📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন 📄 জানাযার সলাত

📄 জানাযার সলাত


'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস এক জানাযায় সূরাহ্ ফাতিহাহ্ (এবং অন্য একটি সূরাহ্ জোরে) পড়েন এবং জিজ্ঞেস করলে বলেন, (আমি এজন্য জোরে পড়লাম) যাতে তোমরা জেনে নাও যে, এটা সুন্নাত (এবং হক্ব)।
(সহীহুল বুখারী ১/১৭৮, হাঃ ১৩৩৫, নাসায়ী ১/১৮১, হাঃ ১৯৮৭-৮৯; মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ, পৃঃ ১৮৮, হাঃ ৫৩৪, ৫৩৬। প্রথম বন্ধনীর শব্দগুলো নাসায়ীর, দ্বিতীয় বন্ধনীর শব্দগুলো মুনতাক্বার এবং শেষ বন্ধনীর শব্দগুলো নাসায়ী ও ইবনুল জারূদ-এর)
আবূ উমামাহ্ থেকে বর্ণিত আছে যে,
«السُّنَّةُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يَقْرَأُ فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ مُخَافَتَةً، ثُمَّ يُكَفِّرَ ثَلَاثًا، وَالتَّسْلِيمُ عِنْدَ الْآخِرَةِ»
“জানাযার সলাতে প্রথম তাকবীরে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ নীরবে পড়া সুন্নাত। অতঃপর তিন তাকবীর দিবে এবং শেষ তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরাবে।” (নাসায়ী ১/২৮১, হাঃ ১৯৮৯)
আবূ উমামাহ্ থেকে অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে, السُّنَّةُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَائِزِ أَنْ يُكَبِّرَ، ثُمَّ يَقْرَأُ بِأُمِ الْقُرْآنِ، ثُمَّ يُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ يُخْلِصَ الدُّعَاءَ لِلْمَيِّتِ، وَلَا يَقْرَأَ إِلَّا فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى، ثُمَّ يُسَلَّمَ فِي نَفْسِهِ عَنْ يَمِينِهِ»
“জানাযার সলাতে সুন্নাত হল, তুমি তাকবীর বলবে, অতঃপর সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পড়বে। অতঃপর নাবী -এর ওপর দরূদ পাঠ করবে। অতঃপর খাসভাবে মাইয়িতের জন্য দু'আ করবে। শুধু প্রথম তাকবীরে ক্বিরাআত করবে। অতঃপর মনে মনে (অর্থাৎ নীরবে) ডান দিকে সালাম ফিরাবে।” (মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ পৃঃ ১৮৯, হাঃ ৫৪০; মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক ৩/৪৮৮, ৪৮৯, হাঃ ৬৪২৮: এর সানাদ সহীহ, ইরওয়াউল গালীল ৩/১৮১)
নাবী ও সহাবীগণ থেকে এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই যে, সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ব্যতীত জানাযাহ্ হয়ে যায়। অথবা তাঁরা সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ব্যতীত জানাযাহ্ আদায় করেছেন। জানাযার সলাত ঐ দরূদই পড়া উচিত, যেটা নাবী থেকে প্রমাণিত আছে (অর্থাৎ সলাতে যেটা পড়া হয়)। বানোয়াট দরূদ নাবী থেকে প্রমাণিত নেই।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন 📄 দা‘ওয়াত

📄 দা‘ওয়াত


সাধ্যানুযায়ী কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন করা অতঃপর তা প্রচার করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক। সৃষ্টিজগতের ইমাম নাবী বলেছেন : «بَلِّغُوا عَنِّى وَلَوْ آيَةً» “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা মানুষের নিকটে পৌঁছিয়ে দাও”। (সহীহুল বুখারী ১/৪৯১, হাঃ ৩৪৬১)
শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীসের দা'ওয়াত দিতে হবে। নিজেদের ফির্কাবাজী মাযহাব এবং কিস্সা-কাহিনীর দা'ওয়াত দেয়া হারাম। দা'ঈর জন্য জরুরী হল, তিনি তার প্রত্যেক কথার দলীল পেশ করবেন। যাতে যে জীবিত থাকবে সে দলীল দেখে জীবিত থাকবে এবং যে মরবে সে দলীল দেখে মরবে। মহান আল্লাহ বলেন: ... لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ .... “...যে ধ্বংস হবে সে যেন (ইসলামের) সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধ্বংস হয় এবং যে বেঁচে থাকবে, সে যেন সত্য প্রতিষ্ঠার পর বেঁচে থাকে...।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৪২)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন 📄 জিহাদ

📄 জিহাদ


দীনের দা'ওয়াতের সাথে সাথে মুসলিম উম্মাহর মাঝে সহীহ 'আক্বীদাসম্পন্ন মানুষদের এমন একটি জামা'আত হওয়া উচিত, যারা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর যে ব্যক্তি এই পথে প্রতিবন্ধক হবে তার বিরুদ্ধে কথা, কলম ও দৈহিক জিহাদ করবে। আল্লাহ্র বাণীকে সমুন্নত করার জন্য আল্লাহ্ পথে জিহাদকে মোটেই অপছন্দ করবে না। যাতে সারা পৃথিবীতে কিতাব ও সুন্নাতের ঝাণ্ডা উড্ডীন হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ বলেছেন, وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ »ظِلَالِ السُّيُوفِ “তোমরা জেনে রাখ যে, নিঃসন্দেহে জান্নাত তরবারিসমূহের ছায়াতলে”।
(সহীহুল বুখারী ১/৪২৫, হাঃ ৩০২৫, সহীহ মুসলিম ২/৮৪, হাঃ ১৭৪২-[২০])
(এজন্য সর্বযুগে জিহাদের শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। কোন রাষ্ট্রের অধীনে বসবাসকারী যে কোন মুসলিম নাগরিক যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তরবারির জিহাদ করতে পারে না। বিস্তারিত দেখুন: “হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ” প্রকাশিত 'জিহাদ ও ক্বিতাল' বই)
আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবা, তাবি'ঈ, মুহাদ্দিস ও ইমামগণের ভালোবাসায় আমাদের মৃত্যু দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে আমাদেরকে সব ধরনের অপমান থেকে বাঁচান। আ-মীন, সুম্মা আ-মীন!
ওয়ামা- 'আলায়না- ইল্লাল বালাগ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px