার হাতে কিতাব ছাড়া অন্য কিছু দেখিনি। তাকে অধ্যয়নে তন্ময় থাকতে দেখেছি। অথবা অধ্যয়নের জন্য কোনো কিতাবের খোঁজে ব্যাকুল বা কিতাবগুলোকে ঝাড়তে মুছতে দেখেছি।

📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 ইবনে সুহনোন রহ.-কে তার বাঁদি রাতের খাবার খাইয়ে দিয়েছে, কিন্তু তিনি রচনার ব্যস্ততায় মুগ্ধতার কারণে টের পাননি

📄 ইবনে সুহনোন রহ.-কে তার বাঁদি রাতের খাবার খাইয়ে দিয়েছে, কিন্তু তিনি রচনার ব্যস্ততায় মুগ্ধতার কারণে টের পাননি


কাজি ইয়াজ রহ. রচিত 'তারতিবুল মাদারেক' নামক কিতাবে মালেকি ফকিহ ও যুগের মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে সুহনোন কায়রাওয়ানি রহ.-এর (জন্ম: ২০২ হি., মৃত্যু: ২৫৬ হি.) জীবনী আলোচনায় আছে:

ইবনে সুহনোনের কাছে উম্মে মুদাম নামী জনৈক বাঁদি ছিল। একদিন মুহাম্মদ ইবনে সুহনোন রহ. তার কাছে ছিলেন। সেদিন তিনি অনেক রাত পর্যন্ত কোনো কিতাব রচনায় নিমগ্ন ছিলেন। খানা এলো, বাঁদি খানা পরিবেশন করার অনুমতি চাইল। তিনি বললেন, এখন আমি ব্যস্ত আছি। অপেক্ষার প্রহর যখন দীর্ঘ হলো বাঁদি নিজ হাতে খাওয়ানো শুরু করল। মুহাম্মদ ইবনে সুহনোন বেখেয়ালে পুরো খানা সাবাড় করলেন। এবং নিজ কাজে তন্ময় থাকলেন। একসময় ফজরের আজান হয়ে গেল। তখন তিনি উম্মে মুদামকে লক্ষ করে বললেন, উম্মে মুদাম! রাতে তোমার খোঁজখবর নিতে পারিনি। যা আছে নিয়ে আসো। সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে স্বহস্তে খাইয়ে দিয়েছি। তিনি বললেন, তাই নাকি? আমি তো টেরই পাইনি।

📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 পূর্বসূরি আলেমদের রাত্রি জাগরণ ও ইলমের জন্য বিনিদ্র হওয়ার ঘটনা

📄 পূর্বসূরি আলেমদের রাত্রি জাগরণ ও ইলমের জন্য বিনিদ্র হওয়ার ঘটনা


কাজি ইয়াজ রহ. 'আল-ইলমা' গ্রন্থে বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে লাব্বাদ বলেছেন, ইমাম ও ফকিহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্দোস কায়রোয়ানি-যিনি ইবনুল লাব্বাদ নামে প্রসিদ্ধ-ত্রিশ বছর যাবৎ এশার অযু দ্বারা ফজরের নামাজ পড়েছেন। পনেরো বছর অধ্যয়নের কারণে, আর পনেরো বছর ইবাদতের কারণে।

📘 আকাবিরদের জ্ঞান সাধনার গল্প > 📄 কুফার বিখ্যাত নাহবিদ ইমাম সালাব রহ. নব্বই বছর বয়সেও হাঁটতে হাঁটতে কিতাব পড়তেন, ফলে একটি গর্তে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়

📄 কুফার বিখ্যাত নাহবিদ ইমাম সালাব রহ. নব্বই বছর বয়সেও হাঁটতে হাঁটতে কিতাব পড়তেন, ফলে একটি গর্তে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়


(জন্ম: ২০০ হি., মৃত্যু: ২৯২ হি.)
আল্লামা মারজুবানি রহ. বলেন, তার মৃত্যুর কারণ ছিল এই, তিনি জুমুআর দিন আসরের পর জামে মসজিদ থেকে বের হলেন। সাথি-সঙ্গীদের একটি দল তার পিছে পিছে চলল, আর আমিও তাদের একজন। তার শ্রবণশক্তি এত দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, খুব কমই শুনতে পেতেন। তার হাতে কিতাব ছিল। পথ চলাচলকালীন অধ্যয়নে রত ছিলেন। সহসা একটি ঘোড়ার সাথে টক্কর খেয়ে একটি গর্তে গিয়ে পড়েন। সেখান থেকে উঠানো হলো। কিন্তু তার বোধশক্তি কাজ করছিল না। সুতরাং ওই অবস্থায়ই তাকে বাসায় আনা হয়। মাথাব্যথায় তিনি কাতরাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় দিন তিনি আল্লাহর নিকট চলে গেলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00